সিদ্দিক আবু বকর

কাচের জানলায় ঠেস মেরে তাকিয়ে আছি বাইরে। শীত কেবল যাই যাই করছে। একদৃষ্টে তাকিয়ে আছি দিগন্ত ছোঁয়া সবুজ মাঠে। ভোরের আলো কিছুটা ফুটতে শুরু করেছে কেবল। কলাগাছ, বড়ুইপাতাসহ অজস্র নাম না জানা বুনোফুল আর সবুজ ঘাসের ঠোঁট শিশিরের আদরে এখনো ঘুমে আচ্ছন্ন। ঢাকা টু কক্সবাজার, পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের পনেরো যাত্রীর ছোট্ট কামরায় বসে আছি। দেখছি ঘুমন্ত প্রকৃতির আড়মোড়া ভেঙে জেগে ওঠার অপার খেয়াল। রেল লাইনের দু’পাশের ছোট-বড় ঘুমঘুম লতাগুল্ম ছুটে চলা ট্রেনের ধাক্কায় চোখ কচলে বিরক্তি নিয়ে তাকাচ্ছে পুবের আকাশে। ভোরের সূর্য্যও তার সোনালী আভার মুচকি হাসিতে ঘুমন্ত প্রকৃতিকে জানান দিচ্ছে, আরেকটা দিনের এই তো শুরু!

ছয়টা পনেরোর ট্রেন। ছেড়েছে ছয়টা ত্রিশে। আমি ঠিক ছয়টায় উঠে ছিলাম। আমার কামরাটি ট্রেনের সবচাইতে কনিষ্ঠ কামরা। আগেই বলেছি, পনেরো যাত্রীর সংকুলান এই কামড়ায়। বগিটার অর্ধেক গিলে খেয়েছে বেরসিক স্নেক্স কর্ণার। কনিষ্ঠ কামরার বয়োজ্যেষ্ঠ যাত্রীটি একমাত্র আমি। বাকিদের বয়স বিশ থেকে ত্রিশের কোঠায়।

অল্পযাত্রীর কামড়া। এ ওর সাথে মিডিয়াম ভলিউমে আলাপ হচ্ছে তুমুল। প্রসঙ্গ কাছাকাছি। আমি চুপচাপ। কামড়া ছোট। যাত্রী কম। কামরার যেদিকেই কানখাড়া করছি, স্পষ্টতই কথার সানে নজুল বুঝা যায়। প্রসঙ্গ নাগরিক দায় ও তার পরবর্তী কনসিকোয়েন্স। দেখলাম, দুই তরুণ বেজায় রকম হতাশ! চোখে-মুখে শঙ্কার ছাপ। কেন? এ শঙ্কার কারণ কি? জাতীয় জীবনে গতপরশু নাগরিক দায় সেরেছে তারা নতুন দিনের স্বপ্নের আশায়। কিন্তু বেশ ক’জায়গার অরাজকতায় তারা খানিক বিব্রত এবং অনাগত আশঙ্কায় চিন্তিতও বটে। সোশ্যাল প্লাটফর্ম থেকে জেনেছে, ইতোমধ্যে দু’জনের প্রাণ গেছে। প্রতিপক্ষের ঘর-বাড়ি অফিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা- জ্বালাও-পোড়াও, হুমকি-ধামকি সব পুরনো ধারায় না কি চলছে। পুরনো খাইছলত একটুও বদলায় নি বলে চরম বিরক্তি তাদের চোখেমুখে। আরেক যুবক তাদের আলোচনায় যুক্ত হলো। তার কমেন্ট, “আমরা মানুষ হিসেবে বদের হাড্ডি।” নাগরিক ইচ্ছার প্রয়োগ হলেও রেজাল্টে না কী ভজঘট হয়েছে! পুরো রেজাল্ট নিয়েও তার ঘোরতর সন্দেহ। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই আলোচনায় কেউ মোটেও ভীতসন্ত্রস্ত নয়! সবাই সতস্ফুর্ত। স্বাধীন মত প্রকাশে খুবই উচ্চকিত তারা।

আমিও নাগরিক দায় মেটাতেই বাড়ি এসেছিলাম। ফিরে যাচ্ছি কামরার বাকিদের মতোই চিরচেনা কর্মস্থলে। আমি ও আমার স্ত্রী দু’জনে দুই মেরুর সাপোর্টার। দু’জনেই নির্বিঘ্নে রায় প্রদান করতে পেরে যারপর নাই খুশি ছিলাম। কিন্তু রেজাল্ট পেয়ে আমাদের একজন অধিক খুশি আরেকজনের অধিক বেজার হবার কথা থাকলেও, ব্যাপার পুরাই উলটো! আমাদের অনুভূতি কিন্ত সিমিলার! সারা দিনের আনন্দ আর কেরি করতে পারলাম না দু’জনেই। আমার সহধর্মিণী হতবাক ও সন্দিহান বিরাট মার্জিনের জয়ে। আর আমি, হতাশ বিগ মার্জিনের পরাজয়ে। আদতে আমরা দুজনেই সন্দিহান এই কামরার তরুণদের মতোই।

ট্রেন ছুটছে খটাস খটাস শব্দ তুলে। মাঠ ঘাট নদী বিল পুকুর ব্রিজ গাছ-পালাকে পেছনে ফেলে। চল্লিশ থেকে ষাট কি.মি. গতির মধ্যেই ছুটছে আমাদের পর্যটক এক্সপ্রেস। যেমনি করে এলোমেলো ছুটছে হতাশা সন্দেহ আর আতঙ্ককের গ্লানি ভরা অভাগা দেশ।

কুয়াশা কাটতে শুরু করেছে। সাথে সাথে কাটতে শুরু করেছে আমার বুকে জমে থাকা হতাশার মেঘদল। যেতে যেতে চোখে পড়লো এক কিশোরীকে। যে কি না ঘুম থেকে উঠেই রেল লাইনের পাশে দাঁড়িয়ে আনমনে দাঁত মাজছে। দৃশ্যটি ক্ষণিকের জন্য আমাকে নিয়ে গেল দুরন্ত কৈশরে। আমিও এমনি আয়েশে দাঁত মাজতাম। রাস্তার ধারে, বাড়ির উঠোনে কিংবা বিরাট খোলা মাঠে। তখন তুথপেস্ট ব্রাশের চল ছিল কি না, আমার জানা নাই। ওসবের পরিবর্তে ব্যবহার হতো চুলার ছাই বা কয়লা। কেউ কেউ নিমের কাঁচা ডালও ব্যবহার করত। হাতের মাঝের আঙ্গুলযোগে চলতো ব্রাশের কাজ। আধুনিক যুগের বাহারি লাল টুকটুকে ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে দাঁতমাজা কিশোরীকে দেখে খানিক নস্টালজিক হয়ে গেলাম। কিশোরী দাঁত মাজছে আর আনমনে তাকিয়ে আছে ছুটে চলা ট্রেনের দিকে।

আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, মেয়েটির উৎসুক চোখ, একবারও কি দেখেছে এক বয়োবৃদ্ধের চিন্তিত মুখ? সে কি দেখেছে জানালার ওপাশের বৃদ্ধের চেহারায় আশাহত দেশের ওপরে জমে থাকা অনিশ্চিত ধুলোর প্রলেপ? আমার জানা নাই। আমার বিশ্বাস- দেখে থাকলে নিশ্চয় চাইবে তার পেস্ট মাখা আধুনিক লাল ব্রাশের ডলায় তুলে ফেলতে হতাশায় ডুবে থাকা স্বদেশের বিবর্ণ ধূলার আস্তরণ।

আমি একটা সিঙ্গেল সিটে বসে আছি কাচের জানালায় ঠেস মেরে প্রকৃতির বারান্দায়। আমার সামনে হাতে মেহেদী ঠোঁটে লিপস্টিক আর মাথায় লাজুক ঘোমটা টেনে বসে আছে এক নববধূ খেয়ালই করিনি! যেমনটা খেয়াল করিনি সাতান্ন বসন্তে চাকচিক্যের আজুহাতে পিছিয়ে পড়া অস্বচ্ছ গ্যালবানাইজড দেশকে। নবদম্পতির মাঝে টুকটাক কথা হচ্ছিল খুবই লো ভলিউমে। মুখোমুখি বসলেও সে কথার আদ্যোপান্ত বুঝার সুযোগ আমার নাই। যেমনি সুযোগ হয় না আমার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বয়ান বোঝার। এই দম্পতি যেমন নিজেদের কথা নিজেরা বলছে নিজেদের মতো। রাজনীতিও কথা বলে ঠিক রাজনৈতিক কথার চালে। চালবাজদের চালবাজির মর্মার্থ বুঝা আম জনতার সাধ্যে নাই।

আমার চোখ এখনো জানালার কাচ ঠেলে দূর দিগন্তে। চেষ্টা করছি যতটা দূরে দৃষ্টি নিক্ষেপ করা যায়। কিন্তু বেশি দূর দৃষ্টি ফেলার শক্তি আমার নাই। চোখে মোটাফ্রেম আর ভারি কাচের চশমা উঠেছে সে-ই কবে। এখনো বারবার কাচ বদলাই দৃষ্টির গতি বাড়াতে। মাঝে মাঝে মনে হয়, ইশ যদি পারতাম এই বুড়ো রেটিনা বদলে শৈসবের তেজদীপ্ত রেটিনা পুনঃস্থাপন করতে! আমার ট্রেনের গতি চল্লিশ থেকে ষাটে উঠছে নামছে। বাট দৃষ্টির গতি নামছে আর নামছে। উঠছে না একচুল। কাচের লেন্সও বিট্রে করছে প্রায় সময়। অধিক ব্যবহার আর অসতর্কতায় অনিচ্ছায় আঁচড় কাটছে গ্লাসে। আঁচড়ে আঁচড়ে ঝাপসা হয়ে আসছে আমার চশমার যৌবন। ঘর ও ঘরের বাইরের শকুনও ঠিক প্রাত্যহিক আঁচড়ে আঁচড়ে স্ক্রেচ ফেলে যাচ্ছে স্বদেশের নরম চামড়ায়! এবড়ো-থেবড়ো অনাহুত অনুর্বর করে ছাড়ছে দুর্ভাগা জনতার স্বপ্ন-চাতাল।

খুব ভোরের ট্রেনে উঠেছিলাম আমরা, আহত স্বপ্নের ঘোরে যুবকদ্বয় এখন ঘুমে। আমার সম্মুখে বসা লাজুক বধূটিও ঘুমিয়ে পড়েছে প্রিয়জনের বুকে মাথা রেখে। নয়াবরকে দেখলাম সূর্যের তেজ থেকে প্রিয়জনকে আড়াল করতে ডানহাতটি উঁচু করে ধরে আছে মুখের ওপর। এই দৃশ্যটি আমাকে আপ্লুত করে। ভীষণ আপ্লুত করে। স্বপ্নও দেখায়- নিশ্চয় এমন দুষ্ট তেজ কিংবা অনিষ্ট থেকে আমার স্বদেশকেও ঐকান্তিক আদরে আগলাবে নাম না জানা কোন অখ্যাত জোয়ান।

ট্রেন ছুটছে তার আপন গতিতে। তার সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটছে মন আমার। ট্রেনের গন্তব্য জানা থাকলেও, মনের গন্তব্য আমার একদম জানা নাই।

কিছুটা তন্দ্রাভাব আছে। কোন এক অজানা ব্যথা ঘুমাতে দিচ্ছে না আমায়। লাকসাম পেরুতেই দেখছি যাত্রীদের দু’চারজন চোখ খুলেছে। চোখ খুলেই এ ওর দিকে তাকাচ্ছে। নববধূটিও চোখ খুলেছে। এদিক ওদিক তাকিয়ে আবারও চোখ বন্ধ করলো সে। যুবকের বুকে মাথা রেখে আবারও ঘুমের ঘরে তলিয়ে গেল বধূটি। যেমন করে নির্ভয় নিরাপদ আশ্রয়ে ঘুমিয়ে পড়ে কোমল শিশু তার মায়ের কোলে। এবার তন্দ্রার বড়শিতে চোখের পাতা বিদ্ধ হলো আমারও। কাচের জানালা থেকে চোখ সরিয়ে নিলাম। ঝিমুনি অনুভব করলাম।

দরজায় টোকা দিয়ে আলতো পায়ে কামরায় ঢুকলেন এক সফেদ-বুড়ো। কেমন যেন রহস্যঘেরা তার নড়াচড়া। যেন এক আগুন্তক ম্যাজিশিয়ান! একে একে ঘুমন্ত-জাগ্রত সবার কানের কাছে গেলেন সে রহস্য মানব। কানে কানে ফিসফিসিয়ে কী জানি বলছেন তিনি! বুড়োর কথা শুনে সবাই কেমন নড়েচড়ে বসছে! নবদম্পতি, দুই যুবকও কেমন নড়েচড়ে উঠলো। এলেন আমার কাছে। আমি কান এগিয়ে দিলাম।

বুড়োর মাথার চুল সাদা। চোখের ভ্রু সাদা। দাড়ি সাদা। এমন কি হাতের লোমও কাশফুলের মতো সাদা। এক কথায় বলা যায় সাদা-মানব। সবার কানে কানে কথা বললেও কারও গায়ে হাত রাখেননি তিনি। কেবল আমার বেলায় ব্যতিক্রম করলেন যেন। আলতো করে কাঁধে হাত রাখলেন। অই হাতের কোমল স্পর্শ আমার শরীরে এক আরাম স্রোত বয়ে দিল। বুড়ো তাঁর মাথা ঝুকালেন। আমি আমার ডান কান এগিয়ে দিলাম। কিন্তু তিনি কানের কাছে না এসে কপালের কাছে ঝুঁকলেন। আলতো করে চুমু খেলেন আমার অমসৃণ কপালে। আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললেন, “সবাই ঘুমিয়ে, তুমি কেন জেগে আছো ভাই!”

আমি বললাম, “জানি না।”

তিনি বললেন, “সবাই তো ঘুমিয়ে! তুমি কেন জেগে?”

আমি আবারও বললাম, “জানি না।”

তিনি বললেন, “আমি জনি...।”

আমি অবাক হয়ে বললাম, “আমি যেটা জানি না, আপনি কেমনে জানেন?”

তিনি বললেন, “হ্যাঁ আমি জানি। তার’চে বড় সত্য তুমিও জানো।”

আমি একটু খেপে গেলাম, “কে বলেছে, আমি জানি! জানি না। জানি না। আমি কিচ্ছু জানি না।”

এবার তিনি মুচকি হাসলেন। ছোট্ট কামরার বাকি চৌদ্দ যাত্রীও হাসলো। সবাই কেমন যেন ভরসার চোখ তুলে আমার দিকে তাকালো! আমি রীতিমতো ঘোরের মধ্যে তখন। সবাই কেন আমার দিকে এমন করে তাকাচ্ছে! এমন কি লাজুক নববধূটিও...!

ঘটনার পরম্পরায় ফিরলাম বুড়োর দিকে। তিনি আবারও হাসলেন। হাসিতে রহস্যের বীজ! মনে হয় জমিনে পুতলে বীজ থেকে এখনি গজাবে ম্যাজিকভ্রুণ! আস্তে করে তিনি আমার সিটের পেছনে এলেন। কাঁপা কাঁপা নরম মোলায়েম পবিত্র হাতদুটু মমতায় মাথার পেছনে রাখলেন। বাঁ থেকে ডানে মাথাটা বার দুয়েক পুরো কামরায় ঘোরালেন। চৌদ্দ যাত্রীর সবাইকে বেশ খুশি খুশি দেখালো। নববধূ সাথে দুই তরুণও তাকালো এক অজানা প্রত্যাশায়। আমি বিরক্ত। একটু চিৎকার করে উঠলাম, “ আজব তো! তোমরা সবাই এভাবে তাকাচ্ছো কেন? আমি কি সার্কাসের ক্লাউন?”

আমাকে অবাক করে দিয়ে নববধূটি আমার চোখে চোখ রাখলো। আমি লক্ষ্য করলাম বধূটির চেহারায় লাজুক সেই ভাব আর নাই। অমাকে অবাক করে দিয়ে বলে উঠলো, “আপনি তো বাবা, রোদ-বৃষ্টিতে আমাদের ছাতা।

আপনি দেয়াল, আমাদের নিরাপত্তা।

আপনি সাহস, আমাদের সামনে এগুবার গতি।

আপনি নির্ঘুম, আমাদের প্রহরী।

আপনি হতাশার বিপরীতে আশার আলো, আপনি উছিলা।

আপনি ছুটে চলা ট্রেনের সম্মুখের ইঞ্জিন, আমরা পেছনের চৌদ্দবগি-স্বপ্নের বহর।

শক্ত পায়ে দাঁড়ান। চলুন আমাদের নিয়ে। চলুন আকাক্সক্ষার হাত ধরে পৌঁছে যাই আমাদের স্বপ্নের মঞ্জিল।”

আমি দাঁড়ালাম। কাঁধে হাত রাখলো যুবক। তারপর দম্পতি। তারপর একে একে সবাই। কাঁধ খামচে ধরলো যুবক। মনে হলো কাঁধ নয় মস্তিষ্কে খামছে ধরেছে সে। শ্লোগান তুললো তরুণ -

“আমরা কেউ- হারবো না, হারবো না”

কোরাসে উচ্চস্বরে সবাই-

“কে বলেছে? আমরা কেউ- পারবো না? পারবো না?”

আমার শরীর বিদ্যুৎ স্ফুলিঙ্গ ঝটকায় কেঁপে উঠলো। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘামের অস্তিত্ব টের পেলাম। আমি কি ভীত! না কি অধিক সাহসী। চৌদ্দ যুবকের কোরাস। তীব্র শ্লোগানে শ্লোগানে লাল হয়ে গেল আমার দু’কান। মস্তিষ্কের গহবরে তুললো তুমুল ঝড়। হাত হলো মুষ্ঠিবদ্ধ। পা আমার সাম্মুখে আগুয়ান। সফেদ-বুড়ো তৃপ্তির হাসি হাসলেন। ইশারায় দেখালেন মঞ্জিলে এগুবার পথ। নীরবে হাঁটা দিলেন সেই পথ ধরে। আমিও অনুগামী সফেদ-বুড়োর। কর্ণকুহরে বেজে উঠলো ট্রেনের চিরচেনা হুইসাল।

কু...! কু...! এই লন, লবণ মরিচ মেশানো কচিশসা-মিস্টিপেয়ারা...। এই শসা...। এই মিস্টি পেয়ারা...। হকারের চেঁচামিচিতে আমার ঘুম ভাঙ্গলো। চোখ খুলতেই দেখি, চট্রগ্রাম রেল স্টেশন। ট্রেন থেমেছে মাত্র। চৌদ্দ যাত্রীর কেউ কেউ বাইরে গেছে। নববধূটিও হাঁটছে পুরো প্লাটফর্ম জুড়ে। ঝনঝন নুপুরের শব্দে এক অন্যরকম আবহ প্লাটফর্ম জুড়ে। মুখে তার তৃপ্তির হাসি। আমি দেখছি আমার দেশও হাঁটছে বধূটির নুপুর পরা পায়ের তালে।

চৌদ্দ যাত্রী আবার ফিরে এসেছে ছোট্ট কামরায়। পনেরোজনে আবার পূর্ণ কামরা। ট্রেনের হুইসেল বাজলো। আবার যাত্রা। কাঁচের জানলায় ঠেস মেরে দৃষ্টি ছুঁড়ে দিলাম সবুজ পাহাড়ে। দৃষ্টির সাথে পাল্লা দিয়ে ডলফিন গতিতে ছুটছে ভাবনার ট্রেন। ট্রেনের গন্তব্য জানা। জানা নাই কেবল ভাবনার অনাগত গন্তব্য আমার।