রাতের কিয়াম
মুজতাহিদ ফারুকী
পুণ্যময় প্রতিরাতে দীর্ঘতর আনন্দ কিয়ামে
আমার সদিচ্ছাগুলো, সব শুভ আকাক্সক্ষার জপ
কিরাতের অতুলনীয় মন্দ্র সুর
বুক খুলে বখশে দিই অনন্তের দিকে
পুঁথিনিষ্ঠ তুমি অন্ধ, রূহানি প্রেমের অ্যালগরিদম জানো না
দুঃখী পাঁজরের লক্ষ গোপন আকুতি, বর্ণে বর্ণে
জানে শুধু পরম আকাশ।
পৃথিবী ঘুরেই চলে স্বেচ্ছায় নিজ অক্ষে দ্রুত
পুণ্যরাত শেষ হয়ে আসে
আমি নিঃস্ব তৃণ যথা, শব্দের নির্ভার তসবিদানা ছাড়া
আর কোন প্রিয় বাদ্যি নেই
পাখিরা জাগার আগে, আকাশে সেলাম ভেজি
ধ্বনিঋদ্ধ শব্দের হাঁড়ে খোশবুঁ পুরে।
সুনাইরা
তাসনীম মাহমুদ
মুছে গেছে নামফলক-
পিরামিডগুলোর সযতন পলেস্তারা
শূন্যতায় খসে পড়ছে
লতাপাতা, শ্যাওলা আর ঘাসের ললিত বুকে!
মনে করতে পারছি না রওজাবাসীর নাম-ঠিকানা...
কোলাহল কোথাও নেই-
আত্মীয়-স্বজন-বন্ধুর স্মৃতিপট
মুছে ফেলছে সুনাইরা সময়ের আনন্দগান;
এখন নিরেট গ্রামের ওই পথের ধুলোয় আটকে আছে
আমার রাজ্যের মায়া!
মেশক আম্বর হাতে বসে আছে ভবিষ্যতের ফেরেশতা;
আমি হেঁটে যাবো সেই পথে শাহ’র মতো...
মুছে ফেলতে জানি
মুহাম্মদ রফিক ইসলাম
হেরে গেছি বলে ভাবার দরকার নেই
মচকে যাবে মেরুদণ্ডের হাড়,
আগাগোড়া দাঁড়িয়ে থাকার কত গল্প ছুঁয়ে গেছে
প্রাচীন সুপ্রাচীন সভ্যতার ভাঙন, উত্থান-পতন
রয়ে গেছে কত স্মৃতি বিস্মৃতি অতল সুনিপুণ।
কালের সাক্ষী নীরব বটবৃক্ষও আড়াল করেনি
পথচারীর পায়ে পায়ে জেগে ওঠা শেকড়।
ল্যাম্পপোস্টের নিচে দাঁড়ানো ঘোলাটে আঁধারকেও
মুছে যেতে হয় আলোর উজ্জ্বল লাবণ্যের পাশে।
হায়েনার দাঁত, শকুনের নখ দেখা এই অভ্যস্ত শহরে
আমি অপরিচিত কেউ নই, পরিচিত পথিক
রক্তচক্ষুর সমস্ত বীভৎসতা মুছে ফেলতে জানি।
কবিতা
নয়ন আহমেদ
পাখির সাথে শিস দিচ্ছিলো একটি কবিতা-
ঝিমিয়ে-পড়া দুপুরে লুকিয়ে ছিলো হন্তারক ।
কেটে নিলো তার ঠোঁট,
জিহ্বা।
আর ডান হাতের আঙুল।
রক্ত ঝরলো ঘন রোদের প্রকরণে।
কী সুন্দর দ্রবণ!
কবিতাকে পাখি মনেকরা হন্তারক এবার একটু নিশ্চিত হলো।
যাক! ও আর শিস দিতে পারবে না!
লিখতে পারবে না কোনও বাক্য বা পদবন্ধ।
তার ভাষাকে তো থামিয়ে দেয়া গেলো।
আর সমাহিত করা গেলো পঞ্চাশটি লাল-নীল বর্ণ।
কবিতা কিন্তু পায়ের আঙুল দিয়ে লিখে চললো কতো ধরনের শব্দ!
অপূর্ব এবং ঢেউ- রঙা।
বাঁকা। নারীর মতো উচ্চাঙ্গ।
রাগী। অহংকারী।
বদমেজাজি।
সভ্য- অসভ্য।
শান্ত-অশান্ত।
নম্র -বিদ্রোহী।
কিন্তু অনুচ্চারিত থেকে গেলো সব।
একদিন ক্যানো যে গোঁৎগোঁৎ করে উঠলো কবিতা!
কেঁপে উঠলো চরাচর।।
ভোরে, বোবার মতো সেই ধ্বনি বেরিয়ে পড়লো সব প্রাচীর ভেদ করে।
আঙুল ছাপিয়ে
কলম অতিক্রম করে
পাহাড় বিদীর্ণ করে
জনপদে জনপদে বসতি গড়লো তার বর্ণমালা।
সেই থেকে রাষ্ট্রের ভাষা কবিতা।