হারুন আর রশিদ
বায়ু দূষণে ঢাকা বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। বিগত কয়েক বছর যাবৎ বায়ুদূষণে ঢাকা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে। গোটা বিশ্বের রাজধানীর দিকে তাকালে এবং জরীপ করলে সহজভাবে বোঝা যায় ঢাকা কতটা খারাপ অবস্থায় আছে,সেটা ভাববার সময় এখুনি। বিষয়টি আতঙ্ক ও উদ্বেগজনকও বটে। তাই আর সময় ক্ষেপণ করা যায় না।১১ জানুয়ারি ২০২৬ বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান এক নম্বরে উঠে আসে। ১১ জানুয়ারী ২০২৬ সকাল ৮ টায় একিউআই স্কোর ২৫৭ নিয়ে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকার নাম এক নম্বরে লিপিবদ্ধ হয়। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের অভিমত এই স্কোরটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই বিপদজনক। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি এবং ভিয়েতনামের হ্যানয় শহর। তাদের দূষণ স্কোর যথাক্রমে ২২৭ এবং ২১৯। এ দুটি শহরের বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর। আর বাংলাদেশের বায়ুর স্কোর মান ২৫৭ যা খুবই অস্বাস্থ্যকর। বহু বছর ধরে বায়ুদূষণে ভুগছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। জনজীবন অতিষ্ট করে ফেলেছে এই বায়ুদূষণ। বায়ুর গুণমান সাধারণত শীতকালে বেশি অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়। ২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ুদূষণের ৪টি প্রধান উৎস হলো, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণ সামগ্রীর ধুলো এবং মাত্রাতিরিক্ত যান ও জনজট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুসারে, বায়ুদূষণের ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ থেকে ৭৫ লাখ মানুষ মারা যায়। এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্স (একিউএলআই) ২০২৫ সালের হালনাগাদ বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত আয়ুর জন্য সবচেয়ে বড় বাহ্যিক হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে বায়ুদূষণ। বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশের মানুষের আয়ু গড়ে সাড়ে পাঁচ বছর কমেছে। বায়ু দূষণ হল বায়ুমন্ডলে এমন সব পদার্থের উপস্থিতির কারণে হওয়া দূষণ যা মানুষ এবং অন্যান্য জীবের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিংবা জলবায়ু বা পদার্থের ক্ষতি করে। এটি মূলত রাসায়নিক ক্রিয়াকলাপ, শারীরিক বা জৈব মাধ্যম দ্বারা গঠিত ভেতরের বা বাইরের পরিবেশের একপ্রকার দূষণ যা বায়ুমন্ডলে প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে পরিবর্তন করে দেয়। বিভিন্ন ধরনের বায়ু দুষণ রয়েছে, যেমন গ্যাস (অ্যামোনিয়া, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, মিথেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং ক্লোরোফ্লুরোকার্বন), কণা (জৈব এবং অজৈব উভয়) এবং জৈব অণু। বায়ুদূষণ বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি, অ্যালার্জি থেকে শুরু এমনকি মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে; এটি প্রাণী এবং খাদ্যফসলের মতই অন্যান্য জীবন্ত প্রাণীর, প্রাকৃতিক পরিবেশ (উদাহরণস্বরূপ, জলবায়ু পরিবর্তন, ওজোন স্তর ক্ষয় বা বাসস্থানের পতন)বা মানব সৃষ্ট কৃত্রিম পরিবেশের (উদাহরণ স্বরূপ অ্যাসিড বৃষ্টি) ক্ষতি করতে পারে। মানুষের ক্রিয়াকলাপ এবং প্রাকৃতিক ঘটনা উভয়ের কারণে বায়ুদূষণ হতে পারে। বায়ুদূষণের কারণ হতে পারে গাড়ির ধোঁয়া, কারখানা থেকে নির্গত ধোয়া, জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কার্বন-মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, তেজস্ক্রিয় পদার্থ, মহাজাগতিক ধূলিকণা অগ্নুৎপাতের ফলে নিঃসৃত সালফার ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি। বায়ুর গুণগত মান পৃথিবীর জলবায়ু এবং বিশ্বব্যাপী বাস্তুতন্ত্রের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। কেন এই বায়ু দূষণ সেদিকে এবার একটু নজর দেওয়া যাক। পুরো ঢাকা শহরকে বিগত ৫৫ বছরে অপরিকল্পিত ভাবে সাজানো হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আবাসন প্রকল্প পুরোপুরি নিয়মের তোয়াক্কা না করে গড়ে তোলা হয়েছে, এর ফলশ্রুতিতে ঢাকার চতুর্পাশের লাখ লাখ টন বর্জ্য আবর্জনা স্তুপ গড়ে উঠেছে। আর এখান থেকেই বায়ু দূষিত হচ্ছে । দেশের পরিবেশবিদের নানা পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকা শহরে পরিবহন সেক্টরে কোনো নিয়ম নীতির বালাই নেই। ঢাকা শহরে আয়তন অনুসারে যানবাহনের চাপ এতোটই বেশি যা বিশ্বের অন্য কোনো রাজধানী শহরে দৃশ্যমান নয়। মাত্রাতিরিক্ত যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোয়া বায়ুদূষণের আরেকটি বড় কারণ। পরিবহন সেক্টরে এসব অনিয়ম পর্যবেক্ষণ বা তদারকি এবং শাস্তির বিধান কার্যকরী করার আইনি ব্যবস্থার কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তা মেনে চলা হচ্ছে না। ঢাকা শহর ৩৬০ বর্গ কিলোমিটার এতো অল্প পরিসর এলাকায় যানবাহনের ধারন ক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি যানবাহন থাকার কারণে নগরীর দূষণ জ্যামেতিক হারে বাড়ছে। পাশাপাশি ঢাকার জনসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হওয়াতে যানজটও তীব্রতর হচ্ছে। অনিয়মের কারণে মহানগরী ঢাকা চার প্রকার দূষণ যেমন মাঠি দূষন, পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ সবকিছুই আন্তর্জাতিক সহনীয় মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। ধুলোবালি এবং যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে বাড়ছে। যার কারণে প্রায় সময়ই ঢাকার আকাশ ধুলোবালিতে আচ্ছন্ন থাকে। ঢাকায় বসবাসরত মানুষ দূষিত বায়ুর কারণে প্রাণঘাতি রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে মৃত্যুর কাছে হার মানতে বাধ্য হচ্ছে। জীবনঘাতি এসব দূষণ মানুষের সৃষ্টি বলে অনুমেয়।
আমরা অসচেতন বলেই নিজের শহরটাকে ভালো রাখতে পারছিনা। যে বাসাবাড়িতে আমরা থাকি সেটাও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন নয় বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলেছে তাদের জরীপে। প্রশ্ন হলো এটা তো বাইরের লোক এসে পরিস্কার করে দিয়ে যাবেনা। আমি লন্ডন কানাডা সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড সফর করতে গিয়ে দেখেছি এসব দেশের মানুষ নিজেদের বাড়ি ঘর তারা নিজেরাই পরিস্কার করছে। এটা তারা নিত্যকার কাজ হিসেবে গণ্য করে। এ কারণে তারা আজ এতো উন্নত। আমাদের দেশে আর্থিকভাবে সচ্ছল মানুষরাও দূষণ ছড়ায়। তাদের আসপাশের এলাকাগুলো দৃষ্টি দিলে তার প্রমান মেলে। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ঈমানের অংঙ্গ। প্রথমে নিজের মনকে পরিস্কার করতে হবে। কারণ নিজের মন পরিষ্কার নাহলে দেশ পরিস্কার হবে না। ঢাকা বিশ্বের অন্যতম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি হতে পারছেনা বহুবিধ অনিয়মের কারণে। রাজধানী ঢাকায় একই রাস্তায় সবধরনের যানবাহন চলে যেমন ইজিবাইক, সাইকেল, রিকশা, অটো রিকশা, ঠেলা, ভ্যান, ট্রাক, বাস, লরি প্রাইভেট কার, এবং অ্যাম্বুলেন্স, সরকারি বেসরকারি সবধরনের পরিবহন ঢাকার সকল রাস্তায় চলাচল করে,যার ফলে রাস্তায় অসম্ভব জ্যাম পরিলক্ষিত হয়। গন্তব্যে স্থানে পৌঁছতে সময় লাগে দ্বিগুণের চেয়েও বেশি। নগরীর দূষণ ছড়াতে বহুমাত্রিক বাহনগুলো বহুলাংশে দায়ী। বাহনগুলো থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং হাইড্রলিক্স হর্ন যা হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্ট এবং বধিরতা বাড়িয়ে দেয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীন মনোভাবের কারনে দূষণ সংক্রামিত ব্যাধিতে রুপ নিচ্ছে ঢাকা শহরে। ঢাকার পায়ে চলা পথে পুরোটাই এবং মুল সড়কে দুই পাশে ৮ থেকে ১০ ফুট জায়গা দখল করে রাখে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। মানুষের জন্য ঢাকার রাস্তায় চলাফেরা অনেকটা অনিরাপদ।এব্ং জীবনের জন্য হুমকিও বটে। এর পরে আছে এলোপাতাড়ি গাড়ি দীর্ঘ সময়ের জন্য মূল সড়কে পার্কিং করে রাখা হয়। বিশেষ করে স্কুল কলেজ হাসপাতাল এবং কোচিং সেন্টার নগরিতে যত্রতত্র ভাবে গড়ে ওঠার কারনে। এ দৃশ্য নিত্যকার। এসব বাহনের কারণে রাস্তার মোরে মোরে ফেলে রাখা বা জমে থাকা ময়লার স্তুপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। বায়ু দূষণে ঢাকায় বহুমুখী চর্ম রোগ ব্যাপকতর রুপ ধারন করেছে। এলাকাগুলো এখন আর আবাসিক এলাকা না বলে বাণিজ্যিক এলাকা হিসাবে বেশি পরিচিতি লাভ করেছে। পরিবেশ আইনে লেখা রয়েছে আবাসিক এলাকায় কস্মিনকালেও ব্যবসা বাণিজ্য গড়ে তুলতে পারবে না। বিষয়টি আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচিত থাকার পরেও সিস্টেমকে কেউ মানতে চাচ্ছে না । নিয়মের আবর্তে থাকার কারণে আবাসিক এলাকায় বর্জ্য আবর্জনা কম হয় এটাই নিয়ম। কিন্তু বাণিজ্যিক এলাকায় বর্জ্যের দূষণ বেশি হয়। এ কারণে রোগ ব্যাধিও বেশি হয়।
কথায় বলে যত বর্জ্য তত দূষণ ও তত অসুখ । ঢাকার দৃষ্টি কটু বায়ু দূষণে সহায়ক সকল ব্যবস্থাপনা সড়িয়ে ফেলতে হবে। এবং আইনি কাঠামো মাধ্যমে নিষিদ্ধ করতে হবে। সড়ক দখল করে অবৈধ পার্কিং বন্ধসহ দখল হয়ে যাওয়া সড়ক উদ্ধার করতে হবে। বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পথগুলো যানজটমুক্ত রাখতে হবে। নগরীকে একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে উল্লেখিত নিয়মের বিকল্প নেই। এক জরিপে দেখা যায় ঢাকার বায়ু দূষণে শ্বাষযন্ত্রের রোগ (অ্যাজমা, COPD, ক্যান্সার), হৃদরোগ (হার্ট অ্যাটাক, স্টোক), স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি (আলঝেইমার, স্মৃতিভ্রম) এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা শিশুদের ফুসফুসের বৃদ্ধি ব্যাহত করে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা বাড়ায়,এছাড়া পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীরও ক্ষতি করে। বায়ু দূষণে পরিবেশগত প্রভাব (Environment Impacts) পড়ে অ্যাসিড বৃষ্টি এটি ফসল,বন এবং জলজ বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করে। ধোঁয়াশার (Smog) দৃশ্যমানতা কমিয়ে দেয় এবং পরিবেশকে বিষাক্ত করে তোলে।
জলবায়ু পরিবর্তনে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে যা বৈশ্বিক পরিবর্তনের কারণ হয়। বায়ু দূষণ প্রাণীদের মধ্যে জন্মগত ত্রুটি, প্রজনন সমস্যা এবং নানা ব্যাধি সৃষ্টি করে বিশেষ করে জলজ বাস্তুতন্ত্রে বিষাক্ত পদার্থ জমা হওয়ার কারণে। সংক্ষেপে বায়ু দূষণ মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি, যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বায়ু দূষণে অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রতিদিন প্রায় বিশ হাজার কোটি টাকা। শুধু রাজধানীর অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থাপনা ও যানজটে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ জ্বালানির অপচয় হয়, যার মূল্য কয়েক শত কোটি টাকা। যানজটে মোট জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ ক্ষতি হয়। বিশ্বের আর কোনো দেশে যানজটে সৃষ্ট বায়ুদূষণে এতো ক্ষতি হয় না (সূত্র জাতীয় দৈনিক ১৪/০১/২৬)। নগর এলাকায় ক্রমান্বয়ে বাসযোগ্যতা কমছে। রাষ্ট্র যন্ত্র বহুবছর ধরে ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহর জেলা, উপজেলা ও পৌর এলাকার নগর উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা ও পরিবেশের ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
নদী, খাল, জলাশয়, জলাভূমি দখলকারী কিংবা নগর এলাকায় বিপজ্জনক শিল্প-কারখানার মাধ্যমে বায়ু দূষণকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ঢাকার যানজট-জলজট-শব্দদূষণ দূর করতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে পারেনি। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে হবে। এতে শ্রবণ প্রতিবন্ধীর সংখা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। শব্দ দূষণে হৃদ রোগে বহুলোক মারা যাচ্ছে। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মোট (DNCC) মোট (৫৪+৭৫):১২৯ টি ওয়ার্ড রয়েছে। এলাকার পাড়া মহল্লায় (Village Town) এর সমস্যা সমাধানে মানুষ এবং কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে পারেনি। বিশেষত নগরে নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক এলাকায় বসবাসরত মানুষের দুঃখ দুর্দশা আরও বেড়েছে। ২০২৫ এ অন্তর্বতী সরকার জাতীয় নগর নীতি এবং স্থানীয় পরিকল্পনা অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে নগর এলাকার ইতিবাচক পরিবর্তনে ভুমিকা রাখতে পারে। আগামী নির্বাচিত সরকারকে বড় প্রকল্পে মনোযোগ না দিয়ে নগর এলাকার সমস্যা সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা, সমন্বিত উদ্যোগ, উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা ও জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) কর্তৃক অনলাইনে আয়োজিত পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিশ্লেষণী অনুষ্ঠানে বক্তারা উপরোক্ত মতামত ব্যক্ত করেন। অপ্রিয় সত্য সারা দেশে একটিও বায়ুদূষণ রোধে পরিকল্পিত শহর নেই।
আমাদের নগর বিষয়ক সমস্যাগুলো ভুল নীতিকৌশলের কারণে বায়ু দূষণের কোনো সুরাহা হচ্ছে না। ব্যক্তি সচেতনতা না থাকার কারণে ঢাকায় বসবাসরত প্রায় তিন কোটি মানুষের আবাসিক এলাকাগুলো বায়ু দূষণে চরম হুমকি হয়ে দেখা দিচ্ছে। সড়কের মোরে মোরে ছোট খাটো টিলার মতো বর্জ্য আবর্জনা জমে থাকতে দেখা যায় নিত্যদিন সড়কে বাজার বসার কারণে। ঢাকার নদীর পানি এতোটাই দূষণযুক্ত যে এখানে গোসল করলে দুরারোগ্য চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা বলা যায়। এক কথায় ঢাকার বাতাস, মাটি এবং খাদ্য সবকিছুই দূষণে আক্রান্ত যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আমরা ১৮ কোটি মানুষ মহা দূর্যোগের মধ্য আছি। সেহেতু বায়ু দূষণ রোধে অনতিবিলম্বে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একটি স্মার্ট দূষণ ও যানজটমুক্ত ঢাকা গড়ে তোলা সময়ের ন্যায়সঙ্গত দাবি।
লেখক : গ্রন্থকার, গবেষক এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞ।