প্রতিবেশী দেশ নেপালে জেন জি আন্দোলন পরবর্তী পরিস্থিতিতে নতুন নির্বাচন সম্পন্ন হবার পর বিজয়ী দল আরএসপি নেতা বালেন শাহ ক্ষমতায় বসেছেন। নানা ঘটনা সামনে আসছে, আছে তার দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ প্রসঙ্গ ও সেই সাথে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই। বাংলাদেশের ঘটনাবলীর সাথে নেপালের কিছুটা মিল রয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেযার পর এর পর একের পর এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটে চলেছে। ইতিমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলিসহ আরো দুজন সাবেক মন্ত্রী হত্যা ও দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। দেশে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে। আরো কিছু ডেভেলপমেন্টের কথা জানা যাচ্ছে বার্তা মাধ্যমে।
কেন গ্রেফতার হলেন সাবেক মন্ত্রীরা? নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের পরদিনই গ্রেফতার হন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী সিপিএন-ইউএমল নেতা কে পি শর্মা অলি। নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শপথ গ্রহণের পরপরই এ গ্রেফতারের ঘটনা নেপালে রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি করেছে নতুন এক পরিস্থিতি। গত সেপ্টেম্বরে জেন-জি আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত কে পি শর্মা অলিকেই শধু নয় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। নেপালে বিপ্লব পরবর্তী সময়ে অলি বা কোন নেতা শেখ হাসিনার মতো দেশ ত্যাগ করেননি। কিছু দিন পর তারা রাজনীতিতে ফিরে আসেন এবং নির্বাচনে অংশ নেন। বাংলাদেশে তেমনটা ঘটেনি। জানা যায়, নেপালের বিশেষ আদালতের সাবেক বিচারক গৌরী বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সম্পূর্ণভাবে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রেফতার করা হয়েছে দু’জনকে। ৫ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর ফল ঘোষণায় বেশ বিলম্ব হয়। ফল চূড়ান্ত হওয়ার পর ২৭ মার্চ শপথ নেন নতুন সরকার। তারপরই শুরু হয় গ্রেফতার অভিযান। অলি ও রমেশ লেখকের পর প্রাক্তন জ¦ালানী মন্ত্রী এবং নেপালি কংগ্রেস নেতা দীপক খড়কাকে অর্থ পাচার সংক্রান্ত একটি তদন্তের সূত্রে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বলা হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সম্পত্তি তদন্ত কমিটি গঠন করবে সরকার। দুর্নীতি দমন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক নেতা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্পদের তদন্তের জন্য সরকার ১৫ দিনের মধ্যে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এটি প্রাথমিকভাবে ২০০৬/০৭ সাল থেকে সরকারি পদে থাকা কর্মকর্তাদের সম্পদের তদন্ত করবে, এরপর পূর্ববর্তী সময়ের তদন্ত করা হবে। এর আওতায় মনে হচ্ছে খড়কাকে আটক করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরং বলেছেন, “এটা (গ্রফতার) কোনো প্রতিশোধ নয়, বরং প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। আমরা ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।” সুদান গুরুং জেন জি আন্দোলনের একজন পরিচিত মুখ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তার নিয়োগও তাৎপর্যবহ।
নেপালে এ গ্রেফতার বলতে গেলে নতুন ধরনের ঘটনা। নেপালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোন সাবেক প্রধান নির্বাহী হত্যার সন্দেহে আটক হয়েছেন। এই ধারাটিতে বলা হয়েছে যে, “অবহেলাজনিত হত্যা বরদাস্ত করা হবে না।” অবহেলাজনিত হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ত্রিশ হাজার রুপি জরিমানা। অর্থ পাচারের অভিযোগে তিনজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও দুইজন প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হয়েছে। অর্থ পাচার তদন্ত বিভাগ (ডিএমএলআই) প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা, কেপি শর্মা অলি ও পুষ্পা কমল দাহাল এবং প্রাক্তন মন্ত্রী আরজু রানা দেউবা ও দীপক খড়কার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। আরো কিছু পরিবর্তনের আলামত স্পষ্ট।
আর কী কী অগ্রগতি? ২ এপ্রিল সংসদের যৌথ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। ফেডারেল পার্লামেন্ট সচিবালয় বুধবার একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকে। ফেডারেল পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী সকল দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রতিনিধি পরিষদে জাতীয়ভাবে স্বীকৃত ছয়টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউদেল ৩০ মার্চ মন্ত্রী পরিষদের সুপারিশে ২ তারিখের যৌথ অধিবেশন আহ্বান করেন। অধিবেশনটি ২০২৬ সালের প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশন এবং এতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। দুটি কক্ষে বিভক্ত পার্লামেন্টের কার্যক্রম শুরু হলে রাজনীতির আচটা বুঝা যাবে। বিগত কয়েকটি সরকারের চেয়ে বর্তমান সরকার আসন সংখ্যার দিক থেকে বেশ নিরাপদে আছে। ফলে সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে ভাবনা তেমনটা নেই। বিগত অনেকগুলো সরকার মেয়াদকাল শেষ করতে পারেনি।
এদিকে সরকার ছাত্র সংগঠনের ওপর পরিকল্পিত নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে। এটি মৌলিক অধিকার নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকার ৬০ দিনের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্ত রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দলীয় ছাত্র সংগঠনগুলোকে অপসারণের জন্য সরকার ২৮শে মার্চ একটি পরিকল্পনা উন্মোচন করার পর ছাত্রনেতারা তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। বলেন্দ্র শাহ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মন্ত্রিসভায় সরকারের ১০০-দফা কর্মপরিকল্পনা অনুমোদিত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে থাকা রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর সমস্ত কাঠামো ৬০ দিনের মধ্যে ভেঙে দেওয়া হবে। সরকারের যুক্তি হলো, শিক্ষার মানের অবনতি, শিক্ষাক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ তুলে ধরতে বিদ্যমান ছাত্র সংগঠনগুলোর ব্যর্থতার মতো বিষয়গুলো মোকাবিলা করার জন্য এ পদক্ষেপ জরুরি। দলীয় কাঠামো অপসারণের পর সরকার ৯০ দিনের মধ্যে একটি বিকল্প ব্যবস্থা যেমন ‘ছাত্র পরিষদ’ বা ‘ছাত্রদের কণ্ঠস্বর’ চালু করতে চায়। তবে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলো এই প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এটিকে অবাস্তব ও সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিহিত করেছে। এ থেকে কোন সংকট সৃষ্টি হতে পারে কিনা সেটা নিয়ে ভাবছেন বিশ্লেষকরা। ছাত্ররা হয়তো এ নিষেধাজ্ঞা মেনে নাও নিতে পারে।
প্রশ্ন উঠেছে সরকার কি তার উচ্চাভিলাষী ১০০-দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে? শনিবার উন্মোচিত কর্মপরিকল্পনায় বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা সংস্কার বাস্তবায়ন, পরিষেবা প্রদান উন্নত করা এবং জনগণের অভিযোগের সমাধান করার লক্ষ্য নিয়েছে। বিশ্লেষকরা বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। দরিদ্র এ দেশটির মানুষের মাথাপিছিু আয় কম। সেটা বাড়ানোরও প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন। এগুলো বাস্তবায়ন এখন তার অগ্রাধিকার।
পেছন ফিরে দেখা : বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি’র নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ব্যাপকমাত্রার জেন-জি বিক্ষোভ হয়েছিল নেপালে। বিক্ষোভ দমনে বাহিনীকে কঠোর ভূমিকায় নামার নির্দেশ দেন অলি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন রমেশ লেখক। সংঘর্ষ সবচেয়ে তীব্র হয়ে উঠেছিল ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর। নিহত হন ৭০ জন। ১৯ জন ছিলেন আন্দোলনকারী। বিক্ষোভ সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে ১১ তারিখ পদত্যাগ করেন কে পি শর্মা অলি। সংসদ ভবন রাষ্ট্রপতি ভবনসহ মন্ত্রীদের বাবভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। যা ঘটেছিল বাংলাদেশে এবং তারও আগে শ্রীলংকায়।
এরপর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে প্রধান করে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তার পর নির্বাচন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মোটামুটি নতুন একটি দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি-আরএসপি নেতা বালেন্দ্র শাহ, যিনি বালেন শাহ নামেই পরিচিত। অবশ্য দলের প্রধান হলেন আরেক নেতা রবি লামিছানে। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। নির্বাচনের আগেভাগে বালেন শাহ কাঠমন্ডুর মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে আরএসপিতে যোগ দিয়ে প্রার্থী হন এবং প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার হয়ে প্রচার অভিযান চালান। শুধু তাই নয় তিনি বিপুল ভোটে কে পি শর্মা অলির আসনে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। তার দল দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে এককভাবে বিজয়ী হয়ে চমক দেখায়। আগের নির্বাচনগুলোতে তিন চারটি প্রধান দলকে আসনগুলো ভাগাভাগি করতে দেখা গেছে। যার ফলে জোট সরকার ছিল অবধারিত। আর মাঝে মাঝেই সরকারের পতন ছিল নিয়মিত ঘটনা। পুরনো প্রধান তিনটি দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ, দলপ্রীতির অভিযোগ। জেন জি বিপ্লবের পর সেটা প্রধান হয়ে ওঠে। পুরনো দল শের বাহাদুর দেউবা ও গগন থাপার নেপালী কংগ্রেস, দুটো বামদল ও জোট অলির সিপিএন-ইউএমএল ও পুষ্প কমল দহলের নেপালী কমিউনিস্ট পার্টি -এনসিপি (সাবেক মাওবাদী সেন্টার) নির্বাচনে চরমভাবে পরাজিত হয়ে সরকার গঠনের লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। তারা অত্যন্ত কম আসন পেয়েছে। এনসিপির কোন নেতা আটক হননি। এনসিপি সমন্বয়কারী দাহালকে সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে।
এদিকে অলি ও রমেশ লেখক গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে যৌথ ফ্রন্ট গড়তে চাইছে ইউএমএল। নেতাদের গ্রেপ্তারের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে কংগ্রেসের উভয় শিবির বৈঠক করেছে। ‘যেকোনো পরিস্থিতির’ জন্য প্রস্তুত থাকতে কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ‘পক্ষপাতমূলক’ প্রয়োগের জন্য সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অভিযোগ। প্রধান বিরোধী দলটি সতর্ক করেছে যে, বলেন্দ্র শাহ নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের “পক্ষপাতমূলক” পদক্ষেপ দেশকে নতুন করে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
আদালত অলি ও রমেশ লেখককে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে। জেন জি বিক্ষোভের সময় মৃত্যুর ঘটনায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তদন্তের মুখোমুখি। অন্যদিকে এনসিপি সমন্বয়কারী পুষ্প কমল দাহালকে সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। গ্রেফতার ও দমনমূলক কর্মকাণ্ডে কোন দলই খুশি নয়। অলি ও রমেশ লেখককে মুক্তির দাবিতে দুটো দল কর্মসূচীও পালন করছে বলে জানা গেছে।
কী বলছেন বিশ্লেষকরা : ৫ই মার্চের নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) বিজয় বিস্ময়কর। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো এই ফলাফল ছিল রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গের ব্যাপক সংস্কারের পক্ষে জনরায়। হিমালয়ান টাইমস বলছে, স্বচ্ছ, কার্যকর এবং ঝামেলামুক্ত শাসনের উপর তাঁর মনোযোগ একটি পুনরুজ্জীবিত নেপাল কেমন হতে পারে তার একটি নীলনকশা হয়ে উঠেছিল। এখন, সে একই শক্তিকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। ২৭৫ আসনের পার্লামেন্ট আরএসপি মোট ১৮২টি আসন পাওয়ায় বালেন শাহ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন। জনরায় স্পষ্ট: দুর্নীতির কাঠামো ভেঙে ফেলার জন্য এই শক্তিকে ব্যবহার করতে হবে। এতে বলা হচ্ছে, নেপালের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাস দলীয় কোন্দল এবং জোট সংস্কৃতির কারণে সরকারের ব্যর্থতার উদাহরণে পরিপূর্ণ। ১৯৯০ সালে রাজতন্ত্র সাংবিধানিক আওতায় আসার পর থেকে দেশটি ৩৩টি সরকার গঠন হতে দেখেছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি এসব কুফলের কারণে পতন হয়েছে। ২০০২ সালে জরুরি অবস্থা নিয়ে দলীয় সভাপতি জিপি কৈরালার সঙ্গে মতবিরোধের কারণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা সংসদ ভেঙে দেন এবং ফলস্বরূপ নেপালি কংগ্রেস বিভক্ত হয়ে যায়। ২০২১ সালে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার তার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অহংবোধের দ্বন্দ্বের কারণে ভেঙে পড়ে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের প্রথম মাসগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোই নির্ধারণ করবে সরকার একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে, না হতাশার এক পরিচিত চক্রে এটি কেবল একটি বিরতি মাত্র। নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে জনগণ দলগুলোর আদর্শগত বিশুদ্ধতার চেয়ে দ্রুত পরিষেবা প্রদান এবং উন্নয়নকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। সরকারকে স্থিতিশীলতার পথে চালিত করতে এবং সংসদে ও সংসদের বাইরে আরএসপি-র তৃণমূল কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে চেয়ারম্যান রবি লামিছানে এবং প্রধানমন্ত্রী শাহকে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে। সরকার কিছু কাজ শুরু করেছে, বাকিগুলো আগামীতে দৃশ্যমান হবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।