ইকবাল হোসেন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এখন এক গভীর আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্নীতি, বৈষম্য, জবাবদিহিতার অভাব এবং আদর্শচ্যুত নেতৃত্বের কারণে জনগণ রাজনীতির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এ প্রেক্ষাপটে একটি আদর্শিক, নৈতিক এবং জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। এ প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম সংগঠনের নাম-বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা কেবল ক্ষমতাকেন্দ্রিক নয়, এটি একটি আদর্শভিত্তিক আন্দোলন। ইসলামী নীতিমালা ও মূল্যবোধকে সামনে রেখে এ দল রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তারুণ্যনির্ভর কাঠামো, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক দৃঢ়তা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দলটিকে বিশেষভাবে স্বতন্ত্র করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, সমাজের নানা স্তরের মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম, জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। এ আগ্রহের পেছনে রয়েছে দলের নেতাকর্মীদের চরিত্র, শৃঙ্খলা, ত্যাগ ও নিষ্ঠা। যে সময় অনেক রাজনৈতিক দল আদর্শচ্যুতি ও সুবিধাবাদিতায় জর্জরিত, সে সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের পথে অবিচল থেকেছেন-যা জনগণের কাছে তাদের প্রতি আস্থা ফেরাতে সহায়তা করছে।

জামায়াত কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং সামাজিক, মানবিক এবং শিক্ষামূলক ক্ষেত্রেও প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলেছে। দুর্যোগে-দুর্বিপাকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশে ভূমিকা রাখা এবং সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে দৃপ্ত অবস্থান নেওয়া-এসবই জনমানুষের হৃদয়ে জামায়াতের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে তুলেছে।

বর্তমানে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েও দলটি ধৈর্য্যরে সঙ্গে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন ও বাধা সত্ত্বেও আদর্শিক অবস্থান থেকে পিছু হটেনি-যা রাজনীতিতে এক বিরল উদাহরণ।

আজ যখন মানুষ বিভ্রান্তির অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলেছে, তখন আলোর দিশা দেখাতে পারে কেবল আদর্শিক নেতৃত্ব। জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি তাই এক নতুন আশার আলো হয়ে উঠছে, যেখানে রয়েছে ন্যায়, ইনসাফ, শান্তি ও কল্যাণের সুস্পষ্ট রূপরেখা।

অতএব, বলা যায়-বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে আসছে, কারণ তারা সত্যিকার অর্থেই একটি আদর্শ রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের প্রতি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই নবজাগরণ কেবল একটি দলের নয়, এটি ন্যায়ের পক্ষে, সৎ ও সুশাসনভিত্তিক ভবিষ্যতের পক্ষে জনমানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন। লেখক : সাংবাদিক