বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সময়কালÑবিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছরের অধ্যায়Ñ দেশের রাজনীতিতে বহুস্তরীয় বাস্তবতার এক বিরল উদাহরণ হয়ে থাকবে। প্রকাশ্য রাজনীতির মঞ্চে যেমন দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান ও বক্তব্য দেখা গেছে, তেমনি এর আড়ালে কাজ করেছে ক্ষমতার আরও কিছু সমীকরণ, যা ধীরে ধীরে সামনে আসতে শুরু করেছে। নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে বিতর্ক, রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভিন্ন কৌশলÑসব মিলিয়ে এ সময়টি ছিল রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আমার ধারণা, ক্ষমতার অনেকগুলো স্টেকহোল্ডারের পক্ষ থেকে এবারের নির্বাচনী সমীকরণ বাস্তবায়ন করার কারণে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গোপন রাখা কঠিন হবে এবং দিন যত যাবে ভবিষ্যতে নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে আরো অনেক স্পর্শকাতর তথ্য হয়তো জাতির সামনে আসবে।

অন্তবর্তী সরকারের সময়ে যখন জাতীয় ঐকমত্যের সংলাপ চলছিল তখন থেকেই একটি প্রশ্ন বড়ো হয়ে দেখা দেয় আর তাহলো, যে সংস্কারগুলো করা হচ্ছে সেগুলো শেষ পর্যন্ত টিকবে কিনা। অথবা এগুলোর আইনগত ভিত্তি কী হবে। কেননা ভবিষ্যতে যে কেউ এসে আদালতে রিট করে এই সংস্কারগুলোকে বাতিল করে দিতে পারে। তখন নানামুখী আলোচনার পর একটি সিদ্ধান্তে এসে রাজনৈতিক দলগুলো উপনীত হয় তাহলো একটি গণভোটের আয়োজন করতে হবে। জনগণ যেহেতু সংবিধানসহ সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাই জনগণ যদি সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়ে দেয় তাহলে তা হয়তো টিকে যাবে এবং আদালতেও সে রায়কে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকবে না। এভাবে সংস্কারের অপরিহার্যতায় গণভোটের প্রসঙ্গটি সামনে আসলেও শুরু থেকেই গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও ছিল।

নির্বাচন ও গণভোটের প্রশ্নটি যতটা সাংবিধানিক বিতর্কের বিষয় ছিল, তার চেয়েও বেশি ছিল ক্ষমতার ভেতরের সমীকরণ অনুধাবন করার একটি মাধ্যম। অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়জুড়ে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিল তা হলোÑ যে গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রত্যাশিত সংস্কার ঘটবে সে গণভোট কি জাতীয় নির্বাচনের আগে হবে নাকি পরে? জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকেই বলেছিল, গণভোট আগে এবং এরপর জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত। জামায়াতের যুক্তি ছিল, যদি জনগণ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে মত দেয়, তাহলে সে ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে নতুন কাঠামোর আলোকে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে। এতে নির্বাচনটি কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনেরও একটি অংশ হয়ে ওঠবে। অন্যদিকে বিএনপি শুরু থেকেই নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের পক্ষে ছিল। তাদের যুক্তি ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দ্রুত একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। বাস্তবে এ দুটি অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য ছিল শুধু সময়সূচির প্রশ্নে নয়; এর ভেতরে ছিল দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শন। একটি পক্ষ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছিল, অন্য পক্ষ রাজনৈতিক বৈধতার প্রশ্ন সামনে এনেছিল।

এ বিতর্কের মধ্যেই একটি ঘটনা অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মাদ ইউনূস ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। কিন্তু রহস্যজনক বিষয় হলো তার ভাষণ দেয়ার আট-নয় দিন আগে ৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে দৈনিক যুগান্তরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল ‘একই দিনে গণভোট, জাতীয় নির্বাচন।” এ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। প্রতিবেদনের ভাষায়, উচ্চকক্ষে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন পদ্ধতি রেখে জামায়াতকে সন্তুষ্ট করা হবে এবং একই সঙ্গে নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজন করে বিএনপির দাবিও পূরণ করা হবে। এর ৯ দিন পর প্রধান উপদেষ্টা যে ভাষণ দিলেন সেখানে অনেকটাই দৈনিক যুগান্তরের উক্ত প্রতিবেদনে দেয়া তথ্যের আলোকেই সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগেÑ সরকারিভাবে ঘোষণার আগেই এ ধরনের স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমে কীভাবে পৌঁছাল? এটি কি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ফল, নাকি সিদ্ধান্ত আগেই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল এবং তারই আভাস আগাম বেরিয়ে এসেছিল? আমি আমার ফেসবুক একাউন্টে ৪ নভেম্বরেই একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম এবং সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকষর্ণ করার চেষ্টা করেছিলাম।

যদিও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন ঘটনা নতুন নয়। বহু সময় দেখা গেছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই নির্দিষ্ট মহলে তার ইঙ্গিত ঘুরতে থাকে। এ ইংগিতগুলো অনেক সময় ক্ষমতার ভেতরের যোগাযোগ ও বোঝাপড়ার দিকটিকেও সামনে নিয়ে আসে। এ কারণে যুগান্তরের ওই প্রতিবেদনটি কেবল একটি সংবাদ ছিল না; বরং এ প্রতিবেদনটিকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অন্তরালে থাকা সমীকরণেরও ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইউনূস সরকারের একইদিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জামায়াত বড় ধরনের কোনো আন্দোলনে যায়নি। যদিও তাদের যুক্তিই ছিল যে, একই দিনে গণভোট হলে তার বাস্তব প্রভাব থাকবে না। তারা চাইলে রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি বড় ইস্যুতে পরিণত করতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচন ও গণভোটÑ দুটোতেই অংশ নেয়। এর পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, তারা হয়তো মনে করেছিল পুরো প্রক্রিয়া থেকে বাইরে থাকলে রাজনৈতিকভাবে আরও বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। দ্বিতীয়ত, তারা হয়তো বিশ্বাস করেছিল গণভোটের ফলাফল পরে কোনো না কোনোভাবে বাস্তবায়িত হবে। আর তৃতীয়ত, জামায়াত হয়তো জাতির স্বার্থ বিবেচনা করেছে। নতুন করে জাতিকে আর কোনো অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে চায়নি। কিন্তু বাস্তবতা এখন পর্যন্ত ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর এখনো পর্যন্ত যে বাস্তবতা আমরা প্রত্যক্ষ করছি তাতে বলতেই হয় যে, জামায়াত যে আশংকা করেছিল তাই হয়তো সত্য হতে যাচ্ছে। গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট জয়ী হলেও সেই ফলাফলের বাস্তব প্রয়োগ এখনো অস্পষ্ট। সংস্কারের সুপারিশ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ এখনো পর্যন্ত সামনে আসেনি। বরং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে এবং গণভোটের বৈধতা নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনের পরও বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি। ফলে যে সংস্কার প্রক্রিয়ার জন্য গণভোট আয়োজন করা হয়েছিল, কার্যত তা এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে আছে।

অন্তর্বর্তী সরকারকে নিয়ে যে আরেকটি বড় ন্যারেটিভ তৈরি হয়েছিল তা হলো এই সরকার নাকি জামায়াতের প্রভাবে পরিচালিত হয়েছে। এ ন্যারেটিভটি তৈরি করেছিল বিএনপিঘেঁষা বুদ্ধিজীবী ও এ্যাক্টিভিস্টরাই। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তগুলো লক্ষ্য করলে ভিন্ন বাস্তবতাই সামনে আসে।

নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজন, রাষ্ট্রপতির অপসারণ না করা, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখাÑএ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর প্রায় সব ক্ষেত্রেই সরকারের অবস্থান বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গির কাছাকাছি ছিল। ফলে “জামায়াত সরকার চালাচ্ছে” ধরনের যে প্রচারণা চালানো হয়েছিল, তা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে তৈরি একটি বয়ান হিসেবেই বেশি মনে হয়। জামায়াত নিজেও সম্ভবত এই ধরনের প্রচারণায় আশ্বস্ত হয়েছিল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর একটু বেশিই আস্থা রেখেছিল যা সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়নি। জামায়াত একইদিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে সম্মত হয়ে এবং অনেক নেতিবাচকতা আঁচ করার পরও এই নির্বাচনে গিয়ে সঠিক কাজ করেছিল কিনা তা ভবিষ্যতে আরো স্পষ্ট হবে।

অন্তরালের সমীকরণগুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মাদ শাহাবুদ্দিনের কালের কন্ঠে দেয়া সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হওয়ার পর। আমি এ বিষয়ে গত সপ্তাহেই কলাম লিখেছিলাম। ঐ সাক্ষাৎকারে মহামান্য রাষ্ট্রপতি দাবি করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে তার সম্পর্ক পুরো সময়জুড়েই টানাপোড়েনপূর্ণ ছিল। রাষ্ট্রপতি তার সাক্ষাৎকারে এমনও দাবি করেছেন যে, এ কঠিন সময়ে তিনি দুটি শক্তির সমর্থন পেয়েছিলেনÑবিএনপি এবং সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব। তিনি সাক্ষাৎকারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসাও করেছেন এবং বলেছেন বিএনপি নেতারা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তারা কোনো সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করতে চান না এবং অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির অপসারণ মেনে নেবেন না। এ বক্তব্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয় যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রের ভেতরেও ক্ষমতার বিভিন্ন কেন্দ্রের মধ্যে একটি নীরব দ্বন্দ্ব কাজ করছিল।

আর সর্বশেষ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেসনেও অনেক কিছু স্পষ্ট হয়ে যায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বদৌলতে এ সংসদটি গঠিত হয়েছে। নতুবা এ সংসদ এই সময়ে হওয়ারই কথা নয়। যারা এখন মন্ত্রী হয়েছেন, হুইপ হয়েছেন, স্পিকার হয়েছেন সবটাই জুলাইয়ের ওপর ভর করেই। প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিনের ভাষণের সময় সরকারি দলের নেতাদের মুখে স্বস্তির হাসি আর বিরোধী দলের ওয়াকআউটও এ দুটো জোটের অবস্থানগত পার্থক্য এবং অন্তরালের ম্যাকানিজমকে আরো একবার সামনে নিয়ে এসেছে।

বিরোধী দল নির্বাচনের দিন থেকেই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা বলে আসছে। সে দাবিটি হালে পানি পেত না, যদি না রাষ্ট্রপতির ভাষণ কিংবা অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক রিজওয়ানা হাসানের ‘আমরা তাদেরকে মেইনস্ট্রিমে আসতে দেইনি’ মন্তব্যের মধ্য দিয়ে অন্তরালের কোনো সমীকরণের আভাস না মিলতো অথবা যদি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিল সাহেব বিএনপি সরকারে যোগ না দিতেন। মজার ব্যাপার হলো, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ প্রকাশ্যেই একটি সময়ে খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছিলেন এবং তাঁকে সরকার থেকে বের করে দিতে বলেছিলেন। অথচ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার পর তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম এমন হলো যে, নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রী হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ফলে এ কথা বলার সুযোগ তো বিরোধী দলের রয়েছেই যে, সম্ভবত খলিলুর রহমান সাহেব অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রভাবিত করে বিএনপিকে সুবিধা দেওয়ার জন্যই নেপথ্যে কাজ করেছেন আর সে কারণেই বিএনপি তাকে পুরষ্কৃত করেছে।

এরই মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর পক্ষ থেকে ব্যালট ট্যাম্পারিং বা ফলাফল বিকৃতির অভিযোগ তুলে বেশ কিছু নথি ও প্রমাণ নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টেও প্রায় ৩০টি আসনের ভোট পুনঃগণনার আবেদন করা হয়েছে এবং আবেদনের স্বপক্ষে যথেষ্ট অনিয়মের প্রমাণাদি জমাও দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে, প্রতিটি আবেদনের সাথে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল ফরমের কপি, পর্যবেক্ষকদের নোট এবং ভোট গণনার সময়কার অনিয়মের বিবরণ দেয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, যদি প্রতিটি প্রমাণ যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করা হয় তাহলে নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফল পাল্টে যাবে। যদিও নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ইতোমধ্যে যেভাবে রাষ্ট্রের প্রতিটি খাতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে সেখানে এসব আবেদন করে আদৌ কতটা প্রাপ্তি মিলবে তা নিয়ে সংশয় রয়েই যায়।

সব মিলিয়ে ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে মনে হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো মেয়াদে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্তত তিনটি শক্তি সমান্তরালভাবে সক্রিয় ছিল। প্রথমটি ছিল বিএনপি এবং তাদের সমমনা রাজনৈতিক শক্তি, যারা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দ্রুত নির্বাচন চেয়েছিল। দ্বিতীয়টি ছিল জামায়াত, এনসিপি এবং আরো কিছু রাজনৈতিক শক্তি, যারা গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গভীর রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তৃতীয়টি ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শক্তিগুলো, যাদের প্রধান উদ্বেগ ছিল রাষ্ট্র কাঠামোর ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। রাজনীতির এ অন্তরালের সমীকরণ অনেক সময় দৃশ্যমান হয় না। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, রাষ্ট্রের ভেতরে থাকা স্থায়ী শক্তি, রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল এবং ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল প্রায়ই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গতিপথ নির্ধারণ করে। এবারের নির্বাচনেও হয়তো তেমনটাই হয়েছে।