গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অনেকটা কাকতালীয়ভাবেই ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে মার্কিন-ইসরাইল যৌথ হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীকে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ হত্যা করেছে। যৌথবাহিনীর উপর্যুপরি হামলায় এ পর্যন্ত ইরানের সহস্রাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু যুদ্ধ বন্ধের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বরং যতই দিন যাচ্ছে ততই চলমান যুদ্ধের বিস্তৃতি ঘটছে।

ইসরাইলী ও মার্কিন নেতারা জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক লড়াই আরও কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটা কোনো সমস্যাই নয়, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা দীর্ঘ সময়ের যুদ্ধ চালানোর মতোই শক্তিশালী। তবে ইসরাইলের জন্য পরিস্থিতি ভিন্ন। গাজায় গণহত্যা চালানোর পর বিশাল খরচ, লেবানন ও সিরিয়ায় যুদ্ধ বা আক্রমণ ও ইরানের সঙ্গে আগের ধাপের সংঘাত, সব মিলিয়ে দেশটি এরই মধ্যে বেশ ক্লান্ত। ফলে দীর্ঘ যুদ্ধ ইসরাইলের জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।

সম্প্রতি ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে ইসরাইল এখন টানা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হচ্ছে। এতে দেশজুড়ে বারবার সতর্কতা সাইরেন বেজে উঠছে, স্কুল বন্ধ করা হচ্ছে ও লাখ লাখ রিজার্ভ সৈন্যকে ডেকে নেওয়া হয়েছে। হাইফা ও তেল আবিবের মতো শহরগুলো ধারাবাহিক হামলার মুখে পড়ছে। যে ইসরাইলী জনগণ আগে অন্যদের ওপর বড় আকারের যুদ্ধ চাপিয়ে দিত, তারা নিজেরা এমন মাত্রার যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় অভ্যস্ত নয়। তাই গত কয়েকদিন ধরে তাদেরকে বারবার বাঙ্কারে ছুটতে হচ্ছে। অধিকাংশ বড় শহরের ইসরাইলীরা রীতিমত এ যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা এ ধ্বংসাত্মক ও প্রাণঘাতী যুদ্ধের পক্ষে নন। তারা এ যুদ্ধকে মার্কিনী উস্কানির ফাঁদে পা দেওয়া বলেই মনে করছেন। যা নেতানিয়াহু সরকারকে অনেকটা ব্যাকফুটেই ফেলে দিয়েছে।

তবে কোন কোন বিশ্লেষক ভিন্নমতও পোষণ করছেন। ইসরাইলী রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ শির হেভার বলেন, যুদ্ধ শুরু হতেই দেশজুড়ে সামরিকতা উম্মাদনার ঝড় বয়ে গেছে। তিনি বলেন, এটি জুন ২০২৫ এর ১২ দিনের যুদ্ধের মতো নয়। তখন দেশজুড়ে আতঙ্ক ছিল যে ইরান ইসরাইলকে ধ্বংস করে দেবে। সমালোচকরা বলছেন, যুদ্ধ ‘সংক্ষিপ্ত’ রাখতে হবে, যাতে ইসরাইল চাইলে যুদ্ধের সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারে। এদিকে অনেকে যুদ্ধে সমর্থনকে ইসরাইলী সমাজের ‘উগ্রবাদের’ অংশ হিসেবে দেখছেন। আগে যেসব অতি ডানপন্থি রাজনীতিক প্রান্তিক ছিলেন, তারা এখন সরকারের কেন্দ্রীয় জায়গা দখল করেছেন। রাজনৈতিক মেরুকরণ ও অর্থনৈতিক চাপ তরুণদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা বাড়িয়ে তুলছে। যারা দেশে রয়েছেন, তারা বহু বছর ধরেই ‘ইরান হলো মূল শত্রু’ এ ভাবনায় শাসিত। আরও কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধ এ সমাজকে আরও বেশি সামরিক মনোভাবাপন্ন করে তুলতে পারে।

তেল-আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ড্যানিয়েল বার-তাল বলেন, এটি অনেকটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যের ব্লিটজের মতো। তখন ব্রিটিশরা নিজেদের ‘চূড়ান্ত অশুভর’ বিরুদ্ধে যুদ্ধরত মনে করে বোমাবর্ষণ সহ্য করেছিল। ইসরাইলীরাও ঠিক সে অনুভূতিতেই আছে। ছোটবেলা থেকেই আমাদের শেখানো হয়- ইরান অশুভ। কিন্ডারগার্টেন থেকে শুরু করে হাইস্কুল, সেনাবাহিনী, সব জায়গাতেই এই বার্তা দৃঢ়ভাবে শেখানো হয়।

শুধু সামাজিক প্রভাব নয়, যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে জায়নবাদীদের সামরিক হিসাব-নিকাশও বড় প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। ইরানের মতো সামরিক শক্তিধর দেশের বিরুদ্ধে বর্তমান মাত্রার যুদ্ধ কতদিন ধরে রাখতে পারবে তা ইসরাইলের ওপর নির্ভর করছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো মিত্রদের সহায়তা, আর অন্যদিকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্লান্ত হওয়ার আগেই ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্লান্ত হয় কি না, বলছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হামজা আত্তার। তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, যুদ্ধের প্রথম তিন দিনে ইরান ইসরাইলের দিকে ২০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। মূলত, ১২ দিনের যুদ্ধে তারা মোট ৫শ ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছিল। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইসরাইলকে একটি প্রতিরক্ষা রকেট ছুড়তে হয়। এটি ইসরাইলের সামর্থ্যের চেয়েও বেশি। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য না করলে এখন পর্যন্ত ইসরাইল আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ হারাতো।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইসরাইলের তিন ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, আয়রন ডোম (স্বল্প-পাল্লার রকেট প্রতিহত করতে), ডেভিড’স স্লিং (মাঝারি-পাল্লার রকেট ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে), অ্যারো ২ ও অ্যারো ৩ (ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে)। ইসরাইল কখনোই জানায় না তাদের কাছে কত সংখ্যক ইন্টারসেপ্টরের মজুত আছে। তবে ১২ দিনের যুদ্ধে দেশটি ইন্টারসেপ্টর স্বল্পতায় পড়েছিল। এর মানে, দীর্ঘ যুদ্ধ হলে একই মাত্রার প্রতিরক্ষা বজায় রাখা কঠিন হয়ে যাবে তাদের জন্য। তখন ইসরাইলের ইন্টারসেপ্টর রেশনিং করতে হবে, সামরিক ও রাজনৈতিক স্থাপনা রক্ষায় অগ্রাধিকার দিতে হবে। এতে বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি বাড়বে।

ইসরাইলী ও মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে আত্তার বলেন, ইরান ২০২৫ সালের জুনের যুদ্ধের পর থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে। অর্থাৎ তেহরানের বড় ধরনের মজুত এরই মধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। তবে আত্তার মনে করেন, ইরানের সামর্থ্য শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা দিয়ে মাপা যায় না। তার ভাষায়, ‘কী ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের কাছে আছে, তা আমরা জানি না। দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র গ্রিস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, মাঝারি-পাল্লারগুলো ইসরাইলকে আঘাত করতে পারে, আর স্বল্প-পাল্লারগুলো উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্যবস্তু করতে পারে’। তিনি বলেন, ১২ দিনের যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে কত ক্ষেপণাস্ত্র ছিল কতটা ধ্বংস হয়েছে, তাদের কতটি লঞ্চার আছে এসবও অজানা। লঞ্চার না থাকলে হাজার ক্ষেপণাস্ত্র থাকলেও তা কাজে লাগে না। এটি অনেকটা রাইফেল ছাড়া গুলি থাকার মতো।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইসরাইলের অর্থনৈতিক টানাপড়েন চরমে উঠেছে। প্রায় দু’বছরের টানা যুদ্ধে ইসরাইলের জাতীয় অর্থনীতি নাজুক হয়ে পড়েছে। গোলাবারুদের ব্যয় বেড়েছে, লাখ লাখ রিজার্ভ সদস্যকে দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন রাখতে হচ্ছে, যা পরিকল্পনার তুলনায় অনেক বেশি। ২০২৪ সালে লেবানন ও গাজার যুদ্ধে ইসরাইলের ব্যয় দাঁড়ায় ৩১ বিলিয়ন বা ৩১ হাজার ডলার, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ঘাটতি তৈরি করে। ২০২৫ সালের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এ ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫ বিলিয়ন বা ৫৫ হাজার ডলার।

অর্থনীতির ওপর চাপের কারণে ২০২৪ সালে বিশ্বের তিন প্রধান ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ইসরাইলের সার্বভৌম রেটিং কমিয়ে দেয়। শির হেভার বলেন, ইসরাইল এখন ঋণ সংকট, জ্বালানি সংকট, পরিবহন সংকট, স্বাস্থ্যসেবা সংকট- সবকিছু মিলিয়ে জর্জরিত। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, অর্থনৈতিক সংকট যুদ্ধ থামানোর কারণ নয়, এটি অর্থনীতির নয়, প্রযুক্তির প্রশ্ন। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরাইলকে এমনসব অত্যাধুনিক অস্ত্র দিতে পারে- যেগুলো সয়ংক্রিয়ভাবে কাছের কিংবা দূরের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারবে ও ইসরাইলি সেনাদের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়, তাহলে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট ইসরাইলের আগ্রাসন থামাতে পারবে না।

তবে যত কথাই বলা হোক না কেন চলমান যুদ্ধে জায়নবাদী ইসরাইল খুব একটি সুবিধাজনক অবস্থানে নেই বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বোদ্ধামহল। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইসরাইলের জন্য টিকে থাকা সম্ভব হবে না বলেই মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। এদিকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎও রীতিমত ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইরানে হামলার পর এমনটাই বলছেন যুদ্ধ বিষয়ক বিশ্লেষকরা। ইসরাইলে নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে। এ সময় ইরানের সাথে যুদ্ধ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে একটি সুযোগ দিয়েছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ যুদ্ধ থেকে তিনি রাজনৈতিকভাবে কতটা লাভবান হবেন তা নির্ভর করবে সংঘাতটি কীভাবে অগ্রসর হয় এবং কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপর।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার একদিন পর নেতানিয়াহু বলেন, ওয়াশিংটনের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই ইসরাইল ‘সন্ত্রাসী শাসনকে সিদ্ধান্তমূলকভাবে আঘাত করতে ৪০ বছর ধরে যা করতে চেয়েছি, তা করতে পেরেছি।’ সমালোচকদের অভিযোগ, ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দিনের হামলা ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতার দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।

৭৬ বছর বয়সী ডানপন্থী লিকুদ পার্টির নেতা নেতানিয়াহু ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন মেয়াদ মিলিয়ে ১৮ বছরেরও বেশি সময় ক্ষমতায় তিনি। রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য পরিচিত নেতানিয়াহু গত গ্রীষ্ম থেকে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই ক্ষমতায় আছেন। কারণ, তার অতিরক্ষণশীল ধর্মীয় মিত্রদের সাথে সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন। তিনি প্রেসিডেন্টের ক্ষমা পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের ওপর তাকে ক্ষমা করার জন্য চাপ দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৭ অক্টোবরের মধ্যে ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচন হতে হবে।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইমানুয়েল নাভনের মতে, নেতানিয়াহু আগাম নির্বাচন ডাকতে পারেন। তার ভাষায়, ‘এটা স্পষ্ট। তিনি অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। বিশেষ করে ৭ অক্টোবরের হামলার বার্ষিকী সামনে থাকায়। গাজা হামলার পর নেতানিয়াহু একেবারে তলানিতে নেমে গিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’ জনমত জরিপ অনুযায়ী, যদি এখন নির্বাচন হয় তবে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি এগিয়ে থাকবে। তাতে সম্ভবত তাকে আবার সরকার গঠনের দায়িত্ব দেয়া হবে, যদিও বর্তমান মিত্রদের নিয়ে তার এখনো সংসদে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে বড় কোনো সামরিক বিজয় হলে সেই হিসাব বদলে যেতে পারে।

নিরপেক্ষ ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক মাইকেল হোরোভিৎস বলেন, এ আক্রমণ নিঃসন্দেহে সে ভাবমূর্তিকে শক্তিশালী করছে, যা নেতানিয়াহু তৈরি করতে চান। তার ‘পূর্ণ বিজয়’ স্লোগানের সাথে সম্পর্কিত ভাবমূর্তি। তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহু দেখাতে চান যে এটি শুধু নির্বাচনী স্লোগান নয়, বরং বাস্তবতা। এটি তার জাতীয় কর্মসূচি এবং নির্বাচনী কৌশল। চ্যানেল ১৩ টেলিভিশনের প্রখ্যাত সাংবাদিক রাভিভ দ্রুকার বলেন, নেতানিয়াহু মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন যে বিজয় সম্পূর্ণ হয়েছে, যদিও সেটি বাস্তবে ভ্রম হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, হামাস এখনও গাজা পরিচালনা করছে, আর শনিবারের হামলার পরও ইরান এখনও ইরানই রয়ে গেছে। কিন্তু মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে জায়নবাদী নেতা নেতানিয়াহু।

জনপ্রিয় সংবাদ ওয়েবসাইট ওয়ালায় সাংবাদিক উরিয়েল ডেস্কাল আরও এগিয়ে গিয়ে বলেন, নেতানিয়াহু হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে এ সংঘাতের সময় নির্বাচন করছেন, যাতে জরুরি অবস্থার কারণে ৩০ মার্চের বাজেট পাসের সময়সীমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পিছিয়ে যায়, যেখানে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হচ্ছিল। যদি বাজেট পাস না হয়, তাহলে ১ এপ্রিল সরকার ভেঙে যাবে এবং নির্বাচন ঘোষণা করতে হবে। সে পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু দুর্বল অবস্থান থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে বাধ্য হতেন। কিন্তু নাভনের মতে, যদি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এ যুদ্ধ ইসরাইলের জন্য সফল হয়, তাহলে তা নেতানিয়াহুর জন্য একটি রাজনৈতিক বিজয় হবে। তবে যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন হোরোভিৎস। তার মতে, বহু হতাহতের দীর্ঘ যুদ্ধ এবং উচ্চ জীবনযাত্রার খরচ-এ দু’য়ের প্রতি জনসাধারণের সহনশীলতা খুবই কম। তাই নেতানিয়াহু খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে নেই।

সার্বিক দিক বিবেচনায় মনে হচ্ছে, চলমান যুদ্ধে নেতানিয়াহু ও জানয়নবাদী কথিত রাষ্ট্র ইসরাইল খুব একটা স্বস্তিদায়ক অবস্থানে নেই বরং জটিল সমীকরণের মধ্য দিয়েই অগ্রসর হচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুর্বল ও ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে ইসরাইলীদের পক্ষে দীর্ঘ মেয়াদে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আর সাধারণ ইসরাইলীদের যুদ্ধ বিরোধী মনোভাবের কারণে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তাও বেশ তলানীতে। তাই এর শেষ পরিণতি দেখার জন্য বিশ্ববাসীকে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে নেতানিয়াহু ও কথিত রাষ্ট্র ইসরাইল খুব একটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় নেই তা নিশ্চিত করে বলা যায়। hvq|

www.syedmasud.com