॥ ড. মো. নূরুল আমিন ॥

অবশেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ সতের বছর নির্বাসন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছেন। বলাবাহুল্য, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজুদ্দিন আহমদকে কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান থেকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করে জেনারেল মঈন-ফখরুদ্দিনের সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এক অদ্ভুত নিপীড়ন ও বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলের নেতানেত্রীরা ব্যাপকভাবে ধরপাকড় ও মামলার শিকার হয়। শেখ হাসিনা ও বেগম জিয়াও গ্রেফতার হন। ৭ মার্চ তারেক রহমানকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় এবং র‌্যাব বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় তাকে আদালতে তোলা হয়। আদালতে পুলিশ, র‌্যাবের চাহিদা অনুযায়ী তার দশ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ডে তার ওপর ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। হাত-পা বেঁধে নির্যাতন সেলে ঝুলিয়ে মারধোর করা হয় বলেও ঐ সময় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী ঐ সময় তার মেরুদ-ও ভেঙে দেয়া হয়েছিল। এ মর্মান্তিক অবস্থায় ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মূলত চিকিৎসার লক্ষ্যে জনাব তারেক লন্ডনের উদ্দেশে দেশ ত্যাগে বাধ্য হন। একইভাবে তার ছোট ভাই কোকো নির্যাতনের শিকার হন। তাকে চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়ায় যেতে হয়, যেখানে তিনি ২০১৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন। লন্ডনের উন্নত চিকিৎসায় তারেক রহমান আস্তে আস্তে সুস্থ হতে থাকেন। এদিকে দেশে হাসিনা সরকার জনাব তারেক, তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তার স্ত্রী ও শাশুড়িকে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত করে জেল-জরিমানার শিকার বানান। তার স্ত্রী জুবাইদাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার পলায়ন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরও তার পরিবার সদস্যদের বিরুদ্ধে আনীত সকল মামলা পর্যালোচনা করে তাদের অব্যাহতি দেয়া হয় এবং তিনি বীরের বেশে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। এ প্রত্যাবর্তনে দেশবাসী খুশি, আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই। তিনি যখন দেশ ত্যাগ করেন তখন ঢাকা সেনানিবাসে তার পিতা জেনারেল জিয়ার স্মৃতিধন্য একটি বাড়িতে তিনি ও তার পরিবার বসবাস করতেন। শেখ হাসিনা সরকার ঐ বাড়ির লিজ দলিল বাতিল করে তার মা বেগম খালেদা জিয়াকে অত্যন্ত অপমানজনকভাবে ঐ বাড়ি থেকে উৎখাত করে বাড়িটি ভেঙে ঐ জমির ওপর বহুতল বিশিষ্ট একাধিক ফ্ল্যাট ভবন তৈরি করেন। কাজেই ঐ বাড়িতে তিনি উঠতে পারছেন না। উঠছেন গুলশানের একটি বাড়িতে যে বাড়িটি বিচারপতি সাত্তার তাদের দিয়েছিলেন।

তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রদত্ত গণসংবর্ধনা গত ২৫ ডিসেম্বর নতুন শহর পূর্বাচলমুখী তিনশ’ ফিট রাস্তাকে চীনের রাজধানী বেইজিং-এর তিয়ানানমেন স্কোয়ারে পরিণত করেছিল। চেয়ারম্যান মাও সেতুং এ স্কোয়ারে নির্মিত সুউচ্চ ডায়াস থেকে পার্টির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতেন। নিষিদ্ধ নগরীর প্রবেশ মুখে তৈরি এ স্কোয়ারের বক্তৃতা মঞ্চটি গুলীর নিশানার বাইরে ছিল যাতে মাও-এর নিরাপত্তায় বিঘ্ন না ঘটে। তারেক রহমানের সংবর্ধনার বেলায়ও ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। এয়ারপোর্ট থেকে তিনশ’ ফিট এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে গুলশান পর্যন্ত তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা নিরাপত্তা বাহিনীর যে প্রটেকশান পেয়েছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর নজির বিরল। তার দেশে প্রত্যাবর্তনের আগে দীর্ঘকাল ধরে অসুস্থ ও এভারকেয়ারে চিকিৎসারত বেগম জিয়াকে প্রদত্ত এসএসএফ (SSF) নিরাপত্তাও জনমনে প্রশ্ন তুলেছিল। অনেককেই বলতে শোনা গেছে যে, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল বর্তমানে ক্ষমতায় নেই এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আগামী ফেব্রুয়ারিতে যেখানে সারাদেশের মানুষ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে সেখানে একটি বিশেষ দলকে সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সরকারি আনুকুল্য প্রদান কি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির পরিপন্থী নয়? এ নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিশেষ ব্যক্তিকে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিহিতকরণ ও অনুরূপ মর্যাদায় প্রাপ্য গার্ড অব অনার প্রদান অভিজ্ঞজনদের চক্ষু এড়ায়নি।

এখানে একটি কথা বলা দরকার। তারেক রহমানের একাধিক পরিচিতি আছে। তিনি মায়ের অবর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দল পরিচালনা করছেন। এ হিসেবে তিনি অন্যান্য দলের ন্যায় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। তিনি সাবেক সেনা প্রধান ও প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের ছেলে। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গনের মুক্তিযুদ্ধের একজন সেনাপতি। আবার তারেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ারও সন্তান।

বাংলাদেশে একটি প্রবচন আছে। ‘দাদার নামে গাধা, বাপের নামে আধা, নিজের নামে শাহজাদা’। জনাব তারেককে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে নিজের যোগ্যতায়ই প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। রাজনৈতিক ময়দানে অনেকে তারেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারেক উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন । আমি এ প্রশ্ন তুলতে চাই না। আমি অনেক রাজনীতিবিদ দেখেছি যাদের প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেই। কিন্তু স্বশিক্ষিত; জ্ঞান ও প্রজ্ঞার দিক দিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রিধারীদের চেয়েও অনেক উঁচু মানের। তারেককে বাংলাদেশের রাজনীতি অধ্যয়ন করতে হবে। তিনি মার্টিন লুসারকে অধ্যায়ন করেছেন অত্যন্ত ভালো কথা।

ঢাকার বুকে আজ থেকে প্রায় চুয়ান্ন বছর আগে আরেকজনের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রেসকোর্স মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় বিশাল জনসমুদ্র আমি দেখেছি। তিনি পাকিস্তানি জেল থেকে ছাড়া পেয়ে লন্ডন-দিল্লি হয়ে ঢাকা পৌঁছে ক্ষমতার মসনদে বসে গিয়েছিলেন। সোনার বাংলা শ্মশান কেন এ স্লোগান দিয়ে তিনি দেশবাসীকে ২০ টাকা মণে চাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেড় বছরের মাথায় স্মরণাতীতকালের বৃহত্তম দুর্ভিক্ষের মুখে দেশকে নিক্ষেপ করেছিলেন। বৃটিশ আমলে ১৯৪৩ সালে বাংলার দুর্ভিক্ষে ২ লাখ লোক মারা গিয়েছিল। পাকিস্তানের চব্বিশ বছরে এ অঞ্চলে কোনো দুর্ভিক্ষ হয়নি। কিন্তু তার আমলের দুর্ভিক্ষে এ বাংলার ১০ লাখ লোক প্রাণ হারিয়েছিল এবং বাসন্তিদের মতো দরিদ্র মেয়েরা কলাপাতা দিয়ে লজ্জা ঢেকেছিল। তিনি দেশকে ২৫ বছরমেয়াদী ‘গোলাপী চুক্তির অধীনে ভারতের করদ রাজ্যে’ পরিণত করেছিলেন। তার পরিণতি কিন্তু ভালো হয়নি।

জনাব তারেক দেশে ফেরার এক সপ্তাহ আগেও বলেছিলেন যে, তার দেশে ফেরা ও চিকিৎসাধীন মাকে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়ার একক ক্ষমতা নেই। পরে শোনা গেল, তিন শর্তে বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত নেতানেত্রীদের দণ্ড মওকুফ ও রাজনীতিতে পুনর্বাসন, আওয়ামী সরকার কর্তৃক ভারতকে প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত রাখার শর্তে ভারতের ক্লিয়ারেন্স নিয়ে তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। দেশের পত্র-পত্রিকায় ও সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হলেও জনাব তারেক জিয়ার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো ক্লারিফিকেশন আসেনি। আসাটা ভালো।

আমি আগেই বলেছি, রাজনীতি করতে হলে রাজনীতি অধ্যয়ন করতে হয়। এজন্য প্রসারিত একটি দিল দরকার; মহানুভব হতে হয়। বৃটিশ রাষ্ট্রবিরোধী লর্ড বার্ক বলতেন, একটা ছোট মন ও একটা বড় দেশ কখনো একসাথে চলতে পারে না। A little mind and a great empire cannot go together. প্রায় ১৯ কোটি জনসংখ্যার আমাদের এ দেশটি জনসংখ্যার দিক থেকে সমগ্র ইউরোপ থেকে বড়। এ বড়ত্বের মাপকাঠিতে আমাদের রাজনীতিকদের মানোন্নয়ন হওয়া প্রয়োজন। দেশের আকাশে এখন বৈষম্যবিরোধী হাওয়া বইছে, এখানে কাউকে বড় ও কাউকে ছোট ভাবার অবকাশ নেই। আবার স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ দশক পর দেশকে স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ শক্তিতে বিভক্ত করাও আত্মঘাতী বলে গণ্য হতে বাধ্য। অতীতে যারা তা করেছেন তারা ধ্বংস হয়েছেন। বর্তমানে যারা তা করতে চাচ্ছেন, বিশ্বাস করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে যে, তারা সব অস্ত্র হারিয়ে এ ভোতা দাওটাকে সম্বল করে নিচ্ছেন যা তাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ।

বিএনপির প্রতি এ দেশের মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অসাধারণ ছিল। সরকারি নির্যাতন, নেতৃত্বের স্খলন ও বেগম জিয়ার কারাভোগ এবং অসুস্থতার পাশাপাশি সাত সমুদ্র তের নদীল ওপার থেকে রিমোর্ট কন্ট্রোলে দল পরিচালনা তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত দলটির সামগ্রিক শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে অধঃপতনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। স্বৈরাচার পতনের পর দলটির সকল পর্যায়ের কা-ারিদের ব্যাপকভাবে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ধর্ষণ, ব্যাভিচার ও লোভ-লালসার দিকে ঠেলে দেয়। তারা আওয়ামী লূটেরাদের জুতা পরতে শুরু করে এবং বর্তমানে চাঁদা, অর্থ ও বিত্ত এবং ক্ষমতা ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে নিজেরা এতই বিভক্ত হয়ে পড়েছেন যে, একজন আরেকজনকে হত্যা করতেও কুণ্ঠা বোধ করছেন না। ঐক্য ও জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠা একটি রাজনৈতিক দলের অন্যতম প্রধান কাজ। কিন্তু যে দল নিজেরাই মারামারি করে নিজেদের লোক খুন করে সে দল ঐক্য-সংহতির পথে এগুবেন কী করে? ঐক্য-সংহতি রক্ষায় ব্যর্থ একটি দলের কাছে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিরাপদ থাকতে পারে না।

এখন নির্বাচন প্রসঙ্গে অল্প দুটি কথা বলি। নির্বাচনী মাঠে স্বাভাবিক নিয়মানুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলো বা জোটসমূহ পরস্পর পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী, তবে শত্রু নয় বন্ধু। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে জামায়াত সবচেয়ে প্রাচীন দল, তারপর বিএনপি ও অন্যরা। বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জেনারেল জিয়া, পঁচাত্তর পরবর্তী পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায়। তখন অনেকে এ দলটিকে রাজকীয় দল বলতেন। এ দলে তিনি দক্ষ ও অভিজ্ঞ দেশপ্রেমিকদের যেমন সমাবেশ ঘটিয়েছিলেন তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনৈতিক ব্রাহ্মণ্যবাদ তথা স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ বিতর্কেরও অবসান ঘটিয়েছেন এবং জনপ্রত্যাশা পূরণের অংশ হিসেবে ইসলামপন্থী দলগুলোকে প্রকাশ্য রাজনীতির অনুমোদনও দিয়েছিলেন। তার এ দর্শন, সংবিধানে বিসমিল্লাহ সংযোজন, মূল নীতিতে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থার অন্তর্ভুক্তি, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গৃহীত ১৯ দফা কর্মসূচি, বিশেষ করে খালকাটা কর্মসূচি, গ্রাম সরকার ব্যবস্থা ও স্বনির্ভর কর্মসূচির প্রবর্তন, দেশের তফসীলি ব্যাংকসমূহকে কৃষিঋণ প্রদানে বাধ্য করার আইন প্রবর্তন, দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও রফতানিমুখী শিল্প হিসেবে পোশাক শিল্পের প্রসার প্রভৃতি তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে তুলে দিয়েছিল। জেনারেল জিয়ার সে বিএনপি কি এখন আছে? এ দলটি কেন এখন ঘৃণিত একটি দলে পরিণত হয়েছে তারেক জিয়াকে অবশ্যই তা খতিয়ে দেখতে হবে। তিনি সংহতির রাজনীতি করবেন, বিভক্তির নয়। এটা যেমন মানুষ আশা করে, তেমনি আধিপত্যবাদ থেকেও দেশকে রক্ষার প্রচেষ্টায় কাজ করবেন- এটাই সকলের কাম্য।