মিষ্টি রসের পিঠা

খন্দকার জাহাঙ্গীর হুসাইন

টুপটুপটুপ শিশির ফোঁটা

ভিজিয়ে দেয় ঘাস,

খেজুর গাছের ডগায় ডগায়

মিষ্টি রসের চাষ।

সকালবেলা উঠোন-চুলোয়

নরম রোদের গায়,

বানায় পিঠা মিঠা মিঠা

জনম দুখী মায়।

মায়ের হাতের পিঠার মতো

হয় না পিঠা কারো,

তৃপ্তি ভরে খাই পিঠা রোজ

মন খেতে চায় আরো।

শাপলা শালুক

পঞ্চানন মল্লিক

তুলছে শালুক খোকন সোনা

দিঘির জলে নেমে,

শীতের দিনে গভীর দিঘির

পানি গেছে কমে।

সাদা রঙের শালুকগুলো

ফুটতো দিঘির বুকে,

দুলতো পাতা টেউয়ের সাথে

মাথা ঠুকে ঠুকে।

শরৎ শেষে ফুটেছিলো

গাছে প্রথম ফুল,

দিঘির পানি গভীর বলে

পায়নি কেহ কূল।

কার্তিক শেষে ঠান্ডা এলো

শুকায় দিঘির পানি,

তখন খোকা তুলতে এলো

পরে গামছা খানি।

শাপলা শালুক প্রিয় সবার

সবুজ বাংলাদেশে,

দিঘির বুকে বাড়ায় শোভা

রোদে হেসে হেসে।

টাট্টু ঘোড়ার গাড়ি

হোসাইন মোস্তফা

পুরান ঢাকায় দেখবে গেলে

টাট্টু ঘোড়ার গাড়ি

টগবগিয়ে জ্যামের শহর

দিচ্ছে কেমন পাড়ি।

জোরসে ছোটে পিচঢালা পথ

টকটকাটক ক্ষুর

দেখতে ঘোড়া হাড়গিলে সব

চিঁহিন চিঁহিন সুর।

ফুলিয়ে কেশর উড়িয়ে ধুলো

দর্প ভরা ভঙ্গি নেই

প্যায়দা- পাইক মন্ত্রী কত

চলার পথে সঙ্গী নেই ।

পালতো ঘোড়া রাজ-রাজারা

কদর ছিল বেশ

এখন লোকে বোঝা টানায়

মান ইজ্জত শেষ।

সন্ধ্যা হলেই

আরজাত হোসেন

বাঁশবাগানে ঝাঁকে ঝাঁকে

কিচিরমিচির পাখি ডাকে

সূর্য ডোবার আগে,

আঁধার হতেই দৌড়ে মাঝি

ঘরের দিকে ভাগে।

ঠেলাগাড়ির দুইটি চাকা

কাদায় পড়ে হলো বাঁকা

চার জনে তা ঠেলছে,

বাঁকা চাকায় গাড়িখানা

এদিকসেদিক হেলছে।

পশ্চিম আকাশ টুকটুকে লাল,

জলে ভরা হাওড় ও খাল

শাপলা শালুক ফুটছে,

জলের মাঝে সূর্য কিরণ

নিখুঁত ভেসে উঠছে।

খুকু ও টুনটুনি

নকুল শর্ম্মা

টুন টুনা টুন টুন টুনা টুন

টুনটুনিটা ডাকে,

টুনটুনিয়ে সারাটাদিন

ডাকছে যেন কাকে!

লেজ দুলিয়ে পাতায় পাতায়

করছে নাচানাচি,

খুকু বলে আয় না রে তুই

আমার কাছাকাছি।

খাবি দাবি গান শুনাবি

আমায় মিষ্টি সুরে,

একা একা ডেকে ডেকে

যাসনে কোথাও দূরে।

দূরের বনে আছে রে এক

মস্ত যে বাজপাখি,

খেয়ে ফেলবে ছোঁ মেরে সে

তোকে দিয়ে ফাঁকি।

আমার কাছে থাকবি রে তুই

নিরাপদে সুখে,

তিনটি বেলা আহার তোলে

দেব তোরই মুখে।

শীতের পড়েছে

মিজানুর রহমান

শীত পড়েছে পাড়াগাঁয়ে

শীত পড়েছে মাঠে,

খেটেখাওয়া মানুষজনের

কোলাহলের ঘাটে।

শীত পড়েছে গাছের ডালে

কাঁপছে পশুপাখি,

হিম কুয়াশার চাপে আবার-

যায় না খোলা আঁখি।

শীত পড়েছে সবুজ গাঁয়ে

যায় না দেখা বন,

শীত পড়েছে হৃদয়জুড়ে

তাই তো খুশি মন।