ডিসেম্বরের পহেলা তারিখ সোমবার সন্ধ্যায় ফেনী সোনাগাজী ও দাগনভুইঞার বিশিষ্টজনদের সম্মানে আহূত একটি মতবিনিময় সভায় যোগদান করার সুযোগ হয়েছিল। ইসলামী আন্দোলনের তরুণ নেতা ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি এবং ফেনী-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্যপ্রার্থী ডা. ফখরুদ্দীন মানিকের উদ্যোগে এই সভাটির আয়োজন করা হয়েছিল। ফেনী-১ আসন ও ফেনী-২ আসনের সদস্যপ্রার্থী যথাক্রমে এডভোকেট কামাল উদ্দিন ও অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভুইঞাসহ বহু ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এবং অবসরপ্রাপ্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিব এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

সভার শুরুতে ডা. ফখরুদ্দীন মানিকের সংক্ষিপ্ত একটি পরিচিতি তুলে ধরা হয়। এই পরিচিতি থেকে জানা যায় যে, তিনি হোমিও চিকিৎসার সর্বোচ্চ ডিগ্রি ছাড়াও ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং আইন শাস্ত্রেও ডিগ্রি অর্জন করেছেন যা শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে তাকে যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তুলনায় শ্রেষ্ঠতর করে তুলেছে। তার সূচনা বক্তব্যটি শুনে বেশ ভালোই লাগলো। তার বক্তব্যে বয়সের স্বল্পতাজনিত অনভিজ্ঞিতা বা অপরিপক্বতার ছাপ ছিল না বরং সংস্কার ও অজ্ঞতামুক্ত আলোকপ্রাপ্ত একজন হবু সংসদ সদস্যের বুদ্ধিদীপ্ত অঙ্গীকারের স্পষ্টতা ছিল। দেশের ব্যাস্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ধর্ম, কৃষ্টি, কালচার এবং জীবনযাত্রা প্রণালীর সামগ্রিক অঙ্গন সম্পর্কে তার ধারণা ও অন্তর্দৃষ্টি প্রশংসনীয় বলেই মনে হয়েছে। একইভাবে অন্য দু’জন প্রার্থী জনাব অধ্যাপক লিয়াকত আলী ও জনাব কবির আহমদের (খিলগাঁও) বক্তব্যের নেতৃত্বসুলভ প্রাজ্ঞতার লক্ষণ ফুটে উঠেছে।

মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারী প্রায় সকলেই আগামী নির্বাচনে জামায়াতের সন্তোষজনক সাফল্যের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কারণ হিসেবে তারা বলেছেন যে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ জামায়াত ও তার নেতৃত্বের নীতি ও নিয়মনিষ্ঠতা, সেবাধর্মী বছরব্যাপী কর্মতৎপরতা, সততা এবং শিষ্টাচারে মুগ্ধ। অতীতের ক্ষমতাসীন দলগুলোর তুলনায় তাদের অধিকাংশই আগামী নির্বাচনে জামায়াতকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আসীন করতে চায়। জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বী অনেকগুলো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অন্যের সম্পত্তি জবরদখল, প্রাতারণা ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে জাতীয় সম্পদের অপব্যবহারে মানুষ এতই ত্যক্ত-বিরক্ত যে তারা রাজনীতি ও রাজনীতিকদের সমাজের বন্ধু বলতেও কুণ্ঠাবোধ করেন। জামায়াতের সুবিধা হচ্ছে এই দলটি নিছক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, একটি আন্দোলন। এই আন্দোলনের তিন দফা দাওয়াত ও চার দফা কর্মসূচির মধ্যে রাজনীতি একটি কর্মসূচি মাত্র, তবে চিরাচরিত রাজনীতি নয়, নিয়ম ও নীতিনিষ্ঠ আদর্শভিত্তিক রাজনীতি যা সততা, যোগ্যতা, আল্লাহভীতি ও ত্যাগের শিক্ষা দেয়। জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্ব অর্থ ও প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা পারিবারিক ঐতিহ্য বা উত্তরাধিকার দিয়ে কেনা যায় না; কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার অনুশীলন, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার অতিরিক্ত দলীয় শিক্ষা, চাহিদাভিত্তিক সিলেবাস সম্পাদন, ইলম ও আমলের সমন্বয়ের সাথে সাথে আর্থিক ত্যাগ হক্কুল্লাহ ও হক্কুল এবাদের দায়িত্ব পালন করেই তাদের নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। প্রবল প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জামায়াত তার জন্মলগ্ন থেকেই এই দায়িত্ব পালন করে আসছে। জালেম সরকারের রোষানলে পড়ে জামায়াত নেতারা হাসিমুখে কারাবরণ করেছে, ফাঁসির রশিদে ঝুলেছে, আত্মীয়-পরিজন ছেড়ে যাযাবরের ন্যায় জীবনযাপন করেছে, দিনের আলোতে জনসমক্ষে আসতে পারেনি, তাদের অনেকের বাড়িঘর ক্রোক হয়েছে, অনেকে জীবিকার উৎস হারিয়েছেন কিন্তু তাদের দাওয়াতি-দ্বীনের তৎপরতা সাংগঠনিক কাজ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি। পদে পাদে তারা পারীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এরই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার আদলে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হয়। জামায়াতের মানুষ তৈরির কারখানা থেকে বহু খোদাভীরু সৎ ও যোগ্য মানুষ তৈরি হয়ে বেরিয়েছেন। যারা এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে পারেন।

ফ্যাসিবাদ-উত্তর বাংলাদেশে বর্তমানে গুটিকয়েক গোষ্ঠী ও ইসলাম-বিদ্বেষী পকেট ছাড়া সর্বত্র জামায়াতের অনুকূলে একটি গণজাগরণ ও গণজোয়ার পরিলক্ষিত হচ্ছে যা অভূতপূর্ব। বাংলাদেশের মানুষ এখন পরিবর্তণ চায়। তাদের এই চাওয়ার মধ্যে রয়েছে জীবন, সম্পত্তি, ধর্ম, সংস্কৃতি ও সম্মানের নিরাপত্তা। স্বাধীন-সার্বভৌম একটি দেশের নাগরিক হিসেবে মৌলিক মানবাধিকার বিশেষ করে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা, জুলুম-নির্যাতন এবং চাঁদাবাজি ও দখলবাজি থেকে মুক্তি। জনগণের এই চাহিদা শুধু তারাই পূরণ করতে পারেন যারা নির্লোভ, সৎ, নিষ্ঠাবান এবং আল্লাহর প্রতি জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী, জামায়াতের ভাণ্ডারে এ ধরনের জনসম্পদ প্রচুর রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। এই মনে করাটা অমূলক নয়। সরকারের মন্ত্রী হিসেবে, সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা হিসেবে, পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে এবং এমনকি পৌরসভা, ইউনিয়ন ও উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে জামায়াতের তৈরি জনবল তাদের সততা, যোগ্যতার সাক্ষ্য দিতে সক্ষম হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এবং মজলুম দল হিসেবে জামায়াতের সাফল্য ও প্রসার অবিশ্বাস্য মাত্রার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাকালে জামায়াতের সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০০, কর্মী সংখ্যা ছিল সাড়ে দশ হাজার। তখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি যা বর্তমানে আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় উনিশ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। পক্ষান্তরে জামায়াতের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৮৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে আড়াই লাখ ও কর্মী-সমর্থকদের সংখ্যা ৪ কোটি অতিক্রম করেছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে জামায়াতকে দেয়া এটি একটি বিরাট সাফল্য। গত ৭৯ বছর ধরে, (পাকিস্তানের ২৫ বছর ও বাংলাদেশের ৫৪ বছর) যারাই জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করার মরণপণ চেষ্টা করেছেন তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছেন, জামায়াত ফুলে ফলে সুশোভিত হয়েছে এবং প্রমাণ করেছে যে, সত্যের আলো কখনো নেভানো যায় না। এই অবস্থারই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রতিটি অঙ্গনে জামায়াতের অনুকূলে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমজীবী, গৃহপরিচরিকা, কাজের বুয়া, রিকশা ও ট্যাক্সি চালক, গাড়ি চালক, বাস ড্রাইভার, গার্মেন্টস কর্মী সবাই এখন জামায়াতের মাধ্যমে মুক্তির পথ খুঁজছেন এবং আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছেন। বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোও জামায়াতের এই উত্থানকে সম্ভাবনার দৃষ্টিতে দেখছেন এবং দলটির নীতি পলিসি সম্পর্কে জানতে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করছেন। প্রবাসী বাংলাদেশীরাও জামায়াতের মধ্যে মুক্তির দূত খোঁজার চেষ্টা করছেন। জামায়াতের ব্যাপারে মানুষের আগে উচ্ছ্বাস ও তার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন দলটির প্রতি অনেকগুলো অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করেছে।

জনসমর্থন আর ভোটের ব্যালট এক নয়। এই সমর্থনকে ব্যালটে রূপান্তর করে বাক্সে ফেলা এবং ফলাফল গণনায় অন্তর্ভুক্ত করে জনরায়ে পরিণত না করা পর্যন্ত এই উচ্ছ্বাস ও সমর্থন অর্থহীন। এ জন্য ভোটার ও ভোটপ্রার্থী উভয়ের সতর্কতা অপরিহার্য।

সরকারি চাকরিতে থাকাকালে আমার তিনবার জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। একবার ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে নোয়াখালী-৩ আসনে, দ্বিতীয়বার ১৯৭৯ সালে ফেনী-২ এবং তৃতীয়বার ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে। ১৯৭৩ সালের নোয়াখালী-৩ আসনে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করা কঠিন ছিল। আমার ৪৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১১টি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারকে আওয়ামী লীগ ও তার স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর হাত থেকে উদ্ধার করার জন্য আমাকে বিডিআর তলব করতে হয়েছিল। ৫টি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসাররা ব্যালট বাক্সসহ হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিলেন। তাদের উদ্ধার করতে তিনদিন সময় লেগেছিল। আমরা বহু কেন্দ্রে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করতে পারিনি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবের সরকারের নির্দেশে ঢাকাতে বাক্স এনে রেজাল্ট ঘোষণা করা হয়েছিল। ফেনী-২ নির্বাচনী এলাকায় দুইজন প্রার্থী ছিলেন মুখ্য। জামায়াতের বিচারপতি বাকের এবং আওয়ামী লীগের তালেব আলী মাস্টার। এই কেন্দ্রে জাস্টিস বাকেরের জনসমর্থন ছিল ব্যাপক, কিন্তু ভোট কেন্দ্রে ও পোলিং বুথে জামায়াতের এজেন্টের সংখ্যা ছিল নগণ্য ও দুর্বল। ফলে ব্যাপক জনসমর্থন কাজে আসেনি। জামায়াত প্রার্থীকে পরাজয়বরণ করতে হয়। নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের অধীনে নির্বাচন পরিচালনা করে। এই নির্বাচানের ক্ষেত্রে অবশ্য পালনীয় কতগুলো দায়িত্ব আছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা, ভোটার সমাগমের সুবিধা অনুযায়ী জড় , সুবিধাদি সম্পন্ন ভোট কেন্দ্র নির্বাচন এবং ভোট গ্রহণের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা কার্য সম্পাদন। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফসীল ঘোষণার সাথে সাথে নিয়মানুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে যান। নির্বাচন কমিশন রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করেন। তারা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সরকারি আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস, ব্যাংক, বীমা, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারী স্কুল, কলেজ, মাদরাসা প্রভৃতি থেকে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা সংগ্রহ করে তাদের মধ্য থেকে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ দেন। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাতে নিরপেক্ষতা বজায় থাকে এবং দলীয় কর্মীরা নিয়োগ না পান তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। নির্বাচন কেন্দ্র নির্বাচনের বেলায় আগেই বলেছি, ভোটারদের সুবিধাকে সামনে রেখেই তা করা বাঞ্ছনীয়। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিশেষ দল ও প্রার্থীর বাড়ির সামনে, পাশে বা প্রভাবাধীন এলাকায় কেন্দ্র স্থাপনের প্রচেষ্টা যাতে সফল না হয় এ ব্যাপারেও সতর্কতা প্রয়োজন। ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসতে কেউ যেন বাধা দিতে না পারেন সেজন্য ভোট কেন্দ্রের সন্তোষজনক ব্যাসার্ধের মধ্যে পাহারা থাকা দরকার। নগদ অর্থ বা অন্যকোনো সামগ্রী বা সুবিধা দিয়ে ভোটার ক্রয়ের ঐতিহ্য আমাদের দেশে আছে। এটা তারাই করেন যারা বিপুল অর্থে দলীয় নমিনেশন ক্রয় করেন এবং ভোটার কিনে ক্ষমতায় গিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের কাছ থেকে কয়েকশ’ গুণ মুনাফাসহ তা ফিরিয়ে নেন। এখান থেকেই দুর্নীতির সূত্রপাত হয়। এই কৌশল সম্পর্কে ভোটারদের অবহিত করার জন্য Voter education এর ব্যবস্থা করতে হবে। রিটার্নিং অফিসার প্রত্যেক প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট এবং পোলিং এজেন্টদেরও নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এজন্য যথাসময়ে প্রার্থীদের তাদের তালিকা পেশ করা জরুরি। নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা, নির্বাচনী এজেন্ট ও পোলিং এজেন্ট ও অনুমতিপ্রাপ্ত সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষক ছাড়া নির্বাচন কেন্দ্রে অন্য কেউ যাতে প্রবেশ করে প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে তার নিশ্চয়তা প্রদান জরুরি। ভুয়া ভোট বা একাধিকবার একাধিক পরিচয়ে ভোট দানে কাউকে ব্যাপৃত থাকতে দেখলে তাকে চ্যালেঞ্জ করা পোলিং এজেন্টদের দায়িত্ব। এজন্য এজেন্টদের কাছে পর্যাপ্ত চ্যালেঞ্জমানি রাখার ব্যবস্থা না থাকলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণযোগ্য হয় না। কোনো কেন্দ্রে পোলিং বুথে মহিলা এজেন্ট নিয়োগ যাতে বাদ না পড়ে প্রার্থীদের তাও দেখতে হবে আবার মহিলা ভোটার ও মহিলা পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রার্থীরা প্রশাসনের সাথে পারামর্শ করে নিশ্চিত করতে পারেন। ভোট গণনার সময় গোলমাল হয়। আবার গণনাকালে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব পাহারা না থাকলে কারচুপির সম্ভাবনা থাকে। বিষয়টি খেয়াল রাখা দরকার। আবার নির্বাচনী কর্মকর্তাদের থাকা-খাওয়ার প্রশ্নটিও অন্যান্য প্রার্থীদের সাথে পরামর্শ করে ভাগাভাগি করে নেয়া ভালো। এতে সময়ের সাশ্রয় হবে। ভোট গণনা ও ফলাফল শিটে দস্তখত না দিয়ে প্রার্থীদের কোনো এজেন্ট-কর্মী যাতে কেন্দ্র ত্যাগ না করেন তাও নিশ্চিত করতে হবে।

এখন অন্য প্রসঙ্গে আসি। গণসমর্থনের গণজোয়ার তাড়িত হয়ে বাংলাদেশে যতবারই যারা ক্ষমতায় এসেছেন তারা ততবারই ব্যর্থ হয়েছেন। এর প্রধান কারণ তারা গণসমর্থনে উল্লসিত হয়ে ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখেছেন, ক্ষমতায় গিয়েছেন; কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে কি করাবেন কাকে দিয়ে করবেন সে সম্পর্কে তাদের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। গত প্রায় দুদশকের ফ্যাসিবাদি দুঃশাসনে বাংলাদেশের প্রতিটি খাত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। আল্লাহ যদি জামায়াতকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন তাহলে দলটি একটি সমস্যা সংকুল বাংলাদেশই পাবে যা হবে একটি দায় বা Liability। এই দায়কে সম্পদে রূপান্তর করে কোটি কোটি মানুষের আকাক্সক্ষার দেশে পরিনত জন্য দেশে সামষ্টিক ও ব্যাস্টিক অর্থনীতির কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে বেসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, পরিকল্পনা প্রণয়ন বাস্তবায়ন, মূল্যায়ন ও পরিধারণ, ধর্ম-সংস্কৃতি-শিক্ষা, আইন ও বিচার বিবাগের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে এবং এজন্য দেশে বিদেশে ট্যালেন্ট হান্টিংয়ের মাধ্যমে উপযুক্ত জনবল সংগ্রহ করতে হবে। ক্ষমতায় গিয়ে ফেল করার চেয়ে না যাওয়াই ভালো। এ ব্যাপারে আগামীতে আরো বিস্তারিত আলোচনার আশা রাখি।