হারুন-আর-রশিদ

ইদানীং একটি কথা মানুষের মুখে মুখে শোনা যায় যেমন ক্লাস রুম ফাঁকা কোচিং সেন্টার ঠাঁসা। নগরির অলিগলিতে স্কুল কলেজের চেয়ে কোচিং সেন্টার বেশি। স্কুলগুলোর দায়িত্ব শুধু সার্টিফিকেট দেওয়া আর পড়া শোনার দায়িত্ব মনে হয় কোচিং সেন্টারগুলোর। কিন্তু অভিভাবকদের মাসিক বেতন দিতে হবে দুই জাগাতেই। হতবাক হতে হয় এজন্য যে কোচিং সেন্টারের মাসিক বেতন আবার স্কুল কলেজের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। আরও হতবাক হতে হয় এ কারণে যে স্কুলের শিক্ষকরাই কোচিং সেন্টারগুলোর শিক্ষক শিক্ষিকা। দুই জায়গা থেকেই একজন শিক্ষকের আয়ের সুযোগ থাকছে কোচিং সেন্টারগুলো ব্যবসায়িক কায়দায় গড়ে ওঠার কারণে। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত অভিভাবক সমাজ দুই জায়গায় টাকা দিতে গিয়ে ফতুর হয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের অর্থ যেমন লোপাট হচ্ছে তেমনি সময়েরও প্রচুর অপচয় হচ্ছে। বিশ্বের উন্নত কয়েকটি দেশে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে আমার। সেখানে কোচিং সেন্টার নেই। পড়াশোনা সব স্কুল কলেজেই হয়। অনেক স্কুল, কলেজ, ও হাসপাতাল সে দেশগুলোর সরকারের অনুদানে চলে। বাসায় এসে ঘরের কাজ এবং নিজের কাজ নিজেকে করতে হয় শিক্ষার্থীদের। অনেক স্কুলে বই পত্র ক্লাসে রেখে আসতে দেখলাম। উন্নত বিশ্বের শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা, রাষ্ট্রের একমাত্র চিন্তা বলে মনে হলো আমার কাছে। ঐ সমস্ত দেশের অভিভাবকরা মহাখুশি কারণ তাদের বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয় না, অন্যদিকে অর্থেরও সাশ্রয় হয়। আমরা জুলাই ৩৬ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন করলাম প্রায় পৌনে দুই বছর হতে চললো কিন্তু শিক্ষাঙ্গনে বৈষম্য এখনো চলমান আছে। শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক বিষয়ে বৈষম্য বিতারিত হোক সেটা না হয়ে প্রতিদিনই তা বাণিজ্যে রূপ ধারণ করছে। বাংলাদেশে মাথাপিছু বছরে গড় আয় মাত্র ২,৬৮৯ ইউএস ডলার যা দক্ষিণ এশিয়ার পঞ্চমতম স্থান। প্রথম স্থান মালদ্বীপের। সেখানে গড় আয় ১৮,২০৭ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশে যদি শিক্ষা ও চিকিৎসা এবং ন্যায়বিচার ইত্যাদি মানবিক কর্মকাণ্ড বাণিজ্যিক রূপ নেয় তাহলে দুর্নীতিতে দেশটি পুনরায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে। আমরা বিগত সময়ে দুর্নীতিতে ৫ বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন খ্যাতি অর্জন করেছিÑ এটা খুবই লজ্জাজনক ব্যাপার। বাংলাদেশে এমন কিছু কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে যেখানে বছরে কয়েক লাখ টাকা ডোনেশন দিতে হয়। উদাহরণ স্বরূপ লালমাটিয়ায় একটি কোচিং সেন্টারে আছে যেখানে বছরে দুই লাখ টাকা প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া হয়। কাগজে কলমে আইনী বিধানে লেখা আছে আবাসিক এলাকায় কোনো কোচিং সেন্টার, স্কুল কলেজ হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এবং ব্যবসা বাণিজ্যি থাকতে পারবে না। উল্লেখ্য আবাসিক এলাকায় বসত বাড়ি ও খেলার মাঠ ছাড়া আর কিছুই থাকতে পারবে না। কিতাবি আইনে এরকম কথা লেখা থাকলেও বাস্তবে সেটা দেখা যায়না। কিন্তু প্রায় তিন দশক ধরে ঢাকার নামি দামি আবাসিক এলাকাগুলো বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে যথেষ্ট পরিচিতি লাভ করেছে। এসব কারণে আবাসিক এলাকায় যানজট দানবে রুপ ধারন করছে এবং আবাসিক এলাকা তার চিরাচরিত সৌন্দর্য বিনষ্ট হচ্ছে। এ সব কারণে আবাসিক এলাকাগুলো বহুমাত্রিক দূষণে আক্রান্ত হচ্ছে। রোগব্যাধি লেগেই থাকে আবাসিক এলাকাগুলোতে। কার পার্কিং এর ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা প্রাইভেট কার গুলি প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘন্টা রাস্তার দুই পাশে ৮-থেকে ১০ ফুট জায়গা দখল করে বসে থাকে। এখান থেকেও রাজনৈতিক চাঁদাবাজি চলে। আছে তরিতরকারি বিক্রেতার আনাগোণা। এ কারণে যানজট লেগেই থাকে আবাসিক এলাকাগুলোতে।

কোচিং সেন্টার বর্তমানে শিক্ষা ও ব্যবসা উভয়ের সংমিশ্রণ হলেও, এর বাণিজ্যিক দিকটিই প্রবল হয়ে উঠেছে। এটি দুর্বল ছাত্রদের সহায়তার একটি মাধ্যম হিসেবে মনে করা হলেও নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য কোচিং বাণিজ্যিকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। শিক্ষক ও কোচিং সেন্টারের অনিয়ন্ত্রিত এই বাণিজ্য শিক্ষাব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবেও দেখা দিয়েছে। বিস্তারিত বিষয়সমূহ : (১) শিক্ষামূলক দিক : দুর্বল ছাত্র-ছাত্রীদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন, সিলেবাস সময়মতো শেষ করা এবং ভালো ফলাফলের জন্য কোচিং সহায়তা করে। (২) ব্যবসায়িক দিক : কোচিং সেন্টারগুলো মূলত একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিনত হয়েছে, যেখানে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে যথাযথভাবে না পড়িয়ে কোচিংয়ে বেশি সময় দেন। (৩) নীতিমালা ও সমস্যা : বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য নিষিদ্ধ হলেও হাজার হাজার সেন্টার চালু আছে। (৪) পরিণতি : ছাত্ররা এখন মুখস্থ-নির্ভর শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। সব মিলিয়ে কোচিং এখন আর শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি বড়ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। তাহলে কোচিং বাণিজ্য কি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প একটি ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে উঠছে। প্রশ্নটি এসেই যায়।

স্কুল টাইম ফাঁকি দিয়ে রমরমা বাণিজ্য ও নতুন শিক্ষা আইনের খসড়ায় প্রাইভেট ও গাইড বইয়ের বৈধতা দেয়া হচ্ছে। কোচিং সেন্টারের বাাইরেও হাল আমলে জমজমাট অনলাইন কোচিং ব্যবসার লাগাম টানা যাচ্ছে না। বিগত সময়ে আইন করেও কোচিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা কিংবা স্কুল শিক্ষকদের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের বাইরে টাকার বিনিময়ে পাঠ্যদান বন্ধ করা যায়নি। বরং নানা কৌশলে ভিন্ন ভিন্ন নামে অবাধে চলছে এই ব্যবসা। অভিভাবকদের পক্ষ থেকেও ক্লাসরুমে আরো বেশি সময় নিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়া বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি ছিল। কিন্তু চাপপ্রয়োগ করে কিংবা আইনের দোহাই দিয়েও তা আজও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বাস্তবে বিভিন্ন স্কুলের ক্লাসরুমে আকাল থাকলেও স্কুল বা কলেজ সংলগ্ন কোচিং সেন্টারগুলো ঠাসা থাকে শিক্ষার্থীতে।

শিক্ষা এখন আর কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম বা সেবা নয়,বরং তা একটি লাভজনক বাণিজ্যে পরিনত হয়েছে,যেখানে শিক্ষার গুণগতমানের চেয়ে মুনাফা অর্জনই মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাণিজ্যিকীকরণের ফলে শিক্ষা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। শিক্ষা বাণিজ্যের প্রধান দিকগুলো হলো :

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধিপত্যঃ বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচ্চ টিউশন ফি ও নানা ফি-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

মানহীন শিক্ষা ব্যবস্থা : বেশি মুনাফার আশায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মান উন্নয়নের চেয়ে অবকাঠামোগত জাঁকজমক প্রদর্শনে বেশি মনোযোগী।

বৈশম্য : উচ্চমূল্যের শিক্ষা শুধুমাত্র ধনী পরিবারের সন্তানদের জন্য সহজলভ্য হচ্ছে, ফলে মেধার চেয়ে অর্থের জোরে শিক্ষা অর্জনের প্রবণতা বাড়ছে। সামগ্রিকভাবে, শিক্ষা বাণিজ্যে পরিণত হওয়ায় তা একটি মৌলিক অধিকার থেকে পণ্যতে রূপান্তরিত হচ্ছে, যা সমাজ ও জাতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি সিট নিজের দখলে নেওয়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীর মাঝে চলে ভর্তি যুদ্ধ। প্রতি বছর প্রায় আড়াই লক্ষ্যের বেশি শিক্ষার্থী এই ভর্তি যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এই সময়টিতে চলে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের রমরমা বাণিজ্য। যেখানে ভর্তি হতে হলে একজন শিক্ষার্থী গুনতে হয় মোটা অংকের অর্থ। যা একজন উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানের জন্য খুব বেশি মনে না হলেও, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত সীমিত আয়ের পরিবারের কাছে অনেক বেশি। আবার কোচিংয়ে ভর্তি হয়েও অনেকে তাদের পছন্দসই বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায় না। এর ব্যর্থতার দায় শুধুমাত্র ওই শিক্ষার্থীর নয়। কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাস শেষ করানো হয় এমনভাবে, তা দিয়ে কেন একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতি নিতে পারে না। কেন তাকে কোচিংয়ে ভর্তি হতেই হবে? তাই বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, স্কুল-কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা উন্নত করে কোচিং ব্যবসার লাগাম টানুন।

কোচিং সেন্টারগুলো বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যেভাবে মধ্যবিত্ত সমাজের পকেট কাটছে তাতে অচিরেই তাদের সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। অনেকেই বলছে এতো টাকা কোথায় পাবো। যাদের একাধিক সন্তান আছে তাদের অবস্থা আরো হৃদয়বিদারক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন এই অবৈধ বাণিজ্য চালু রেখেছেন তা বুঝে আসে না। বিশিষ্টজনরা মনে করছেন এই অসাধু ব্যবসার ইন্দন জোগাছে উচ্চবিত্তরা। তাদের টাকা আছে তাই এই ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে চায়। জরিপে দেখা গেছে এই অবৈধ ব্যবসার সাথে তারাও জড়িত আছে। বাসা বাড়ি ভাড়া করে আবাসিক এলাকায় কোচিং সেন্টার খুলে একটি বিলবোর্ড টানিয়ে লিখে দেয় ভাল রেজাল্ট করতে চাইলে অতিসত্বর নিম্ন ঠিকানায় যোগাযোগ করুন। এ যেন টাকা কামানোর কৌশলগত ফাঁদ। নানা জরীপে উঠে এসেছে ঢাকা শহরে প্রায় ৩৫০ বর্গকিলোমিটারে লক্ষ্যাধিক কোচিং সেন্টার মনোরম সাজে সজ্জিত হয়ে আছে। এসব কোচিং সেন্টারে শিক্ষকবৃন্দ রাজধানীর বড় বড় বিদ্যাপীঠ থেকেই এসেছে। তারা যতটা অবৈধ পথে ইনকামে যত্নশীল তার চেয়ে কম দায়িত্বশীল নিজ নিজ শিক্ষাঙ্গনে। নামি-দামি কোচিং সেন্টার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে তাদের বাণিজ্যের পরিধি আরো ব্যাপকতর করে তুলছে। শুধু ঢাকা নয় অন্যান্য জেলাশহরে এই কোচিং ব্যবসা গড়ে উঠছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় নিকট ভবিষ্যতে সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্ররা নাম লেখাতে যাবে।আর পড়াশোনা করতে যাবে নগরির অলিগলিতে গড়ে ওঠা নামে-বেনামে কোচিং সেন্টার গুলোতে।এতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মান একেবারে তলানিতে নেমে যাবে।

প্রতিটি আবাসিক এলাকায় কোচিং সেন্টারে এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঠাসা। পথচারীদের পথ চলা অতি কষ্টকর। রাষ্ট্রে আইন কার্যকর থাকলে এ ধরনের ব্যবসা গড়ে উঠতো না। এবং মানুষরা আর্থিক এবং মানসিক বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পেত। ইসলামের দৃষ্টিতে এগুলো পুরোপুরি অনৈতিক ব্যবসা। পড়াশোনা হবে স্কুল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। অভিভাবকরা কেন শিক্ষার ক্ষেত্রে দুই জায়গায় টাকা দিবে। জরিপে দেখা যায় আজকাল পড়াশোনার পেছনে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়। শিক্ষার পেছনে অর্থ জোগার করতে গিয়ে সৎ মানুষও অসৎ পথে পা বাড়ায়। উদ্দেশ্য একটি সন্তানকে মানুষ করতে হবে। তারা অভিযোগ করে স্কুল কলেজে পড়াশোনা হয় না। স্কুলের শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীদের বলে দেয় অমুক কোচিং সেন্টারে ভর্তি হও তাহলে পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করতে পারবে। দেখা গেছে ওই শিক্ষকই কোচিং সেন্টারের একজন নিয়মিত শিক্ষক। একই শিক্ষক ক্লাসে পড়ায় না কিন্তু কোচিং সেন্টারে সে অ্যাক্টিভ। স্কুলের বেতনে তার সংসার চলেনা। তাই এই অবৈধ পথ বেছে নিয়েছে। ইনকামের অবৈধ পথ বেছে নেয়াটাই অনৈতিক যা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম হিসেবে বিবেচিত। আইনী ব্যবস্থা কার্যকর না থাকার কারণে একজন পেশাজীবি মানুষ স্বল্প সময়ে ঈমান বিক্রি করে দেয়। বাজারে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রি করাও ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম বা গুনাহের কাজ হিসেবে বিবেচিত। মানুষের নায্য মূল্যে যে সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাওয়ার অধিকার আছে সেসব জিনিসপত্র উচ্চমূল্য বিক্রি করা ইনসাফ ভিত্তিক কাজ হতে পারে না। দেশের সীমিত আয়ের মানুষগুলোর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তারা নানাভাবে আজ অধিকমূল্যের যাঁতাকলে পিষ্ট। ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেছে। দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব অপকর্ম জানেন তারপরও তারা নীরব। একজন শিক্ষার্থী তার দরিদ্র পিতার অবস্থাটা জানেন, তার কোনো কিছু করার ক্ষমতা নেই। বাবা যদি ছেলেকে কোচিং সেন্টারে না পাঠান তাহলে ছেলে নির্ঘাত ফেল করবে। এরকম একটি ধারণা মগজে ঠুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই কষ্ট হলেও পিতা জমিজমা বিক্রি করে তার আদুরে সন্তানকে কোচিং সেন্টারে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে। এভাবেই চলছে খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষের সংসার।

লেখক : গ্রন্থকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক।