ফজার পণ
সাদাত হোসাইন
পড়া লেখায় মন বসে না
খেলতে কতো মজা
সুযোগ পেলেই খেলার মাঠে
যায় ছুটে যায় ফজা।
চুপি চুপি ফিরলে ঘরে
কান মলে দেন মা
দরকার নেই লেখাপড়ার
খেলতেই চলে যা!
কাতর হয়ে বলি মাগো
এবার ক্ষমা করো
তোমার ছেলে হবে একদিন
অনেক অনেক বড়।
খুশি হয়ে মামণি তার
বুকে টেনে নেন
যত্ন করে ফজার মুখে
খাবার তুলে দেন।
মায়ের আদর পেয়ে এবার
করে ভীষণ পণ
দুষ্টুমিটা ছেড়ে দিয়ে
গড়বো এ জীবন।
রোজা
নাঈম মাহমুদ সোহাগ
একটা সময় এই রোজাকে
পেতাম অনেক ভয়,
এখন দেখি এই রোজাই
আমায় করেছে জয়।
ভালোলাগা ধীরেই আসে
থাকে জীবন ভর,
দোয়া পড়ে হৃদয় হাসে
হাসে মুমিন ঘর।
শপথ নিলাম রাখবো রোজা
বাঁচবো যতো দিন,
বাড়াবো না পাপের বোঝা
থাকবো না আর ঋণ।
স্বাধীনতার মানে
ফারহানা সিদ্দিক
স্বাধীনতার মানেটা কী
কীট-পতঙ্গও জানে,
গুনগুনিয়ে মৌমাছিরা
ফুলের মধু টানে।
মুক্ত মনে উড়ে বেড়ায়
প্রজাপতির ডানা,
ফুলে ফুলে উড়তে তারে
কেউ করে না মানা।
স্বাধীনতার মানেটা কী
আমরা মানুষ জানি,
স্বাধীন হতে ধরার বুকে
তাজা রক্ত আনি।
ন্যায়ের পথে মাথা তুলে
সামনে দাঁড়াই রুখে,
শেকল ভাঙার সাহস দিয়ে
সত্য বলি মুখে।
সকাল বেলার পাখি
এম. আবু বকর সিদ্দিক
ভোর বিহানে ছোট্ট পাখি
ডাকছে মধুর সুরে,
মনমাতানো ভুবনটা আজ
দেখব ঘুরে ঘুরে।
হৃদয় ভরা খুশির দোলা
পেয়ে মিষ্টি আলো,
সবার সাথে করব খেলা
লাগবে খুবই ভালো।
ক্ষুধার টানে পাখি এসে
বসে ডালিম ডালে,
দুষ্ট ছেলে ঢিল ছুড়ে দেয়
লাগে তার কপালে।
জীবনযুদ্ধে হেরে পাখি
পড়ল গাছের তলে,
কে জানিত আজকে পাখির
জীবন যাবে চলে !!
শিশু
সাঈদুর রহমান লিটন
ফুলকে সবাই ভালবাসে
দেখলে আদর করে,
ফুলকে যদি আঘাত করো
অকালে যায় ঝরে।
শিশু হলো ফুলের মতো
স্বর্গের হাসি হাসে,
দেখলে শিশু কাছে ডাকে
কেনা ভালবাসে।
মারলে শিশুর মনে কষ্ট
বুদ্ধিও লোপ পায়,
হাসি খুশি চঞ্চল শিশুর
বৃদ্ধি থেমে যায়।
আদর সোহাগ দিয়ে তাদের
পড়াশোনা শেখাও,
মনে রাখার জন্য আবার
বেশি করে লেখাও।
যুদ্ধ কেড়ে নেয়
সাকী মাহবুব
যুদ্ধ কেড়ে নেয়
গোলাপের গন্ধ
যুদ্ধ কেড়ে নেয়
কবিতার ছন্দ।
যুদ্ধ কেড়ে নেয়
শিশুদের হাসি
যুদ্ধ কেড়ে নেয়
সুখ রাশি রাশি।
যুদ্ধ কেড়ে নেয়
পাখিদের গান
যুদ্ধ কেড়ে নেয়
মানুষের প্রাণ।
যুদ্ধ কেড়ে নেয়
ঘরবাড়ি সব
যুদ্ধ কেড়ে নেয়
সব কলরব।
রোজা রাখি
শেখ মোহাম্মদ ফরহাদ উদ্দিন
সংযমের এই শুভ ক্ষণে
হিংসা বিবাদ ভুলে
খোদার কাছে চাই যে ক্ষমা
রোজ দুটি হাত তুলে।
সাহরি খেয়ে রোজা রাখি
বিধি নিষেধ মেনে
কুরআন পড়ি হাদিস পড়ি
অর্থ জেনে জেনে।
দ্বিগুণ নেকি হয় যে লেখা
পুণ্য-ও হয় জমা
রোজাদারের পাপ-কালিমা
প্রভু করেন ক্ষমা।
রমাদানের ওসিলা
গোলাম আজম
সুবহে সাদিক কড়া নাড়ে
খুলো খোকা দোর,
সাহরি খেয়ে মাসজিদে যাও
নইলে হবে ভোর!
সারাদিনের উপবাসে
খুশি যে হয় রব,
সাচ্চা দিলে চাইলে কিছু
পাবে তুমি সব।
রোজাদারের মুখের গন্ধ
আম্বরেরই ঘ্রাণ,
নেকির খুশবু ছড়ায় দেহে
তরতাজা হয় প্রাণ!
ইফতারিতে বরকত বাড়ে
দানে বাড়ে পুণ্য,
রমাদানের রহমতে হয়
গুনাহ খাতা শূন্য!
রমাদানের ওসিলাতে
সাচ্চা করো দিল,
পরকালে জাযা দেখে
হাসে যে খিলখিল।
চুপ থেকো না
জান্নাত হক দিশা
চুপ থেকো না সোনামণি
আর করো না রাগ,
কী হয়েছে লাগছে না হয়
জামায় কালির দাগ।
কিনে দেব নতুন জামা
মুখ রেখো না ভার,
ঘষলে লেবু উঠবে ও দাগ
চুপ থেকো না আর!
চিড়িয়াখানায় ঘুরতে নেব
দেখবে হরিণ, বাঘ,
বায়োস্কোপে দেখবে তুমি
লাগ ভেলকি লাগ!
পার্কে যাবে ফুসকা খাবে
কী যে চমৎকার,
যা চাও দেব, তবু তুমি
চুপ থেকো না আর।