আব্দুস সালাম

রিদা ক্লাস ওয়ানে পড়ে। তার বয়স ছয় বছর। তার ছোট ভাই রাফির বয়স এক বছর। রাফি এখনো হাঁটতে পারে না, হামাগুড়ি দিয়ে চলে। সে খুবই কৌতূহলী। ঘরে যেটা দেখে, সেটা ধরতে চায়। অনেক সময় মুখেও দিয়ে ফেলে।

রিদা পড়াশোনায় খুব মনোযোগী। সে বই নিয়ে বসে থাকলে, রাফি এসে তার বইয়ের পাতা ছিঁড়ে ফেলে, খাতায় দাগ কেটে দেয়। এতে রিদা খুব বিরক্ত হয়। কখনো রাফিকে ধমক দেয়, কখনো কাঁদতে থাকে।

রিদার মা বলে, “রাফি এখনো ছোট। তুমি ওর ওপর রাগ করো না। তোমার বইগুলো একটু দূরে রাখো। কিন্তু রিদা চায়, বই খাতাও থাকবে, ভাইয়াও পাশে থাকবে কিন্তু রাফি যেন খাতা ছিঁড়তে না পারে।

একদিন রিদা গেম খেলছিল কম্পিউটারে। মা রান্নাঘরে ভীষণ ব্যস্ত। কারণ গ্রাম থেকে দাদা আসবেন। বাসা পরিষ্কার করতে হবে, ভালো খাবারও রান্না করতে হবে।

ওদিকে রাফি খেলছিল খেলনা হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে। হামাগুড়ি দিতে দিতে সে খাটের নিচে চলে যায়। হঠাৎ তার চোখে পড়ে লাল রঙের কিছু ছোট দানা। দেখতে অনেকটা লাল গমের মতো। রাফি ভাবে, “এটা বুঝি খেলনা খাবার! সে একে একে কয়েকটা দানা তুলে মুখে দিয়ে ফেলে।

এই লাল দানাগুলো ছিল আসলে ইঁদুর মারার বিষ। কিছুদিন ধরে বাসায় ইঁদুরের খুব উৎপাত হচ্ছিল। তাই রাফির বাবা আগের দিন রাতে বাজার থেকে এনে রেখেছিলেন ইঁদুর মারার বিষ। মা সেগুলো ঘরের কিছু কোণায় রেখে দেন, যাতে ইঁদুর খায়। কিন্তু ভুল করে একটি জায়গায় বিষ এমনভাবে রেখে দেন, যেটা রাফির নাগালের মধ্যে ছিল।

মা রান্নাঘর থেকে রিদাকে ডাকলেন,

“রাফি কি করছে দেখো তো?

রিদা বলল, “ও খেলছে।

মা বললেন, “তুমি একবার ঘরে গিয়ে দেখে এসো। অনেকক্ষণ চুপচাপ আছে কেন?

রিদা দৌড়ে গিয়ে দেখে, রাফি মেঝেতে পড়ে আছে। সে কাঁপছে, মুখ থেকে লালা বের হচ্ছে! রিদা ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠলÑ

“মা! ভাইয়া খুব খারাপ লাগছে!

মা দৌড়ে এসে রাফিকে তুলে নিলেন। বুঝতে পারলেন, সে ইঁদুরের বিষ খেয়ে ফেলেছে! আর দেরি না করে মা রাফিকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে গেলেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ডাক্তার বললেন,

“ভাগ্য ভালো, সে বেশি খায়নি। দ্রুত হাসপাতালে আনার জন্যই তাকে বাঁচানো গেছে।

সবাই হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।

সেদিন থেকে রিদা বুঝে গেল, ছোট ভাইয়ের দিকে খেয়াল রাখা কত জরুরি। সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, সে আর কখনো মায়ের কথা অমান্য করবে না। সবসময় ভাইয়ের খেয়াল রাখবে।

আর মা-ও বুঝলেন, শিশুদের আশেপাশে কখনোই বিপজ্জনক কিছু রাখা উচিত নয়। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, ইঁদুরের বিষ বা যেকোনো বিপজ্জনক জিনিস এখন থেকে শিশুদের নাগালের বাইরে রাখবেন।