দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশ ও সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ার প্রত্যয়ে সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস) প্রতি বছরের মতো এবারও আয়োজন করেছে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা “সেরাদের সেরা”। এরই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ষষ্ঠ আসর “সেরাদের সেরা সিজন-৬”।

গান, অভিনয় ও আবৃত্তি—এই তিনটি বিভাগে দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ হাজারের বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছে এবারের আয়োজনে। থানা, উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়—এই ধাপগুলো পেরিয়ে প্রতিটি বিভাগ (সেগমেন্ট) থেকে বাছাই করা হয়েছে সেরা ১০ জন করে প্রতিযোগী। এই নির্বাচিত প্রতিযোগীদের নিয়ে রমজান মাসজুড়ে দেশের স্বনামধন্য টেলিভিশন চ্যানেল Channel 9 -এর পর্দায় সম্প্রচারিত হয়েছে বিশেষ ধারাবাহিক অনুষ্ঠান। প্রতিদিন দুপুর ২:৩০ মিনিট থেকে ৩:১০ মিনিট পর্যন্ত দর্শকরা উপভোগ করেছেন এই আয়োজন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন জনপ্রিয় আরজে টুটুল এবং টেলিভিশন পর্বের পরিচালনায় ছিলেন আব্দুল্লাহিল কাফী।

‘সেরাদের সেরা সিজন-৬’-এর নির্বাহী পরিচালক ছিলেন এইচ এম আবু মুসা এবং পুরো প্রতিযোগিতার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জাকির হোসাইন। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ইসরাইল হোসেন শান্ত। যাদের সহযোগিতায় প্রতিযোগিতাটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়—আলিফ নুর, ইবনে বাশার আরাফ, হাদিউজ্জামান বুলবুল, মিনার উদ্দিন, তানভির আহমেদ শিবলী, আহমদ শরীফ, হুজ্জাতুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, মাহাদিউজ্জামান, ইব্রাহিম আলী ও আবু বকর।

প্রতিযোগিতাটি দুটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয়:

ক গ্রুপ: ১ম থেকে ৮ম শ্রেণি এবং খ গ্রুপ: ৯ম শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত।

অংশগ্রহণকারীরা অনলাইনে সসাসের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এবারের আয়োজনে পুরস্কার হিসেবে বিজয়ীদের মাঝে মোট ২০ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। চ্যাম্পিয়ন প্রতিযোগী পেয়েছেন ১ লক্ষ টাকা, প্রথম রানারআপ ৭৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া বিজয়ীদের ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং সেরা ১০ জনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান সসাস-এর মতে, “সংস্কৃতি কোনো বিলাস নয়—সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মার প্রতিচ্ছবি।” ‘সেরাদের সেরা’ তাই কেবল একটি প্রতিযোগিতাই নয়; বরং এটি একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে একত্রিত হচ্ছে প্রতিভা, নৈতিকতা ও শুদ্ধ শিল্পচর্চা। এখান থেকেই উঠে আসবে আগামী দিনের সেই মুখগুলো, যারা দেশের সংস্কৃতির মঞ্চকে আলোকিত করবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে। রমজানের পবিত্র আবহে চ্যানেল ৯-এর পর্দায় এই ব্যতিক্রমী আয়োজন দর্শকদের জন্য হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণা, বিনোদন ও প্রতিভা আবিষ্কারের এক অনন্য উৎসব।