স্বাধীনতা
শামীম খান যুবরাজ
পাখির কাছে স্বাধীনতা নীল আকাশে ওড়ার
খোকার স্বাধীনতা ও শখ ই”েছমতো ঘোরার।
মাছের স্বাধীনতা যেমন জলের তলে থেকেÑ
অবাধ ছুটোছুটি এবং সাঁতার এঁকেবেঁকে।
ফুলের স্বাধীনতা আছে গন্ধ ছুড়ে দেয়ার
অলির স্বাধীনতা ফুলের মধু চুষে নেয়ার।
খাঁচায় রাখা বন্দি পাখির ছটফটানো মন
বইয়ের পাতায় পায় না খোকা সবুজ মাঠ ও বন।
মাছের আবাস পানিদূষণ বন্ধ কি আর হবে?
সুবাস কতো থাকবে ফুলের; যে ফুল ঘরের টবে!
উড়ুক পাখি ছুটুক খোকা গন্ধ ছড়াক ফুল
স্বাধীনতার সঙ্গে কিছুর হয় না কোনো তুল।
স্বাধীনতা
শারমিন নাহার ঝর্ণা
পাখি বলে স্বাধীন আমি
মুক্ত হওয়ায় খেলি,
মনের সুখে নীল আকাশে
ডানা দুটো মেলি।
ফড়িং বলে স্বাধীন আমি
বেড়াই নিজের মত,
সবুজ তরু লতা পাতা
বন্ধু আমার কত।
স্বাধীনতার জন্য যারা
দিয়ে গেল প্রাণ,
তাদের প্রতি জানাই এসো
শ্রদ্ধা ও সম্মান।
স্বাধীন দেশে
শামীমা জান্নাত শিউলী
স্বাধীন দেশে মুক্ত প্রাণে
ওড়ে দেখো পাখি,
সবুজ শ্যামল ফসল দেখে
জুড়িয়ে যায় আঁখি।
স্বাধীন দেশে লাল সবুজের
ওড়ে বিজয় নিশান,
নতুন সুরে সূর্য ওঠে
হাসে বাংলার কৃষাণ।
স্বাধীন দেশে স্বপ্ন বুকে
মুখে ফোটে হাসি,
বাংলা আমার জন্মভূমি
তাইতো ভালোবাসি।
খোকন জাদুমণি
নকুল শর্ম্মা
হাঁটছে খোকন ঝুমুর তালে
দুষ্টু হাসি মিষ্টি গালে
তাই রে নাই রে না,
হঠাৎ বসে হঠাৎ চলে
আধো আধো কথা বলে
ডাকে শুধু মা।
পিছলে পড়ে হুমড়ি খায়
ময়না বলে হায়রে হায়
খোকন গেলো পড়ে,
তবু খোকার মুখে হাসি
হাতে একখান পাতার বাঁশি
ছুটলো এবার ঘরে।
দৌড়ে আসে খোকার মা
কোলে তুলে মুছায় গা
আমার জাদুমণি,
সারাটাদিন সবার সনে
ব্যস্ত খোকা আপনমনে
খোকন সোনার খনি।
জোনাকি
সাদমান হাফিজ শুভ
ও জোনাকি! ও জোনাকি!
একটু থেমে যাও,
ডাকছি আমি সোহাগ ভরে
শুনতে কি তা পাও?
লতা-পাতায় ঘাসের মাথায়
একটু বসো যেই,
হলদে হাসির জ্যোৎস্না যেন
উপচে পড়ে সেই।
ইচ্ছে করে দেবো ছুঁয়ে
ঝলমলে ওই রূপ,
অমনি তখন যাও পালিয়ে
দোষ করেছি খুব?
যাও-যাও-যাও ইচ্ছে যেথা
ডাকতে না আর চাই,
মিট-মিট-মিট আলোর নাচন
দেখি আমি তাই।
বইকে ভালোবাসি
সাকী মাহবুব
বইকে ভালোবাসি
বইয়ের মাঝে লুকিয়ে আছে
চাঁদের মোহন হাসি।
বইকে ভালোবাসি
বই থেকে পাই শক্তি সাহস
নিত্য বারো মাসই।
বইকে ভালোবাসি
বইয়ের মধ্যে জুঁই চামেলি
স্বপ্ন রাশি রাশি।
শিয়াল মামা
মুকুল হোসেন
শিয়াল মামার বুদ্ধি অনেক
সবারই তা জানা,
বোকার মতো ডাকলে দিনে
যায় না তারে মানা।
শিয়াল মামা ডাকে জানি
রাতে হুক্কাহুয়া,
দিনের বেলায় ডাকলে বুঝি
শিয়াল না –রে ভুয়া।
শিয়াল মামা রাতের বেলায়
আপন মনে ঘোরে,
দলটা বেঁধে মিটিং করে
ডাকে জোরে জোরে।
দিনের বেলায় শিয়াল দেখে
মানুষ আসে তেড়ে,
লাঠি-সোঁটা হাতে করে
বলে ওঠে কে –রে?
শিয়াল মামার ভুখ লাগলেই
শিকার খুঁজে বেড়ায়,
মানুষ জনে করলে তাড়া
ঢুকে পড়ে ডেরায়।