স্বাধীনতা পতাকায় ওড়ো
হাসান হাফিজ
মুক্ত দোয়েলের শিস
- সুনিশ্চিত করতে লাগে
- এক নদী রক্তস্রোত
- নারীর সম্ভ্রম
মাটিকে পুড়তে হয়
- বহুবার
ইস্পাত-ফলার মতো
- সুকঠিন
- হয়ে উঠতে হয়।
স্বাধীনতা, লাল সূর্য
- তোমার উদয়ে
বলি দিতে হয়েছিল
- লাখো প্রাণ
সেই মূল্যে তুমি ফোটো
- আনন্দিত মুক্ত ছন্দে
- পতপত ওড়ো তুমি
- স্বাধীন পতাকা।
মার্চ
রেজা কারিম
মার্চ যেনো এক বিগব্যাং। মার্চ করে এগিয়ে চলে মার্চ।
চারদিকে বাঁধার প্রাচীর।
ভেঙে খন্ডবিখন্ড হয় আলোর বহুমাত্রিক ঘর।
জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ গদ্যময় স্বাধীনতায়।
খুঁজে পেতে একটুকরো ছন্দ ও কাব্যের উন্মাদনা মার্চ
নিজেকে সঁপে দেয় কালের মহাপরিক্রমায়।
কতোদিন আর কতো দূরে গেলে দেখা পাবে একখন্ড উর্বর মেঘমালার।
এক পশলা বৃষ্টিই যে জীবনের স্বাদ পরিবর্তন করতে পারে।
ধুয়ে মুছে দিতে পারে এক অভিনব রঙ। কোথায় মার্চ?
তুমি হেঁটে চলো মায়ের আঁচলের খোঁজে।
বোনের সুরভিত সফেদ ওড়নার স্বাধীনতায়।
বাবা আর ছেলে যেখানে উড়ে বেড়ায় ঘাসফড়িং আর প্রজাপতির মতো।
সবই আছে। শুধু মার্চ করার সূচাগ্র অধিকারটুকু নেই।
পাতাহীন বৃক্ষে যখন শিশুর নরম গালের মতো পাতা গজায়
তখন তোমার চোখের সামনে হাতছানি দেয় ডিসেম্বর। ষোলই ডিসেম্বর।
যেনো কুয়াশার পর্দা ভেদ করে উঠে আসে স্বাধীনতার লাল সূর্য।
মার্চের তালে তালে আসে ঐ তো স্বাধীনতা।
আতঙ্ক
এ কে আজাদ
সারা রাত ধরে একটা ঘুণপোকা
আমার ঘুমের খাট কাটে,
কুট কুট কুট কুট করে কাটে,
কখনো কামড়ে খায়, কখনো চাটে।
আমি বলি- কেন রে ঘুণ,
নুন হারামি করিস কেন খেয়ে-দেয়ে নুন?
আমি তো এতটুকু শান্তির বিছানা চেয়েছিলাম,
এতটুকু স্বস্তির রাত্রি চেয়েছিলাম।
অথচ সে ঘুমের ঘরে কেন এমন
সভ্যতার সাইরেন বাজে?
মানবতার ফেরিওয়ালাদের বোমারু বিমান
কেন এমন তছনছ করে দেয় মনুষ্য জীবন?
রক্তের তৃষ্ণা কেন এত পশুদের অন্তরে?
কিন্তু কে দেবে আমার প্রশ্নের উত্তর?
কেবলি গোরখোদকেরা ধেয়ে আসে
মানুষের লোকালয়ে,
আর মানুষের লাশের মাংস খাবে বলে
আকাশ জুড়ে উড়ে বেড়ায় হাজারও
নির্দয় পাশবিক শকুন,
ওরা মানুষের লাশ চায়, আরও লাশ চায়।
আর এই উৎসবে সারা রাত ধরে
একটা হিংস্র ঘুণপোকা আমার লেপের ওম খায়,
আমার খাটের কাঠ খায়, কেবলি আমার ঘুম খায়,
আর খেয়ে ফেলে আমার আরামের গদি,
কোন্ দিন যেন খেয়ে ফেলে আমার চোখ,
আমার আত্মা, আত্মার ভেতরে জেগে থাকা
বোধ, বিশ্বাস আর বোধি,
আর এই মনুষ্য লোকালয়কে করে দেয়
উথাল-পাতাল ঢেউয়ের রক্তাক্ত এক বিশাল নদী!
সংগোপনে
মেজু আহমেদ খান
তোমাকে লিখতে চাই।
লিখা হয় না, যায় না লিখা
সংগোপনে কেবল থাকে
মনে লিখার বহ্নিশিখা।
তোমাকে লিখতে চাই।
লিখা হয় না, যায় না লিখা
কলম থামে কলম ঘামে
তোমার আছে যাপন নিকা’
তোমাকে লিখতে চাই।
লিখা হয় না, যায় না লিখা
কারন তুমি ক্ষেত ধরণী
আমার তরে কেবল ভিউ আর দর্শনিকা।
বহির্মুখ
হাফিজুর রহমান
নিশ্চয়ই খুশি হও, লাজুক মুখের স্বচ্ছ হাসি দেখে
ভেবেই নাও - জ্যোৎস্না রাতেও জোনাকি জ্বলে এখানে!
বুঝতে পারো না, এই হাসির ভেতরেও কষ্টের গল্প আছে
হারানোর যন্ত্রণা আছে, হতাশার একটা নীল আকাশ আছে
খোলা মাঠে ফুঁসে উঠে অগ্নি, গড়িয়ে আসা বাতাসে।
হাসি দেখেই খুশি হও, এসো না পর্দার আড়ালে!
বুঝতে এসো না, পৃথিবীটা দেখতে নয় পৃথিবীর মতন;
জেনে, কেউ বা না-জেনেই অভিনয় করে!
অভিনয়ের ধরণটা, একেকজনের এখানে একেক রকম।
সুপ্রাচীন মৃত্তিকা
রানা হোসেন
রক্তে কাদা জলে ভিজে গেছে তোমার শরীর
অতীত বয়ে গেছে জীবনে
তুমি সকল যাতনা বয়ে যাও কীভাবে?
তোমাকে আজ কীভাবে ছুঁইবো মৃত্তিকা?
এখন থেকে আমি
লাঙ্গল কাঁধে করে হাঁটতে থাকবো
কখনো কৃষক হয়ে ফলাবো ধান কিংবা শস্য ফসল
কখন হয়ে উঠবো ফসলের ক্ষেত
জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাবো
সুপ্রাচীন মৃত্তিকা তোমার হৃদয় ছুঁয়ে
বলে যাবো তুমি তো
-জননী, জন্মভূমি তোমার বুকে রাখি কখনও হাত।
রাত্রির ভেতর দিয়ে নদীর কোলাহলের মধ্যে দিয়ে
শুনবো সে এক প্রতিবাদী গান
নতুন এক ঢেউ হয়ে মানুষ সেই প্রতিবাদী মিছিলে
হঠাৎ ভাসলো রক্ত জোয়ারে।
আবারও তুমি রক্তাক্ত হলে
তোমার সন্তানেরা রক্ত জোয়ারে!
প্রকৃতির উপর অন্ধকারের শরীরে!
এতো কান্না তুমি কি শুনতে পাওনা?
তোমার উপর আজোও কি বিভৎস মানুষের মুখ দেখবো?
রক্তে কাঁদাজলে ভিজে তোমার সমস্ত শরীর, তারপরও..
কেন তুমি এতো চুপচাপ?
হে আমার মৃত্তিকা তুমি কি করে আছো?
-তুমি জাগো, তুমি জাগো
তা না হলে তোমাকে আজ কি ভাবে ছুঁইবো আমি?
ছোট ছোট দীর্ঘশ্বাস
আবুল খায়ের বুলবুল
চোখ ফেটে যায় ঘুম আসে না কান্নারা হারিয়ে গেছে
আফসোস শুধু হয় কষ্টের কি দাম দিয়েছে
জানি জীবনের আকাশে প্রতিরাত জোছনা ফোটে না
জোনাকী ও তারার আলোয়ে আঁধারেও পথিক পথ হারায় না
তবু তোমার প্রশংসা করে করে মন ভরেছে।।
যা কিছু ভাবা হয় জীবনের পথে চলতে
শুকনো পথ হয়ত পিচ্ছিল হয়ে যায় এক পশলা বৃষ্টিতে
আশার কুঁড়িরা বিকশিত হতে গিয়ে
বৈরী বাতাসে হয়ত তা দিচ্ছে ঝরিয়ে
তবু ফুল পাখি তারা সব তাঁর নিয়মেই চলছে।।
আমাদের যত চাওয়া পাওয়া প্রত্যহ প্রতিদিন
আমৃত্যু মিটেনি-মিটবে না কোনোদিন
জীবন রাঙাতেও সাজাতে কত কৌশল করি
মিথ্যে ভালোবাসায় মাঝে মাঝে মন ভরি
জানি না বিশ্বাসটুকু মন থেকে কে যেন কেড়ে নিয়েছে।
আজও পাইনি
হিলারী হিটলার আভী
আমাদের একটি রাজা থাকবে
যাকে পিতার মতোই গভীর শ্রদ্ধা করবো!
আমাদের একটি রাণী থাকবে
যাকে মাতার মতোই গভীর শ্রদ্ধা করবো!
পিতা-মাতা মারা গেলে - যেমন আমরা ডুকরে ডুকরে কাঁদি
ঠিক তেমন রাজা-রাণী মারা গেলে আমরা ডুকরে ডুকরে কাঁদবো!
কিন্তু দুঃখিত!
আমরা যে ডুকরে ডুকরে কাঁদবো –
এমন রাজা-রাণী আজও আমরা পাইনি!
বিষাদের পেণ্ডুলাম
তুহীন বিশ্বাস
বিপদে বিষাদে পেণ্ডুলামে নিষ্পেষিত সময়
পূর্ণচন্দ্রের সুরধ্বনি স্তব্ধ মেঘাচ্ছন্ন আকাশে,
হতবিহ্বল হয়ে যায় নির্মাণাধীন জীবন চিত্র
আড়চোখে তাকিয়ে শোধ তুলে প্রকৌশলী।
শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড়ে বিশ্বাস অন্ধকারে
অমাবস্যার মধ্যরাতে নিখোঁজ প্রতিশ্রুতি,
আর অসহায়ত্ব বন্দী হয় হতাশার জালে
একাকীত্ব বরণ করে একলা পথে হাঁটি।
যুদ্ধ নিষিদ্ধ হোক
প্রজ্ঞা দাস
পৃথিবীর বুকে সব যুদ্ধ নিষিদ্ধ হোক,
রণক্ষেত্রে ফুটুক হাজারও ফুলের মেলা।
রক্তমাখা মাটির বুক জুড়ে,
শিশির হোক শান্তির কুসুম।
বন্দুক ও বারুদ নিষিদ্ধ হোক চিরতরে,
ক্রন্দন থেমে, আকাশ ভরুক পাখির গানে।
ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে হাজার পথ,
মানবতা লিখুক শান্তির নীড়ে ভালোবাসার গান।
তবেই তো ভাঙা পৃথিবীর বুক চিরে,
জেগে উঠবে নতুন ভোর।
ঘাসফুলের সেই ক্ষুদ্র হাসি,
সূচিবে মহাকাব্যের নতুন মোড়।