॥ সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা ॥

জুলাই বিপ্লবের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কটা বেশ তলানীতে এসে ঠেকেছে। কোন ভাবেই এ থেকে উত্তরণ সম্ভব হচ্ছে না বরং যতই দিন যাচ্ছে ততই পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। মূলত, আমাদের দেশে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ভারত স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেনি। প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে কথিত নিরাপত্তার অজুহাত তুলে আমাদের বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা বন্ধ করে দেয়। অবশ্য নিজেদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করতে গিয়ে এখন তা সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হলেও তা আবারো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, জুলাই বিপ্লবকে কথিত মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান আখ্যা দিয়ে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের নানাবিধ কল্পকাহিনী প্রচার করা হয়। কিন্তু তাদের কোন অপপ্রচারই হালে পানি পায়নি বরং তাদের সকল তৎপরতা মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

বস্তুত, ভারত পতিত আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনা সহ সাবেক সরকারের অসংখ্য নেতাকর্মীকে আশ্রয় দিয়ে প্রমাণ করেছে দেশটি বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে চায় না বরং তাদের সকল ধ্যান-জ্ঞান ও কর্মতৎপরতা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করেই। এ জন্য তারা নানাভাবে পতিত আওয়ামী লীগকে সক্রিয় করার চেষ্টা করেছে। নানা বাহানায় কথিত আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি কথিত রিফাইন আওয়ামী লীগের নামে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ভুত জাতির ঘাড়ে পুনরায় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু ছাত্র-জনতার ইস্পাত কঠিন ঐক্য ও অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকর এবং ইতিবাচক পদক্ষেপের কারণে তারা খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে নেই। সঙ্গত কারণেই উভয় দেশের সম্পর্কটা এখন রীতিমত অহি-নকূল পর্যায়ে এসে ঠেকেছে।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশ বিরোধী উষ্কানিমূলক বক্তব্য। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে আশ্রয়দাতা প্রতিবেশী দেশ ভারত। মূলত, আসন্ন সংসদ নির্বাচন বানচালের লক্ষ্যে ভারতে বসে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার উস্কানিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ জানাতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করা হয় সম্প্রতি। এতেই ক্ষমতাদর্পী ভারতের বোধ হয় ‘আঁতে ঘা’ লেগেছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ ডিসেম্বর বিকেলের দিকে হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিলো। তবে বাংলাদেশ যেসব বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে, সেসব বিষয় প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ১৪ ডিসেম্বর তারিখের প্রেসনোটে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি ভারত স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে বাংলাদেশের বিচারিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত সাজা কার্যকরের জন্য শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দ্রুত ঢাকায় প্রত্যর্পণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতে অবস্থানরত পলাতক আওয়ামী লীগ সদস্যদের বাংলাদেশবিরোধী কর্মকা-ের বিষয়েও হাইকমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এসব কর্মকা-ের মধ্যে রয়েছে আসন্ন নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পরিকল্পনা, সংগঠন ও বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদান। এতে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের আহবায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকা-ে জড়িত সন্দেহভাজনদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া রোধে সহযোগিতা কামনা করা হয়। একই সঙ্গে তারা ভারতীয় ভূখ-ে প্রবেশ করলে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়েও ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুরক্ষায় বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়াতে ভারতের ভূমিকা প্রত্যাশিত।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে আমাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছি। এতে বলা হয়, ভারত কখনো তার ভূখ-কে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করতে দেয়নি। আমরা আশা করি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মূলত, সম্প্রতি ঢাকা ও দিল্লিতে দু’দেশের হাইকমিশনারদের পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। গত ২০ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ হয়, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। গত ২২ ডিসেম্বর সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রে হামলা করেছে হিন্দুত্ববাদী তিনটি সংগঠন। এরপর ভিসা কেন্দ্রটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ। অনিবার্য কারণ উল্লেখ করে এদিন দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকা। পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত ভিসা ও সব ধরনের কনস্যুলার সেবা স্থগিত থাকবে। পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ দু’মিশন ভিসা সেবা বন্ধের কথা জানায়।

এদিকে গত ২৩ ডিসেম্বর দিল্লিতে নতুন করে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কাছে বিক্ষোভ করেছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকা-দিল্লি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন সংকটের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো আভাস দিচ্ছে, সম্প্রতি ময়মনসিংহে পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের নির্মম হত্যাকা-কে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হিসেবে দেখাতে চাইছে ভারত। যদিও এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এর আগে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে গত ২১ ডিসেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দেয়। গত ২২ ডিসেম্বর সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে শিলিগুড়ি, কলকাতা ও গুয়াহাটিতে বিক্ষোভ এবং মুম্বাইয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠন। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কাছে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকা-দিল্লি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন সংকটের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রসঙ্গত, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে সম্প্রতি বিক্ষোভ করে চরমপন্থী সংগঠন ‘অখ- হিন্দু রাষ্ট্রসেনা’র ২০-২৫ জনের একটি দল। তারা সেখানে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। পাশাপাশি তারা ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হুমকি দেয়। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ হয়। মঙ্গলবার সকালে হাইকমিশনের কাছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) বিক্ষোভের ডাক দেয়। ভিসা সেবা বন্ধের ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ২২ ডিসেম্বর ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), কংগ্রেসের পাশাপাশি নাস্তিক মঞ্চ এবং অল ইন্ডিয়া সেক্যুলার ফ্রন্ট বাংলাদেশ মিশনের কাছে বিক্ষোভ করেছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রে হামলা করে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ভিএইচপি, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ ও শিলিগুড়ি মহানগর সংগঠনের সদস্যরা। এর আগে তারা শিলিগুড়ির বাঘা যতীন পার্কে সমবেত হন। এরপর তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্র ঘেরাও করেন। বিক্ষোভের সময় বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ, দীপু দাসের হত্যার বিচার ও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানানো হয়। পরে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে পাঁচজনের একটি প্রতিনিধিদল ভিসা কেন্দ্রে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে। তখন তারা ভিসা কেন্দ্র বন্ধ রাখতে বলে। উল্লেখ্য, দিল্লি ও কলকাতার কূটনৈতিক সূত্রগুলো গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, কয়েক বছর ধরে ‘ডিইউডিজিটাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছে।

বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদলের এক সদস্য ডিইউডিজিটালের কর্মকর্তাকে ফোন করে হুমকী দিয়ে বলেছেন, ‘আপনাকে একটাই অনুরোধ, এই অফিসের তালা খুলবে না। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হবে, আপনি এখানে ব্যবসা করবেন, সেটা হবে না। বাংলাদেশের ভিসাসংক্রান্ত ব্যানার অথবা বোর্ড আজকের মধ্যে সরিয়ে নিন।’ কলকাতা থেকে একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কথা ভেবে ডিইউডিজিটাল গত ২২ ডিসেম্বর বেলা তিনটার আগেই ভিসা কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর পুনরায় ভিসা কেন্দ্র চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়িতে ওই ভিসা কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কলকাতা দপ্তরে কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়েছে কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন।

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর কথিত নির্যাতনের অভিযোগ তুলে মুম্বাইয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভিএইচপি। হিন্দুত্ববাদী এ সংগঠন হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনার ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায়। এসব দাবিতে ভিএইচপি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করবে। সংবাদ সম্মেলনে ভিএইচপির আন্তর্জাতিক সভাপতি অলোক কুমার বাংলাদেশে দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভিএইচপি আশা করে, বাংলাদেশে যত দ্রুত সম্ভব গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতার মূল্যবোধ ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের জনগণ শান্তি, মানবাধিকার এবং নিরবচ্ছিন্ন অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অধিকারী। বাংলাদেশে সম্প্রীতি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সব ন্যায্য, আইনসম্মত ও মানবিক উদ্যোগে ভারতের সমাজ ও সরকারের সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষণরা মনে করছেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত গায়ে পড়েই বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটাচ্ছে এবং ভারতে বাংলাদেশ বিরোধী যা ঘটছে তা দেশটির সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদেই হচ্ছে। এমতাবস্থায় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে ২৩ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। ফলে ঢাকা-দিল্লি উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানিয়েছে, নয়াদিল্লি, কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্নস্থানে থাকা বাংলাদেশ মিশন নিয়ে উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রণয় ভার্মাকে তলব করা হয়। ভারতের বিভিন্নস্থানে থাকা বাংলাদেশ মিশনগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে তাকে। এর আগে, গত ১৪ ডিসেম্বর প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। সেদিন ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত উসকানিমূলক বক্তব্যে সরকারের উদ্বেগের কথা জানানো হয়।

এর পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া প্রতিরোধে দেশটির সহযোগিতা কামনা করা হয়। সেদিন ভারতীয় দূতকে তলবের পরে এক প্রেস নোটে দিল্লি দাবি করে, দেশটির ভূখ- কখনো বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়নি। আমরা সবসময় বলে আসছি যে বাংলাদেশে মুক্ত, ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হওয়া উচিত। এ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নির্বাচন নিয়ে ভারতকে নসিহত না করার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে ১৭ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাল্টা তলব করা হয়। যা উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির কথায় স্মরণ করিয়ে দেয়।

জুলাই বিপ্লবের পর ভারত বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে নসিহত করে আসছে। তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বোঝাতে চাইছে যে, আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে না। অথচ আওয়ামী বিগত প্রায় ১৬ বছর কোন বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই তামাশা ও ভাঁওতাবাজীর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থেকে অপশাসন-দুঃশাসন চালিয়েছে। তারা দিপু দাস হত্যার ঘটনাকে নতুন করে ইস্যু বানিয়ে বাংলাদেশ বিরোধী মাতম শুরু করেছে। কিন্তু ভারতে প্রতিনিয়ত নানা অজুহাতে মুসলিম হত্যা চলছে। মসজিদসহ ধর্মীয় স্থানগুলো হামলার ঘটনাতো নিত্যদিনের।

মূলত, প্রতিবেশী দেশ ভারত আমাদের স্বাধীন অস্তিত্বকেই স্বীকার করতে চায় না। তারা এদেশে ফের একটি তাবেদার সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য নানাবিধ ষড়যন্ত্র ও অপতৎরতা চালিয়েছে যাচ্ছে। আর উভয় দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা তার বাস্তব প্রমাণ। দেশটির উচিত বাংলাদেশের স্বাধীন স্বত্ত্বাকে স্বীকৃতি দিয়ে সমতার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক স্থাপন করা।

www.syedmasud.com