মোহাম্মদ আলীম আল রাজী
শীত নামলেই আদ্রিতার ঘরে একরকম উৎসব শুরু হয়। ভোরের কুয়াশার সঙ্গে সঙ্গে চুলায় আগুন জ্বলে ওঠে, কড়াইতে গরম হয় তেল। এই সময়টাই আদ্রিতার সবচেয়ে প্রিয়Ñকারণ সে জানে, আজ হবে তেলে পিঠা।
মা চালের গুঁড়ো চালুনি দিয়ে ছাঁকেন, নারকেল কোড়ান, গুড় ভাঙেন। আর আদ্রিতা পাশে দাঁড়িয়ে সব দেখেশুনে মুগ্ধ হয়। কড়াইতে তেল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাঁৎ করে আওয়াজ ওঠে। সেই শব্দ শুনে আদ্রিতার চোখে আনন্দ ঝিলমিল করে ওঠে।
তেলে পিঠা ফুলে ওঠে, ধীরে ধীরে সোনালি রং নেয়। মা পিঠা উল্টে দিলে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এক মিষ্টি গন্ধ। প্রথম পিঠাটা বরাবরের মতোই আদ্রিতার জন্য আলাদা রাখা হয়। সে গরম পিঠায় এক কামড় দেয়—জিভে লাগে গুড়-নারকেলের মিষ্টি স্বাদ, নাকে আসে তেলের উষ্ণ ঘ্রাণ।
এই পিঠা আদ্রিতার কাছে শুধু খাবার নয়। এতে লুকিয়ে আছে নানির বলা গল্প। শীতের দুপুর, কুয়াশায় ঢাকা মাঠ আর পরিবারের হাসি-আড্ডা। স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের সে গর্ব করে বলে, “তেলে পিঠা হলে শীতটা সত্যিই শীত লাগে।”
শীত একদিন চলে যাবে, তেলের কড়াইও ঠান্ডা হয়ে আসবে। কিন্তু আদ্রিতার মনে থেকে যাবে তেলে পিঠার সেই সোনালি সকালÑভালোবাসায় মোড়া, শৈশবের মতো উষ্ণ ও মধুর।