আনাগোনা করে
মুর্শিদ-উল-আলম
আনাগোনা করে করোটি অন্দরে দিনে রাতে
কত কত কোলাজ ভাবনা
ফড়িং চাই সাত রঙা
পাখি চাই কথা বলা
সবুজ বাগান চাই প্রজাপতি ওড়া
ঘি মাখন ফল রুটি চাই সকলের যেমন চাই
ছুটি চাই ধ্যানমগ্ন হব
প্রিয়ার প্রতীক্ষা চাই চারুকলা মন চাই
উঁচু দালানের পাশ ঘেঁষা মিঠাপানি নদী চাই
ইউসুফের তখত চাই স্বপ্ন যেন কথা বলে
বেহেশতী মধু চাই জিহ্বাটা সরস করা
আইয়ুবী সুর চাই সোনালী মাছেরা মুগ্ধ হোক
মুসার যাদুর লাঠি চাই চোখ রাঙাতে দুঃশাসনকে।
আনাগোনা করে মন মোহনায়
ধূলা ছাড়া বায়ু চাই ফুসফুস কাঁদে
রোগ ছাড়া আয়ু চাই পরনির্ভরতা অতিমন্দ বলে
দুর্নীতির দূর চাই সমাজের ক্ষতি কেন
হিসাব নিকাশ চাই জবাবদিহিতা পোশাক পরা
রাতের শরীরে আলোর গিলাফ চাই
প্রিয়ার প্রণয়ে লাল রঙ মেঘ চাই
বোমাহীন বিশ্ব চাই পৃথিবী কোমায় কেন যাবে
রক্ত ছাড়া শান্তি চাই যুদ্ধকে না বলি
আমার দেশটা আমারই চাই।
সময়ের সাঁকো বেয়ে ফিরে আসে কত না ভাবনা
বারবার বাসা বাঁধে কৈশোর যৌবন ঘাটে
মধ্য বয়সের মতো পরিণত মনে
চলাফেরা করে আরব সাগর বিস্তৃত
কোন এক মায়াবী চোখের প্রতীক্ষা উদ্যান।
রাতের ঘনত্ব এখন
মোহাম্মদ ইসমাইল
রাতের ঘনত্ব এখন গুপ্তঘাতকের হাতে
অস্বাভাবিক মৃত্যু এসে তাই কথা কয়
সব বন্ধুদের সাথে!
লক্ষ্মীপেঁচার মতন সমস্ত আড়ালের আবডাল থেকে
পাথরের মূর্তির মতো যতই চাই
নিজেদের সমস্ত ভয়কে
সেই দূরে কোথাও লুকাতে ;
পরাধীন এক বন্দুকের নল এসে যেন কথা কয়;
আমাদের এ-ই স্বাধীন মাথাতে!
ভাসছে সমুদ্রই
রেজা কারিম
কাইন্দা কাইন্দা ফুরিয়ে গেছে চোখের যত জল
এখন আমি কানবো কীসে পারলে কেহ বল
আর কতটা কানলে পরে হাসবে আবার হাদি
জানলে পরে রক্ত বেরোক আয় মিলে সব কাঁদি।
আমি একা কাঁদছি নাতো কাঁদছে সারাদেশ
কেঁদে কেঁদে রবের কাছে আরজি করি পেশ
ওগো প্রভু, দাও ফিরিয়ে ভাইটিকে আমার
তাঁর বিরহে এই হৃদয়ে শুধুই হাহাকার।
বুকের ভেতর অসীম ব্যথা চোখ ফুলে হায় লাল
মাথার মগজ দিচ্ছে ফোঁড়ন পাচ্ছি নাতো তাল
করবো কী যে করবো কী না বুঝতে পারি নাতো
হে দেশবাসী, হাদির জন্য হাত পাতো হাত পাতো।
হাদিতো ভাই আর কেহ না এই দেশেরি ছেলে
বাংলাদেশকে আঁকড়ে ধরে বুকের ছাতি মেলে
কন্ঠে যে তাঁর কামার কুমার জেলে তাঁতির কথা
গুলি খেয়ে স্তব্ধ এখন আহ কী নীরবতা!
এমন কঠিন নীরবতা কষ্টে ফাটে বুক
পালস বেড়ে যায় বুকের ভেতর একটানা ধুকপুক
যেই জনতায় ভালোবেসে হাদি তুমি চুপ
দেখছো নাতো সেই জনতার চোখ হয়েছে কূপ।
শক্তিশালী ইমান তোমার দেখলো জগতবাসী
রবের জন্য সন্দেহ নাই তোমায় ভালোবাসি
তোমার হাসি সবার হাসি সেই হাসি আজ কই
কোটি হাদির কান্নাতে আজ ভাসছে সমুদ্রই।
একটি শহীদী ফুল
সৌরভ দুর্জয়
একটি শহীদী ফুল ফুটেছিল বাংলার বুকে
নাগরিক অধিকারের আতরের ছিপি খুলতে
ঘেঁটু ফুলের কুৎসিত ঘ্রাণের দাপট মুছাতে
ধুতুরা ফুলের বিষাক্ত পরাগায়ণ থামাতে।
জুলাই বিপ্লবের মশালে ঢেলে ছিল প্রেরণার ঘি
ফলে যুবকের ঘুমন্ত শিরায় উঠেছিল ফুরাতের ঢেউ
তিমির আঁধারে পূর্ণিমার চাঁদ হয়ে হেসেছিল
গাজী সালাউদ্দিন, তিতুমীর, হাজী শরিয়ত উল্লাহর মুখ
মস্তিষ্কের নিউরনে জ্বলেছিল বিপ্লবী বারুদ
পুড়েছিল স্বৈরাচারীর বেজন্মা মসনদ।
তারপর ঘষেটিদের ষড়যন্ত্রের বিষাক্ত দাবানলে
পুড়ে গেল সেই প্রিয় ফুলের তরতাজা প্রাণ
নিভে গেল দীপ্ত মশালের বিপ্লবী জ্যোতি
হাসতে হাসতে পৌঁছে গেল জান্নাতুল ফেরদৌসের বাগিচায়।
তবুও ইথারে ভাসছে হযরত আলীর হায়দারী হাক
টিপু সুলতানের তরবারির পবিত্র ঝংকারী হুংকার
কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার ছন্দ।
ক্ষণজন্মা এই শহীদী ফুলটি সবার অন্তরে চিরকাল বেঁচে থাক।
বিজয়
আলাউদ্দিন কবির
পাখি তুমি ঝড় দেখে পেয়ো না কো ভয়
বিপদের পরে আসে আসল বিজয়
ভাঙলে ভাঙুক কিছু ধারণা প্রাচীন;
ধারণা তো বদলায় শেষে একদিন।
নদীর মতোন যদি সাধের জীবন
অবিরাম ভাঙা গড়ার অনুশীলন
থাকবেই তোমারও উড়াল-পথে;
নানান বিপদ, নানা ঝড় বিভীষণ!
তাতে তুমি হও যদি উড়াল-বিমুখ
পাবে না জীবনে তুমি জীবন-আলোক
পাখি তুমি ডানা মেলো বিজয়ের সুখে
যা খুশি বলুক আজ পরাজিত মুখে!
পাখি তুমি ঝড় দেখে পেয়ো না কো ভয়
বিপদের পরে আসে আসল বিজয়!