ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইল প্রাণঘাতী হামলা দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ালো। একদিকে ইরানে নির্বিচার হামলায় বহু মানুষ নিহত বা আহত হচ্ছে। অন্যদিকে এ যুদ্ধের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতমুখর হয়ে উঠেছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় সারা বিশ্বে এ যুদ্ধের মারাত্মক ক্ষতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইরান-ইসরাইল উত্তেজনার ফলে জ্বালানি ও বাণিজ্যে বৈশ্বিক চাপ দেখা যাচ্ছে। শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষরা বলছেন, যুদ্ধ, রক্তপাত, সংঘাত, সহিংসতা কোন সমাধানের পথ হতে পারে না। বরং যুদ্ধ বয়ে আনে অস্থিরতা, অশান্তি, অগনিত মৃত্যু, বিপুল বিশাল সম্পদের ক্ষতি এবং এর পেছনে থাকে ধ্বংস স্তূপ। কোন দেশ, জাতির জন্য যুদ্ধ বয়ে আনে না মঙ্গল বার্তা। তবু মানুষ, দেশ, রাষ্ট্র, সরকার জড়িয়ে পড়ে যুদ্ধে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলের হামলা শুরুর কারণ ভিন্ন। মার্কিন আধিপত্য বিস্তার, তেল সম্পদ নিজেদের করায়াত্ত করা, মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনই এ হামলার লক্ষ্য। তারা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। এ হামলায় ব্যবহার করছে সর্বাধুনিক ব্যালেস্টিক মিসাইল। এ মিসাইল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের যে কোন দেশে হামলা চালাতে পারে ইরান। এ শক্তিশালী অত্যাধুনিক ব্যালেস্টিক মিসাইল বিশ্বের আর কোন দেশে নেই-এমন দাবি ইরানের। কাজেই হামলা ঠেকানোর মতো সক্ষমতা নেই ইরানের শত্রুপক্ষের কাছে। ইসরাইলের আয়রন ডোমও ব্যর্থ হচ্ছে হামলা ঠেকাতে। ফলে তেলআবিবে ক্ষতি যথেষ্ট। এমনি অবস্থায় এ বহুপাক্ষিক যুদ্ধে শুধু জ্বালানি তেল, এলপিজি, এলএনজি সংকটে বিশ্বের দেশে দেশে বহুবিধ সংকটে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

রণাঙ্গনের খবরে নানা কথা ভেসে আসছে। আসছে গুজব ও গুঞ্জন। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তরফ থেকে শিগগিরই যুদ্ধ অবসানের কথা বলা হচ্ছে। অবশ্য তার কথার আসলে কোন দাম নেই বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ইরান পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখার কথা বলছে। কিন্তু ইতিমধ্যে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেছে, বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী তার খারাপ প্রভাব পড়েছে, যে কথা আগেই বলেছি।

এদিকে আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২৮শে ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের পূর্ব সতর্কতা বা অনুমোদন ছাড়াই মার্কিন-ইসরাইলি আক্রমণ করা হয় এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা হয়। মাত্র দু’মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওপর আরেকটি আক্রমণ শুরু করে, যেখানে তাদের বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাসে তার বাসভবন থেকে অপহরণ করে এবং তাকে নিউ ইয়র্কে স্থানান্তর করে, যেখানে তার বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়।

এতে বলা হয়, এ দুটি সহিংস হামলার মধ্যবর্তী সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩১টি জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থাসহ ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন এবং তথাকথিত পিস বোর্ড বা শান্তি বোর্ড চালু করেন, যা একটি নতুন প্রতিষ্ঠান যার সভাপতি তিনি নিজেই। তিনি প্রস্তাব করেছিলেন যে এটি জাতিসংঘের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে ১৯৪৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে বিশ্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিল তা আর তার স্বার্থে কাজ করে না। দেখা গেছে যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাতিসংঘ বা নিরাপত্তা পরিষদ তেমন কোন কাজই করতে পারছে না। বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০২৬ সালের বিশ্ব ১৯৪৫ সালের সাথে খুব কমই সাদৃশ্যপূর্ণ। ইউরোপ পুনর্গঠিত হয়েছে। চীন উঠে এসেছে শক্তিরূপে। কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অনেক উপসাগরীয় রাষ্ট্র ধনী। আর ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম এবং অন্যান্য দেশ উঠে আসছে। আজকের হুমকি-জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি, সন্ত্রাসবাদ এবং অন্যান্য- যখন জাতিসংঘের সনদ তৈরি করা হয়েছিল তখন কল্পনাও করা যেত না। এ বিশ্লেষণ থেকে এটা পরিষ্কার যে আমেরিকা আর কারো কথা শুনতে রাজি নয়। এ পরিস্থিতি বিশ্ব শান্তির জন্য বড় হুমকি, বিশ্ব মোড়লরা তা বুঝেও বুঝছেন না।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে এটি স্থানীয় সংঘাতের বাইরে চলে গেছে, যার প্রভাব বিশ্বব্যাপী পৌঁছেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল কর্তৃক আক্রমণাত্মক এবং অবৈধভাবে আরোপিত এ সংঘাত কেবল কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেই ব্যাহত করেনি বরং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিকেও চ্যালেঞ্জ করেছে। এ আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় ইরান আত্মরক্ষায় তার সহজাত অধিকার প্রয়োগ করে - আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা।

সীমান্ত ছাড়িয়ে সংঘাতের বিস্তার : ইরানের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় দেশটি ইসরাইল ছাড়াও কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় কুয়েতে ছয়জন মার্কিন সৈন্য এবং ইসরাইলে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। সাইপ্রাসে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।

এদিকে, লেবাননের হিজবুল্লাহগোষ্ঠী ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে, যার ফলে সেখানে ইসরাইলি পাল্টা হামলায় অন্তত ১২৩ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক শাখা ভেঙে দেওয়ার দাবি তুলেছে। এছাড়া শ্রীলঙ্কার উপকূলে একটি ইরানি রণতরী ডুবিয়ে দিয়েছে মার্কিন সাবমেরিন, যা দক্ষিণ এশিয়ায় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকট : এ যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করায় বিশ্বের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সৌদি আরব, ইরাক, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল শোধনাগারগুলোতে হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ঘাটতি মোকাবিলায় ভারত যাতে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনতে পারে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। চীন মধ্যপ্রাচ্যে দূত পাঠিয়ে উভয়পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়া বিষয়টি নিয়ে সতর্ক রয়েছে এবং সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত আছে, তবে দেশটি ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে বলে এনপিআর নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষায় সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। স্পেন মার্কিন বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহারে বাধা দেওয়ায় ওয়াশিংটনের সাথে তাদের কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের এই চরম মুহূর্তে বিশ্ববাসী গভীর উদ্বেগের সাথে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল হামলা চালালে পরবর্তীতে ইরান পাল্টা আকাশ পথে হামলা চালায় ইসরাইলে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার, দুবাই, আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, শারজাহ, বাহরাইন, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সকল তেলসমৃদ্ধ দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। হামলা চলে এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে, তেল স্থাপনায়। হামলা-পাল্টা হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে ব্যাপক। নিহত সহস্রাধিক মানুষ। যুদ্ধের গতি বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে উভয়পক্ষ থেকেই।

একই সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রাণালি বন্ধ ঘোষণা করায় বিশ্বব্যাপী এখন জ্বালানি তেল ও এলপিজি, এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পথে। তাছাড়া হরমুজ প্রাণালি ব্যবহার করে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় ভোগ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ পর্যায়ে হরমুজ প্রণালীর পরিবর্তে বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় বাড়ছে কয়েকগুণ। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল, এলপিজি, এলএনজি সংকট তীব্রতর হবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেল, এলপিজি, এলএনজি সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব রাজনীতির এক অস্থির অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। এখানকার সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথকে বদলে দিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের কালো ধোঁয়া সারা বিশ্বকে আবার ভাবিয়ে তুলেছে। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি রূপে ছড়াতে থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার মতো দূরবর্তী অঞ্চলেও এর বহুমাত্রিক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ সরাসরি এই যুদ্ধের অংশ নয়; তবুও অর্থনৈতিক দিক থেকে বেশ কিছু ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাবও পড়তে পারে দীর্ঘমেয়াদি। প্রত্যক্ষ প্রভাবের চেয়ে যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে আরও বেশি। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এ যুদ্ধ। তদুপরি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা ও ইরানের পাল্টা হামলায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে মধ্যপ্রাচ্যের কর্মসংস্থান। কমতে পারে রেমিট্যান্স প্রবাহ। এ যুদ্ধে তেল সরবরাহ সংকটে পড়বে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে পুরো জ্বালানি খাতে নেমে আসবে বিপর্যয়। রাশিয়া ও চীন এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জানা যাচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইল প্রাণঘাতী হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে খোদ আমেরিকাও। গত সপ্তাহজুড়ে নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং শিকাগোসহ অন্তত ৫০টি প্রধান শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এই যুদ্ধের অবসান দাবি করেছেন। বিক্ষোভকারীরা ‘ইরান থেকে হাত সরাও’ এবং ‘মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধ নয়’ সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধবাজ নীতির তীব্র নিন্দা জানান। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত ইউনিয়ন স্কয়ারে সমবেত কয়েকশ বিক্ষোভকারী স্লোগান দেন যে, বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বড় হুমকি হলো ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রশাসন। তারা দাবি করেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকা যুদ্ধের পেছনে ব্যয় না করে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হোক। নিউইয়র্কে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মায়া নামের এক আন্দোলনকারী সিনহুয়াকে বলেন, এটি একটি অন্যায় যুদ্ধ এবং মূলত অন্য একটি দেশের ভূখণ্ড দখল ও সম্পদ লুটপাটের উদ্দেশ্যে এই ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের চক্রান্ত করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, যখন আমেরিকার সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন এই যুদ্ধের পেছনে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে।

একই চিত্র দেখা গেছে লস অ্যাঞ্জেলেসেও, যেখানে সিটি হলের সামনে কয়েকশ মানুষ ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে সমবেত হন। সেখানে বিক্ষোভকারীরা ‘ইরানে বোমাবর্ষণ একটি অপরাধ’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের এক বিক্ষোভকারী বলেন, এ যুদ্ধ মূলত ‘এপস্টাইন ফাইল’ থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই শুরু করা হয়েছে এবং এতে অকারণে অগণিত বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ এমন একটি মাত্রায় পৌঁছেছে যা আর অগ্রসর হতে দেয়া উচিত নয়। তাই অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘ, চীন, রাশিয়াসহ বিশ্বের শক্তিধর সকল রাষ্ট্রকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ যুদ্ধ কখনো শুভ ফল বা শান্তি বয়ে আনে না। এর ফল ভোগ করতে হয় বিভিন্ন দেশকে। আরও বেশি কঠিন পরিস্থিতি দেখার আগেই যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয় ভাবা জরুরী।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।