আত্মঘাতী

আহসান হাবিব বুলবুল

লুট হয়ে গেছে খোলা মাঠ

লুট হয়ে গেছে ডোবা

লুট হয়ে গেছে রাস্তাঘাট।

গড়েছো তুমি বহুতল ভবন, অট্টালিকা

স্বপ্নের আবাস।

বৃক্ষ নেই আঙ্গিনায়,

নেই ঘরের কোনে কৃষ্ণচূড়া

সবুজের হাহাকার!

ভূমিকম্পে কাঁপে নগর কাঁপে শহর

মানুষ ছোটে দিকবিদিক

চাই একটু নিরাপদ আশ্রয়।

মাঠ নেই ঘাট নেই,

নেই খোলা আকাশ

একটু নিশ্বাস ফেলার।

কোথায় পাব আশ্রয়, কে দেবে ভরসা।

মানুষ! তুমি কেন হলে এত আত্মঘাতী।

কান্নার মূল্য

মো.আশতাব হোসেন

নর্দমার পানিরও মূল্য আছে জমি চাষে

জলাশয়ের পানিতে মাছ বাঁচে,

বৃষ্টির পানি অতুলনীয় চাতকের কাছে

তেষ্টা মেটায় তৃষ্ণিত পৃথিবীর প্রাণের,

বৃষ্টির রিমঝিম সুর লাগে সুমধুর।

অসহায়ের কান্নার করুণ ধ্বনি

পাষাণের মনে জঞ্জাল অহেতুক বিলাপ,

নেই তার অনুভূতি কঠিন শিলার সমান

তাকায় না ফিরে চলে যায় দাম্ভিক কদমে

তবুও চলে প্রেমিক নিখুঁত ভালোবেসে।

বিচ্ছেদ কষ্টের অস্থির কান্নার কি যে দাম

জানে না সেই হৃদয় যা পাথরের তুল্য,

পাথর জলে থাকলেও প্রাণ থাকে শুষ্ক

অনেক মমতা ভরা প্রাণ খুঁজে পায় পাথর খণ্ড,

তবুও ভালোবাসে দিয়ে হীরার মূল্য।

সোনালি উত্তর

হারুন আল রাশিদ

প্রশান্তির পৃথিবীতে প্রবেশ দুয়ার খুলে রেখেছেন

গাফুরুর রাহিম আসমানি কিতাবে

পাঠ করো জানান দাও অন্তরের গোপন পর্বতমালায়

“ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম।”

যার মালিকানাধীন সৃষ্টির অসীমতা

যার নির্দেশে পরিবর্তন বাতাসের গতিবেগ

যার ইচ্ছায় সমুদ্র ধাবমান সম্মুখে

যার এখতিয়ারে নক্ষত্রের চলাফেরা

যার শক্তিতে ভূখণ্ডের স্থিরতা

অবিশ্বাসের ধুম্রজাল বিচ্ছিন্ন করে উচ্চারণ করো–

“ওয়াখতিলা-ফিল লাইলি ওয়াননাহারি লা আ-ইয়া তিল

লিঊলিল আলবা-ব্!”

তিনি নির্ধারণ করেন মাখলুকাতের জীবিকা

তিনি বর্ষণ করেন পরিমাপক বৃষ্টি

তিনি জড়িয়ে দেন রৌদ্র-সময় কেন্দ্রিক বিবেচনায়

তিনি শোভিত করেন বৃক্ষ সবুজ পাতায়

তিনি প্রস্ফুটিত করেন সৌন্দর্য সুরভিত ফুল

অবিশ্বাসের ধুম্রজাল বিচ্ছিন্ন করে উচ্চারণ করো–

“ওয়াখতিলা-ফিল লাইলি ওয়াননাহারি লা আ-ইয়া তিল

লিঊলিল আলবা-ব্!”

তালাশ করো অরণ্য শিহরণে

মহামহিমের অন্তহীন প্রজ্ঞা

প্রতিনিয়ত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে খুলে যাবে

দীর্ঘ জীবনের মরচে’ধরা অজ্ঞতার কপাট

রাত্রির ভাঁজে জড়ানো ছড়ানো জিজ্ঞাসা

বিত্তবান করে দেবে মননের উর্বর জমিন

মহাগ্রন্থের সোনালি উত্তরে

অবিশ্বাসের ধুম্রজাল ছিন্ন করে উচ্চারণ করো–

“ওয়াখতিলা-ফিল লাইলি ওয়াননাহারি লা আ-ইয়া তিল

লিঊলিল আলবা-ব্!”

হৃদয়ে বাংলাদেশ

আলাউদ্দিন আজাদ

হৃদয়ের অনন্ত প্রাঙ্গণে

নির্জন প্রদীপের মতো জ্বলে বাংলাদেশ।

সবুজের নিভৃত ছায়ায় মাখা থাকে

মাটির গন্ধ, নদীর নীরব সংগীত,

সোনালি ধানের শস্যে লুকানো শান্তির শ্বাস।

ইতিহাসের রক্তিম অধ্যায়

মাথা তোলে গৌরবে,

লাল-সবুজ পতাকা

বাতাসে দোলে যেনো

শুদ্ধ প্রার্থনার উজ্জ্বল মন্ত্র।

এই দেশ কেবল ভূমিরেখা নয়

এ আমার জন্মের শেকড়,

কণ্ঠে বাজা প্রথম নাম,

স্বপ্নের আলোকছায়ায় আঁকা পরিচয়।

জীবন যেখানে-যেভাবেই বয়ে যাক

হৃদয়ের গভীরতম স্তরে,

একটাই শব্দ অনুরণিত হয়

বাংলাদেশ, আমার চির অনুগ্রহ।

পরিণাম

মোঃ রহমত আলী

দিনে দিনে কি সূর্যটা ছোট হয়ে আসছে

নাকি দিন দিন দানবের চোখ বড় হচ্ছে।

পাহাড় পর্বত আর সমুদ্রও গিলে ফেলবে

হয়তো এক মুহূর্তে.. কিন্তু আফসোস,

এক চামচ জলও হজম করতে পারে না,

হায়্ শেষ নিঃশ্বাসের আগে।

দিনক্ষণ কিন্তু উল্টো গণনা চলছে..

যদিও ঘড়ি সম্মুখপানে ঘুরছে.. তবুও

ডর নেই তাদের অন্তরে বিন্দু পরিমাণ,

সারা পৃথিবী গ্রাস করতে চায়, এক শ্বাসে।

কিন্তু সূর্য যখন হঠাৎ একদিন পুবের বিপরীত

পশ্চিম আকাশে উদিত হবে.. তখন ?