এম সোলায়মান জয়

সকালের মিষ্টি রোদে জানালার পাশের পেয়ারা গাছটা ঝিকিমিকি করে। পাতার ফাঁক দিয়ে সোনালি আলো ঘরে পড়ে। আর ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে থাকে ছোট্ট মেয়ে শিরিন সারা। গোলগাল মুখ, নরম চুল, মিষ্টি ঘুম। ঠিক তখনই জানালার ধারে এসে বসে একটি ছোট দোয়েল পাখি।

কালো সাদা পালক। টুকটুকে চোখ আর মিষ্টি সুরে চিরিক চিরিক, চিরিক চিরিক ডাকে।

আর এই মিষ্টি ডাকে সারার ঘুম ভেঙে যায়। সে চোখ কচলাতে কচলাতে জানালার দিকে তাকায়। দেখে একটা দোয়েল পাখি তাকে দেখছে! সারা মুগ্ধ ছোট ছোট করে মিষ্টি সুরে বলে -তুমি কে গো?

দোয়েল যেন হাসে। ঠোঁট নাড়িয়ে আবার বলে চিরিক চিরিক! সেই দিন থেকে শুরু হয় সারা আর দোয়েলের বন্ধুত্ব।

প্রতিদিন সকালে দোয়েল এসে জানালায় বসে গান গায়। আর সারা খুশিতে হাততালি দেয়। খাটের উপর

দাঁড়িয়ে নেচে উঠে। মাঝে মাঝে মা বলেন- সারা, তোমার বন্ধু এসেছে। আর সারা দৌড়ে গিয়ে জানালায় দাঁড়ায়। দোয়েল সারাকে অনেক কিছু শেখায়। কীভাবে সূর্য ওঠে।

পাখিরা কীভাবে গান গায়। আর বাতাস কেমন করে পাতা নাড়ায়। সারা তার নাম রাখে চিরিকু।

এভাবে সারা আর দোয়েলের বন্ধুত্ব দিনে দিনে গভীর হতে থাকে।

কিন্তু এক সকালে সারা ঘুম থেকে উঠে দেখে জানালার ধারে কেউ নেই। না কোনো গান, না কোনো চিরিক।

সে অপেক্ষা করে। একদিন যায়, দুইদিন যায়, তিনদিন যায়। দোয়েল আর আসে না। সারার মন খারাপ হয়ে যায়। সে জানালার পাশে বসে থাকে চুপচাপ।

মা এসে কোলে নিয়ে বলেন-

মা আমার, মন খারাপ করো না। দেখো একদিন ঠিক দোয়েলটা আবার আসবে। হয়তো দোয়েলটা কোথাও ঘুরতে গেছে। কিন্তু সারার চোখে পানি।

সে বলে- না মা, আমার চিরিকু আর আসবে না। এভাবে দিন কেটে যায়। গাছের পাতা ঝরে, হালকা শীত পড়ে। একদিন সকালে, সারা ঘুমোচ্ছে।

হঠাৎ জানালার বাইরে থেকে ভেসে আসে সেই চেনা ডাক

চিরিক চিরিক! সারা চোখ মেলে তাকায়। দেখে চিরিকু ফিরে এসেছে। আর তার সাথে এসেছে তিনটি ছোট্ট ছানা। ছানাগুলো কিচিরমিচির করে ডানা ঝাপটাচ্ছে।

সারা আনন্দে চেঁচিয়ে ওঠে। মা মা আমার বন্ধু চিরিকু এসেছে। সাথে আরও ছোট ছোট তিনটা ছানা নিয়ে এসেছে! মা ছুটে আসে। হাসতে হাসতে বলেন-

দেখো তো, তোমার বন্ধু মা হয়েছে। সারা খুশিতে জানালার পাশে নাচতে থাকে।

চিরিকু আর তার ছানারা যেন বুঝে যায় তাদের সারা চিনেছে। তারা সবাই একসাথে ডানা মেলে নাচে, গায় চিরিক চিরিক, চিরিক চিরিক!