ঢাকা কলেজ বাংলাদেশের স্বনামধন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৮৪ বছর প্রতিষ্ঠার পরেও আবাসন ব্যবস্থা শতভাগ তো দূরের কথা, অর্ধেকেও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি এখনো পর্যন্ত। ঢাকা কলেজের ৮টি আবাসিক হলে মোট সিট বা আসন সংখ্যা ১৬০৮টি। তবে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর তুলনায় এ সিট সংখ্যা খুবই অপ্রতুল ফলে মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ৮ শতাংশের মতো আবাসিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। কলেজে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় বিশ হাজারের অধিক, কিন্তু সে তুলনায় আবাসন ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। আবাসিক সিট পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের সাধারণত কঠোর প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং রেজাল্ট ও উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান ।

অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এখানে এসে থাকার মতো একটা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পান না শিক্ষার্থীরা। নবীন শিক্ষার্থীদের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে এসে নতুন শহরে প্রথম অবস্থায় মানিয়ে নিতে অনেকেই হিমশিম খেতে হয়। সেখানে নিরাপদ আশ্রয়স্থল খুঁজে পাওয়াও কঠিন ব্যাপার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকট নিরসনের বিষয়ে বিভিন্ন দাবি দাওয়া জানিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ঢাকা শহরে একজন শিক্ষার্থীর নিজের খরচ চালানো অনেক কঠিন হয়ে যায়। সেখানে বাইরে মেসে থাকা তাদের জন্যও কষ্টকর হয়ে যায়। সব দিক বিবেচনা করলে দেখা যায়, ঢাকা কলেজ নামে সেরা হলেও এসব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

-মো. শরীফুল ইসলাম

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ।