ইয়াছিন ইবনে ফিরোজ
ফেব্রুয়ারির এক বিকেলে হালকা ঠান্ডা হাওয়া বইছে। পুরনো দোতলা বাড়ির বারান্দায় বসে আছেন ৭৮ বছরের আবদুল করিম সাহেব। সবাই তাঁকে ‘দাদা’ বলে ডাকে। মাথায় সাদা চুল, মুখে পাতলা দাড়ি। তাঁর হাতে একটা পুরনো বই “একুশের স্মৃতি”। স্কুলের ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে ছুটে এলেন ১০ বছরের নাতি সাফওয়ান। নীল শার্ট, সাদা প্যান্ট। চোখে-মুখে কৌতূহলের ঝিলিক। আসসালামু আলাইকুম দাদা! জুতো খুলে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চিৎকার করে বলল সাফওয়ান। ওয়া আলাইকুমুস সালাম, বাবা। এসো এসো। দাদা বই থেকে চোখ তুলে হাসলেন। সাফওয়ান ব্যাগটা একপাশে ফেলে দাদার পাশে বসল। দাদা, আজ স্কুলে একটা মজার ক্লাস হলো। কী হলো? দাদা চশমাটা ঠিক করে নিলেন।
বাংলা ক্লাসে স্যার বললেন, তোমরা জানো, আমরা কতটা ভাগ্যবান যে আমরা নিজের ভাষায় পড়াশোনা করতে পারছি? পৃথিবীর অনেক জাতি আছে যারা এখনও পরাধীন, নিজের ভাষায় কথা বলতে পারে না। তখন আমি হাত তুলে জিজ্ঞেস করলাম, স্যার, আমরা তো আগে থেকেই বাংলায় কথা বলি। তাহলে কীভাবে আমরা ভাগ্যবান হলাম? দাদার চোখে-মুখে গভীর ছায়া নামল। তিনি গভীর নিশ্বাস ফেললেন। স্যার কী বললেন? দাদা জিজ্ঞেস করলেন। স্যার বললেন, তোমার দাদা-নানারা ভালো জানেন। আগামীকাল তাঁদের কাছে শুনে আসবে। তারপর স্যার আলোচনা করবেন বলছে। তাই এসেছি, দাদা। বলো না, আমাদের এই মুখের ভাষা, বাংলা ভাষা, রাষ্ট্রভাষা হয়ে উঠল কীভাবে? এর কি কোনো ইতিহাস আছে? দাদা বইটা বুকে জড়িয়ে ধরলেন। চোখ বন্ধ করলেন। যেন ৭০ বছর পেরিয়ে ফিরে যাচ্ছেন সেই দিনগুলোতে।
ইতিহাস আছে মানে, বাবা? দাদার গলা কাঁপল। ইতিহাস না বলে বলো, এক রক্তাক্ত আত্মত্যাগের মহাকাব্য। বাঙালিরা, যারা মায়ের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে। গুলী খেয়ে মরেছে। সাফওয়ান চমকে উঠল। কী হয়েছিল দাদা? শুরু থেকে বলো না। সাফওয়ান মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতে লাগল। দাদা জানালার দিকে তাকালেন। সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়েছে। ঠিক এমনই এক বিকেলে,১৯৪৭ সালে দেশভাগ হলো, দাদা শুরু করলেন। ইংরেজরা চলে গেল। কিন্তু রেখে গেল দুটো টুকরো, ভারত আর পাকিস্তান। আমরা পড়লাম পূর্ব পাকিস্তানে। আর যারা পশ্চিম পাকিস্তানে ছিল, তারা হাজার মাইল দূরে। মাঝখানে গোটা ভারত। তারপর? তারপর শুরু হলো অত্যাচার। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা ঘোষণা করল উর্দু, শুধুমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। কিন্তু বাবা, তখন পূর্ব পাকিস্তানে ৫ কোটি ৬০ লাখ মানুষ, আর পশ্চিম পাকিস্তানে ৩ কোটি ৩০ লাখ। মানে, পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বাংলায় কথা বলে। তবুও তারা বলল, উর্দু ভাষাতেই আমাদের কথা বলতে হবে!
সাফওয়ান রাগে মুঠি শক্ত করল। এটা তো অন্যায়! হ্যাঁ বাবা, মহা অন্যায়। আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। ভেবে দেখো, স্কুলে তোমাকে যদি বলা হতো, তুমি আর বাংলায় পড়বে না, উর্দুতে পড়বে। বাংলায় কথা বলা নিষেধ। তবে তোমার কেমন লাগত? সাফওয়ানের চোখ বড় বড় হয়ে গেল। খুব খারাপ লাগত, দাদা। আমি তো উর্দু কিছুই জানি না! তাহলে কীভাবে পড়াশোনা করতাম? তাই। সেই একই কথা ভেবে আমাদের বড় ভাইয়েরা তোমার মতোই ছাত্র, তারা প্রতিবাদ করল। ১৯৪৮ সাল থেকেই শুরু হয়েছিল আন্দোলন। কিন্তু শাসকরা শোনেনি।
দাদা উঠে গেলেন ভিতরের ঘরে। একটু পরে ফিরে এলেন একটা পুরনো কালো-সাদা ছবি নিয়ে। ছবিতে রাস্তায় মিছিল, মানুষের ঢল।
এই দেখো, দাদা ছবিটা সাফওয়ানের হাতে দিলেন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি। সেই কালো দিন। কী হয়েছিল সেদিন? দাদা আবার বসলেন। এবার তাঁর গলা আরও ভারী। সে বছর সরকার ঘোষণা দিলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। মানে, চারজনের বেশি মানুষ জমা হতে পারবে না। কোনো মিছিল, কোনো সভা কিছুই করা যাবে না। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বলল, না, আমরা ১৪৪ ধারা ভাঙব। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। তারপর?
তারপর সেদিন সকালে, একুশে ফেব্রুয়ারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় হাজার হাজার ছাত্র জমা হলো। তাদের হাতে ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড। লেখা ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’, ও ‘বাংলা ভাষার দাবি মানতে হবে’ ইত্যাদি। সাফওয়ান শ্বাস বন্ধ হওয়ার মতো করে শুনছিল। দুপুর আড়াইটার দিকে, ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল শুরু করল। রাস্তায় নেমে এল। স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে গেল। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই!’ পুলিশ বাধা দিল। লাঠিচার্জ করল। কিন্তু ছাত্ররা থামেনি। দাদার চোখ ভিজে এল। তখন পুলিশ,পুলিশ গুলী চালালো, বাবা। নিরস্ত্র ছাত্রদের উপর গুলী!
সাফওয়ানের মুখ শুকিয়ে গেল। গুলী? সত্যি?
হ্যাঁ বাবা। প্রথম গুলীতে পড়ে গেল রফিক উদ্দীন আহমেদ। মেডিকেল কলেজের ছাত্র, বয়স মাত্র ২৬। তারপর আবুল বরকত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্র। আবদুল জব্বার, ১১ বছরের ছোট্ট ছেলে অহিউল্লাহ মা হারিয়ে ফেলেছিল, মিছিল দেখতে এসেছিল। গুলীতে মারা গেল। আবদুস সালাম, শফিউর রহমান একে একে ঢলে পড়তে লাগল। আমার বয়সী ছেলেও? সাফওয়ান কাঁপা গলায় বলল। হ্যাঁ বাবা। তোমার চেয়ে একটু বড়। ১১ বছরের অহিউল্লাহ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শেষ। রক্তে ভাসতে লাগল ঢাকার রাজপথ। মেডিকেল কলেজের সামনে, বর্তমান শহীদ মিনারের যেখানে দাঁড়িয়ে আছি আমরা, সেখানে রক্তের দাগ লেগে থাকল। সাফওয়ান চোখ মুছল। তারপর কী হলো দাদা?
তারপর বাবা, সারা দেশ জেগে উঠল। রাত নামার সাথে সাথে খবর ছড়িয়ে পড়ল,ঢাকায় ছাত্রদের উপর গুলী, অনেকে শহীদ হয়েছেন। মানুষ রাস্তায় নেমে এলেন। আমাদের এই পুরান ঢাকাতেও মিছিল হলো। আমার বাবা তোমার পরদাদা সেই মিছিলে ছিলেন। মশাল হাতে মানুষের মিছিল। আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না স্লোগান। মহিলারাও রাস্তায় নেমেছিলেন। চারিদিকে শোকের ছায়া, কিন্তু সাথে প্রতিরোধের আগুন।
পরদিন, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ছাত্ররা খালি পায়ে, খালি হাতে শহীদদের জন্য জানাজা পড়াল। তারপর রাতের অন্ধকারে, কারফিউ ভেঙে, মেডিকেল কলেজের সামনে ইট-বালি দিয়ে তৈরি করল একটা স্মৃতিস্তম্ভ। প্রথম শহীদ মিনার। সকাল হতেই পুলিশ এসে ভেঙে ফেলল। কিন্তু মানুষের মনে যে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি হয়ে গিয়েছিল, সেটা আর ভাঙা যায়নি।
সাফওয়ান জিজ্ঞেস করল, তারপর কি সরকার মেনে নিয়েছিল? সাথে সাথে না। কিন্তু আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ল সারা পূর্ব পাকিস্তানে। চট্টগ্রামে, রাজশাহীতে, সিলেটে, খুলনায় সর্বত্র। মানুষ বুঝে গেল, বাংলা ভাষা মানে শুধু ভাষা নয়, এটা আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের পরিচয়। অবশেষে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সরকার বাধ্য হয়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিল। ইয়ে! তার মানে আমরা জিতে গেলাম? সাফওয়ান খুশিতে চিৎকার করল। দাদা মাথা নাড়লেন। হ্যাঁ বাবা, জিতে গেলাম। কিন্তু সেই জয়ের দাম দিতে হয়েছিল রক্ত দিয়ে। আর এই আন্দোলনই শেখাল, আমরা বাঙালি, আমাদের নিজস্ব পরিচয় আছে। এই চেতনা থেকেই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন বাংলাদেশ। সাফওয়ান গভীর চিন্তায় পড়ে গেল। তারপর বলল, দাদা, এর ফলে আমাদের কী কী সুবিধা হয়েছে? আমি তো ভাবিনি কখনো।
দাদা হাসলেন। ভাবো বাবা, এখন ভাবো। তুমি স্কুলে গিয়ে বাংলায় পড়ো। শিক্ষক বাংলায় বোঝান। তোমার বিজ্ঞানের বই, গণিতের বই, ইতিহাসের বই সব বাংলায়। তুমি কি ভেবে দেখেছ, যদি সব উর্দুতে হতো? তাহলে তো আমি কিছুই বুঝতাম না! ঠিক। শোনো, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের ফলে আমরা কী কী পেয়েছি,
প্রথমত শিক্ষার সুবিধা, তুমি, আমি, আমাদের দেশের কোটি কোটি মানুষ নিজের ভাষায় শিক্ষা পাচ্ছি। গ্রামের একটা গরিব ছেলে, যে ইংরেজি বা উর্দু জানে না, সে-ও বাংলায় পড়ে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে পারে। বিজ্ঞানী হতে পারে। মাতৃভাষায় শিক্ষা পেলে মেধার পূর্ণ বিকাশ হয় এটা প্রমাণিত। সত্য। চাকরি ও প্রশাসন, আজ আমাদের সরকারি অফিসে, আদালতে, হাসপাতালে, ব্যাংকে সব জায়গায় বাংলা চলে। একজন সাধারণ কৃষক আদালতে গিয়ে বাংলায় তার অভিযোগ জানাতে পারে। ডাক্তারের কাছে গিয়ে বাংলায় রোগের কথা বলতে পারে। আগে কি সম্ভব ছিল? সাফওয়ান মাথা নাড়ল। না দাদা।
১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণা করেছে। এখন প্রতি বছর এই দিনটা পৃথিবীর ১৯৩টা দেশে পালিত হয়। আমাদের ভাষা শহীদরা পৃথিবীকে শিখিয়েছে, মাতৃভাষা কতটা মূল্যবান। সাফওয়ান অবাক হয়ে বলল, সত্যি দাদা? পুরো পৃথিবীতে? হ্যাঁ বাবা। আমেরিকা থেকে জাপান, ফ্রান্স থেকে অস্ট্রেলিয়া সর্বত্র।
সাফওয়ান একটু ভেবে বলল, দাদা, আমার এক বন্ধু আছে, তার নাম আয়ান। ওর বাবা বলেন, ইংলিশ মিডিয়ামে পড়লে ভবিষ্যত ভালো হবে। বাংলা মিডিয়ামে পড়লে কিছু হবে না। এটা কি সত্যি? দাদার মুখ গম্ভীর হলো। এই প্রশ্ন অনেকেই করে, বাবা। শোনো, আমি তোমাকে স্পষ্ট করে বলি, প্রাথমিক শিক্ষা (ক্লাস ১-৫) অবশ্যই মাতৃভাষায় হওয়া উচিত । কারণ শিশুরা যে ভাষায় ঘরে কথা বলে, চিন্তা করে, স্বপ্ন দেখে সেই ভাষায় শিখলে তাদের মেধা দ্রুত বিকশিত হয়। তারা জিনিস ভালো বোঝে, মনে রাখতে পারে। ইউনেস্কোও এটা বলে। মাধ্যমিক শিক্ষা (ক্লাস ৬-১০) মাতৃভাষায় হওয়া উচিত, কারণ এই সময় ভিত্তি তৈরি হয়। বিজ্ঞান, গণিত, ইতিহাস এসব বাংলায় শিখলে গভীরভাবে বোঝা যায়। তবে এই সময় ইংরেজি বিষয় হিসেবে খুব ভালোভাবে শিখতে হবে। উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়) বাংলায় হওয়া উচিত, তবে ইংরেজি বই, গবেষণাপত্রও পড়তে হবে। জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া এসব উন্নত দেশ নিজেদের ভাষায় উচ্চশিক্ষা দেয়। তারা কি পিছিয়ে আছে? না। বরং তারা এগিয়ে। কারণ মাতৃভাষায় জ্ঞান সৃষ্টি হয়, উদ্ভাবন হয়। তাহলে ইংরেজি মাধ্যম খারাপ?
না বাবা, খারাপ না। কিন্তু বুঝতে হবে, কেন পড়ছ। যদি বিদেশে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, বা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার করতে চাও, তাহলে ইংরেজি মাধ্যম ভালো। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইংরেজিতে পড়লেও বাংলা ভাষা, বাংলা সাহিত্য, বাংলাদেশের ইতিহাস ভুলে যাওয়া যাবে না। শেকড় ছিন্ন হলে গাছ মরে যায়।
দাদা, সাফওয়ান বলল, তাহলে কি আমরা ইংরেজি,আরবি, এসব শিখব না? দাদা হেসে উঠলেন। অবশ্যই শিখবে! আরে বাবা, মাতৃভাষাকে ভালোবাসা মানে অন্য ভাষার বিরোধিতা করা নয়। বরং বলব, যত বেশি ভাষা জানবে, তত সমৃদ্ধ হবে। শোনো,ইংরেজি শিখবে কেন? এটা আজকের পৃথিবীর যোগাযোগের ভাষা। তুমি যদি আমেরিকার বিজ্ঞানী, জাপানের ইঞ্জিনিয়ার, ব্রাজিলের ফুটবলারের সাথে কথা বলতে চাও ইংরেজিতে বলতে হবে।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তির অনেক নতুন বই, গবেষণা ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়। এগুলো পড়তে হলে ইংরেজি জানা লাগবে। ভালো চাকরি, আন্তর্জাতিক সুযোগের জন্য ইংরেজি দরকার।
কিন্তু মনে রেখো, ইংরেজি একটা হাতিয়ার, পরিচয় নয়। আরবি শিখবে কেন? আমরা মুসলমান। কুরআন, হাদিস বোঝার জন্য আরবি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুবাদ পড়লে অনেক সময় মূল অর্থ হারিয়ে যায়। নামাজে আমরা আরবি পড়ি। এর অর্থ জানলে ইবাদতে মজা আসে। মধ্যপ্রাচ্যে কাজের অনেক সুযোগ আছে। আরবি জানলে সুবিধা। অন্য ভাষা চীনা, ফরাসি, স্পেনিশ, হিন্দি, জাপানি ইত্যাদি। চীনা ভাষা জানলে ব্যবসায়িক সুযোগ। ফ্রান্স, কানাডায় কাজ করতে চাইলে ফরাসি দরকার। ল্যাটিন আমেরিকায় স্পেনিশ চলে। ভারতের সাথে ব্যবসা করতে হিন্দি কাজে দেয়। কিন্তু মূল কথা হলো,
প্রথমে শেকড় মজবুত করো, বাংলা ভাষায় পারদর্শী হও। বাংলা সাহিত্য পড়ো, বাংলায় লেখো, বাংলায় চিন্তা করো। তারপর ডালপালা বিস্তার করো: ইংরেজি শেখো, আরবি শেখো, চাইলে আরও ভাষা শেখো। কখনো নিজেকে হারিও না, অন্য ভাষা জানা মানে নিজের ভাষাকে ভুলে যাওয়া নয়। কিছু মানুষ দেখবে, ইংরেজি শিখে বাংলা ভুলে যায়, বাংলা বলতে লজ্জা পায়। এটা মস্ত বড় ভুল। সাফওয়ান মাথা নাড়ল। বুঝলাম দাদা। মানে, বাংলা হলো আমার ঘর, আর অন্য ভাষা হলো বাইরের জানালা। জানালা দিয়ে পৃথিবী দেখব, কিন্তু ঘর ছেড়ে যাব না। দাদা খুশিতে নাতিকে জড়িয়ে ধরলেন। ওয়াহ! একদম ঠিক বলেছ!