জসিম উদ্দিন মনছুরি

১৯৭৯ সালে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান গঠিত হওয়ার পর এবারই প্রথম সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়ছে। ইরানী রিয়ালের ব্যাপক দর পতনকে কেন্দ্র করে সহিংস বিশৃঙ্খলায় টালমাটাল হয়ে উঠেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান। বিক্ষোভকারীরা ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে রাস্তায় নেমে এসেছে। বিক্ষোভ দমনে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। ১৯৭৯ সালের পর থেকে একাধিকবার আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি এবং দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতিতে ইরানের জনগণ বেসামাল হয়ে পড়েছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এই পর্যন্ত শতাধিক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। বিশ্বে যেসব দেশের ওপর সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তন্মধ্যে ইরান অন্যতম। পশ্চিমা দেশগুলো গত চার দশক ধরে তেহরানের ওপর নানা রকমের শাস্তিমূলক অবরোধ আরোপ করে আসছে। ইরানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমারা এসব নিষেধাজ্ঞা দেয়। প্রায় গোটা বিশ্বই এখন বলা চলে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে যথেষ্ট চিন্তা-ভাবনা করে।

ইরানের ওপর ১৯৭৯ সালে প্রথম নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। সে বছর নভেম্বরে ইরানের বিপ্লবী ছাত্ররা তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে ৫২ জনকে জিম্মি করে গোটা বিশ্বকে অবাক করে দেয়। এ ঘটনার জেরে ৪৪৪ দিনের দীর্ঘ সংকটের পর ওয়াশিংটন ১৯৮০ সালে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। একইসঙ্গে ইরানের ওপর বাণিজ্য ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ১৯৮৩ সালে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে একটি আত্মঘাতী ট্রাক বোমা হামলায় ২৪১ জন মার্কিন নৌসেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এই হামলার কয়েক মিনিট পরই দ্বিতীয় আরেকটি বোমা হামলায় ৫৮ জন ফরাসি সেনা নিহত হয়। ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার পেছনে সন্দেহজনক ভূমিকার জন্য ইরানকে ‘সন্ত্রাসের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক’ হিসাবে কালো তালিকাভুক্ত করে। তিন বছর পর ১৯৮৭ সালে, তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন নৌযানে হামলার কারণে ইরান থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেন এবং দেশটিতে কিছু মার্কিন পণ্যের রপ্তানি বন্ধ করে দেন।১৯৯৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়ার অভিযোগে ইরানের উপর বাণিজ্য ও আর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দেন। মূলত ইরানের তেল উৎপাদন খাতে বিনিয়োগকারী বিদেশি কোম্পানিগুলোকে উদ্দেশ্য করে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।যাতে ইরান বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২০০২ সালে আরেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনকারী দেশ হিসেবে ইরানকে তালিকাভুক্ত করেন। ২০০৫ সালে ইরানের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ নির্ধারিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে স্থগিতাদেশের অবসান ঘটিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা হয়। ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে চার দফা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং তাদের সম্পদ জব্দ করে। ২০০৮ সালে মার্কিন ব্যাংকগুলিকে ইরানের তহবিল স্থানান্তরে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করা থেকে নিষিদ্ধ করে ওয়াশিংটন। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। তবু পশ্চিমারা তেহরানের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে দেশটির ওপর সীমাবদ্ধতা দিয়ে রেখেছে। ২০১০ এবং ২০১২ সালের মধ্যে ইইউ ইরানে প্রযুক্তিগত সহায়তা বা তেল প্রযুক্তি হস্তান্তর নিষিদ্ধ করে এবং ইউরোপে থাকা শত শত সম্পদ জব্দ করে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ২০১৫ সালে ৬ জাতিগোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত পরমাণুচুক্তি থেকে বিশ্বশক্তিগুলোর সমন্বয়ে সংঘটিত ঐতিহাসিক চুক্তিটির কারণে ২০০৬ সাল থেকে ইরানের ওপর দেয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়ার একটি আশা তৈরি করেছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি থেকে সরে আসেন এবং ইরান ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির উপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এরপর ২০১৯ সালের এপ্রিলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে নিষেধাজ্ঞা দেয়। সর্বশেষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সাধারণ মানুষের ওপর নৃশংস-নির্যাতন ও গণগ্রেপ্তারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও বেলজিয়াম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

কথিত আছে ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য স্বয়ং আমেরিকা ও ইসরাইল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন তারই ইঙ্গিত বহন করে। সম্প্রতি জানা গেছে ইসরাইল গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রায় ৬০০জন সক্রিয় কর্মী ইরানের বিক্ষোভকে উসকে দেওয়ার জন্য লিপ্ত রয়েছে। তারা বিভিন্ন ভুয়া ফেইজ খুলে বিক্ষোভের ছবি প্রদর্শন করে বিক্ষোভকারীদেরকে উসকে দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এমনকি জুন মাসে ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধে ইসরাইলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেছে। ইসরাইল বরাবরই ইরানকে নিজেদের অস্তিত্বের হুমকি মনে করে। পৃথিবীর মোড়ল আমেরিকা অন্ধভাবে ইসরাইলকে সমর্থন যুগিয়ে আসছে। ইসরাইলের আগ্রাসী নীতির অংশ হিসেবে ১৩ জুন ২০২৫ তারিখে অতর্কিতে ইরানে হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু করে।২০২৫ সালের জুন মাসের ১২ দিন ব্যাপী যুদ্ধে পরাজয়ের দ্বার প্রান্তে আসা ইসরাইল ইরানকে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। এর জেরে ইরানের অভ্যন্তরে ষড়যন্ত্র করে বিক্ষোভকারীদের উসকে দেওয়া তার অন্যতম একটি কারণ।

গত ৩ জানুয়ারি গভীর রাতে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অতর্কিত হামলা করে অপহরণ করার পর আমেরিকা আরো কয়েকটি রাষ্ট্রের সরকার পতনের ইঙ্গিত দিয়েছে। তন্মধ্যে ইরানকে প্রথম টার্গেটে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। এর জেরে আমেরিকার মদদপুষ্ট বিক্ষোভকারীরা ব্যাপক জ্বালাপোড়াও ও সরকার পতনের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।আন্দোলনকে সহিংস মাত্রা দিতে আহ্বান জানিয়েছেন খোদ ইরানের ক্ষমতাচ্যুত রাজবংশের স্বঘোষিত রাজপুত্র রেজা পাহলভি। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, রেজা পাহলভির ডাকে কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন।

আরেক গণমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের দাবি, এই সংখ্যা ছিল লাখের মতো। তীব্র আন্দোলনের মুখে দেশজুড়ে ইন্টারনেট শাটডাউন করে দেওয়া হয়। রেজা পাহলভি ইরানের শাহ রাজপরিবারের সদস্য যাদের পতন হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে। তাঁর বাবা মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি ছিলেন রাজপরিবারের শেষ শাসক। পারিবারিক শাসনের পতনের পর রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। অভিযোগ আছে, তিনি ইসরাইল ঘনিষ্ঠ। ইরানের শেষ সম্রট শাহ নিজেও ছিলেন পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত। দুনিয়ার সবচেয়ে পুরোনো, ঐতিহ্যবাহী আর প্রভাবশালী শাহী রক্তের ধারক ছিলেন তিনি। তার বংশ গত আড়াই হাজার বছর ধরে সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলো। শুরুটা করেছিলেন তারই পূর্বপুরুষ কুরুশ, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে। সেই বংশের শেষ সম্রাট রেজা শাহ পাহলভী ১৯৭৯ সালের ১৬ জানুয়ারি বিপ্লবী দেশবাসীর কাছে পরাজিত হয়ে মিশর পলায়ন করে। কিছু দশক আগে রেজা শাহ পাহলভী ছিলেন নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান। সর্বময় ক্ষমতা ছিলো পার্লামেন্টের হাতে এবং নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সেই ক্ষমতা ভোগ করতেন। তার স্ত্রী, সন্তানরাও পশ্চিমা ধাঁচে চলতেন। শাহ এবং তার স্ত্রী সকল রাজকীয় অনুষ্ঠান এবং দেশি বিদেশী সরকারি অনুষ্ঠানে পশ্চিমাদের পোশাক পড়তেন। এসব কারণে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ দিনকে দিন ফুঁসে উঠতে থাকেন। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনী ছিলেন একজন সুপরিচিত ধর্মীয় ইমাম। মুসলমানদের এই মনের কষ্ট তিনি বুঝতে পেরে ইরাকের পবিত্র নাজাফ শহরে একটি জনসভা আহ্বান করেন। সবাইকে অবাক করে দিয়ে লক্ষ লক্ষ লোকের সমাবেশ হয় সেখানে। শাহের সরকার প্রথমে এই বিশাল সমাবেশকে মোটেই গুরুত্ব দিলেন না। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকলো দ্রুত। শিয়া-সুন্নি নির্বিশেষে বিক্ষোদ্ধ মুসলমানেরা নেমে এলো তেহরানের রাস্তায়। সংখ্যায় ছিলো তারা অগণিত। প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ লোক তেহরানে জমায়েত হয়।

ইরান ইসলামী প্রজাতন্ত্র গঠিত হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় ইরানের জনজীবন নাকাল হয়ে পড়ে। সর্বশেষ ডলারের বিপরীতে মুদ্রা মান এত নিম্নে চলে যায় তাতে জনগণ ফুঁসে উঠে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানী রিয়ালের দ্রুত দরপতন হচ্ছে। এর কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্ররা ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। বিক্ষোভ শুরুর সময় মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান ছিল প্রায় ১৪ লাখ ২০ হাজার রিয়াল।এক বছর আগে যা প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার রিয়াল ছিল। কয়েক দশক ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘ দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করলে চাপ আরও বৃদ্ধি পায়। জাতিসংঘের এসব নিষেধাজ্ঞা ইরানের পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সম্পর্কিত।বর্তমানে ইরানে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানির খরচ বেড়ে গেছে, এতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গিয়ে নাগরিকদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

বিক্ষোভকারীরা দেশটির একটি সরকারি ভবনে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করে বিক্ষোভ শুরু করে।ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি সংঘবদ্ধ ‘দাঙ্গাবাজ’ গোষ্ঠী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফারস প্রদেশের ফাসা শহরে স্থানীয় সরকারের একটি ভবনে ঢোকার চেষ্টা করে।টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একদল মানুষ ভবনটির ফটক ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে।রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে তাঁদের হামলা ব্যর্থ হয়। এই দাঙ্গাকারীদের নেতৃত্বে থাকা ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাতে বলেছে, ঘটনার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য আহত হন এবং চারজন হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। তেহরান ছাড়া আরও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরানে শিক্ষার্থীরাও রাস্তায় নেমে এসেছেন।ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইস্পাহান, ইয়াজদ ও জানজান শহরে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভকারীদের দমনে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আরআইজিসি লাল রেখা ঘোষণা করেছেন। তারা কঠোরভাবে ঘোষণা দেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে বাঁচিয়ে রাখতে ষড়যন্ত্রকারীদের তারা প্রতিহত করে যে কোন মূল্যই ইরানী জাতীয়তাবাদ ও ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে রক্ষা করবে। সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খোমেনি বিক্ষোভকারীদের আল্লাহর শত্রু বলে অভিহিত করেছেন। ইতোমধ্যে দেখা গেছে বিক্ষোপকারীদেরকে প্রতিহত করার জন্য হাজার হাজার লোক ইরান সরকারের পক্ষে নেমে পড়েছে।

আমেরিকা যেভাবে অপহরণ ও ক্ষমতাচ্যুত করে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে খালি মাঠে গোল দেওয়ার অবস্থা সৃষ্টি করেছে। ইরানী সরকারকেও হয়তো আভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সরকার পতনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। ইরান সরকারের দৃঢ় মনোভাবের কারণে হয়তো তা আর পেরে উঠবে না। এর মাঝে ইরানের মিত্র চীন ও রাশিয়ার সাথে যৌথ নৌ মহড়ায় অংশ নিয়েছে ইরানের নৌসেনারা। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে রক্ষা করতে সাহসিকতার সহিত ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি। ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তির অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং মারাণাস্ত্রের মুখে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারবেনা বলে শান্তিকামী মানুষের বিশ্বাস। ইসরাইলের সাথে সম্মতি জানিয়ে আমেরিকা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে ধ্বংস করার জন্য অপারেশন মিডনাইট হ্যামার” পরিচালনা করে ছিল ২০২৫ সালের ২২শে জুন।

হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের ফোর্ডো, নাতানজ এবং ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনা । এই হামলায় বি-২ বোমারু বিমান এবং সাবমেরিন থেকে ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছিল। হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক চুল্লি ধ্বংস করে দেওয়া।কিন্তু ইরানের শক্তিশালী প্রতিরক্ষার কাছে তাদের সে হামলায় তেমন একটা ক্ষয় ক্ষতি হয়নি। আশা করি অদম্য ইরানি জাতি এবারও নিজেদের মাথা উন্নত রেখে বহির্বিশ্বের কাছে নতি স্বীকার করবে না। তা দেশের অভ্যন্তরে হোক। কিংবা বহির্বিশ্বের কাছে হোক। আশা করি এ যাত্রায় ইরান অভ্যন্তরীণ শত্রু ও বহির্বিশ্বের শত্রু মোকাবেলা করতে সক্ষম হবেন।

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।