গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্নস্থানে হামলা চালিয়েছে। এতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ অনেকেই শাহাদাত বরণ করেছেন। যা বিশ্ববিবেককে স্তম্ভিত করেছে। ইরান এ হত্যাকাণ্ডকে রীতিমত কাপুরষোচিত বলে আখ্যা দিয়েছে। উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্পের হুমকি এবং আট মাস আগের ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান আবার বড় ধরনের হামলার শিকার হলো। জবাবে ইরানও ইসরাইলের উত্তরাঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় প্রাথমিকভাবে ইরানে দু’শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির খবর অনুযায়ী, গত শনিবার সকালে রাজধানী তেহরানে ধারাবাহিকভাবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যৌথ সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এ হামলা হয়েছে। ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ অভিযানকে ‘বিশাল ও চলমান’ বলে উল্লেখ করেছেন। পরবর্তী সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, এ যৌথ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। কিন্তু তেহরান বারবার বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো ইচ্ছা নেই। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কেবল ইসরাইলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। গত বছরের জুনেও ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। সে সময় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যা করা হয়। জুনের হামলার পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। দু’দিন আগে ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা জেনেভা আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানানোর পরপরই ইরানে বর্তমান হামলা শুরু হয়। জানা গেছে, জেনেভায় সর্বশেষ আলোচনায় ইরান ইউরেনিয়াম মজুত না করা এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পূর্ণ তদারকিতে রাজি হয়েছিল। হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আরেকটি যুক্তি, তাদের হামলা ইরানীদের জন্য সরকারের ‘নিয়ন্ত্রণ’ নেওয়ার একটি সুযোগ। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ হলে আপনারা সরকারের দায়িত্ব নিন। এবার আপনাদের পালা। সম্ভবত আগামী কয়েক প্রজন্মের মধ্যে এটাই আপনাদের একমাত্র সুযোগ।’
ইরানে মার্কিন-ইসরাইলের যৌথ হামলার পর বিশ্ব নেতৃবৃন্দ মিশ্র ও সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাঈদি বলেন, তার দেশের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এ উত্তেজনার কারণে ‘আবারও বাধাগ্রস্ত’ হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তীব্র সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ার আহ্বান জানান। ইরানের হামলাকে নিজেদের ‘জাতীয় সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন’ উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পাকিস্তানের একজন নাগরিক নিহত হয়েছেন। দেশটি এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সার্বভৌমত্বের এ ধরনের লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের এ সংঘাত ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ পরিণতি’ বয়ে আনবে’।
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে চলা আলোচনাকে একটি ‘ছদ্মবেশী অভিযান’ (কভার অপারেশন) হিসেবে ব্যবহার করেছে। দীর্ঘমেয়াদে এ সংঘাত কোন দিকে মোড় নিতে পারে, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। যুক্তরাজ্য প্রত্যক্ষভাবেই হামলার পক্ষ নিয়ে বলেছে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায় এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে মার্কিন প্রচেষ্টাকে তার দেশ সমর্থন করে।
এদিকে এ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোয় পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তারা এ অভিযানের নাম দিয়েছে ‘ট্রুথফুল প্রমিজ ৪’। উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা হুমকি-ধমকি ও আলোচনার মধ্যে এ সংঘাত শুরু হলো। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, ‘ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পুরো অঞ্চলে ইরানের আক্রমণ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে।’
নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বৈঠকে বলেন, সুনির্দিষ্ট ও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে এই হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেছেন, আমাদের মিত্র দেশগুলো এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর যে হুমকি তৈরি হয়েছিল, তা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইসরাইল এই পদক্ষেপ নিয়েছে।’ ইরানের বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত রাশিয়া এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের ওপর আজ যে আগ্রাসন চালানো হয়েছে, তার ফলে ইতিমধ্যে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে গেছে। এ সংঘাত ইরানের সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূর ছড়িয়ে পড়তে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এ যৌথ হামলাকে ‘সম্পূর্ণ উসকানিমূলক, অবৈধ ও অন্যায্য’ বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে ‘ইসরাইল ফার্স্ট’ নীতিতে পরিণত করেছেন। এর অর্থ হলো ‘আমেরিকা লাস্ট’ বা আমেরিকাকে সবার শেষে রাখা।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সৌদি আরব ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে এবং তাদের প্রতি অবিচল সমর্থন জানাচ্ছে। হামলার জবাবে এ দেশগুলো কোনো পদক্ষেপ নিলে সৌদি আরব নিজের সবটুকু সক্ষমতা দিয়ে তাদের পাশে থাকতে প্রস্তুত।’
লন্ডনে জার্মান দূতাবাসের এক্স হ্যান্ডলে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই তিন দেশ ধারাবাহিকভাবে ইরানকে তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে। এ ছাড়া বিবৃতিতে ইরানকে ‘অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড’ থেকে বিরত থাকতে এবং নিজ দেশের জনগণের ওপর ‘ভয়াবহ সহিংসতা ও দমন-পীড়ন’ বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আজ ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন ছিল। তবে তিনি পরিষ্কার করেছেন, এ বিমানগুলো কোনো আক্রমণে অংশ নেয়নি। বরং ‘আমাদের জনগণ, স্বার্থ ও বন্ধুদেশগুলোকে রক্ষার জন্য যৌথ প্রতিরক্ষা অভিযানের অংশ হিসেবে এটি করা হয়েছে।’ এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে হামলা হলে তা সারা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এভাবে উত্তেজনা বাড়তে থাকা ‘সবার জন্যই বিপজ্জনক’। মাখোঁ আরও বলেন, ‘আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেশগুলো যদি অনুরোধ করে, তবে তাদের রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সব শক্তি মোতায়েন করতে ফ্রান্স প্রস্তুত আছে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যায়িত করেছেন। এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইইউ ইরানের ওপর আগেই কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং পারমাণবিক ইস্যুসহ সব বিষয়ে কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়টিকে সমর্থন দিয়েছে। কাজা কালাস বলেন, তিনি ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার ভাষায়, ‘সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এখন সবচেয়ে জরুরি।’ ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির দপ্তর বলেছে, উত্তেজনা কমাতে তারা মিত্র ও আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। এদিকে ব্রাজিল সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেছেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়-সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপকে তার দেশ সমর্থন করছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সবাইকে বিবেচনাশক্তি না হারিয়ে উত্তেজনা কমানোর এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার অনুরোধ করেছেন। ফলকার টুর্ক বলেন, ‘যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতে সব সময় সাধারণ মানুষকেই চরম মূল্য দিতে হয়।’ তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে মনে করিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয়।
একথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করেছে। ভেনিজুয়েলার পর ইরান আক্রমণের মধ্যে দিয়ে ট্রাম্পের অধীনে শক্তি ও দম্ভ প্রকাশের নতুন এক আমেরিকাকে দেখা যাচ্ছে। যেখানে আন্তর্জাতিক আইন কানুন ও নিয়মের কোনো কিছুই আমলে নেওয়া হয়নি। এ স্বেচ্ছাচারিতা চলমান বিশ্বব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিরোধ-দ্বন্দ্বে থাকা দেশগুলোর শাসকরা তাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হবেন। এতে করে সংশয় অবিশ্বাস বাড়বে বিশেষ করে আমেরিকার প্রতি আস্থা তলানিতে ঠেকবে।
মূলত, ইরানে হামলার জন্য ট্রাম্পের কাছে কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তার পূর্বসূরি বুশ যখন ইরাকে হামলা চালান তখন দেশটির বিরুদ্ধে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মজুদ রাখার মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছিল। ইরানে হামলার জন্য ট্রাম্প তিন কারণ বলছেন, এগুলো হলো বৈশ্বিক হুমকি মোকাবেলা, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং দেশটির শাসক গোষ্ঠী পরিবর্তন।
বাস্তবতা হচ্ছে ইরান কোনোভাবে বিশ্বের জন্য হুমকি হয়নি। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা শান্তিপ্রিয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহৃত হয়নি। দেশটির নৌবাহিনীও কোন দেশে অন্যায়ভাবে আক্রমণ করেনি। যেখানে এ সব ক’টি অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র ও তার সঙ্গী ইসরাইলের বিরুদ্ধে আছে। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অভিযান চালিয়ে ধরে নিয়ে এসে বিচারের মুখোমুখি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ইরানের জন্য বড় হুমকি হয়ে আছে। বাণিজ্যিক অবরোধ আরোপ করে তেহরানের টুঁটি চেপে ধরে আছে। আর ওয়াশিংটনের মিত্র ইসরাইল বছরের পর বছর বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে, বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে মাতৃভূমি থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে।
ইরানের শাসকশ্রেণী ও জনগণকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প অত্যন্ত অবমাননাকর বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের উৎখাত করে ইরানিদের স্বাধীন করার অশোভন আহ্বান জানিয়েছেন। ইসলামী বিপ্লবী বাহিনী (আইআরজিসি) আত্মসমসর্পণ না করলে সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। একটি সার্বভৌম দেশের প্রতি এ ধরনের দম্ভোক্তি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।
ইরানীদের আলোচনার টেবিলে সমঝোতার আভাস দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এভাবে সর্বাত্মক হামলা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাকে একেবারে অবিশ্বস্ত করে তুলবে। ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে কেবল রাজনৈতিক সুবিধা পেতে ভেনিজুয়েলা ও ইরানে আক্রমণ করা হয়েছে। ট্যারিফ ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে ট্রাম্প ধরাশায়ী হয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দেশে তার জনপ্রিয়তা কমছে। ইরানে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে তিনি জনগণের দৃষ্টি ফিরিয়ে জনপ্রিয়তা বাড়াতে চান। যেখানে বিদেশে আর সামরিক অভিযান না চালানোর নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যা বিশ্বের অন্য নেতাদের প্রতি আমেরিকার নতুন বার্তা। কেবল দেশীয় রাজনীতিতে সুবিধা পাওয়ার তুচ্ছ কারণে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতেও ট্রাম্পের বাধছে না। ফলে সারাবিশ্বে যে অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতা ছড়িয়ে পড়বে সেটি কোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য কোনো দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না।
ইরানে মার্কিন-ইসরাইল যৌথ হামলার বিষয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ কিছু মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখালেও কোন মানদণ্ডে এ হামলা বা নির্মম হত্যাযজ্ঞের কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই। মূলত, এ হামলা ছিলো আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লংঘন। আর কোন ভাবেই একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিনা উস্কানীতে হত্যাযজ্ঞ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্্র ও জায়নবাদী ইসরাইলের এ দানবীয় হামলা ও হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। অন্যথায় এ যৌথ অপশক্তি সভ্যতাকে ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করাবে।
www.syedmasud.com