॥ জসিম উদ্দিন মনছুরি ॥

প্রতিটি মুসলমানের ওপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে বলেছেন তিনি তোমাদেরকে কলম দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন কবর থেকে দোলনা পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন করো। মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত করার জন্য জ্ঞানের বিকল্প নেই। মানবতা ও মনুষ্যত্ববোধ না থাকলে মানুষ বলা যায় না। জ্ঞান হচ্ছে জ্যোতির মত। অন্ধকার জীবনকে আলোকিত করতে জ্ঞানের বিকল্প নেই। তাইতো মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন প্রতিটি মুসলমানের জন্য জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন একজন আলেমের বা জ্ঞানীর মৃত্যু পুরো পৃথিবীর মৃত্যুর সমতুল্য। তিনি আরো বলেছেন জ্ঞানীর ঘুম মূর্খ ব্যক্তির এবাদতের সমতুল্য। সবকিছু জানাটা বাধ্যতামূলক কিন্তু সবকিছু মানাটা বাধ্যতামূলক নয়। কোনটা মানবেন কোনটা মানবেন না তার জন্য জ্ঞানের অপরিহার্যতা রয়েছে। যে জাতি যত শিক্ষিত সেই জাতি ততই উন্নত। সম্রাট নেপোলিয়ন বলেছিলেন তোমরা আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও আমি তোমাদেরকে শিক্ষিত জাতি উপহার দেবো। জ্ঞান বা ইলম কারো উপর চাপিয়ে দিয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়। শিক্ষার উদ্রেক করাই হচ্ছে শিক্ষকের কাজ। শিক্ষক ছাত্রকে জ্ঞান অর্জনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে পারেন কিন্তু তার ভিতরে জ্ঞান প্রবেশ করিয়ে দিতে পারেন না। প্রমথ চৌধুরীর মতে ‘সাহিত্য ছেলের হাতের মোয়া নয়, গুরুর হাতের বেতও নয়’।

আনন্দছলে যতটুকু শিক্ষা দেওয়া যায়, প্রহার করে বাধ্যতামূলকভাবে শিক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। এজন্য প্রমথ চৌধুরী বলেছেন শিক্ষকের কাজ হচ্ছে শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ এবং বিবিএস-এর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ।

তবে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার মতে, প্রকৃত সাক্ষরতার হার ৫০ শতাংশের নিচে হতে পারে। ২০২২ সালের বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BANBEIS) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বা উচ্চশিক্ষায় ভর্তির হার ১৮.৬৬ শতাংশ। এটি ২০২১ সালের ২০.১৯ শতাংশের তুলনায় কিছুটা কমেছে এবং গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে পুরুষের তুলনায় দেশে নারীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ীর সংখ্যা রয়েছে যথাক্রমে ৬৫,৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১,৫১৯টি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা রয়েছে। এছাড়াও, ৫৩,০৩৮টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রায় ৫,৯৩২টি অনুদানবিহীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী স্তরের শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রাখছে। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০২৩ সালের তথ্যানুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে (সরকারি-বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেনসহ) মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৮৫ জন। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮১৫ জন শিক্ষার্থী, যা মোট শিক্ষার্থীর ৫৫.৭ শতাংশ।

প্রাথমিক শিক্ষার পরিসংখ্যান (২০২৩-২০২৪) বছরে মোট শিক্ষার্থী ১ কোটি ৯৭ লাখের বেশি। দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫,৫৬৭টি। মোট বিদ্যালয় (সরকারি-বেসরকারি) ১,১৪,৬৩০টি। প্রাথমিক স্তরে উল্লেখযোগ্য হারে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে।

পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ৮ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী কমেছে। বাংলাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৮০০-এর অধিক কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স (উচ্চমাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর) কোর্স চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫৫টি সরকারি কলেজ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মোট ১৯২১টি স্নাতক পাস (ডিগ্রি) কলেজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কলেজে উচ্চমাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে বর্তমানে যথাক্রমে ৫৬টি সরকারি (পাবলিক) এবং ১১৬টিরও বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কার্যকর রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রাচীনতম সরকারি এবং অসংখ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা ও এর বাইরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইউজিসির তালিকাভুক্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ প্রদান করে আসছে। বাংলাদেশ মাদরাসার সংখ্যা আলিম থেকে কামিল পর্যায়ের প্রায় কয়েক হাজার, যার মধ্যে আলিম মাদরাসা ১৩৯৪টি এবং কামিল মাদরাসা প্রায় ২৭০টি। তবে দাখিল থেকে কামিল পর্যন্ত মোট আলিয়া মাদরাসার সংখ্যা ৯২৫৯টি। এছাড়া ফাজিল মাদরাসার সংখ্যা ১০৮৪টি। এছাড়া কওমি মাদরাসা রয়েছে প্রায় ৭০ হাজারের অধিক।

শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করে আসছে। তন্মধ্য উল্লেখযোগ্য হল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বই, উপবৃত্তি (দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য), এবং নতুন স্কুল ড্রেসসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। তাছাড়া খেলার মাঠ, নিরাপদ বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং উন্নতমানের ক্লাসরুম নিশ্চিত করা হয়। মেধাবীদের বিশেষ বৃত্তি ও টিফিনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের তদারকি করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর চালু করা হয় ১৯৮১ সালে।বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে শেখ মুজিব সরকার ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। জাতীয়করণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯৮১ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৩ সালে হাসিনা সরকার আরও ২৬ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় মাঠপর্যায়ে শিক্ষকদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য ৬৭ টি পিটিআই (প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্স্িিটটিউট), ৫০৫টি উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিস এবং শিক্ষকদের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য ৪৮২টি উপজেলা/ থানা রিসোর্স সেন্টার রয়েছে।

এত সুযোগ সুবিধা দেওয়া সত্ত্বেও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিগত বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার টানা ১৪ বছর কমতে থাকার পর গত শিক্ষা বছরে আবার বেড়েছে। সরকারি এক প্রতিবেদনে উঠে আসা এ তথ্যকে শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিসংখ্যান (এপিএসএস) ‘২০২৪’ অনুসারে ২০২৩ সালে ঝরে পড়ার হার ছিল ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুদ্রাস্ফীতিজনিত আর্থিক চাপ এবং অল্প বয়সে শ্রমবাজারে প্রবেশসহ বিভিন্ন কারণে ঝরে পড়ার হার বেড়েছে। এর ফলে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে সন্তানদের পড়াশোনা বাদ দিয়ে অল্প বয়সেই শ্রমবাজারে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে।এতে আরও বলা হয়, ছেলেদের ঝরে পড়ার হার মেয়েদের তুলনায় বেশি। ২০২৩ সালে ছেলেদের ঝরে পড়ার হার ছিল ১৪ দশমিক ১২ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ০২ শতাংশে। অন্যদিকে, মেয়েদের ঝরে পড়ার হার বেড়ে ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দেশে বর্তমানে ১ লাখ ১৮ হাজার ৬০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি শিশু পড়াশোনা করছে।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা যখন ওপরের শ্রেণিতে ওঠে তখন ঝরে পড়ার হার বেড়ে যায়। এতে বোঝা যায় যে প্রাথমিক শিক্ষার ধাপে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে শিক্ষার্থীরা। শ্রেণিভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি বেশি হলেও ঝরে পড়ার হার কম।

তবে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে এই প্রবণতা বাড়তে শুরু করে এবং চতুর্থ শ্রেণিতে এসে ঝরে পড়ার হার সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছায়।’এসব ক্ষেত্রেই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া জরুরি,’ বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

প্রাথমিকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ঝরেরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকলেও ক্রমান্বয়ে তা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে এসে ২০২২ সালে নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করেছিল ২২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৩৩ শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় (এসএসসি) অংশগ্রহণের কথা ছিল তাদের। কিন্তু গত বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১৭ লাখ ১০ হাজার ২৯৬ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ মাধ্যমিক পর্যায়ে গত ২ বছরে ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৭ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে, যা মোট শিক্ষার্থীর ২৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। দুই বছরে বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়া ‘উদ্বেগজনক’ বলছেন শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, প্রাথমিকে ভর্তির হার প্রায় শতভাগ নিশ্চিত করা গেলেও মাধ্যমিকে ঝরে পড়ার হার কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না। এ জায়গায় সরকারকে আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। যদিও শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করা ও ধরে রাখার জন্য সরকার প্রতি বছর উপবৃত্তি, বিনা মূল্যে বই, খাবার দেওয়াসহ অন্যান্য খাতে হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। এরপরও বিভিন্ন পর্যায়ে এত অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থী কেন ঝরে পড়ছে-এ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে সরকারিভাবে বয়স্কদের জন্য গণশিক্ষা বা নিরক্ষরতা দূরীকরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ শুরু হয় দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে, যখন সংবিধানে নিরক্ষরতা দূরীকরণের অঙ্গীকার করা হয়। এরপর ১৯৭৩ সালে ব্যাপক আকারে গণশিক্ষা কেন্দ্র চালু করা হয় এবং ১৯৯২-১৯৯৩ সালে দেশব্যাপী বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় বয়স্ক শিক্ষার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়।বর্তমানে বাংলাদেশে নিরক্ষর মুক্ত বা শতভাগ সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন জেলার সংখ্যা ৭টি। এই জেলাগুলো হলো: ১. মাগুরা (প্রথম নিরক্ষর মুক্ত জেলা), ২. রাজশাহী, ৩. সিরাজগঞ্জ, ৪. জয়পুরহাট, ৫. চুয়াডাঙ্গা, ৬. লালমনিরহাট, এবং ৭. গাইবান্ধা।

প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদেরকে আনন্দছলে শিক্ষা প্রদানের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন। সরকারিভাবে এখন বেত বা মার নিষিদ্ধ হলেও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো বাচ্চাদেরকে মারধরের সংবাদ পাওয়া যায়। ফলে বাচ্চারা ভয়ে আর স্কুলে যেতে চায় না। তাদেরকে বাধ্য করেই যেন শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে এই ধারণা তাদের মনে জন্ম নেয়। মা-বাবার ভয়ে স্কুলে গেলেও তারা যথাযথভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের মধ্যে আনন্দ সহকারে শিক্ষা গ্রহণের মন-মানসিকতা থাকে না। এছাড় সরকারের এ উদ্যোগ কওমি মাদরাসাসমূহে মানা হচ্ছে না। ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক নিপীড়নের সংবাদ পাওয়া যায় প্রতিনিয়ত। এমনকি শিকল দিয়ে বেঁধে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবদ্ধ করে রাখার সংবাদও পাওয়া যায়। তাছাড়া অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক দ্বারা যৌন নিপীনের সংবাদও পাওয়া যায়। এর ফলে ভয়ে শিক্ষার্থীরা আর স্কুলে কিংবা ঐরকম মাদরাসায় পড়ালেখা থেকে পালিয়ে বেড়ায়। শিক্ষার পরিবেশ যেন না হয় ভয়ার্ত। ছাত্র-ছাত্রীরা নিজ উদ্যোগে আনন্দ সহকারে স্কুলে এসে শিক্ষা গ্রহণ করবে এরকম পরিবেশ সৃষ্টি হোক প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক