যে কোনোভাবেই হোক, আওয়ামী লীগ এ দেশটি সাড়ে ১৫ বছর শাসন করেছে। এ দীর্ঘ সময়ে জাতির অধিকার ছিল অন্তত তিনটি নির্বাচনে অংশ নেয়ার। নির্বাচন আওয়ামী লীগ করেছে; তবে তাতে অন্য কারো অংশীদারিত্ব বা অংশগ্রহণ ছিল না। নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার এবং সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর একটি কৌশল হিসেবে আওয়ামী লীগ এসব নির্বাচনকে ব্যবহার করেছে মাত্র। ২০১৪ সালে বিনা ভোটেই ১৫১ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচনটি কতটা হাস্যকর ছিল তা অনুধাবন করার জন্য এ একটি তথ্যই যথেষ্ট। দ্বিতীয়বার নির্বাচনের সময় আসে ২০১৮ সালে। সে বছর তারা ভোটের দিনের আগের রাতেই ভোট গ্রহণ করে ফেলেছিল অর্থাৎ ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই তাদের ভোট প্রদান সম্পন্ন হয়েছিল। আর সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ডামি নির্বাচনের নামে একটি প্রহসন করেছিল। অর্থাৎ কাগজে কলমে নির্বাচন হয়েছে তিনটি কিন্তু এর কোনোটিতেই জনগণ ভোট দেয়ার সুযোগ পায়নি। জনগণের ভোটের প্রয়োজনও ছিল না আওয়ামী লীগের।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর তাই জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের। অনেক বছর পর একটি সুযোগ পেয়ে তারা ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে। কিন্তু বহুল প্রতীক্ষিত এ নির্বাচন নিয়েও বেশ কিছু ঝুঁকি ও শংকার জন্ম হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে, নির্বাচনী মাঠ ততই উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। তফসিল ঘোষণার আগে যেমন দেশের বিভিন্নস্থানে সহিংস ঘটনা ঘটেছে তেমনি সর্বশেষ ১০ ডিসেম্বর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার একদিন পর ১১ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার একদম প্রাণকেন্দ্রে বিজয়নগর এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলী করা হয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীকে। এ ঘটনা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে অনানুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময়ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সহিংসতায় ১১ জনের মতো নিহত হয়েছেন। অক্টোবর মাসে নিহত হয়েছিলেন আরো ১০ জন।
বিএনপি প্রাথমিকভাবে ২৩৬টি আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার মাত্র দু’দিনের মাথায় চট্টগ্রাম নগরীর হামজারবাগ এলাকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলীর ঘটনা ঘটে। এতে এরশাদ উল্লাহসহ পাঁচজন গুলীবিদ্ধ হন। গুলীবিদ্ধ হয়ে নিহত হন আলোচিত ‘সন্ত্রাসী’ সরওয়ার হোসেন বাবলা। একই দিন বা কাছাকাছি সময়ে চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন গুলীবিদ্ধসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর আগে গত ১৭ নভেম্বর রাজধানীর পল্লবী এলাকায় স্থানীয় যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলী করে হত্যা করার পর হামলাকারীরা পালিয়ে যাচ্ছিল। তখন গতি বাড়াতে অস্বীকৃতি জানালে তারা এক রিকশাওয়ালাকেও গুলী করে আহত করে। একটি দোকানের ভেতরে কিবরিয়াকে হামলাকারীদের একাধিকবার গুলী করার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তা সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ভিন্ন আরেকটি ঘটনায় খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বাইরে অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত দু’ব্যক্তিকে গুলী করে হত্যা করা হয়েছে। দিন কয়েক আগে ঢাকার ব্যস্ততম আদালত এলাকার কাছে তালিকাভুক্ত শীর্ষ অপরাধী তারিক সাইফ মামুনকে গুলী করে হত্যা করা হয়। উল্লেখ্য, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দিয়ে যায়। এ ছাড়া গণঅভ্যুত্থানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অনেক অস্ত্র লুট হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ দাবি যদি সত্যি হয় তাহলে লুটকৃত অস্ত্রগুলোর বেশিরভাগ এখনো উদ্ধার করা হয়নি। ফলে, সামনের দিনগুলোতে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে বলেই অনেকে আশংকা করছেন।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ১৯৯১ সাল থেকে দেশে যে আটটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তার কোনোটিতেই সহিংস ঘটনা এড়ানো যায়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে সহিংসতার মাত্রা ছিল আরো অনেক বেশি। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে কম সহিংতা ঘটলেও এ নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল চরম উত্তপ্ত। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা লগি-বৈঠাসহ সমাবেশের ডাক দেন। একই দিনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে পূর্বঘোষিত সমাবেশ ছিল। ফলে চলমান সংঘর্ষে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটে। জামায়াতের ছয় কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই দিন থেকে পরবর্তী এক মাসের মধ্যে ৪০ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়।
সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ওই নির্বাচনের আগে ও পরে ১৪১ জন নিহত হন বলে জানা যায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ওই নির্বাচন প্রতিহত করার ডাক দেয় আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামীসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল এবং তাতে হতাহতের ঘটনা বৃদ্ধি পায়। এ পরিস্থিতিতে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ স্থায়ী হয় ১২ দিন এবং ওই সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস হয়। এরপর ওই বছরের ১২ জুন অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে ভোটের দিন তিনজন নিহত হন বলে জানা যায়। এবার নির্বাচনসংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সহিংসতায় শুধুমাত্র অক্টোবর মাসেই কমপক্ষে ৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫১৩ জন। নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময় থেকে শুরু করে নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও এই সহিংসতা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনই কমবেশি সহিংসতার সাক্ষী হয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে, মনোনয়নপত্র দাখিল, প্রতীক বরাদ্দ, প্রচারণার সময়, ভোটগ্রহণের সময় ক্রমে সহিংসতা বাড়ে। ভোটের পরও এর রেশ থেকে যায়। প্রতিপক্ষের অফিস ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর হামলা, বোমাবাজি এবং মারামারির ঘটনা সাধারণ ব্যাপার। নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, জাল ভোট প্রদান, ভোটগ্রহণে বাধা দেওয়া, পোলিং এজেন্টদের ওপর হামলা এবং প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গেও সংঘাতের ঘটনা ঘটে থাকে। ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, পরাজিত প্রার্থীর বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সহিংসতার কারণের মাঝে সবচেয়ে বেশি রয়েছে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস, অসহিষ্ণুতা ও ক্ষমতার একচ্ছত্র দখলের প্রবণতা সহিংসতার জন্ম দেয়। স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তার এবং অর্থনৈতিক সুবিধা লাভের আকাক্সক্ষা অনেক সময় সহিংসতাকে উসকে দেয়। আইনের প্রয়োগে শৈথিল্য এবং অপরাধীদের বিচার না হওয়া বা দেরিতে হওয়া সহিংসতা বাড়িয়ে তোলে। এ ছাড়া অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা এবং এর ব্যবহার সহিংসতাকে আরো মারাত্মক করে তোলে। কিছু ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষপাতমূলক আচরণ বা নিষ্ক্রিয়তা সহিংসতার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাদের মতে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবও সহিংসতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিপক্ষকে শত্রুজ্ঞান করার একটি সংস্কৃতি সহিংসতার একটি অন্তর্নিহিত কারণ। সহিংসতা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে, যা গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তিকে দুর্বল করে। ভোটাররা ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে দ্বিধাবোধ করে, যা ভোটদানের হার কমিয়ে দেয়। সহিংসতা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন ঘটায়, যার মধ্যে জীবন, নিরাপত্তা ও চলাচলের স্বাধীনতা অন্যতম। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকার কারণে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। সহিংসতা সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং রাজনৈতিক মেরুকরণকে তীব্র করে।
যদিও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জোর দিয়ে বলছেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ‘কোনো আশঙ্কা নেই’। তবে অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে এ অস্বস্তিকর পরিস্থিতির অন্যতম কারণই হলো নির্বাচনী উত্তেজনা। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, দুর্বল পুলিশিং এবং গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মুক্তি পাওয়া শীর্ষ অপরাধীদের পুনরায় সক্রিয় হওয়াÑএসব বিষয়ের কারণেই প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তারা আরও বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত এবং নির্বাচনের আগে আধিপত্য বিস্তারে সশস্ত্র গ্যাং ব্যবহারের প্রবণতা সারা দেশে টার্গেটেড হামলা ও সশস্ত্র সহিংসতাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। কারণ, রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো শক্তি প্রদর্শন, সশস্ত্র শক্তি প্রদর্শন এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভয় দেখানোর জন্য মুক্তিপ্রাপ্ত আন্ডারওয়ার্ল্ডের অপরাধীদের কাজে লাগাতে পারে। এর বাইরে সবচেয়ে বড়ো হুমকি আওয়ামী লীগের কথা না বললেই নয়। আওয়ামী লীগ জানে, তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া যদি বাংলাদেশে একটি নির্বাচন হয়ে যায় তাহলে রাজনীতিতে তাদের প্রত্যাবর্তন কঠিন হয়ে যাবে। আর সে কারণেই তারা মরণকামড় দিয়ে হলেও নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করবে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের একটি গোপন অনলাইন অডিও বৈঠকের ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। এতে স্পষ্টতই জানা যাচ্ছে যে, আওয়ামী লীগ ১১ ডিসেম্বর থেকে বিশেষ এজেন্ডা দিয়ে ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের নামিয়েছে এবং দেশের বিভিন্নস্থানে এরই মধ্যে তারা অবস্থান নিয়েছেন। ঐ বৈঠকে দম্ভ করে এমনও বলা হয়েছে যে, ধারণার বাইরে কিছু করে ফেলার মতো পরিকল্পনা নিয়েই তারা অগ্রসর হচ্ছেন।”
এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের এ এজেন্ডা বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে উপস্থিত। শরীফ ওসমান হাদীকে যে দুর্র্বৃত্ত গুলী করেছে সে হাদীর সাথে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিল মর্মে ছবি প্রকাশিত হয়েছে। জানা গেছে, সে নিয়মিত হাদীর ইনকিলাব মঞ্চেও যাতায়াত করতো। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে তার এ যাতায়াত শুরু হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে ধারণা করা যায়, হাদীকে আসলে টার্গেট করেই এবং তার পেছনে লোক লাগিয়েই হত্যা করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। আরো অনুমান করাও কঠিন নয় যে, কেবল হাদী নয়, জুলাই বিপ্লবের ধারক শক্তি এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সরব ভূমিকা পালন করেছেন বা করছেন এমন আরো অনেককেও আগামী দিনগুলোতে টার্গেট করা হতে পারে।
এ পরিস্থিতির উত্তরণ জরুরি হলেও আশাবাদী হওয়ার জায়গা কম। কেননা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা খুব আহামরি কোনো সফলতা এক্ষেত্রে দেখাতে পারেননি। তফসিল ঘোষণার আগে প্রথাগতভাবে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালানো হয়, লাইসেন্স করা অস্ত্রগুলো ফেরত নেয়া হয়। এর কোনোটাই এবার হয়নি। শোনা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাচেলর মেস ভাড়া করে বসবাস করছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো সাড়াশি অভিযানও পরিচালনা করা হয়নি। পুলিশসহ অন্যান্য আইন শৃংখলা বাহিনীকে সক্রিয় ও তৎপর করার ক্ষেত্রেও তার উদ্যোগ কম দেখা যাচ্ছে। এমতাবস্থায় দুর্বল প্রশাসন ও নাজুক আইনশৃংখলা পরিস্থিতির মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা আদৌ সম্ভব হবে কিনা তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সেভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ওসমান হাদীর ওপর যেভাবে গুলী চালানো হয়েছে, সেরকম আরো কয়েকটি ঘটনা ঘটে গেলে নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। আর কোনো কারণে নির্বাচন পিছিয়ে গেলে বা অনুষ্ঠিত না হলে বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে অনেকগুলো অনিশ্চয়তা ও শংকার ভেতর পড়ে যাবে।
সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, প্রশাসন কিংবা পুলিশের মধ্যে যারা অতীতে নির্বাচনে কারচুপি ও অসদুপায় অবলম্বন করে নির্দিষ্ট প্রার্থী বা দলের জন্য কাজ করেছেন, তাদর কাউকেই বিগত এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। ফলে অসৎ সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে এবারের জাতীয় নির্বাচন যেন কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয়Ñসে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন দীর্ঘদিন ধরেই একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। দেশের নির্বাচনব্যবস্থা, নির্বাচনী সহিংসতা এবং পারিপার্শ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যে শক্তিশালী জনবল, লজিস্টিক সহায়তা, আইনগত ক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি প্রয়োজনÑনির্বাচন কমিশনের কাছে তার কোনোটিই যথাযথভাবে বিদ্যমান নয়। এতসব সীমাবদ্ধতার ভেতর আবার যদি আইনশৃংখলা পরিস্থিতিও সামাল দেয়া না যায় তাহলে সামনের নির্বাচন সহিংস হয়ে উঠতে পারে যা মোটেও আমাদের কাম্য নয়।