জাকির সেতু

­

পলাশপুর গ্রামের প্রাথমিক স্কুলে টনি আর মনি দুই ভাই পড়াশোনা করত। খুবই দুষ্টু ও দুরন্তপনা ছিল দুজন কিন্তু তাদের মধ্যে ভালো গুণ ছিল রাস্তার পাশে ও স্কুলের আশেপাশে তারা টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগাত, বিশেষ করে ওষধি ও ফুলের গাছ। তাঁদের সহপাঠীরা জিজ্ঞাসা করত কোনটা কী গাছ। টনি আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলত এটা হচ্ছে অর্জুন গাছ। এই গাছের উপকারিতা আমি শুনেছি পেট ফাঁপা নিরাময় করে এবং এর গুণ ক্ষমতা অনেক। টনি মনিকে বলল রক্তকাঞ্চন ফুলের গাছটা সুন্দর করে বেঁধে দিতে। টনি আর মনি গাছগুলোর পরিচর্যা করত। তারা স্কুলের প্রাঙ্গণটাকেই ছোটখাটো একটি নার্সারিতে রূপ দিয়েছিল। এখানে রক্তজবা, রক্তকাঞ্চন, বকুলফুল, টগর, কৃষ্ণচূড়া, গাঁদা, হরতকি, নিম, তুলসী প্রভৃতি গাছ ছিল। গাছ লাগানো যেন টনি ও মনির শখ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

স্কুলের গেটের সামনে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগিয়ে সুন্দর করে বেঁধে দিয়ে টনি মনিকে বলল আরও দুইটা চারা এনে পুকুরপাড়ের জায়গাটায় লাগালে ভালো হবে। তাদের এই কাজ দেখে স্কুলের প্রধান শিক্ষক খুব খুশি হতেন এবং দুই ভাইকে স্নেহ করতেন।

যখন ফুলগাছগুলোতে ফুল ফুটতে শুরু করল তখন দূর থেকে মনে হতো স্কুলের মাঠে যেন ছোটখাটো ফুলের মেলা বসেছে।

এছাড়া টনি আর মনি সহপাঠীদের ডেকে বলত যাতে কোথাও ময়লা আবর্জনা না ফেলা হয়। এজন্য পাশেই একটি ছোট ডাস্টবিনও করে দিল তারা। তাদের এই উদ্যোগ ও ভালো কাজ বন্ধুদেরও উদ্বুদ্ধ করত। বন্ধুরাও তাঁদের সাহায্য করত।

একবার স্কুল পরিদর্শনে এসে শিক্ষা অফিসার স্কুল প্রাঙ্গণে সুন্দর ফুলের গাছ ও ওষধি গাছ দেখে খুব খুশি হলেন। তিনি জানতে চাইলেন, কারা এই কাজ করেছে। প্রধান শিক্ষক টনি ও মনির কথা জানালেন। শিক্ষা অফিসার তাদের সঙ্গে কথা বললেন, উৎসাহ দিলেন এবং পুরস্কার দিলেন। পুরস্কার পেয়ে টনি ও মনি খুব খুশি হলো। সহপাঠীরা হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানাল।

টনি মনি গাছগুলো খুব যত্ন করে পরিচর্যা করত। মাঝে মাঝে সময় পেলে বাবার সঙ্গে নার্সারি থেকে বিভিন্ন রকম ফুল ও ফলের গাছ এনে স্কুলের আশেপাশে লাগাত। পড়াশোনা খেলাধুলা আর গাছ লাগানোÑ এই ছিল তাদের প্রিয় কাজ। তাদের দেখে অনেকেই এখন গাছ লাগায়, গাছের যত্ন নেয়।

টনি আর মনি বলত গাছ আমাদের বাঁচার অক্সিজেন দেয়। তাই বেশি করে গাছ লাগিয়ে পরিবেশ সুন্দর রাখতে হবে। গাছ আমাদের উপকারী বন্ধু আমরা সব সময় গাছ লাগাবো এবং সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলব আগামী দিনের জন্য।