রেজাউল করিম রোমেল

সেদিন কবি মারুফ চৌধুরী ঢাকাতে কবি সম্বেলনে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরতে রাত হওয়ায় তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন আজকের রাতটা ঢাকার কোনো আবাসিক হোটেলে থাকবেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি একটি হোটেলের রিসিপসনে গিয়ে বললেন,

-একটা রুম হবে?

রিসিপসনিস্ট বললেন,

-জ্বী হবে। কেমন রুম চাচ্ছেন?

-মোটামুটি ভাল দেখে একটা দিলেই হবে।

-ঠিক আছে। দেয়া যাবে। আপনার নাম?

-মারুফ চৌধুরী।

-ঠিকানা?

-খড়কী, যশোর।

-পেশা?

-আমি কবি।

রিসিপসনিস্ট লেখা বন্ধ করে মারুফ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হেসে বললেন,

-আপনি কবি! আপনার সাথে কথা বলতে পেরে খুব ভাল লাগল। আপনি কবিতা লেখেন সেতো ভাল কথা। কিন্তু আপনার পেশা কি?

-আমি কবি। কবিতা লিখি। এটাই আমার পেশা।

কথাটি বলে মারুফ চৌধুরী রুমের চাবি নিয়ে চলে গেল। আর রিসিপসনিস্ট মারুফ চৌধুরীর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল।

পরের দিন মারুফ চৌধুরী বাসে উঠে যশোরে তাঁর নিজের বাড়িতে চলে এল।

মারুফ চৌধুরীর বাবা মা নেই। ছোট বেলাতে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর বাবা মারা গেছেন। তিনি একটি বাড়িতে একাই থাকেন। বাড়িটি তাঁর নিজের নামে। বাড়ি ভাড়া, পত্রিকায় লেখালিখি আর মাঝে মধ্যে নিজের বই প্রকাশ করে যে টাকা পান, তা দিয়েই কোনভাবে তাঁর দিন চলে যায়। ছোট বেলা থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখেন একদিন বড় কবি হবেন। কবিতো তিনি হয়েছেনই।

একদিন মারুফ চৌধুরী তাঁর বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। হটাৎ কেউ একজন তাঁর গায়ে একটি কাগজ ছুঁড়ে মারল। তিনি ভাবলেন হয়তো কেউ জানালা দিয়ে কাগজ ফেলেছে, সেটি ভুল করে তাঁর গায়ে এসে পড়েছে। তিনি বিষয়টিকে কোনো গুরুত্ব না দিয়ে চলে গেলেন তাঁর গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। পরের দিন একই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন মারুফ চৌধুরী। আবারও কেউ একজন তাঁর সামনে কাগজ ছুঁড়ে মারল। সেদিনও মারুফ চৌধুরী বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব না দিয়ে সোজা হেঁটে চলে গেল। তৃতীয় দিন আবার কেউ একজন তার গায়ে কাগজ ছুঁড়ে মারল। এবার তাঁর মনে সন্দেহ হল, প্রতিদিন কাগজের গোল্লা বানিয়ে কে এভাবে ছোঁড়ে! আজ কাগজের গোল্লাটি উঠিয়ে পড়ল। কাগজটিতে লেখা ছিল,

-আপনি কি কিছুই বোঝেন না!

মারুফ চৌধুরী প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়েই চলাফেরা করে। তারপর বেশ কয়েকদিন হল কেউ কাগজ ছোঁড়ে না। পাঁচ ছয়দিন পর আবার একই ভাবে কাগজ ছুড়ল। মারুফ চৌধুরী কাগজটি উঠিয়ে পড়ল। সেটিতে লেখা ছিল,

-আপনার মনে কি অনেক কষ্ট? এতো বিরহের কবিতা লেখেন কেন?

কাগজটি পড়ে সে চলে গেল। দুই দিন পর আবারও তাঁর গায়ে কেউ একজন কাগজ ছুঁড়লো। তাতে লেখা ছিল,

-এরপরও যদি আপনি বিরহের কবিতা লেখেন তাহলে আমি আপনার সাথে ঝগড়া কোরব।

তার কিছুদিন পর কবি সেই রাস্তা দিয়েই হেঁটে যাচ্ছিলেন। হটাৎ তিনি একটি মেয়ের কন্ঠ শুনতে পেল। একটি মেয়ে তাঁকে ডাকছে,

-কবি, কবি, এই কবি...

মারুফ চৌধরী মেয়েটির দিকে তাকাল। মেয়েটির হাতে ছিল একটি খবরের কাগজ আর একটি কবিতার বই। মারুফ চৌধুরী বইটি দেখে বুঝতে পারল এটা তাঁরই লেখা একটি কবিতার বই। মারুফ চৌধুরী মেয়েটির দিকে তাকাতেই মেয়েটি মারুফ চৌধুরীর দিকে আট দশ কদম এগিয়ে এল। তারপর হাতে থাকা খবরের কাগজটি ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ফেললো। কবিতার বইয়ের মাঝের চার পাঁচটা এবং শেষের চার পাঁচটা পৃষ্ঠা ছিড়ে ফেললো। তারপর মারুফ চৌধুরীর দিকে আরো আট দশ কদম এগিয়ে এসে কাঁদতে কাঁদতে বললো,

-আপনি আপনার মাধবি কবিতায় লিখেছেন “মাধবি যদি যেতে চাও যেতে পারো। বলবো না ফিরে এসো” এই লাইনটা আপনি কেন লিখলেন? এই লাইনটি পড়ার পর আমি কাল সারারাত কেঁদেছি। আপনি এই লাইনটি কেন লিখলেন?

কথাগুলো বলে মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। মারুফ চৌধুরী মেয়েটির কর্মকান্ড দেখে নিজে নিজেই হাসতে হাসতে বললো,

-পাগলী মেয়ে।

কথাটি বলে মারুফ চৌধুরী হাঁটতে শুরু করলো নিজের গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।

ঐদিনের পর থেকে মারুফ চৌধুরী রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মেয়েটি তাদের বাড়ির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকত। কবি যে রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হেঁটে যেতেন। মেয়েটির বাড়ি সেই রাস্তাটির পাশেই ছিল।

একদিন মেয়েটি কবিকে ডেকে বললো,

-এটা ক্যাচ ধরেন।

মেয়েটি কাগজের একটা পৃষ্ঠাকে গোল বলের মতো বানিয়ে ক্রিকেটের ফাস্ট বোলারের মতো ছুঁড়ে মারল। আর কবি মারুফ চৌধুরী সেই কাগজের বলটি ভালো ফিল্ডারের মতো ক্যাচ ধরল এবং খুলে পড়ল। কাগজটিতে লেখা ছিল- আমি তোমাকে ভালোবাসি।

কাগজটি পড়ে মেয়েটির দিকে তাকালেন। মেয়েটিও মারুফ চৌধুরীর দিকে তাকালো। মেয়েটি মারুফ চৌধুরীর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। কোনো কিছু না বলে মারুফ চৌধুরী চলে গেল। কিছুদিন পর মারুফ চৌধুরী রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মেয়েটি তাঁর পথ আটকে দাঁড়াল এবং বললো,

-আমি আমার প্রস্তাবের উত্তর জানতে চাই।

- কোন প্রস্তাব?

- সেদিন আপনাকে যে কাগজ দিয়েছিলাম। সে কাগজে যেটা লেখা ছিল, তার উত্তর জানতে চাই।

- কাগজটিতে লেখা ছিল- আমি তোমাকে ভালোবাসি। মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা থাকবে এটাই তো আমরা চাই। কিন্তু আপনি কোন ভালোবাসার কথা বলছেন? একজন প্রেমিকার সাথে একজন প্রেমিকের যে ভালোবাসা সম্পর্ক হয় সেই ভালোবাসার কথা?

মেয়েটি একটু লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে বললো, -হ্যাঁ।

মারুফ চৌধুরী একটু রেগে গিয়ে মেয়েটিকে বললো,

-কাউকে একটি কাগজে “আমি তোমাকে ভালোবাসি” কথাটি লিখে দিলেই ভালোবাসা হয়ে যায়? এটা কি মামু বাড়ির ডাল যে চাইলেই পাওয়া যায়!

কথাগুলো বলে মারুফ চৌধুরী একটু দ্রুত হেঁটে চলে গেলেন। এর পরের দিন আবার মেয়েটি মারুফ চৌধুরীর সামনে এসে দাঁড়াল। মারুফ চৌধুরী বললো,

-তোমার নাম কি?

-আমার নাম শিলা।

-যার কবিতা পড়লে তোমার চোখে জল আসে, আর তাকেই তুমি ভালোবাস; কেন?

-জানি না। শুধু জানি আমি তোমাকে ভালোবাসি। আর কোনো কবিতা লিখবে না, যে কবিতা পড়লে আমার কান্না পায়।

-তুমি কি করো?

-কিছু করি না। এস. এস. সি পরীক্ষায় পাশ করার পর কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। ভর্তি হওয়ার পর আর পড়াশোনা করিনি।

-কেন?

-পড়তে বসলেই মাথা ব্যথা করে।

-কবিতার বই পড়লে মাথা ব্যথা করে না?

-না। -কেন?

-জানি না। আমার কবিতার বই পড়তে খুব ভালোলাগে। বিশেষ করে তোমার কবিতার বই পড়তে আমার অনেক ভালোলাগে জান। আমি যখন থেকে তোমার কবিতার বই পড়তে শুরু করি তখন থেকেই আমি তোমাকে চিনতাম। পত্রিকায় তোমার যে লেখা বের হয়, যে বই বের হয়, তার প্রায় সবগুলোই আমি পড়ি।

-তোমার আর কি করতে ভালোলাগে?

-ঘুরে বেড়াতে ভালোলাগে।

-আগামীকাল মুুক্তেশ্বরী নদীতে নৌকায় করে বেড়াব আর মাছ ধরব। তুমি যাবে আমায় সাথে?

শিলা কথাটি শুনে খুশিতে আত্মহারা হয়ে বলতে লাগল,

-যাব যাব যাব। অনেক দিন নৌকায় করে ঘুরতে যাওয়া হয়নি।

পরের দিন মারুফ চৌধুরী ও শিলা মুক্তেশ্বরী নদীতে সারাদিন ঘুরে বেড়ালো আর মাছ ধরল। এভাবে দুজনে প্রায়ই বিভিন্ন জায়গাতে ঘুরে বেড়াতো, গল্প করত। একটা সময় কবি মারুফ চৌধুরী শিলাকে ভালোবেসে ফেললো। এবং সে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল যে, সে শিলাকে বিয়ে করবে। একদিন শিলাকে সে তার মনের কথা জানাল।

শিলা বললো,

-আমার মা বাবার সাথে কথা বলো।

কবি মারুফ চৌধুরী শিলাদের বাড়িতে গেল। তার বাবা মায়ের সাথে কথা বললো। সে শিলাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিল। শুনে শিলার বাবা মা অবাক হয়ে গেল। শিলার মা বললো,

-তুমি শিলাকে ভালোবাসো? -জ্বী।

-তুমি কি করো? -আমি কবি।

-তুমি কবিতা লেখো সেতো ভাল কথা। কিন্তু তোমার পেশা কি?

-আমি কবিতা লিখি এটাই আমার পেশা।

-ও আচ্ছা।

শিলার বাবা বললো,

-তুমি শিলাকে ভালোবাসো এটা আমরা জানতাম। কিন্তু শিলাকে তুমি কতটুকু জানো?

মারুফ চৌধুরী বললো,

-আমি ভালোবাসার বিনিময়ে ভালোবেসেছি। আমার কাছে ও খুব ভালো মেয়ে।

-তুমি কবি। কিন্তু কবিতা আর বাস্তবতা এক জিনিস নয়। সেটা তুমি নিশ্চয় জানো?

-জ্বী জানি। আপনারা হয়তো ভাবছেন আমার সাথে শিলার বিয়ে হলে শিলা সুখি হবে না। কিন্তু আমার বিশ্বাস শিলার সাথে আমার বিয়ে হলে আমরা সুখি হব। কারণ শিলাও আমাকে ভালোবাসে। ও আমার কবিতা খুব পছন্দ করে। এই কবিতার মাধ্যমেই তার সাথে আমার পরিচয়, ভালেঅলাগা, ভালোবাসা, পেম সবকিছু। আমি শিলা-কে ছাড়া বাঁচব না। ওকে না পেলে আমি মরে যাব।

-তুমি কি জানো শিলা অসুস্থ?

-ও আমাকে বলেছিল, ওর পড়তে বসলে মাথা ব্যথা করে তাই সে আর পড়াশোনা করবে না। ক্লাসের বই না পড়লে তার মাথা ব্যথা করে না। এমনকি কবিতার বই পড়লেও তার মাথা ব্যথা করে না।

-শিলার ব্রেন ক্যাসার। ও বেশিদিন বাঁচবে না। ডাক্তার বলেছে হয়তো দুই বছর বাঁচবে। একটি মাত্র মেয়ে আমার। জানি না জীবনে কি পাপ করেছিলাম। যে কারণে আজ আমাকে এতো বড় শাস্তি পেতে হচ্ছে।

কথাগুলো বলতে বলতে শিলার বাবা কাঁদতে শুরু করল। মা রেহেনা বেগমও কাঁদতে লাগল।

কাঁদতে কাঁদতে রেহেনা বেগম বললেন,

-ওর কোনো কাজে আমরা বাধা দেই না। ও যখন যা করতে চায় আমরা তা করতে দিই। কারণ আমরা চাই ও যতদিন বাঁচে ততোদিন যেন হাসি আনন্দের মাঝে বেঁচে থাকে। শিলা জানে না যে তার ব্রেন ক্যান্সার। আমরা তাকে কখনো বুঝতে দেইনি। আমরা দুজনেই জানতাম শিলা তোমার সাথে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু আমরা ওকে কখনো বাধা দেইনি। কারণ আমরা জানি শিলা কোনো অন্যায় কাজ করবে না। আমাদের সন্তানকে আমরা কোনো খারাপ শিক্ষা দেইনি। আমার সতেরো আঠার বছরের মেয়ে জানলে কষ্ট পাবে।

কথাগুলো বলতে বলতে রেহেনা বেগম আবার কাঁদতে শুরু করলো। আর কবি মারুফ চৌধুরী কথাগুলো শুনল এবং তার মনে হল যেন তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। সে এখন কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। কোনো কথা না বলে সেও কাঁদতে শুরু করল।

হঠাৎ শিলা হাসতে হাসতে ড্রইং রুমে এসে হাজির হল। সাথে ট্রে-তে করে চা নাস্তা নিয়ে এল। শিলা-কে আসতে দেখে ড্রইং রুমে বসে থাকা শিলার বাবা মা এবং মারুফ চৌধুরী চোখের পানি মুছে ফেললো। শিলাকে বুঝতে দিল না যে এতক্ষণ তারা কেঁদেছে। শিলা ইশারা করে মারুফ চৌধুরীকে কি যেন একটা বললো। কিন্তু মারুফ চৌধুরী বুঝতে পারল না। তাই তাকে ইশারা করে ড্রইং রুমের দরজার সামনে আসতে বললো। ড্রইং রুমের দরজার সামনে আসার পর শিলা বললো,

-আমার বাবা-মার সাথে তোমার কি কথা হল?

-আমি এক সপ্তাহের মধ্যে তোমাকে বিয়ে করবো।

শিলা অবাক হয়ে মারুফ চৌধুরীর দিকে তাকাল। মারুফ চৌধুরী আর কোনো কথা না বলে ড্রইং রুমে গিয়ে বসল। শিলা একবার কবিকে ডাকতে গিয়েও ডাকল না। সে ঐ কথাটি বার বার ভাবতে লাগল। যে কথাটি কিছুক্ষণ আগে মারুফ চৌধুরী বলে চলে গেল। মারুফ চৌধুরী বলেছিল- আমি এক সপ্তাহের মধ্যে তোমাকে বিয়ে করবো। কথাটি শুনে শিলা খুব খুশি হলো।

এদিকে ড্রইং রুমে বসে কবি মারুফ চৌধুরী এবং শিলার বাবা মা শিলার বিষয়ে কথা বলতে লাগল।

শিলার মা মারুফ চৌধুরীকে বললো,

-শিলা তোমাকে বলেছিল কবিতার বই পড়লে তার মাথা ব্যথা করে না। কিন্তু সে তোমাকে মিথ্যা বলেছিল। অনেক সময় সে কবিতা পড়তে পড়তে অজ্ঞান হয়ে যায়। ও তোমার কবিতার বই পড়তেই বেশি পচ্ছন্দ করে।

-ডাক্তার বলেছে যদি বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করা যায় তাহলে সে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। তার জন্য অনেক টাকার দরকার। কিন্তু কোথায় পাবো এতো টাকা... কথাগুলো বলতে বলতে শিলার বাবা কাঁদতে লাগল।

কবি মারুফ চৌধুরী বললো,

-আমি এক সপ্তাহের মধ্যে শিলাকে বিয়ে করতে চাই। শিলার বাবা-মা মারুফ চৌধুরীর কথা শুনে অবাক হল।

মা রেহেনা বেগম বললেন,

-তোমার বাবা মা, আত্মীয় স্বজন এই বিয়ে কি মেনে নেবে? আমার মেয়ে অসুস্থ। তুমি আমার এই অসুস্থ মেয়েকে কেন বিয়ে করবে?

-আমার বাবা-মা নেই। ছোট বেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। আমি শিলাকে অনেক ভালোবাসি। কথাটি শুনে শিলার বাবা-মা ঘাবড়ে গেল। বাবা ফজলুর রহমান বললো,

-ঠিক আছে তুমি যদি চাও আমরা শিলার সাথে তোমাকে বিয়ে দেব। কিন্তু তোমার আত্মীয় স্বজনের সাথে এ বিষয়ে কথা বলো। দেখ তারা কি বলে।

মারুফ চৌধুরী বললো,

-আমি অনেক খুশি। কারণ আপনারা আমার প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন।

অশ্রু ভেজা চোখে মারুফ চৌধুরী আবার বললো,

-আমি জীবন দিয়ে হলেও আমার ভালোবাসাকে বাঁচানোর চেষ্টা কোরব।