বিচিত্র কুমার

বড় নদীর ধারে একটি গ্রামে বাস করত বক আর চড়ুই। বকটি দেখতে বেশ বড়সড় এবং গম্ভীর। সে মনে করত, তার চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান আর কেউ নেই। চড়ুইটি ছোট্ট হলেও বেশ চালাক আর তীক্ষè বুদ্ধির অধিকারী। গ্রামে সবাই চড়ুইকে তার বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রশংসা করত, যা বকের মোটেও পছন্দ ছিল না।

একদিন বকটি চড়ুইকে বলল, “শোন চড়ুই, তুমি ছোট বলে তোমার বুদ্ধি কম। তুমি যদি আমার মতো বড় হতে, তবে সবাই তোমাকে এতটা চালাক বলত না।”

চড়ুই মৃদু হেসে বলল, “আকারে বড় হলেই যে বুদ্ধিমান হওয়া যায় না, তা তুমি জানো না বোধহয়।”

বক রাগ করে বলল, “তাহলে প্রমাণ করো। চলো, আমি আর তুমি এক প্রতিযোগিতা করি। দেখাই, কে বেশি বুদ্ধিমান!” চড়ুই রাজি হয়ে বলল, “ঠিক আছে। প্রতিযোগিতা হোক। তুমি কী ধরনের প্রতিযোগিতা চাও?”

বক একটু ভেবে বলল, “যে নদীর ওপার থেকে মাছ আনতে পারবে, সে-ই হবে জয়ী।”

চড়ুই হাসি লুকিয়ে বলল, “ঠিক আছে, কিন্তু তুমি তো অনেক বড়। তুমি এ কাজ সহজেই করতে পারবে। আমি কিছু ভিন্নভাবে চেষ্টা করব।”

পরের দিন প্রতিযোগিতা শুরু হলো। বক বড় ডানা মেলে নদীর ওপার উড়ে গেল। সেখানে বড়সড় এক মাছ ধরে মুখে নিয়ে নদী পার হওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু মাছটি ভারী হওয়ায় বকের উড়তে কষ্ট হচ্ছিল। হঠাৎ মাছটি লাফ দিয়ে নদীতে পড়ে গেল। বক আবারও চেষ্টা করল, কিন্তু ব্যর্থ হলো।

এদিকে চালাক চড়ুই নদীর ওপারে গিয়ে এক জেলের কাছ থেকে ছোট্ট একটি মাছ ধার করল। তারপর সেটি ঠোঁটে নিয়ে উড়ে উড়ে নদী পার হয়ে ফিরে এল। বক অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি এত সহজে মাছ আনলে কীভাবে?”

চড়ুই মৃদু হেসে বলল, “বুদ্ধি খাটিয়ে! আমি জানতাম, বড় মাছ আনার চেষ্টা করলে আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। তাই জেলের কাছ থেকে ছোট্ট একটি মাছ ধার নিলাম।”

বক লজ্জায় মাথা নিচু করে বলল, “তোমার বুদ্ধির কাছে আমি হার মানলাম। আকার বড় হলেও বুদ্ধি না থাকলে তা কোনো কাজেই লাগে না।”

চড়ুই বলল, “ঠিকই বলেছ, বন্ধু। শক্তি নয়, বরং বুদ্ধি দিয়ে কাজ করাই আমাদের সফলতার চাবিকাঠি।”

এরপর থেকে বক আর চড়ুই একে অপরকে সম্মান করতে শিখল। তাদের বন্ধুত্ব আরও মজবুত হলো। তারা বুঝল, প্রকৃত জ্ঞান হলো নিজেকে এবং অন্যকে শ্রদ্ধা করা।