বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক ঘটনাবলি এক গভীর বার্তা বহন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন তথা ডাকসু, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাকসু, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু এবং সর্বশেষ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসুÑ এ চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঐতিহাসিক বিজয় যেন দীর্ঘ অন্ধকারের পর উদিত নতুন সূর্যের আলোকরশ্মি। এটি কেবল একটি সংগঠনের নির্বাচনী সাফল্য নয়; বরং এটি একটি আদর্শিক আন্দোলনের পুনরুত্থান, একটি নির্যাতিত প্রজন্মের নৈতিক প্রতিশোধ, এবং একটি সমাজের ন্যায়ের প্রতি প্রত্যাবর্তনের প্রতিচ্ছবি।

আওয়ামী আমলের সাড়ে ১৫ বছরের ইতিহাস বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জন্য ছিল এক ভয়াবহ অধ্যায়। যে সংগঠনটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একসময় আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সততার প্রতীক ছিল, তা ধ্বংস করার জন্য রাষ্ট্রের সব অঙ্গ একযোগে কাজ করেছে। হাজার হাজার ছাত্রশিবির কর্মী বিনা অপরাধে গ্রেফতার হয়েছেন, শতাধিক শহীদ হয়েছেন, অনেকে নিখোঁজ হয়েছেন, অনেকে কারাগারে বছরের পর বছর ধরে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যে তরুণেরা হাতে বই তুলে নিতেন, তাদের হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়েছে; যে তরুণেরা নৈতিকতার আহ্বান করতেন, তাদের উপর অন্যায়ের পাহাড় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষীÑ আদর্শকে হত্যা করা যায় না। যত দমনই করা হোক, শহীদের রক্ত ও মজলুমদের চোখের পানি বৃথা যায় না। রক্তের বিনিময়ে সত্য আরও উজ্জ্বল হয়, এবং যে মাটিতে শহীদের রক্ত ঝরে, সেই মাটিতে আদর্শিক চেতনা শিকড় গেড়ে অটল হয়।

দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দলীয়করণ, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও পারিবারিক রাজনীতির দৌরাত্ম্যÑ এ সবকিছু মিলিয়ে দেশের তরুণ সমাজ ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়েছিল। শিক্ষাঙ্গনে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হল দখল, সিট বাণিজ্য, গেস্টরুম, টর্চারসেল সংস্কৃতি ও অস্ত্রবাজির মাধ্যমে যে নৈরাজ্যের জন্ম হয়েছিল, তা তরুণদেরকে রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ ও বিরক্ত করে তুলেছিল। এ প্রেক্ষাপটে ইসলামী ছাত্রশিবির ছিল এক ব্যতিক্রমী নাম। তারা নিছক ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেনি ক্ষমতার জন্য, বরং চরিত্র গঠন ও মানবিকবোধ সম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলা ছিল তাদের যাবতীয় কর্মকৌশলের মূল উদ্দেশ্য। তারা শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও ইসলামী আদর্শকে সামনে রেখে একটি পরিশুদ্ধ প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছিল। এ কারণেই যতই দমন করা হোক, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নীরবে তাদের আদর্শের প্রতি আস্থা রেখেছে।

ছাত্রশিবিরের এ বিজয়গাঁথা মূলত শুরু হয় ডাকসু নির্বাচন দিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ ছাত্র সংগঠনটির জন্য বরাবরই স্পর্শকাতর কেননা শিবিরের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকেই। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ছাত্রশিবিরকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে দেয়া হয়নি। ছাত্রশিবির এর আগেও ১৯৮২ সালে ডাকসু নির্বাচনে প্যানেল দিয়েছিল। সে প্যানেলের প্রচার প্রচারণার শেষদিনে বোমা হামলা চালিয়ে বামপন্থী সংগঠনগুলো শিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মীকে আহত করে। অনেকের হাত পা উড়ে যায়। শিবির ডাকসুতে প্যানেল দিয়েছিল ৯০ এর দশকেও। স্বৈরাচার আন্দোলনের পর যখন মুক্ত গণতান্ত্রিক আবহ তৈরি হওয়ার কথা ছিল, তখনই শিবিরের বিরুদ্ধে শুরু হয় নতুন ষড়যন্ত্র। তথাকথিত পরিবেশ পরিষদের সিদ্ধান্তের নামে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলকে পাশ কাটিয়ে অবৈধ একটি ফোরাম দিয়ে সামাজিক চুক্তির আওতায় শিবিরের প্রকাশ্য কাজ ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করা হয়। যদিও এরপর থেকেও ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে ছিল, ছাত্রছাত্রী বা শিক্ষকেরা শিবিরের নেতাকর্মীদের চিনতেন কিন্তু সেভাবে তারা আর প্রকাশ্যে কাজ করতে কিংবা ডাকসুতে প্যানেল দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। অথচ জুলাই বিপ্লব পরবর্তী মুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত এবারের বহুল আলোচিত ডাকসুর নির্বাচনে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করেছে। ভিপি, জিএস, এজিএসসহ অধিকাংশ সম্পাদক পদে জয়ী হয়ে ছাত্রশিবির জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একইভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন জাকসুতেও ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল বিপুল জয় পেয়েছে। জিএস, এজিএসসহ ২৫টি সম্পাদকের মধ্যে ২০টি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরাই জয় পেয়েছেন।

ডাকসুর মতো জাকসু নির্বাচনেও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের সাথে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা কানেক্ট করতে পেরেছিল কেননা এই প্যানেলের প্রার্থীরা ছিল তাদেরই নিকটজন। এখানে কোনো আদুভাইকে প্রার্থী করা হয়নি। প্রতিটি প্রার্থী জুলাই বিপ্লবে সক্রিয় ছিলেন। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী এক বছরে তারা নিরন্তর ছাত্রদের পাশে ছিলেন। গঠনমূলক ও ছাত্রবান্ধব সব প্রোগ্রাম করেছেন। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। প্রতিপক্ষের নির্লজ্জ মিথ্যাচারের মুখেও সংযত ছিলেন, কটু কথা বলেননি। সস্তা কথা বলে জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করেননি। এ কারণে তারা ছাত্রজনতার বিপুল সমর্থন পেয়েছেন। জাহাঙ্গীরনগরের প্রাকৃতিক, তুলনামূলক মুক্ত পরিবেশে তরুণরা ধর্মীয় ও নৈতিক রাজনীতির প্রতি যে আকর্ষণ দেখিয়েছে, তা বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের মানসিক পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ।

আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে শিবিরের ইতিহাস বেশ পুরনো ও সংগঠনিক শিকড় সবচেয়ে গভীর, সেখানে বিজয় এসেছে তাদের ঐতিহ্য ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে। এ নির্বাচনে ২৬টির মধ্যে ২৪টি সম্পাদক পদে বিজয় লাভ করেছে। এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে কার্যত দীর্ঘ ৪৪ বছর পর চাকসুর নেতৃত্বে ছাত্রশিবির ফিরে এসেছে। চাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সর্বশেষ বিজয় ছিল ১৯৮১ সালে। সেবার ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন জসিম উদ্দিন সরকার ও জিএস হন মরহুম আবদুল গাফফার। এরপর ১৯৯০ সালের নির্বাচনে ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য’র কাছে পরাজিত হয় শিবির। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ক্যাম্পাসে জোরপূর্বক শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর প্রায় এক দশকের নিষ্ক্রিয়তার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শিবির আবারও ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে কাজ করার সুযোগ পায় ছাত্রশিবির। নতুন এ যাত্রার মাত্র এক বছরেই চাকসু নির্বাচনে শিবিরের এই ঐতিহাসিক বিজয় আল্লাহ তাআলার বড়ো নেয়ামত ও সাহায্য ছাড়া সম্ভব হতো না।

ছাত্রশিবিরের সিরিজ জয়ের সর্বশেষ নাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। রক্তাক্ত মতিহারের যে ক্যাম্পাসে এক সময় শিবিরের সদস্যদের উপর সবচেয়ে বেশি দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল, সে মাটিতেই আজ বিজয়ের পতাকা উড়েছে। ২৩টির মধ্যে ২০টি সম্পাদক পদে ছাত্রশিবির জয় পেয়েছে। এর বাইরে হল সংসদ নির্বাচনেও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা বিপুল বিজয় লাভ করেছেন। এটি কেবল একটি সংগঠনের নির্বাচনী জয় নয়; এটি প্রতিটি শহীদ পরিবারের চোখের জলে লেখা ইতিহাসের প্রতিশোধ। যে মায়ের বুক খালি হয়েছে, যে ভাই রক্তে সিক্ত মাটিতে নামাজ পড়েছেÑ তাদের কুরবানির ফলেই আজ এ বিজয় এসেছে। এ বিজয় নিপীড়িতের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক স্বীকৃতি, এক সান্ত্বনা, এক নৈতিক পরিশোধ। এ বিশ্ববিদ্যালয়েই অধ্যাপক আবু তাহের হত্যা মামলা, ও ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যা মামলার মিথ্যা অভিযোগে পুরো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগর শাখা ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দকে বছরের পর বছর হয়রাণি করা হয়েছে। আশপাশের জেলাগুলোতেও চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শরীফুজ্জামান নোমানীর মতো মেধাবী ও জনপ্রিয় ছাত্রনেতাকে হত্যা করা হয়েছে। কাজলা-বিনোদপুরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় ক্রসফায়ারের নামে ছাত্রশিবির নেতাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা সে অন্যায় অবিচারের জবাব দিয়েছে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ব্যালট ভোটে ছাত্রশিবিরকে জয়ী করার মাধ্যমে।

এভাবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবিরের জয়ে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ভয়াবহ ভীতির সঞ্চার হয়েছে। আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রেও এক ধরনের অনীহার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো, ইসলামী ছাত্রশিবিরের এ ধারাবাহিক বিজয়গুলো বাংলাদেশের সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তনকেও ইঙ্গিত দেয়। সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এখন বুঝতে পারছেÑ দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার রাজনীতি সমাজকে ধ্বংস করছে। তারা খুঁজছে এমন একটি নেতৃত্ব, যারা আল্লাহভীত, সৎ, ত্যাগী ও নৈতিক। এ কারণেই মজলুমের প্রতি মানুষের সহানুভূতি বাড়ছে, এবং শিবিরের মতো সংগঠনগুলোর প্রতি আস্থা ফিরছে। কারণ মানুষ জানেÑ যারা কষ্টে থেকেও অন্যায় করেন না, তাদের ওপরই নেতৃত্বের ভার দেয়া নিরাপদ।

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ও ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার পতন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘদিনের দমনপীড়ন, বঞ্চনা ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যখন ছাত্রসমাজ রাস্তায় নেমে আসে, তখন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ, দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী। যেখানে অনেক সংগঠন আবেগে কিংবা সহিংসতায় পথ হারিয়েছে, কিংবা দায়সাড়া ভূমিকা পালন করেছে শিবির সেখানে নৈতিক ও কৌশলগত নেতৃত্ব দিয়েছেÑ দাবি ছিল সুনির্দিষ্ট, আচরণ ছিল পরিমিত, অবস্থান ছিল ন্যায়ের পক্ষে। সমন্বয়কদের সাথে সমন্বয় করা, তাদেরকে দিক নির্দেশনা দেয়া, ক্ষেত্রবিশেষে নিজেরাই সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করার মাধ্যমে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা জুলাই বিপ্লব সফল করার ক্ষেত্রে নেপথ্যের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেছে।

এ বিপ্লবের সময় শিবিরের সদস্যরা যেভাবে দমন-নিপীড়নের মুখেও শান্তিপূর্ণ পন্থায় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, তাতে সাধারণ ছাত্রদের মনে তারা আস্থা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছে। জুলাই বিপ্লবের পর থেকেই ক্যাম্পাসগুলোতে শিবিরের প্রতি শিক্ষার্থীদের সহানুভূতি দৃশ্যমানভাবে বেড়ে গেছে, যা পরবর্তী ডাকসু, জাকসু, চাকসু ও রাকসু নির্বাচনে স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে। এ ধারাবাহিক বিজয়ের মাধ্যমে ইসলামী ছাত্রশিবির প্রমাণ করেছেÑ সত্যকে যতই দমন করা হোক, শেষ পর্যন্ত সত্যই জিতে যায়। যদি এ ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একদিন আবারও জ্ঞান, আদর্শ ও নৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত হবে।

এবারের ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে মূলত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের অভিমত প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রসমাজ একটি শক্ত বিকল্প নেতৃত্ব খুঁজছিল। প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে তারা এমন নেতৃত্ব বেছে নিয়েছে, যাদের প্রতি তাদের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। দ্বিতীয়ত, এটি একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত যে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনের চাহিদা ক্রমেই প্রবল হয়ে উঠছে। এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আমাদের সবার আর তাহলো অহেতুক বিতর্ক তৈরি না করে ছাত্রসমাজের মন ও মানসিকতার এই পরিবর্তনকে স্বীকৃতি দেয়া। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন এই বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের যে স্পষ্ট রায় প্রকাশিত হয়েছে, তা মেনে নিয়ে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

তবে ছাত্রশিবিরের বিজয়ী প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জও কম নয়। এ সংগঠনের ইতিহাসে একই সময়ে চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার কোনো নজির নেই। তাই এ ফলাফল তাদেরকে মাত্রাতিরিক্ত উৎসাহিত করতে পারে। বিজয়ী প্রার্থীদের মনে রাখতে হবে, তারা কেবল একটি সংগঠন বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন, বরং গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাই দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবার অধিকার, শিক্ষার পরিবেশ, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করাই হবে তাদের প্রধান দায়িত্ব। এ প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের উচিত হবে সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংসদে বিজয়ীদের সাথে নিয়মিত সম্পর্ক রক্ষা করা, তাদের ওপর নজর রাখা যাতে তারা ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা আবেগতাড়িত হয়ে কোনো ভুল কাজ করতে না পারে। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের দেখা গেছে তারা কোনো বিজয়ের পরই বিজয় উৎসব করেননি। বরং তারা রাত জেগে ইবাদত করেছেন, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন। অহংকার না করে বিনয়ী হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। এ মানসিকতা যদি তারা লালন করতে পারেন তাহলে বলাই যায়, বাংলাদেশ সামনের দিনগুলোতে একটি অনন্যসাধারণ ছাত্র রাজনীতি দেখার সুযোগ পাবে।