২০২৫ সালের শেষ সময়গুলো আমাদের জন্য শোকাহত হয়ে থাকার মতো। এ মাসের ২০ তারিখে আমরা হারালাম জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক, ফ্যাসিবাদ ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ শরীফ ওসমান হাদীকে। আর বছরের একদম শেষ প্রান্তে ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়া ইন্তিকাল করলেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনবার তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। পাকিস্তানের বেনজীর ভুট্টোর পর তিনি দ্বিতীয় মুসলিম নারী যিনি একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু আমার কাছে তার ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। আমার বাবা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ যে কেবিনেটের মন্ত্রী ছিলেন, তিনি সে কেবিনেটের বা সরকারের প্রধান ছিলেন। তিনি আমাদের জন্য অভিভাবকতুল্য ছিলেন। আমার নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানে বেগম জিয়া এসেছেন, আমার বড়ো ভাইয়ের অনুষ্ঠানে এসেছেন। তার সাথে আমার বাবার হৃদ্যতা ছিল অন্যরকম। ভিন্ন দলের নেতা হওয়ার পরও আমার বাবাকে তিনি অনেক পছন্দ করতেন, আব্বার ওপর অনেক বেশি ভরসাও রাখতেন। অনেক ঘটনা আছে যা আমি আমার পিতার সন্তান হিসেবে সরাসরি দেখেছি বা জেনেছি। সেগুলো নিয়ে অনেক কিছুই লেখা যায়। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী যুগে যখন প্রতিকূল সময় অতিবাহিত করছিলাম, তখন নানা ইস্যুতে তার ওপর কিছুটা অভিমানও পুষে রাখতাম। পরে উপলব্ধি ভিন্ন রকম হয়েছে।

আমি তার অবস্থান থেকে তাকে বোঝার চেষ্টা করেছি। এ কথা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, বেগম খালেদা জিয়া বিএনপিতে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধের ধারক ছিলেন। এ কারণে এ চিন্তাধারার সবাই, এমনকি অন্য দলে বা ঘরানাতেও যারা এ চিন্তা লালন করতেন; তারা সবাই বেগম জিয়ার কাছে আশ্রয় পেয়েছেন। তার ইন্তিকালে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধের চিন্তাধারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি নিজে শত সমালোচনা আর চাপের বাইরে গিয়ে এ দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে যেতেন। এক্ষেত্রে তার শূণ্যতা পূরণ হওয়ার নয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই ধরনের ভারসাম্য করার মতো নেতা আবার কবে আসবেন, জানা নেই।

বেগম খালেদা জিয়া ঠাণ্ডা মাথার মানুষ ছিলেন। বলতেন কম, শুনতেন বেশি। দলের বাইরের শরীকদের স্পেইস দিতেন, দেশের আনাচে-কানাচে থাকা সম্পদগুলোকে কাজে লাগাতেন। অনেক বিদগ্ধজনকে ডেকে এনে গুরুত্বপূর্ণ সব দায়িত্ব প্রদান করতেন। কাউকে বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে সম্পৃক্ত করতেন তো কাউকে রাজনীতিতে। আবার অনেক সুলেখক তার ভাষণগুলো সম্পাদনা করে দিয়েছেন বলেও আমি জানি। সেদিন বিশিষ্টজনদের একটা ঘরোয়া মিটিংয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে সাবেক কয়েকজন আমলাও ছিলেন। তারা বেগম জিয়ার মুসলিম সেন্টিমেন্টের কিছু দৃষ্টান্ত দিলেন। এগুলো আমার জানা ছিল না। সেখানে তার জন্য দোয়াও হলো। বেগম জিয়া এভাবেই তার অজান্তেই বহু মানুষের দোয়া পেয়ে যান, আগামীতেও পাবেন ইনশাআল্লাহ।

সে বৈঠকেই একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা একটি ঘটনা জানালেন। ১৯৯১ সালে বেগম জিয়া ও বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরের ঘটনা। সরকারি পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছিল। বেশ কিছু অভিজ্ঞতার পর বেগম জিয়া দেখলেন সরকারি পদগুলোতে বা ইন্টারভিউ দিয়ে চাকুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে মুসলিম যুবক ও যুবতীর সংখ্যা কম। তিনি কারণ জানতে চাইলেন। তাকে ড্রপ আউটের কথা বলা হলো। মুসলিম ছেলে-মেয়েরা কম পড়াশুনা করে এগুলোও জানানো হলো। তিনি নিজেও খুব উচ্চ শিক্ষিতা ছিলেন না। তাই তিনি মুসলিমদের শিক্ষালাভের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আগে থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করত। কিন্তু বেগম জিয়া তার উপলব্ধি থেকেই এর বিস্তার ঘটাতে চাইলেন। সে হিসেবে ১৯৯২ সালে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও গণশিক্ষা বিভাগকে নিয়ে ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ’ গঠন করা হয়। ১৯৯২ সালে গঠিত বিভাগটি পরবর্তীতে জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেগম জিয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের আলোকেই ২০০৩ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয়ে (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়) রূপান্তরিত হয়। তিনি এ মন্ত্রণালয়টি নিজের হাতেই রাখতে পছন্দ করতেন।

তার আরেকটি ঐতিহাসিক কাজ ছিল মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (Mosque-based Child and Mass Education Program)। এটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর একটি বড় প্রকল্প এবং এর প্রথম পর্যায় ১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছিল। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মেয়াদে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং নিরক্ষর বয়স্কদের অক্ষরজ্ঞান দেওয়া হয়। বলাই বাহুল্য, এটি বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে সফল প্রোজেক্টগুলোর মধ্যে অন্যতম। এভাবেই মুসলিম জনগোষ্ঠী ও সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে তিনি যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এটি অনস্বীকার্য যে, বাংলাদেশে মানুষের গড় শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাওয়া, নারীদের শিক্ষায় অগ্রগতি, ড্রপ আউটের পরিমাণ কমে আসা, প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক করার নেপথ্যে বেগম জিয়ার অনেক ভূমিকা আছে।

বেগম জিয়া সক্রিয় থাকলে রাজনীতিতে বিএনপি এখন ভিন্ন উচ্চতায় থাকতো বলে আমি বিশ্বাস করি। তার রিপ্লেসমেন্ট হয়নি, হওয়াও কঠিন। একজন সাদামাটা বিধবা থেকে আপোষহীন নেত্রী হওয়ার জার্নির ভেতর দিয়ে না গেলে তার মতো দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেত্রী হওয়া যায় না। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, চারদলীয়জোট গঠন, একসাথে আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠনের দৃষ্টিভঙ্গি, ইসলামপন্থীদের নিয়ে সরকার পরিচালনাসহ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়োজনে তিনি ঐতিহাসিক সব কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। দেশের শীর্ষ আলেমদের সাথেও তার সুসম্পর্ক ছিল। এসব কারণে এদেশের ইসলাম প্রিয় মানুষ তাকে স্মরণে রাখবে অনেকদিন।

বেগম জিয়া নেত্রী হিসেবে কতটা উচ্চতাসম্পন্ন; এটা সর্বশেষ দুটো ঘটনা দিয়েও বোঝা যায়। তাকে হাসিনা সরকার আন্দোলনে বা কর্মসূচি পালন করতে দেয়নি। এর প্রতিবাদে তিনি স্বেচ্ছায় নিজ অফিসে অবস্থান করছিলেন। হাসিনা সরকার তার বাসার গ্যাস লাইন, ইন্টারনেট লাইন কেটে তাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল। তার দলের অধিকাংশ নেতা তখন কাপুরুষোচিত ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু তিনি একজন নারী হয়ে মাসের পর মাস অফিসেই অবস্থান করেছিলেন। এমনকি অফিসে বন্দী থাকা অবস্থায় তিনি তার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর লাশ গ্রহণ করেন। এরপরও তিনি হাসিনার কাছে মাথানত করেননি। আমার মনে হয় না, বাংলাদেশে তো বটেই, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও একজন নেতার, একজন মায়ের এতটা স্যাক্রিফাইসের দৃষ্টান্ত বিরল।

ওনার জেল যাত্রাও ছিল নজিরবিহীন। লাখো মানুষ ওনাকে ভালোবাসায় সিক্ত করে মিছিলের মাধ্যমে কারাগারে পৌঁছে দিয়ে এসেছিল। এর আগে ওয়ান এলিভেন সরকারের সময়েও তিনি সাবজেলে ছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা তাকে বৃদ্ধ বয়সে কারাগারে পাঠিয়েছেন, বিশেষ করে সন্তান হারানোর পর। এটা বড্ড বেশি অমানবিক আচরণ হয়ে গেছে তার জন্য। বৃদ্ধা বয়সে তিনি অবশিষ্ট এক ছেলে, দু’পুত্রবধূ, নাতি-নাতনীদের সান্নিধ্য থেকে বছরের পর বছর মাহরুম হয়েছেন, বঞ্চিত হয়েছেন-যা বড় ধরনের জুলুম। আমার বিবেচনায় ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে গিয়ে তার ওপর যে অন্যায় করেছে, তাতেই তিনি সক্ষমতা হারিয়েছেন, চলাফেরার শক্তি হারিয়েছেন। শেষ দিকে তিনি ঠিকভাবে কথাও বলতে পারতেন না, দলীয় প্রোগ্রামেও যাওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না। তিনি আসলে অনেকদিন ধরেই একটি জীবন্ত লাশ হয়েই বেঁচে ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে শেখ হাসিনা আমাদের চিরচেনা বেগম খালেদা জিয়াকে অনেক আগেই হত্যা করেছে। ৩০ ডিসেম্বর ওনার শারীরিক মৃত্যু হলো মাত্র।

এরপরও বেগম জিয়া নেত্রী হিসেবে অনন্য কেননা এতটা জুলুম ও অন্যায়ের পরও তিনি কখনো প্রতিহিংসার কথা বলেননি। তিনি যখন মুক্ত হলেন, রাষ্ট্রের সম্মাননা পেলেন, তখনও তিনি শান্ত ছিলেন, তিনি দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার কথাই বলে গেছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকতে যেভাবে সংবাদ সম্মেলনগুলোতে প্রতিহিংসার চর্চা করতেন, কিংবা দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে যাওয়ার পরও এখনো যেভাবে অনলাইন প্রোগ্রামগুলোতে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধাচারণ করেন, সুযোগ পেলে সবকটাকে ঝুলাতে চান এরকম একটি বক্তব্যও বেগম জিয়া দিয়েছেন মর্মে কেউ দেখাতে পারবে না। এ একটি জায়গায় এসে বেগম জিয়া অনন্যসাধারণ এক নেত্রীতে পরিণত হয়ে যান বারবার।

বেগম জিয়ার বিশেষত্ব হলো, তিনি দলের বাইরে সবার হতে পেরেছেন। তার ইন্তিকালের খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখলেও অনেক কিছু স্পষ্ট হয়। সকল দলের মানুষ মতপার্থক্য ও আদর্শিক ভিন্নতা সত্ত্বেও তার জন্য দোয়া করেছেন। আমি নিজেও জানি, তাকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে বের করে দেয়ার দৃশ্য, কিংবা আরাফাত রহমান কোকোর লাশের সামনে তার কান্না কিংবা জেলখানায় গমনের সেই ঐতিহাসিক মিছিল লাখো কোটি মানুষকে আলোড়িত করেছে। তার জানাযা বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জানাযা হিসেবে বিবেচিত হবে বলেই আমার ধারণা।

আওয়ামী আমলে প্রতিকূলতার কারণে হয়তো সবাই তার সিমপ্যাথি বা অনুভূতি এখনকার মতো করে প্রকাশ করতে পারেনি, কিন্তু তাতে করে এই সম্মান ও ভালোবাসা কমেনি বরং আরো পুঞ্জীভূত হয়েছে। বেগম জিয়ার আরেকটি বিশেষত্ব হলো, তিনি কখনো দেশ ছেড়ে যাননি। ওয়ান এলিভেনের সময় না, হাসিনার সময় না আবার অনুকূল সময়েও না। আর দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এবার বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পেয়েও তিনি এত অল্প সময়ের বিরতিতে ফিরে আসবেন তা আমি নিজেও ধারণা করিনি। বেগম জিয়ার রাজনীতির সফলতা এটাই। তিনি দলের ঊর্ধ্বে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কেউ আপোষকামীতার বা পালিয়ে যাওয়ার বা নিরাপদে থাকার অভিযোগ আনতে পারেননি।

বেগম খালেদা জিয়ার আরেকটি অনবদ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি যতবারই নির্বাচন করেছেন তার হেরে যাওয়ার বা পরাজিত হওয়ার কোনো রেকর্ড নেই। এমনকি তিনি ৫টি আসনে যতবারই নির্বাচন করেছেন, ততবার তিনি ৫টি আসনেই জয়ী হয়েছেন। পক্ষান্তরে শেখ হাসিনার পরাজয়ের ইতিহাস আছে অনেকবার। অনেকেরই মনে থাকার কথা। একবার শেখ হাসিনা রমনা-তেজগাঁও আসনে নির্বাচন করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন মেজর অব. আব্দুল মান্নান। মেজর আব্দুল মান্নান তখনো কোনো পরিচিত নেতা ছিলেন না। কিন্তু ফলাফলে দেখা গেল, মেজর মান্নান হাসিনাকে নির্বাচনে হারিয়ে দিয়েছেন। শেখ হাসিনাকে হারিয়ে তার কপাল খুলে যায়। তিনি বিএনপি থেকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। পরবর্তীতে তিনি অবশ্য বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে বিকল্পধারায় যোগদান করেন এবং দলটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শেখ হাসিনাকে হারিয়ে আরেকজন মানুষেরও উত্থান হয়েছিল। তিনি হলেন মরহুম সাদেক হোসেন খোকা। সূত্রাপুর-কোতয়ালীতে ইলেকশন করেও শেখ হাসিনা হেরে গিয়েছিলেন খোকার কাছে। এ রেকর্ডগুলো প্রমাণ করে যে, বর্তমান সময়ের আওয়ামী লীগ বিহীন পরিস্থিতিই শুধু নয়। আওয়ামী লীগ যখন পুরোদমে রাজনীতিও করেছে, তখনও বিএনপির তুলনামূলক কম পরিচিত প্রার্থীদের কাছে শেখ হাসিনা পরাজিত হয়েছেন। সেদিক থেকে খালেদা জিয়ার নির্বাচনী ইতিহাস একদমই বিপরীত।

আমি জুলাই বিপ্লবের কথা স্মরণ করি। কারণ এ বিপ্লব না হলে বেগম জিয়াকে তার দল মুক্ত করতে বা বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করতে পারতো কিনা তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে। আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেও ধন্যবাদ জানাই কেননা তারা জীবিত খালেদা জিয়ার শেষ বছরটিতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যথেষ্ট সম্মাননা দিয়েছেন। তার ইন্তিকালের পরও অন্তর্বর্তী সরকার, যাবতীয় সরকারি বিভাগ ও প্রতিটি বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন, জুলাই যোদ্ধারাও তাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবেসেছেন, ধারণ করেছেন। বেগম জিয়া রাজনীতিবিদ ছিলেন। দেশ পরিচালনা করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই তিনি ভুল ত্রুটির উর্ধ্বে নন। তবে তার ইতিবাচক কাজ ও দেশপ্রেমের নজিরই বেশি। আল্লাহ তায়ালা তার ভুলগুলো ক্ষমা করে দিন। তার ভালো কাজ ও ইতিবাচক চেষ্টাগুলো কবুল করুন। বাংলাদেশকে আধিপত্য ও আগ্রাসন থেকে হেফাজত করুন। মানুষের মনের ভাষা বুঝতে পারে, আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদ বিরোধী বিশাল জনগোষ্ঠীর মূল্যবোধ লালন করতে পারে-এরকম বড় মনের ও উদার মানসিকতাসম্পন্ন জাতীয় নেতা আমাদের দান করুন। আমিন।