মিনহাজুল ইসলাম মাসুম

এই পৃথিবীতে যতগুলো মধুর শব্দ আছে তন্মধ্যে ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি একটি। একটি জাতির জন্য রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করা অনেক গৌরবের। ‘বাংলাদেশ’ নামক ভূখণ্ডটি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক শোষণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা প্রত্যাশিত ‘স্বাধীনতা’ লাভ করি। বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সংগ্রামের ফসল এই স্বাধীনতা। স্বাধীনতা মানে উচ্ছৃঙ্খলতা নয়, এক বিরাট দায়িত্ব। স্বাধীন হওয়া অর্থ এই নয় যে, দেশের জনগণ এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের কোন পরওয়া না করে যার যা খুশি তা-ই করবে। ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই সর্বপ্রথম কাজ ছিল। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, একের পর এক বিশৃঙ্খল-পরিস্থিতিতে দেশ ও জাতি শাসকগোষ্ঠীর দুর্বৃত্তায়নের কবলে পড়ে। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন বাহিনীর অপকর্মে সদ্য স্বাধীন দেশটি মারাত্মক দুর্ভিক্ষের কবলে পতিত হয়।

শাসকগোষ্ঠী গণতন্ত্রের সকল চেতনাকে পদদলিত করে একদলীয় শাসন বাকশাল চাপিয়ে দেয়। বর্তমানেও আমরা কায়েমী স্বার্থবাদী শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়-অত্যাচার, অবিচার, জুলুম-নির্যাতন, দুর্নীতি, মিথ্যাচার, বিরোধী মত দলন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে নস্যাত করাসহ অনেক অমানবিক অবস্থার মুখোমুখি। স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা ও লক্ষ্য আজ হারিয়ে যেতে চলেছে, এর ব্যাখ্যাও বদলে দিয়ে নতুন করে বিকৃতি চলছে। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক এ,কে খন্দকার (যিনি একবছর আগেও মহাজোট সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী ছিলেন, তাকেও “১৯৭১ : ভেতরে বাইরে” নামক নিজ চোখে দেখা ইতিহাস আশ্রিত জীবনী গ্রন্থ লেখার কারণে মুক্তিযোদ্ধা নয় বলে আ’লীগ সরকারের লোকজন ঘোষণা করেছেন।

এ কে খন্দকারের “১৯৭১ : ভেতরে বাইরে”-বইতে কী এমন আছে যার জন্যে আওয়ামী লীগ নেতারা তার বিরুদ্ধে চটেছেন? ইতিহাস অন্বেষণকারী উৎসুক পাঠক মাত্রই পড়ে দেখতে পারেন। তিনি খুব কাছে থেকেই মুক্তিযুদ্ধকে অবলোকন করেছেন। এবং দেরিতে সাফল্য এবং তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কিছু সাময়িক দুর্বলতা ও ব্যর্থতার কারণগুলো বিশ্লেষণ করেছেন। আবেগের উর্ধ্বে উঠে বাস্তবতা এবং নথিপত্রের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি যুদ্ধকালীন সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা, সীমাবদ্ধতা, স্বাধীনতার ঘোষণা, মুজিব বাহিনী গঠন এবং পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমর্পণ সম্পর্কে খোলামেলাভাবে এবং নিজ চোখে দেখার অভিজ্ঞতা আলোচনা করেছেন।

তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাদের যুদ্ধ পরিকল্পনা এবং কোনো নির্দেশনা তারা দিয়ে যান নি। এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেন, “সত্যিকথা বলতে কি, আমরা রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে কোনো নির্দেশ পাইনি। এ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতারা আমাদের কিছু জানান নি। যদি কেউ বলেন যে তখন আওয়ামী লীগ নেতারা যুদ্ধের নির্দেশনা দিয়েছিলেন, তবে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলতে হয় তা সঠিক নয়। অন্তত আমি কোনো নির্দেশনা পাইনি।” (১৯৭১ : ভেতরে বাইরে-একে খন্দকার, পৃষ্ঠা: ২৯-৩০) বইটির ৩২ পৃষ্ঠায় তিনি আরো বলেন, যদি আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো যুদ্ধ-পরিকল্পনা থাকত, তাহলে মার্চের শুরু থেকে জনগণ এবং সরকারি, বেসরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের স্বল্প সময়ে সঠিকভাবে সংগঠিত করা যেত। সেটা করা হলে আমার মনে হয় যুদ্ধটি হয়তোবা খুব অল্প সময়ে শেষ হয়ে যেত এবং আমাদের বিজয় নিশ্চিত হতো। কিন্তু পরিতাপের বিষয় সেটা করা হয়নি।” বইটির ৪২ ও ৪৩ পৃষ্ঠায় তিনি আরো বলেন, “তার গ্রেফতারের কথা জানতে পেরে আমার মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হয় যে বঙ্গবন্ধু কেন এই রকম ভুল করলেন, যা তিনি সহজেই এড়িয়ে যেতে পারতেন। পরবর্তী সময়ে একই কথাটি আমাকে খুব পীড়া দিত যে এই ভুল না হলে মুক্তিযুদ্ধে আমরা আরও ভালো করতে পারতাম। হয়তো অনেক মানুষকে জীবন দিতে হতো না বা সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতি হতো না। তিনি গ্রেফতার হয়েছেন অথচ গ্রেফতারের আগে কোনো আদেশ, নির্দেশ বা উপদেশ দেননি এবং পরিষ্কারভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে কিছু বলেননি। তার আদেশ বা নির্দেশের অভাবে হাজার হাজার মানুষকে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়। আমি মনে করি, নিজেকে নিরাপদ রাখার জন্য বঙ্গবন্ধুর যথেষ্ট সুুযোগ ছিল এবং গোপনে থেকে তিনি যুদ্ধে দেশ জাতিকে নেতৃত্ব দিতে পারতেন।... মুক্তিযুদ্ধের সময় থিয়েটার রোডে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ যে ঘরে থাকতেন তার পাশের ঘরেই আমি মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে থাকতাম। একদিন আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “স্যার বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার আগে আপনি কি তার কাছ থেকে কোনো নির্দেশ পেয়েছিলেন? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘না আমি কোনো নির্দেশ পাইনি।’ ওই রাতে বঙ্গবন্ধু সবাইকে আত্মগোপন করার কথা বলেন, অথচ তিনি কোথায় যাবেন, সে কথা কাউকে বলেননি। যদি তিনি গ্রেফতার হন, তাহলে দলের নেতৃত্ব কী হবে, তা-ও তিনি কাউকে বলেননি।” যা তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিধায় আমাদের অনেক জানমালের ক্ষতি হয়ে গিয়েছিলো বলে তিনি তুলে ধরেছেন। এভাবে আরো অনেক উক্তি এই বইতে আছে। নিবন্ধের আকার বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিরত থাকলাম।

স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে তিনি বলেন, “২৬শে মার্চ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের রূপ নেয়। এখান থেকে প্রথমে স্থানীয় নেতারা ও পরে মেজর জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম, পরে লেফট্যানান্ট জেনারেল ও রাষ্ট্রপতি) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। আমি মেজর জিয়ার ঘোষণা শুনি এবং চট্টগ্রামে সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার কথা জানতে পারি। এই ভেবে উৎফুল্ল হই যে আমরা আক্রান্ত হয়ে চুপ করে নেই, আমরা আক্রমণও শুরু করেছি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।” (১৯৭১ : ভেতরে বাইরে-একে খন্দকার, পৃষ্ঠা-৫২)... অনেকে বলেন, বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ রাতে এক হাবিলদারের মারফত চিরকুট পাঠিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আবার বলা হয়, বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রামের জহুর আহমদ চৌধুরীকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সংবাদ পাঠিয়েছিলেন। কোথাও কোথাও এমনও উল্লেখিত হয়েছে যে বঙ্গবন্ধু ইপিআরের বেতারযন্ত্রে বা ডাক ও তার বিভাগের টেলিগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণার বার্তাটি প্রচার করেন। এগুলোর কোনো যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ আমি কোথাও পাইনি। আর যা প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয় তার বিশ্বাসযোগ্যতা খুঁেজ পাইনি।

কোন যুক্তিতে বঙ্গবন্ধু চিরকুট পাঠাবেন, যেখানে প্রকাশ্য স্বাধীনতা ঘোষণায় তার কোনো বাধাই ছিলনা? বলতে গেলে মার্চ মাসের শুরু থেকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই দেশ চলেছে। ...এ ধরনের অনুকূল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু কেন গোপনে স্বাধীনতার ঘোষণা করতে যাবেন? স্বাধীনতার ঘোষণা করতে চাইলে তিনি তো জনগণের পাশে থেকে তা করতে পারতেন। তার মতো সাহসী এবং ইতিহাসের অন্যতম নেতার স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে রাতের অন্ধকারের প্রয়োজন হয় না। (পৃষ্ঠা: ৫৩-৫৪) মুক্তিযুদ্ধের সোল এজেন্সির দাবিদার আওয়ামী লীগের নেতারা যা-ই বলে গলাবাজি করুক-জ্বলন্ত সত্যগুলো আরো অনেক মুক্তিযুদ্ধের মহানায়কেরা অবলীলায় বলে গেছেন। কথা হচ্ছে, ধর্মের ঢাক আপনি বাজে। সত্য দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। কেউ স্বীকার করুক আর নাই করুক ইতিহাস তার আপন গতিতে চলবেই।

মুজিব বাহিনীর অনেক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানি আমরা। এর সৃষ্টি এবং উদ্দেশ্য ছিল ভয়াবহ। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, মুজিব বাহিনী সৃষ্টি হয়েছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে। এ বাহিনী সমন্বয়কারী ও প্রশিক্ষক ছিল ‘র’ এর কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স বিভাগের মেজর জেনারেল উবান সিং। তিনি এস এস উবান নামে পরিচিত ছিলেন। শুরু থেকেই মুজিব বাহিনী ও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক ছিল।...মুজিব বাহিনী গঠন সম্পর্কে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নজরুল ইসলাম সাহেব বা অন্য কেউ জানতেন কি না জানি না, তবে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন সাহেব এ বিষয়ে অজ্ঞ ছিলেন। কর্নেল ওসমানীও যে কিছু জানতেন না সে বিষয়ে আমি শতভাগ নিশ্চিত। তারা প্রশিক্ষণ নেয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের ময়দানে যাওয়ার আগ্রহ দেখা যায়নি। ...স্বাধীনতার পর জেনারেল উবান বাংলাদেশে পুনরায় আসেন অপর একটি রাজনৈতিক বাহিনী বা রক্ষী বাহিনী গঠনের জন্য। মুজিব বাহিনীর বেশ কিছু সদস্য নতুন গঠিত রক্ষী বাহিনীতে যোগ দেন।...মুক্তিযুদ্ধে বিভ্রান্তি ও ভেদাভেদ সৃষ্টি ছাড়া মুজিব বাহিনী সামরিক ক্ষেত্রে কোন সাফল্য দেখাতে পারেনি।...মুজিব বাহিনী মুক্তিযুদ্ধকালে যেসব কর্মকাণ্ড করেছিল তা মুক্তিযুদ্ধকে কোনো গরিমা এনে দিতে পারে নি এবং কলুষিত করেছিল। দেশস্বাধীন হওয়ার পর এই মুজিব বাহিনীর কিছু সদস্যই লুটপাটে নেতৃত্ব দিয়েছিল। (পৃষ্ঠা: ১৪৫)

আসলে এ বইতে আওয়ামী লীগের কিছু কিছু নেতার বিতর্কিত ভুমিকার জারিজুরি ফাঁস করে দেয়ায় তারা তার বিরুদ্ধে চটেছেন। ইতিহাসের নির্মম সত্য ইতিহাস একদিন আপন মহিমায় সত্যটি প্রকাশ করে। তারপরও অনেক পানি ঘোলা করে মৎস্য শিকার করেন মিথ্যার আশ্রয় নেয়া ব্যক্তি ও গোষ্ঠীবর্গ। এদের প্রতি আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যাই হোক, আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক এ স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখতে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আমরা প্রতিনিয়ত হচ্ছি এবং হবো। অতএব প্রকৃতই বিজয় লাভ আমাদের জন্য অনেক গৌরবের-তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যত প্রজন্ম জানুক।

একটি স্বাধীন ভুখণ্ড, একটি জাতীয় পতাকা এবং একটি জাতীয় সঙ্গীত লাভ করাই কি প্রকৃত স্বাধীনতা? আমাদের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ও গণমানুষের প্রত্যাশা ছিল গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও শোষণমুক্ত সামাজিক সুবিচারপূর্ণ সমাজ। অথচ স্বাধীনতার পর আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয় বিভিন্ন মানব রচিত খোদাদ্রোহী ঘৃণ্যমতবাদ। ফলে এ জাতির তরুণ প্রজন্ম ধর্মহীনতার দিকে ধাবিত হয়েছিল। ৭৫-এর পটপরিবর্তন না হলে আমাদের ভাগ্য পলাশীর চেয়ে করুণ হত। আমাদের প্রত্যাশা ছিল জাতি হিসেবে স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব বিশ্ব দরবারে। কিন্তু প্রতিবেশি দেশটির চাণক্যনীতির কারণে প্রত্যাশানুযায়ী ঘুরে দাঁড়াতে পারিনি। সাহসী এই জাতিকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ এবং নানা বিভক্তির মাধ্যমে প্রতি পদে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। মুক্তিকামী সাহসী বীর যোদ্ধাদের স্বপ্নের সোনার বাংলায় আজ স্বাভাবিক মৃত্যুর কোনো নিশ্চয়তা নেই। জীবনযাত্রার ব্যয় ভার সহনীয় পর্যায়ে নেই। সুখ-শান্তি এবং স্বস্তি হারিয়ে গেছে এ জাতির ললাট থেকে, তন্ত্রমন্ত্র আজ ব্যর্থতায় পর্যবসিতÑএর থেকে পরিত্রাণ জন্য, দেশ ও জাতির প্রত্যাশা পূরণের জন্য দুনিয়ার মালিক মহান রাব্বুল আলামিনের প্রদত্ত শাশ্বত বিধান প্রতিষ্ঠা ব্যতিরেকে দেশ ও মুক্তিকামী জাতির আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন হবে না।

লেখক : কলামিস্ট ও সম্পাদক, ইদানীং লিটলম্যাগ।