॥ সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা ॥
মূলত, ৭১২ খ্রীষ্টাব্দে মোহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযান ও সিন্ধুরাজ দাহিরের পতনের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের আগমন ঘটে। মুসলমানদের সিন্ধু বিজয়ের আগে উপমহাদেশের সিংহভাগ মানুষই ছিল বৈদিক বা সনাতন ধর্মের অনুসারী। এ প্রতিকূল পরিবেশেই ইসলামের অগ্রযাত্রা শুরু হয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগোষ্ঠীর অনেক রসম-রেওয়াজই মুসলিম সমাজে অনুপ্রবেশ ঘটে। যেমন বর্ষবরণ, নবান্ন উৎসব, রাখি বন্ধন, গায়ে হলুদ, অষ্টমঙ্গলা, বরমূল্য যা বিবাহের যৌতুক হিসেবে মুসলিম সমাজে প্রচলিত আছে। বস্তুত, এসব মুসলিম সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের স্মারক নয় বরং বিজাতীয় সংস্কৃতির অংশ। যেহেতু ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান তাই অন্য ধর্ম ও জাতির ঐতিহ্য-সংস্কৃতি থেকে কোন কিছু ধারকর্জ করা কোন ভাবেই কাক্সিক্ষত ও গ্রহণযোগ্য নয় বরং তা অবশ্যই গর্হিত কাজ। কোন মুসলমান বিজাতীয় কোন সংস্কৃতি, উৎসব বা ঐতিহ্যের প্রতিভূ হতে পারে না। কারণ, ইসলাম আমাদেরকে এ বিষয়ে সীমা-পরিসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। তাই সেই সীমারেখা অতিক্রমের কোন সুযোগ নেই।
মূলত ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও শাহাদাতের পর ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের গোড়াপত্তন হয় এবং তা প্রায় ২শ বছর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ইংরেজদের দীর্ঘ শাসন ও শোষণের ফলে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের স্বকীয়তা হারিয়েছি। তাই আমাদের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই পশ্চিমী সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। মানুষের জীবনাচারণ, পছন্দ-অপছন্দ-রুচিবোধ ও পোষাক-আশাকে বৈচিত্র্য এসেছে। ক্ষেত্র বিশেষে আমরা নিজেদের দ্বীনকে ভুলে গিয়ে বিজাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে জীবনাচারের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছি। গা ভাসিয়ে দিয়েছি ইংরেজী সংস্কৃতির গড্ডালিকা প্রবাহে। এমনই এক পশ্চিমী সংস্কৃতি নামের অপসংস্কৃতি হচ্ছে কথিত ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’। যা মুসলিম সমাজে অসার, অনর্থক, বেহুদা ও শয়তানী কাজ হিসেবেই স্বীকৃত। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ ধরনের বেহুদা কাজ থেকে বিরত থাকতে মুসলমানদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। কালামে হাকীমে বলা হয়েছে, ‘অবশ্যই বিশ্বাসীগণ সফলকাম হয়েছে। যারা নামাজে বিনয়ী-ন¤্র। যারা অসার ক্রিয়া-কলাপ থেকে বিরত থাকে’। সূরা আল মোমিনুন-আয়াত-১-৩। অনত্র বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে’। (সূরা আন নূর-২১)
মূলত, ইংরেজী নতুন বছরকে বরণ করার জন্য বিদায়ী বছরের শেষ রাত ও নতুন বছরের প্রথম প্রহরে এই উৎসব উদযাপন করা হয়। আসলে এটি কোন মুসলিম ঐতিহ্য বা সংস্কৃতির অংশ নয়। কথিত বর্ষবরণের এ রাতে নারী-পুরুষদের অবাধ-মেলামেশার সুযোগ করে দেয়া হয়। উৎসবের নামে আতশ ও পটকাবাজি, মাদকসেবন, উচ্ছৃখলতা, বেহায়াপনা, পথে পথে নারী-পুরুষের উদ্দাম নৃত্য শুধু ইসলামী ঐতিহ্যে নয় বরং কোন সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অথচ আমাদের দেশ সহ মুসলিম বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই এই বিজাতীয় সংস্কৃতি ও অপকা- এমনভাবে অনুপ্রবেশ ঘটেছে যা থেকে পরিত্রাণ লাভ করার আপাত কোন সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে না। মুসলমানরা যদি এখনই এ বিষয়ে আত্মসচেতন না হতে পারেন তাহলে দ্বীনে হকের মধ্যে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটতে ঘটতে এক সময় আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিই কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে পারে। তাই এ বিষয়ে প্রতিটি মুসলমানকেই আত্মসচেতন হওয়া উচিত।
মূলত, কথিত থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের মাধ্যমে ইংরেজী বর্ষবরণ বিজাতীয়, কুফরি ও মোশরেকী সংস্কৃতির অংশ। এমনকি তা ইসলামী আকিদার সাথেও সঙ্গতিহীন। তাই কোন মুসলমানের বিজাতীয় সংস্কৃতির ধারক-বাহক হওয়ার সুযোগ নেই। অথচ আমরা কেউ অজ্ঞতাবসত আবার কেউ জেনে শুনেই এই গর্হিত কাজটি অবলীলায় করে যাচ্ছি। তাই থার্টি ফার্স্ট বা ইংরেজী বর্ষবরণের বা উদযাপনের ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের সম্যক ধারণা থাকা আবশ্যক।
মূলত, হযরত ইসা (আ.) এর জন্মের ৪৬ বছর আগে রোমানরা ঔধহঁং নামে এক ঈশ্বরের পূজা শুরু করে। যাকে তারা এড়ফ ড়ভ নবমরহহরহমং বা শুরুর শ্রষ্টা রূপে বিশ্বাস করতো। বস্তুত, তারা বহু শ্রষ্টায় বিশ্বাসী ছিল। তার মধ্যে ঔধহঁং ছিল অন্যতম। তাদের বিশ্বাস ছিল ঔধহঁং অতীত-ভবিষ্যতের সবকিছুই জানেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাখেন। এই ঔধহঁং এর নাম অনুসারে বছরের প্রথম মাসের নাম দেয়া হয় ঔধহঁধৎু. এই মাসে ঘটা করে উদযাপন করে তাদের এ ঈশ্বরকে খুশি করে যেন ঔধহঁং তাদেরকে পুরো বছর মঙ্গলের মধ্যে রাখেন। মূলত, এই ঔধহঁং পূজা থেকে ইংরেজী বর্ষবরণের সূচনা।
সে ধারাবাহিকতায় একই সময়ে তথা খ্রীষ্টপূর্ব ’৪৬ সালে জুলিয়াস সিজার সর্ব প্রথম ইংরেজি নববর্ষ উৎসবের প্রচলন করেন। মূলত, গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে ইংরেজি সনের বিস্তৃতি। পরবর্তীতে ইউরোপ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নববর্ষ পালন শুরু হয় ! সাধারণভাবে প্রাচীন পারস্যের সম্রাট জমশীদ খ্রীষ্টপূর্ব ৮০০ সালে এই নববর্ষ বা নওরোজের প্রবর্তন করেছিলেন। এ ধারাবাহিকতা এখনো পারস্যে আছে এবং ইরানে নওরোজ ঐতিহ্যগতভাবে জাতীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়। মেসোপটেমিয়ায় এই নববর্ষ শুরু হতো নতুন চাঁদের সঙ্গে। ব্যাবিলনিয়ায় নববর্ষ শুরু হতো ২০ মার্চ। অ্যাসিরিয়ায় শুরু হতো ২১ সেপ্টেম্বর।
মিসর ও পারসিকদের নতুন বছর শুরু হতো ২১ সেপ্টেম্বর। গ্রীকদের নববর্ষ শুরু হতো খ্রীষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দী পর্যন্ত ২১ ডিসেম্বর। রোমান প্রজাতন্ত্রের পঞ্জিকা অনুযায়ী নববর্ষ শুরু হতো ১ মার্চ এবং খ্রীষ্টপূর্ব ১৫৩-এর পরে ১ জানুয়ারিতে। ইয়াহুদিদের নববর্ষ বা রোশ হাসানা শুরু হয় তিসরি মাসের প্রথম দিন। মোটামুটিভাবে তিসরি মাস হচ্ছে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর। মধ্যযুগে ইউরোপের অধিকাংশ দেশে নববর্ষ শুরু হতো ২৫ মার্চ। অ্যাংলো-স্যাকসন ইংল্যান্ডে নববর্ষের দিন ছিল ২৫ ডিসেম্বর। পহেলা জানুয়ারি নববর্ষের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট হয় ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পর। ধীরে ধীরে শুধু ইউরোপে নয় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নববর্ষ পালন শুরু হয়।
মোঘল স¤্রাট আকবরের ফরমান অনুযায়ী আমীর ফতেহ উল্লাহ শিরাজী উদ্ভাবিত বাংলা ফসলি সাল সৌরবর্ষ চালু হয় ১০ মার্চ ১৫৬৩ সালে। ইংরেজ আমলে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হলেও রাজস্ব আদায়ে ও অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলা সাল তথা ফসলি সন বেশি ব্যবহার করা হতো। মজুসী বা অগ্নি উপাসকরা এখনো বর্ষবরণকে সরকারি ছত্রছায়ায় ব্যাপক জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করে থাকে। একে তারা তাদের ধর্মীয় অনুষঙ্গ মনে করে এবং নওরোজ বা নতুন দিন বলে অভিহিত করে। ফসলি সনের নববর্ষের আগের দিন চৈত্র সংক্রান্তি, আর পহেলা বৈশাখ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘট পূজার দিন।
মূলত, ইসলাম হচ্ছে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে একমাত্র পরিপূর্ণ, সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত, নিয়ামতপূর্ণ, অপরিবর্তনীয় এবং মনোনীত জীবন বিধান। মানুষের ইহকালীন কল্যাণ, পরকালীন মুক্তি ও হেদায়াতের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। তাই এই দ্বীনের মধ্যে বিজাতীয় কোন ঐহিত্য-সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটানো কোন ভাবেই বৈধতা পেতে পারে না। কারণ, ইসলামই হচ্ছে অদ্বিতীয় জীবন বিধান। যারা ইসলামের আওতার মধ্যে নেই তারা নিঃসন্দেহে কাফির-মুশরিকদের অন্তর্গত। তাই কাফির-মুশরিকদের অনুসরণও ইসলামে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। পবিত্র কালামে পাকে বলা হয়ছে, ‘নিশ্চয়ই সমস্ত প্রাণীর মধ্যে আল্লাহ পাকের নিকট কাফিররাই নিকৃষ্ট, যারা ঈমান আনেনি।’(সূরা আনফাল-৫৫) আল্লাহ তায়ালা মানব জাতিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, হে মুসলিমগণ! তোমরা ওই জালেমদের দিকে একটুও ঝুঁকবে না, অন্যথায় জাহান্নামের আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে। (সূরা হুদ, ১১৩) আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, হে ইমানদারগণ! শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে ব্যক্তি শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, সে তো অশ্লীলতা ও মন্দেরই নির্দেশ দেবে। (সূরা নূর : ২৯)
উপরের আলোচনা থেকে একথা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বর্ষবরণের নামে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন ও বেলেল্লাপনা ইসলামী আদিকা, বোধ-বিশ্বাস, কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থি। তাই ইংরেজী সালের শেষ রাতে তরুণ-তরুণীর অবাধ মেলামেশা, বেহায়াপনা, উম্মত নর্তন-কুর্দন, নেশাগ্রস্থতা, অহেতুক অপচয় ও গান-বাজনা সম্পূর্ণ হারাম। ইসলাম এসব বেহুদাপনাকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে।
ইসলাম নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশাকে কোন ভাবেই স্বীকৃতি দেয় নি। আর থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের নামে যা হয় তা যেনা-ব্যভিচারকেই উৎসাহিত করে। এ সম্পর্র্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ’। (সূরা বনি ইসরাইল-৩২) মূলত বর্ষবরণের নামে নি¤œাক্ত বিষয়গুলোর প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে বিভিন্ন ধরনের পাপাচারে লিপ্ত হতে সহায়তা করে।
অশ্লীলতা : অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে ইসলামে গর্হিত ও নিকৃষ্টতম পাপাচার বলে মনে করা হয়। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ঐসব নারী যারা হবে পোশাক পরিহীতা কিন্তু নগ্ন। যারা পরপুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথা বক্র উচুঁ কাঁধ বিশিষ্ট উটের মত। তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না।’ সহীহ মুসলিম-২১২৮
গান বাজনা : অশ্লীল গান-বাজনাকে ইসলামে হারাম করা হয়েছে। এ রাতে বর্ষবরণের নামে আয়োজিত হয় বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল কনসার্ট। যেখানে নারী পুরুষের একসঙ্গে গান-বাজনা, উদ্যাম নৃত্য আবশ্যকীয় বিষয়। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ও রাসূল (সা.) এসব নিন্দনীয় কাজকে সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। যারা এসব কাজে লিপ্ত তাদের জন্য করেছেন কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশ্যে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।’ (সূরা লুকমান-৬)
আতশবাজি ও পটকাবাজি : এ রাতে আনন্দ-উল্লাস করার জন্য মধ্যরাত থেকে শুরু হয় আতশবাজিও পটকাবাজি। যা জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করে। এর দ্বারা অগ্নিসংযোগেরও আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া এসব কর্মকাণ্ডে জনসাধারণের কষ্টদায়ক ও বিরক্তিকর হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।’ (সূরা আহযাব : ৫৮)
অর্থ অপচয় : এ রাতকে কেন্দ্র করে অনেক অর্থ অনৈসলামিক ও হারাম কাজে ব্যয় করা হয়। যা একদিকে যেমন মারাত্মক গুনাহের কাজ অপর দিকে অপচয়। আর ইসলাম অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই হিসাবে আখ্যায়িত করেছে। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের বড়ই অকৃতজ্ঞ। (সূরা বনি ইসরাঈল-২৭)
তরুণ-তরুণীদের অবাধ মেলামেশা : এ রাত্রিতে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, সমুদ্র সৈকত, নাইট ক্লাবে যুবক-যুবতীরা অবাধে মেলামেশা ও অশালীন কর্মকা-ে লিপ্ত হয়। যা ইসলামের অত্যন্ত গর্হিত কাজ। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে একত্রিত হলে তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।’ মিশকাত শরীফ :১৩১৮
মূলত, থার্টি ফার্স্ট বা বর্ষবরণের নামে উম্মত্ততার অনুমোদন ইসলামে নেই বরং এসব বিজাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। তাই মুমিন হিসেবে আমাদের কর্তব্য থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন সহ এধরনের সকল বেহুদা কাজ থেকে বিরত থাকা। কথিত বর্ষবরণ বা উৎসবের নামে সকল প্রকার অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, হৈ-হুল্লোড় এবং নগ্নতাকে এড়িয়ে চলা। কারণ, আল্লাহ মানুষকে জীবন-যৌবনের পূজা করার জন্য জন্য সৃষ্টি করেননি বরং খলিফা হিসেবে তার নিঃশর্ত আনুগত্য করার জন্যই দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন। আর মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীবের মর্যাদাও প্রদান করা হয়েছে।
মূলত, আমল বা কর্মের মাধ্যমেই মানুষকে তার শ্রেষ্ঠত্বের মর্যদা রক্ষা করতে হবে। মানুষ সৎকাজের আদেশ ও অসৎ এবং বেহুদাপনা থেকে বিরত রাখতে হবে। পবিত্র কালামে পাকে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত; মানবজাতির কল্যাণ সাধানের জন্য তোমাদেরকে পাঠানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে’। (সূরা আল ইমরান-১১০)
www.syedmasud.com