শহীদ শরীফ ওসমান হাদী
নজরুল ইসলাম শান্তু
হাদীতে হাদীতে কাাঁদিতে কাাঁদিতে বাংলার লোকালয়
দেখিয়াছি আজ চোখের পানিতে হয়েছে রে হাদীময়।
এই হাদী ছিল মিছিলের মুখে সংগ্রামী দাবানল
তাই হাদী আজ হয়ে গেলো শেষে সহসা চোখের জল।
হাদী মানে এক নব চেতনার দীপ্ত অঙ্গীকার
এমন সাহসী প্রতিবাদী ছেলে আসবে না কভু আর।
হাদীকে দেখেছি বাস্তবতায় ভবিষ্যতের পথে
জিহাদী শারাব পান করে তাই আলোর ভবিষ্যতে।
হাদীকে দেখেছি হুঙ্কার তোলা সিংহের গর্জনে..
হাদীকে দেখেছি শত অনুরোধে অপরাধ বর্জনে।
হাদীরা আসে হাদীরা হারায় হাদীরা দাঁড়ায় ক্ষণে
স্লোগানমুখর হয় হাদীরাই অপরাধ বর্জনে....!
ওসমান হাদী তেমনই তুখোড় একটা বীরের নাম
হিরার টুকরো সোনার ছেলেটা জেগেছিল অবিরাম!
সেই ছেলে আজ ইতিহাস হলো ইনসাফ চেতনার
ওসমান হাদী পৃথিবীর সেরা সংগ্রামী সীমানার!
অপরাজেয়
ফজিলা ফয়েজ
এই সমাবেশের যত উপহাস যত তীর্যক হাসি
সবকিছুকে ছাপিয়ে ওঠে জনতার মেঘমুক্ত ডাক।
অন্ধকারে গর্জে ওঠে অপরাজেয় সূর্য।
তারা হাঁটে ভয়হীন হাজারো বিদ্রুপের কাঁটা বিছানো আগুনের পথে।
কখনোবা তুফানকে ছিন্ন করে আকাশ ছেড়ে যাওয়া পাখির দলে,
উড়ে যেতে চায় মুক্তির খোঁজে।
দৃঢ় মানুষের ইচ্ছের নেই কোনো প্রান্তর
আছে দিগন্ত ভাঙার অটল আকাক্সক্ষা।
জ্বলন্ত অঙ্গার এর উপর দাঁড়িয়ে থাকা এক অনমনীয় জীবন শপথ
দগ্ধ চামড়ার নিচে জমে ওঠে পুনরুত্থানের শীতলপাটি।
অনন্ত প্রেমের গালিচায়
হারুন আল রাশিদ
তাড়াহুড়ো করে স্টেশনে এলাম
পাঁচ মিনিট বাকি আছে ট্রেন ছাড়তে
জেনেভার পৃন্সিপা থেকে
যেতে হবে মিলান পর্যন্ত
সেখান থেকে তরিনো
ইটালিতে আমার বর্তমান ঠিকানায়।
বগিতে বসে আছি ভাবনাহীন
বাঁ দিকের জানালার পাশে।
এখান থেকে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে
পৃন্সিপা স্টেশনের অপরিচিত মানুষের
গন্তব্যে যাওয়ার স্বাভাবিক ব্যস্ততা।
আর মাত্র দুই মিনিট বাকি আছে
অল্প বয়সি দু’জন তরুণ-তরুণী
হাতে হাত রেখে এগিয়ে আসছে
আমাদের ট্রেনের দিকে।
সময়ের স্বল্পতায় মেয়েটি পা রাখলো সিঁড়িতে
ডান হাত ধরে আছে প্রেমিক পুরুষ
আস্তে আস্তে বিচ্ছিন্ন হলো
ভালোবাসায় মোড়ানো দুটি হাত।
ট্রেন ছেড়ে দিলো
সাথে সাথে হাঁটতে লাগলো যুবক
দুই জোড়া চোখ অপলক চেয়ে আছে
এক সময় গতি বেড়ে গেলো
হাতের ইশারায় ইতিহাস হয়ে গেলো সময়।
একটি বারের জন্যও বসলো না মেয়েটি।
আমি কাছাকাছি বোবা দর্শক
ফেলে আসা স্টেশনের দিকে
বারবার সকরুণ চাউনি তরুণীর
এক সময় চোখ বন্ধ করলো সে
আবার দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো আকাশে।
আহা! ভেতর থেকে যেনো
হৃৎপিণ্ড বেরিয়ে আসতে চাইছে
বিচ্ছেদ ফুটে আছে অবয়বে
ভালোবাসার রঙ বুঝি এমন-ই হয়!
ইচ্ছে করছে আমার সমস্ত কবিতা
উৎসর্গ করে দেই
অনন্ত প্রেমের গালিচায়।
স্বপ্ন ও বাস্তবতা
আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীন
কাঠপেন্সিলে লেখার বয়সটা ভুলতে পারিনি
এখনো খচখচ করে পেন্সিল চলে স্বপ্নে
কখনো কাগজের উপর
এতো জোরে চাপ দিতাম মনে হতো
নাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ করছি,
কাগজ ছিঁড়ে দুইভাগ হয়ে যেতো।
তারপর কলমের কালি এবং দোয়াত
স্বপ্নভঙ্গ করে দিলো লেখকের,
বাঁশের চিপ দিয়ে যখন নেকতাহরি লিখতাম
তখন মনে হতো -
কারীমার পুরাটা বুঝি
লিখে রেখেছি যেন অতীত ভবিষ্যৎ।
নড়তে নড়তে পড়ে যাওয়া দাঁতও রেখেছি
চিকন দাঁত গজাবে বলে,
ইঁদুরের গর্তে রেখেছি সুন্দর হাসি হাসবো বলে-
আলমিরার কোনে স্বপ্ন রেখেছি যত্ন করে
স্বপ্নরা বড় হলো কি না
মাঝে মাঝে খুলে দেখি- স্বপ্নের মাঝেও মরিচা পড়ে।
খাতা কলম কালি সবই তাকে তাকে সাজিয়ে রেখেছি
স্বপ্নকে বুনবো বলে
হতাশ হই যখন দেখি -
স্বপ্ন আর বাস্তব কখনো এক হয় না।
খুব করে যে মনে পড়ে তা না
মজনু মিয়া
খুব করে যে মনে পড়ে তা না
পৌষের ঊষা কুয়াশার ঘোমটাপরা লগ্নে
হির হির বাতাসের বিন্দু বিন্দু শিশির কণায়
ভেজা ভেজা পরিবেশে চুপসে যাওয়া
পাতার ফাঁকে দুরুদুরু কাঁপন ধরা বুকে।
এক বিছানায় কাঁথা কম্বল গায়ে শুয়ে
বাইর থেকে ডাক শুনতে পাওয়া এসো হয়েছে
গরম গরম ভাতের সাথে বেগুন আলুর ভর্তাযুক্ত
কিংবা আগের রাতে বানানো ভাঁপা চিতই বা
দুধের পিঠা খেয়ে যাও।
তোমাকে দেখলেই বার বার এসবই মনে পড়ে
কারণ, আমার ভালোবাসা তোমাকেই ঘিরে।
প্রেরণার বাতিঘর
শামীম খান যুবরাজ
হাদী চলে যায় জান্নাতি সুধা পিয়ে
হাদী চলে যায় সঠিক পথ দেখিয়ে
হাদী বলে যায় আজাদির যত কথা
ভেঙে যায় শত পুরনো-বাতিল প্রথা।
হাদী ইনসাফ-সমতার কথা বলে
মানবতাবোধ-মমতার কথা বলে
হাদীরা জাগায় ঘুমের জাতিকে ডেকে
হাদীরা শেখায় দেশের শত্রু কে কে।
হাদী ইমানের ঝান্ডা উচ্চে তোলে
স্বদেশি ঝান্ডা পাশাপাশি তার দোলে
দেশ ছিল তার পুরোটা সিনার মাঝে
লক্ষ তরুণ হাদীর মতোই সাজে।
হাদী আমাদের প্রেরণার বাতিঘর
হাদীর জন্য কাঁদে কোটি অন্তর
হাদী থেকে যায় ইতিহাসে-অক্ষরে
হাদী জন্মায় বাংলার ঘরে ঘরে।
সময়ের বৃত্ত
মাদবর রফিক
সময়ের বৃত্ত
কেন্দ্রের শর্তকে গ্রহণ করছে না
চিনতে পারছে না আপন শরীর
সময়ের চোখে মণি নেই
চলছে অন্ধত্বের পরিভ্রমণ
জ্যামিতির সংজ্ঞার্থ ভুল প্রমাণিত করে
কেন্দ্র আবর্তিত হচ্ছে
মিশে যাচ্ছে পরিধির মাঝে
এ ঘূর্ণন চক্রের কোনো সূত্র নেই
বিবর্তনের ইতিহাস নেই।
মানুষ হও
সোহেল আব্দুল্লাহ
রাস্তার মোড়ে মোড়ে অপ্রয়োজনীয় খাদ্য আর বিলাস-ব্যসন,
ছোট্ট এ জীবনের ভোগের চাহিদা-অগণন।
উদার হস্তে করি খরচ শয়তানের ভাইয়ের মতন,
রাস্তায় পড়ে আছে কত যে অন্ধ-লুলা, গরিব অচল।
তাদের দানের বেলা বড় যে বখিল, আমি নিঃসম্বল!
প্রবৃত্তির চাহিদা এই মেটাতেই হবে তার ক্ষুধা
না খেয়ে মরলো কে, এসব দেখার নেই সময় বেহুদা।
লাগামহীন পাগলা ঘোড়ার মতো আজকে মানব,
হিংস্র হায় না বাঘ, সিংহকে ছাড়িয়ে সে মস্ত দানব।
বিবেকের দ্বার খুলে প্রশ্ন করো আজ
কোথায় চলছে সব ব্যক্তি পরিবার ও রাষ্ট্র-সমাজ?
ইতিহাস খুঁজে দেখো মহামানবের,
দূরতম সম্পর্ক আছে আমাদের?
হিংসা-বিদ্বেষ যার বনি আদমের শুধু করে অপমান,
স্রষ্টার সৃষ্টি এ শ্রেষ্ঠ মানব দিও সম্মান।
মানুষ হয়েছি তাই, মানুষের পাশে আগে দাঁড়াতেই হবে,
কে বড় হুজুর, মন্ত্রী-ওসব পরে দেখা যাবে।
পৃথিবীর সমস্ত বড় বড় লকব উপাধি তুলে নাও,
স্রষ্টাকে পেতে হলে সৃষ্টিরে ভালোবাসা দাও
মাটির মানুষ হও।