স্বাধীনতা দেখেছি আমি
জয়নুল আবেদীন আজাদ
পাখির পালকে আমি স্বাধীনতা দেখেছি
দেখেছি বৈশাখী বাতাসের তীব্র প্রবাহে,
স্বাধীনতা দেখেছি আমি
সাগরের সফেদ সৌরভে।
স্বাধীনতা জ্বলজ্বল জেগে আছে
লাঙলের শাণিত ফলায়,
স্বাধীনতার শিকড় পবিত্র জমিনে
উচ্ছ্বাস বীজের অঙ্কুরিত ফসলে।
স্বাধীনতা দেখেছি আমি
মুক্তিকামী জনতার উষ্ণ হৃদয়েÑ
দেখেছি নিপীড়িত মানুষের
একান্ত উচ্চারণে।
জলে স্থলে অন্তরীক্ষে
একটাই অমোঘ আকাক্সক্ষা
স্বাধীনতা স্বাধীনতা,
স্রষ্টার বিশাল বিশ্বে
একটাই সম্পূরক শৃঙ্খলা
স্বাধীনতা স্বাধীনতা।
আমার মৃত্যুর পর
শিমুল হোসেন
আমার যতো কবিতা দেখবে কি আলো?
আমার মৃত্যুর পর, থাকবো না আর
যতো কবিতার খাতা থাকবে কি ভালো?
নাকি গুগোল ড্রাইভে মৃত্যু হবে তার।
আমার যতো কবিতা জানবে কি কেহ?
কখনো প্রকাশ পাবে পাঠকের হাতে?
নাকি আমার মতন পড়ে রবে দেহ
অন্ধকারে রয়ে যাবে বিষন্ন আঘাতে
জীবনানন্দ সুকান্ত সেতো আমি নই
অকালে হারিয়ে গেলে বেঁচে রবে লেখা
কবিতার খাতা কেউ করে দেবে বই
পাঠকের মনে আমি কেটে দেবো রেখা।
আমার লেখা কবিতা পায় যদি প্রাণ
আমার মৃত্যুর পর নিতে চাই ঘ্রাণ।
বিষাদেও হাসি
কাজী নাজরিন
বড্ড অভিমানে ছেয়ে গেছে জীবনের চারপাশ
ক্লান্ত শ্রান্ত দিন শেষে অটুট হাসি আনন্দে
যাচ্ছে জীবন, জীবনের মতো,
কোলাহল নেই, নেই আহলাদি সেই আগের মনটা,
বিদীর্ণ পথের বাঁকে বাঁকে
চোরাবালি লেপটে আছে।
চঞ্চলতার ভরাডুবি!
জীর্ণশীর্ণ হয়ে নেতিয়ে পড়েছে মনের আকাশে
ভেসে আসা পশ্চিমের রঙধনু।
নির্ঘুম রাতে অমাবস্যার চাঁদের মতো মিটমিটিয়ে
বিষাদেও হাসি।
প্রতারক মুখচ্ছবি
হাসান ওয়াহিদ
প্রতিদিন আয়নায় এত এত মুখ
ধন্দে পড়ি
কোনটা তোমার মুখ, কোনটা মুখোশ?
আতঙ্কিত পাঁজরের ফাঁকে
গুমগুম কালো মেঘ ডাকে
অন্ধকার ঘরে কে যেন কাঁদে!
মুছে যাবে এত শোক
এত নীল নিমগ্ন আকাশ
যেভাবে মুছে গেছে ভোর ভোর মায়ের
গোবর নিকানো উঠোন।
বিস্মিত বকের মতো ঝুঁকে দেখি
ক্ষেতের কিনারে বসে আছে
কোনো এক প্রতারক মুখচ্ছবি
যাকে যন্ত্রণা নামে ডাকি।
মৃত্যুঞ্জয়ী
নূরুন্নাহার নীরু
যাবে না মুছে ছত্রিশ জুলাই
জমাট বাঁধে হাদির খুন,
জাগুক যতই এ জামানার
নব্য নমরূদ বা ফেরাউন।
বুনে দিয়েছো স্বপ্নের স্বাধীনতা
তুমি শাহানশা
যুগের বীর বুঝিয়ে গেলে
মাতৃভূমির ভালোবাসা।
ভয় করোনি ষড়যন্ত্র
ভয় করোনি হামলা-ক্ষণ,
লক্ষ হাদি জন্ম দিলে
ঠেকাতে সব আগ্রাসন।
তোমার কথা লিখা হবে
৩৬শের বিশ্লেষণে,
হাদিরা হয় মৃত্যুঞ্জয়ী
থাকে সবার মনে-প্রাণে।
রক্তচক্ষু
সারমিন চৌধুরী
অবহেলায় হৃদয়ের ধুকধুকানি স্থির হয়
কষ্টের চিবুক ছুঁয়ে দুঃখগুলো আরও নিবিড় হয়,
পায়ের চেটোয় সহস্রাব্দীর স্তূপিত ধুলোবালি
লেপ্টে থাকে শুধু করুণা রূপে!
অধীর অপেক্ষায় চোখ ধোঁয়াশা হয়ে ওঠে
যামিনী আসে এমন প্রতি দিবসের সমাপ্তিতে
অভিমানী মনে নতুন আশার চর জাগে,
ক্রমশ রাত্রি বাড়ে, কিন্তু ঘুমহীন দু’চোখ
রাতের অন্ধকারে একাকিত্ব বিলি করে স্বপ্নহীন চোখ।
যে চোখ অতি নিকট থেকে মুখোশ খুলতে দেখেছে,
সে চোখের জলে রোজই সিঁথানের বালিশ ভিজে।
ক্লান্ত হয়ে সুদূরপানে চেয়ে থাকে বিস্ময়ে
পাথরে খোদাইকৃত সে রক্তচক্ষু-
নীরব দর্শক মুখোশধারী তামাটে পৃথিবীর।
ভালোবাসাহীন দু’টো চক্ষু আজকাল
অতি সুনিপুণ অভিনয় শিখে গেছে,
জীবন নামক নাট্যমঞ্চের টানাপোড়েনে।
হাদীদের রক্ত
আবুল খায়ের বুলবুল
প্রতিবাদের ঝড় উঠছে যখন
হাদীদের ঐ রক্তে
থামাতে কেউ পারবে না আর
তা কোনদিন কোন শর্তে।
শরীর ঘেমেছে জানি
সেই যে জোসে
পারবে না কেউ আর খেতে
এই রক্ত চুষে।
ঘুম নির্ঘুমে জেগে থাকে
সাহসীরা সব
নিত্য সময় থাকে ঠিকই
তাহাদের মুখে রব।
পাহাড়কে ঠেলে ছোটে চলে
ওরা দূর থেকে বহুদূর
হয় না ক্লান্ত কখনও তারা
কথা মিষ্টি মধুর।
অত্যাচারীর কোন ব্যারিকেড
মানে না তারা
জয় করে নিতে গিয়ে
হয় না পথহারা।
ওরাই বিনির্মাণ করবে
আবার নতুন দেশ
নতুন সীমানা বানাতে গিয়ে
হবে না তো নিঃশেষ।।
দুঃস্বপ্ন
সাইমুম হাবীব
আমার ভেতরে ভেতরে উঁকি দেয়
দুঃস্বপ্নের কাটাছেঁড়া রাত।
প্রয়োজনে খুব করে কাছে টানে,
হৃদয়ের কাছে;
যেখানে ফেরার পথ বন্ধ।
আবার প্রয়োজনে দূরে ঠেলে, খুব দূরে;
যেখান থেকে আর দেখা যায় না
নষ্ট পৃথিবীর দেবতাদের!
আমি নষ্টদের নষ্টালজিক বিরহের কবিতা চর্চা করি-
পৃথবী থেকে দূরের এক নক্ষত্রে বসে।
আমি নক্ষত্রের কালো রাত,
আমি নক্ষত্রের শব্দদস্যু।
স্বপ্নজল
বেদুঈন ইসলাম
স্বপ্নজল জলের মতো-
কী করে বেড়ি দিই বলো!
বুকের আড়ালে অজগর,
পথ কুয়াশায় অন্ধকার-
স্বপ্নে-স্বপ্ন ভাঙে-
চোখ কী ঘুমায়-শব্দহীন নদীর তলায়?
স্বপ্নজল ঝরা বকুল- শূন্যে ভাসে-
তবু ইচ্ছে- স্বপ্নজলেই ভাসি।