অর্থনীতিতে বিদম্যান উচ্চ মূল্যস্ফীতির হার গত কয়েক মাসে কিছুটা নিম্নমুখি প্রবণতায় থাকলে আবার তা বাড়তে শুরু করেছে। গত নভেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। একমাসের ব্যবধানে ডিসেম্বর মাসে তা ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ৯ শতাংশ। অথচ শ্রীলঙ্কার মূল্যস্ফীতিরহার শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পলিসি রেট (সিডিউল ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বল্পকালীন সময়ের জন্য ঋণ গ্রহণকালে যে সুদ প্রদান করে) কমানোর অনুরোধ জানালে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদ্যমান মূল্যস্ফীতির হার ৭ শতাংশে নেমে আসার পর পলিসি রেট কমানো হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানানো হয়, আগামী জুন মাসের মধ্যে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নেমে আসবে বলে তারা মনে করছেন। তার অর্থ হচ্ছে আগামী জুন মাস পর্যন্ত সিডিউল ব্যাংকগুলোকে ১০ শতাংশ পলিসি রেটে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হবে। উল্লেখ্য, বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি রেট ছিল ৫ শতাংশ।
করোনা উত্তর বিশ্ব অর্থনীতি উত্তরণের পর্যায়ে থাকা অবস্থার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়। এ অযাচিত যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। পুরো পৃথিবীব্যাপী পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির হার ৪০ বছরের রেকর্ড অতিক্রম কের ৯ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়। সে সময় ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি নিয়ে হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব আমেরিকা (ফিড) তাদের পলিসি রেট একাধিক বার বৃদ্ধি করে। পলিসি রেট বৃদ্ধির মাধ্যমে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সূত্র হচ্ছে এ রকম, কেন্দ্রীয় ব্যাংক পলিসি রেট বৃদ্ধি করলে সিডিউল ব্যাংকগুলোকে আগের তুলনায় বেশি সুদ দিয়ে ঋণ গ্রহণ করতে বাধ্য হবে। ব্যাংকগুলো গৃহীত ঋণ গ্রাহক পর্যায়ে প্রদানের ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে তুলনামূলক উচ্চ সুদ হার প্রয়োগ করবে। এতে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা হ্রাস পাবে। বাজারে অর্থ সরবরাহ কমে যাবে, যা উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব আমেরিকার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বিশ্বের অন্তত ৭৭টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পলিসি রেট বৃদ্ধি করে। পলিসি রেট বৃদ্ধির মাধ্যমে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল একটি সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু দীর্ঘ দিন পলিসি রেট উচ্চ পর্যায়ে রাখলে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থবিরতা নেমে আসে। প্রোডাক্টিভ সেক্টরের কার্যক্রম স্থিমিত হয়ে পড়ে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে তা আরো উস্কে দেয়।
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব আমেরিকার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বিশ্বের যেসব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পলিসি রেট বৃদ্ধি করেছে তাদের বেশির ভাগই উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে। এমনকি শ্রীলঙ্কার মতো সমস্যাগ্রস্ত দেশও তাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির হার ৭৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে পেরেছে। কিন্তু বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। গত প্রায় ৪ বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির হার ৯ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশে উঠানামা করছে। বিগত সরকার আমলে বাংলাদেশ এমন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে যা এক শ্রেণির ব্যবসায়ীকে সুবিধা দিলেও দেশের পুরো অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের অজ্ঞতার কারণে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা নয়। তারা সরকার সমর্থক ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে অনৈতিক সুবিধা প্রদানের জন্যই এমনটি করেছে।
প্রথমেই আসা যাক কিভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত কার্যক্রম বা নীতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে আরো উস্কে দিয়েছে সেই প্রসঙ্গে। পলিসি রেট বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা অর্থনীতির একটি সাধারণ সূত্র। কারণ একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি পলিসি রেট বৃদ্ধি করে তাহলে সিডিউল ব্যাংকগুলোকে বাধ্য হয়ে আগের তুলনায় উচ্চ সুদে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হয়। মনে করি, আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি রেট ছিল ৫ শতাংশ। সিডিউল ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গৃহীত অর্থ উদ্যোক্তা পর্যায়ে বিতরণের সময় অন্তত ১১ শতাংশ সুদ আরোপ করতো। পলিসি রেট ১০ শতাংশে উন্নীত করার পর সিডিউল ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে গৃহীত ঋণের অর্থ উদ্যোক্তা পর্যায়ে বিতরণের সময় অন্তত ১৬ শতাংশ সুদ চার্জ করবে। বিশ্বের প্রতিটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ কৌশল অনুসরণ করে ঋণ সংকোচন নীতি বাস্তবায়ন করে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ফিক্সড করে রাখার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক পলিসি রেট দ্বিগুন করলেও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত ব্যাংক ঋণের সুদের সর্বোচ্চ হার ৯ শতাংশে ফিক্সড করে করেছিল। সিডিউল ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদে ঋণ গ্রহণ করে তা স্বল্প সুদে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করতে সম্মত হয়নি। কিন্তু সরকারের অনুগ্রহপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীরা নানাভাবে ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের উপর চাপ সৃষ্টি করে ঋণের নামে ব্যাংক থেকে অর্থ বের করে নিয়ে তা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে। ঋণকৃত এ অর্থ কোন না কোনভাবে বাজারে চলে আসে। ফলে বিদ্যমান মূল্যস্ফীতির উপর তা আরো বিরূপ প্রভাব ফেলে। সেই সময় এক মুদ্রানীতিতে ব্যক্তি খাতে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে অর্জিত হয় ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ বা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। অথচ একই সময়ে শিল্পে ব্যবহার্য ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি কমেছিল ৭৬ শতাংশ। কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি কমেছিল ১৪ শতাংশ করে। তাহলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ছাড়কৃত ব্যাংক ঋণের অর্থ কোথায় গেল? এ অর্থ উদ্দীষ্ট কাজে ব্যবহার না করে বাজারে নিয়ে আসা হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে তা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আরো একটি অন্যায় কর্ম করে তাহলে আমানতের উপর প্রদেয় সুদের হার সীমিতকরণ করা। ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যাংকের ক্ষেত্রে আমানতের উপর আরোপিত সুদের হার নির্ধারণ করে দেয়া হয় ৬ শতাংশ। আর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ হার সাড়ে ৫ শতাংশ। এধরনের বৈষম্যমূলক নীতি প্রণয়ন করা হয় মূলত রাজনৈতিক সমর্থনপুষ্ট ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে আমানত প্রদানের উদ্দেশ্যে। এছাড়া আগে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মোট আমানতের ৭৫ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকে সংরক্ষণ করতে হতো। অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যাংকে সংরক্ষণ করতে পারতো। এ নীতি পরিবর্তন করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আমনতের ৫০ শতাংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যাংকের সংরক্ষণের সুযোগ দেয়া হয়। অনেকেই মনে করেন, মূলত ব্যরিস্টার ফজলে নূর তাপসের মধুমতি ব্যাংককে সুবিধা দেবার জন্যই এমন নীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ বিতর্কিত নীতিমালা পুরো ব্যাংকিং সেক্টরকে বিপর্যস্ত করে তোলে। অনেকেই দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি সুদ পাবার আশায় ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যাংকে তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ আমানত রেখে এখন আর সেই অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না।
বিগত সরকার আমলে বাংলাদেশ ব্যাংক আরো একটি অর্থনীতি বিধ্বংসী কাজ করেছিল মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ফিক্সড করে দিয়ে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার স্থানীয় মুদ্রায় ১১০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। সাধারণভাবে ব্যবসায়ীরা ব্যাংকিং চ্যানেল থেকে মার্কিন ডলার না পেলেও সরকার সমর্থক ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা গোষ্ঠী তাদের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংক থেকে মার্কিন ডলার বের করে নেয়। এ অর্থ তারা আমদানির আড়ালে অভার ইনভয়েসিং করে বিদেশে পাচার করে দেয়। স্থানীয় বাজারে মার্কিন ডলারের তীব্র সঙ্কট সৃষ্টি হয়। ব্যাংকিং চ্যানেলের তুলনায় কার্ব মার্কেটে প্রতি মার্কিন ডলার ১০ থেকে ১২ টাকা বেশি মূল্যে বিক্রি হতে থাকে। সাধারণভাবে ব্যাংকিং চ্যানেল ও কার্ব মার্কেটে মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের পার্থক্য থাকে ১ টাকা থেকে ২ টাকা। কার্ব মার্কেটে প্রতি মার্কিন ডলার ব্যাংকিং চ্যানেলের চেয়ে ১০ তেকে ১২ টাকা বেশি দরে বিক্রি হবার কারণে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা কার্ব মার্কেটে উচ্চ মূল্য পাবার প্রত্যাশায় তাদের উপার্জিত রেমিট্যান্স হুন্ডির মাধ্যমে দেশে প্রেরণ করতে থাকে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের উপর টান পড়ে। পরবর্তীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা হলে গত অর্থবছরে (২০২৪-২০২৫) বাংলাদেশ মোট ৩২ বিলিয়ন ডলারের মতো রেমিট্যান্স আহরণ করেছে। এটা রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ রেকর্ড। বিগত সরকার আমলে আজ্ঞাবহ ব্যবসায়ীদের তুলনামূলক কম মূল্যে মার্কিন ডলার যোগান দেবার লক্ষ্যে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ফিক্সড করে রাখা হয়েছিল। এতে প্রবাসী আয় এবং পণ্য রপ্তানি আয় অবৈধ পথে দেশে আসে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ মোট ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছিল বলে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। অথচ ঐ বছর প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে গমন করেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। মাঝে মাঝেই এমন কিছু নীতিমালা জারি করা হয় যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ২ শতাংশ নগদ ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়ে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের সুযোগ দিয়েছিল। বিগত সরকার আমলে আ হ ম মোস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রী থাকাকালে এ ধরনের সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল। সে সময় গ্রেস পিরিয়ডের সময় ছিল এক বছর। আর সম্প্রতি যে পুনঃতফসিলিকরণ সুবিধা দেয়া হয়েছে সেখানে গ্রেস পিরিয়ডের সময় হচ্ছে ২ বছর। অনেকেই মনে করছেন, প্রভাবশালি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে বিশেষ নির্বাচনের আগে ঋণ খেলাপির দায়মুক্ত করার জন্যই এমন সুযোগ দেয়া হয়েছে। ঠিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এমন একটি সুযোগ ঋণ খেলাপিদের কেন দেয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ রয়েছে বৈকি। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভ্রান্তিকর নীতির কারণে কৃষি ও পল্লি ঋণ নামক কর্মসূচি সুফল দিতে পারছে না। এ কর্মসূচিতে এনজিওদের অন্তর্ভুক্ত করায় প্রকল্পটি সঠিকভাবে দরিদ্র মানুষের উন্নয়নে কাজে আসছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। কোনভাবেই মহল বিশেষ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।