মুঃ শফিকুল ইসলাম

রঙিন ফুলে ভরা ছোট্ট এক বাগান। লাল গোলাপ, হলুদ গাঁদা, নীল অপরাজিতাÑÑ সব মিলিয়ে যেন রঙের এক নীরব উৎসব। বাগানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এক পুরনো আমগাছ। আর সেই গাছের এক ডালে নিশ্চুপ বসে থাকে হুতুম পেঁচা।

দিনের আলোয় তাকে খুব একটা দেখা যায় না। সে তখন চোখ বুজে বিশ্রাম নেয়।

কিন্তু রাত নামলেই জেগে ওঠে সে নীরব, সতর্ক এক প্রহরীর মতো।

এক বিকেলে বাগানে খেলতে এলো ছোট্ট রিমি। সে ফুলের ঘ্রাণ নেয়, প্রজাপতির পেছনে দৌড়ায়, আর কখনো মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে বাগানের সৌন্দর্যের দিকে। হঠাৎ তার চোখ পড়ে আমগাছের ডালেÑ একটি পেঁচা স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।

রিমি একটু থেমে মৃদু স্বরে বলল,

তুমি এখানে বসে আছো কেন?

হুতুম পেঁচা ধীরে মাথা নেড়ে উত্তর দিল,

আমি এই বাগানের পাহারাদার। রাত হলে আমি ফুলগুলোকে দেখাশোনা করি।

রিমির চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।

ফুলেরও পাহারা লাগে?

পেঁচা শান্ত কণ্ঠে বলল,

সব সুন্দর জিনিসেরই যত্ন দরকার। অযত্নে তারা নষ্ট হয়ে যায়।

রিমি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর হাসিমুখে বলল,

তাহলে আমিও দিনের বেলা পাহারা দেবো। কেউ যেন ফুল না ছিঁড়ে, নষ্ট না করে।

পেঁচার চোখে যেন একটুখানি আনন্দের ঝিলিক দেখা গেল।

সেদিন থেকে বাগানটি আর আগের মতো নেই। দিনে রিমি তার ছোট্ট দায়িত্ব নিয়ে বাগানে আসে, আর রাতে হুতুম পেঁচা নীরবে পাহারা দেয়। দু’জনের অদেখা বন্ধুত্বে বাগানটি হয়ে ওঠে আরও সজীব, আরও সুন্দর।