ছোট নদী

কামরুজ্জামান দিশারি

ছোট নদী বয়ে চলে আঁকাবাঁকা পথে,

খোকনের জানা নেই শুরু কোথা হতে!

কোথায় মিশেছে গিয়ে তাও নেই জানা,

বুকে বাঁধে খোকনের প্রশ্নেরা দানা।

পানি কেনো একদিকে শুধু বয়ে চলে,

মাছগুলো কই থেকে আসে এর জলে!

এত জল কোথা থেকে আসে নিরবধি,

বৈশাখ মাসে কেনো শুকায় এই নদী!

দুই ধারে ঘাসবনে কে ফোটায় ফুল

বর্ষাতে পানি ভরে, ভাঙে কেনো কূল!

এক কূলে বালি সব কোথা থেকে আসে

কাকে বলে চাষি দেয় জল তার চাষে?

নানাভাবে ব্যবহার করে তাকে সবে

মরে গেলে এই নদী কী-কী ক্ষতি হবে?

প্রশ্নেরা উঁকি মারে নয় মোটে সোজা

শুরু হলো খোকনের উত্তর খোঁজা।

যুদ্ধটা হোক বন্ধ

রেজাউল রেজাওয়ান

যুদ্ধ কাড়ে লাল গোলাপের

মন মাতানো গন্ধ

যুদ্ধ মানে আর কিছু নয়

অর্থহীন এক দ্বন্দ্ব।

যুদ্ধ কাড়ে বসতবাড়ি

থামায় পথচলা

যুদ্ধ কাড়ে মুখের হাসি

স্বাধীন কথা বলা।

যুদ্ধ দেয় যে লাশের সারি

বারুদেরই গন্ধ

নিরাপদে বাঁচার তরে

যুদ্ধটা হোক বন্ধ।

খোকন সোনার ভোর

আব্দুল কাদের

খোকন সোনা উঠল জেগে

ভোর বেলাতে আজকে,

পাখির গানে মনটা তাহার

নতুন সাজে সাজবে।

মিষ্টি রোদে উঠান জুড়ে

ঝিলিক মারে সোনা,

মায়ের কোলে বসে বসে

স্বপ্ন যাবে বোনা।

ফুলের বাগে ভ্রমর আসে

গুনগুনিয়ে গানে,

শুকনো পাতা উড়ছে হাওয়ায়

নতুন সুরের টানে।

ঘাসের ডগায় শিশির কণা

হীরের মতো হাসে,

খোকন মণির হাসি দেখে

মেঘেরা সব ভাসে।

হারু মিয়া

সাদাত হোসাইন

হারু মিয়া হেরে গেল

ফাইনাল খেলাতে

কী কারণে হেরে গেল

পারছে না মেলাতে।

খেলেছিল ভালো তবে

গোল দিতে পারেনি

সুযোগটা লুফে নিতে

প্রতিপক্ষ ছাড়েনি।

হারলেও মনে তার

নেই ততো কষ্ট

হার-জিত থাকবেই

জানাল সে পষ্ট।

আমরা হেরেছি বলে

ওরা পেল জয়

আমাদের অবদান

তাই কম নয়।

আগামীতে খেলা হবে

আমরাই জিতবো

গৌরবের ইতিহাস

মন ভরে লিখবো।

বৈশাখ

জনি সিদ্দিক

বৈশাখ এল ওই

ঝড় ঝড় ঝড়,

আকাশেতে মেঘ ডাকে

কড় কড় কড়।

বৈশাখে ধুলোবালি

উড়ু উড়ু উড়ু,

বুক কাঁপে ভয়ে আজ

দুরু দুরু দুরু।

বৈশাখ এল ওই

ভয় ভয় ভয়,

ঘর বাড়ি ঝড়ে হানি

হয় হয় হয়।

বৈশাখ এলে আম

খাই খাই খাই,

মামা বাড়ি আম খেতে

যাই যাই যাই।

মধুমাসে ফল খেয়ে

হাসি হাসি হাসি,

বৈশাখ মাস এলে

মামা বাড়ি আসি।

প্রজাপতি

সারমিন চৌধুরী

প্রজাপতি প্রজাপতি

ডানা পেলে কই,

তোমার মতো ডানা পেতে

অপেক্ষাতে রই।

রোজ দেখি এইদিকে

তুমি উড়ে আসো,

ইচ্ছে হলে আমার সঙ্গে

একটুখানি বসো।

বন্ধু হয়ে তোমার ডানা

একটু দিলে ধার,

সেই খুশি নিয়ে করবো

সারাজীবন পার।

দিতে পারি ডানা তবে

কথা দাও আজি,

যদি একটা ফুলবাগান

বানাতে হও রাজি।

বিচ্ছু

সেলিম এমরাজ

ছোট এক বিচ্ছু

বলবে না কিচ্ছু

কাজ করে দেখাবে,

বাগানের পড়ে থাকা

লতা পাতা সে খাবে।

একা একা দৌড়ে সে

কু-উ ঝিকঝিক করে

ট্রেন তাকে পিক করে।

বল পেলে কিক করে

তারপরে হাতে নিয়ে

পজিশন ঠিক করে

দাঁত দিয়ে লিক করে।

মায়ে কিছু বললেই

হেসে ওঠে ফিক করে,

খেলা ফেলে পালায় যে-

কোনো এক দিক করে।

নতুন দিনের গান

ইকবাল খান

নতুন দিনের নতুন গান

ভেসে আসে প্রাণে,

পুরনো সব দুঃখ ভুলে

হাসি লাগে টানে।

সূর্য ওঠে রাঙা রঙে

আলো ছড়ায় পথে,

নতুন স্বপ্ন জেগে ওঠে

মনটা নীরব রথে।

সবাই মিলে ধরাধরি

চল নতুনের পানে,

বৈশাখ এল আনন্দ নিয়ে

নতুন দিনের গানে।

কালবৈশাখী ঝড়

শেখ মোহাম্মদ ফরহাদ উদ্দিন

ঝড় উঠেছে ঝড়

বুক করে ধড়ফর

কালবৈশাখী ঝড়ে আমার

ভাঙলো বসত ঘর।

ভাঙলো ঝড়ে ঘরটি আমার

গাছ গাছালি ক্ষেত ও খামার

উড়িয়ে নিলো খড়ের মাচা

ছিটকে ফেলল পাখির খাঁচা

কালবৈশাখী ঝড়।

মারল ছাগী দুধেল গাভী

আথালটা নড়বড়।

সর্বনাশা কালবৈশাখী ঝড়

করলি আমায় নিঃস্ব রে তুই

ভাঙলি আমার ঘর।

রূপের বাহার

এম, আলমগীর হোসেন

গাছে গাছে কচি পাতা

নানা পাখির গান,

তারই মাঝে চমক আনে

কুহু কেকার তান।

ডালে ডালে হেলে দুলে

ডাকে বারংবার,

গানে গানে মূখর করে

সারাটি দিনভর।

জেগে ওঠে ফুলপরীরা

জাগে ফুলের বন,

প্রজাপতি পাখনা মেলে

নাচে সারাক্ষণ।