আসিফ আরসালান
অবশেষে সুদীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষা, ত্যাগ ও তিতিক্ষার পর জনগণের নির্বাচিত জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন বসলো গত ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার। প্রথম দিনের প্রথম অধিবেশন, কিন্তু সেটি ছিলো অত্যন্ত ঘটনাবহুল। এটি ছিলো বহু প্রত্যাশিত, কিন্তু এক ফ্যাসিস্টের দোসরের উপস্থিতি ও বক্তব্য এ পবিত্র সংসদকে কিছুটা হলেও কলঙ্কিত করেছে। এ সংসদে জামায়াতের আমীর ড. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির প্রেসিডেন্ট নাহিদ ইসলামের বক্তৃতা টেলিভিশনের সামনে বসা লক্ষ লক্ষ মানুষকে আবেগে আপ্লুত করেছে। আবার এ সংসদের প্রথম তথা উদ্বোধনী অধিবেশন বিরোধী দলের ওয়াক আউটের মাধ্যমে প্রতিবাদে জ¦লে উঠেছে।
গত জুলাই বিপ্লবের পর ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারের সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করায় এবং ডেপুটি স্পিকার বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত হয়ে জেলখানায় থাকায় নতুন সংসদ ছিলো স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শূন্য। তাই সর্বাগ্রে প্রবীণ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেনকে উদ্বোধীন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে হয়। তার সভাপতিত্বেই স্পিকার নির্বাচিত হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর হাফিজ উদ্দিন এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন বিএনপিদলীয় আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্টে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণের রেওয়াজ রয়েছে। গত ১২ মার্চ বাংলাদেশের নবগঠিত পার্লামেন্টেও বেগম খালেদা জিয়া, ভারতের পরলোকগত প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও ইহুদি মার্কিন হামলায় শহীদ ইরানী সুপ্রীম লিডার আলী খামেনিসহ ৩১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। এ ছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরীসহ ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের শোক প্রস্তাব আনা হয়। এ সময় চিফ হুইপ বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের নাম শোক প্রস্তাবে আনার কথা বলেন।
পরে বিরোধীদলীয় উপনেতা জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, শোক প্রস্তাবটি একপেশে। তিনি মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, শরিফ ওসমান হাদিসহ বিভিন্ন নেতাদের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন। স্পিকার বলেন, নামগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। স্পীকারের এ ঘোষণার পর যুদ্ধাপরাধী হিসাবে হাসিনার দেয়া মিথ্যা কলঙ্ক অতঃপর তাদের নাম থেকে ঘুচে গেলো।
উদ্বোধনী অধিবেশনে সবচেয়ে যে বিষয়টি সুধী মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে সেটি হলো, নব গঠিত সংসদে প্রেসিডেন্টের ভাষণ। জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করার পরপরই বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। এ সময় তাদের হাতে ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ লেখাসংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
প্রেসিডেন্ট তারপর দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেয়ার সময়েও অধিবেশনে হট্টগোল চালাতে থাকেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। প্রেসিডেন্ট ভাষণ দিতে দাঁড়ালে তখন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনি রাষ্ট্রের অভিভাবক ছিলেন। কিন্তু আপনি সেই অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। আপনি ফ্যাসিবাদের দোসরের ভূমিকা পালন করেছেন। অন্য সংসদ সদস্যরা ‘গেট আউট, গেট আউট’ বলে স্লোগান দেন। এ সময় কিছু সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিরোধী দলের সদস্যরা ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘স্বৈরাচারের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ফ্যাসিবাদ আর গণতন্ত্র, একসাথে চলে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ শুরু করেন। তখন বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারি দলের সদস্যদের দিকে তাকিয়ে ‘লজ্জা লজ্জা’ বলে বিদ্রƒপ করেন। রাষ্ট্রপ্রধান বক্তব্য শুরু করার পর তারা ওয়াকআউট করেন।
সেদিন সংসদে প্রেসিডেন্টকে নিয়ে যেসব ঘটনা ঘটে সেগুলোকে নাটক বললে অত্ত্যুক্তি হবে না। সরকার গঠনের পরেই বিএনপি প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে আড়াল থেকে বের করে আনে। তারপর দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। যে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সারা জীবন জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে এসেছেন সে তিনি এ সরকারের আমলে এখন বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলছেন। অথচ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু একজন অর্ডিনারি আওয়ামী লীগার নন। তিনি পাবনায় ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগ করে এসেছেন। অতঃপর করেছেন যুবলীগ। তারপর আওয়ামী লীগ। তিনি শেখ মুজিবের ফ্যানাটিক অনুসারী।
১৯৭৫ সালের অগাস্ট মাসে মুজিব সরকারের মর্মান্তিক পতনের পর কাদের সিদ্দিকী তার কতিপয় অনুসারীদেরকে নিয়ে ভারতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি তৎকালীন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জীর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং বলেন যে, মুজিব হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্যই তিনি ভারত এসেছেন। প্রণব মুখার্জি তাকে অতি সীমিত সমর্থন দেন। তাকে ভারতে আশ্রয় দেন এবং তার অনুসারীদেরকে কিছু অস্ত্র দেন। এ অনুসারীদের মধ্যে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুও ছিলেন। কিন্তু কাদের সিদ্দিকী ভুলে গিয়েছিলেন যে, ১৯৭৫-এর অগাস্ট মাস ১৯৭১ এর মার্চ মাস নয়। কাদের সিদ্দিকীর অনুসারীরা ভারতীয় অস্ত্র হাতে বাংলাদেশের সীমান্তে এ্যাম্বুশ করে। এসব এ্যাম্বুশে তার বেশ কয়েকজন সাথী মারা যান। এর মধ্যে একজন হলেন বগুড়ার খসরু। কাদের সিদ্দিকীর মিশন ব্যর্থ হয় এবং পরবর্তীতে সদলবলে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
সেই সাহাবুদ্দিন চুপ্পু , যিনি সারাজীবন শেখ মুজিব আওয়ামী লীগ ও জয়বাংলার গুণগান গেয়েছেন, তিনি ১২ মার্চ ’২৬ জাতীয় সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন যে, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদদের স্মরণে নেয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরেন। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্ট চুপ্পুর সংসদে প্রবেশ এবং তার ভাষণ দানের প্রতিবাদে বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্য ওয়াক আউট করেন। ওয়াক আউটের সপক্ষে আমীরে জামায়াত ড. শফিকুর রহমান বলেন, ৩টি কারণে তারা প্রেসিডেন্টের ভাষণ বর্জন করেছেন। তিনি বলেন, তিনটি নির্দিষ্ট কারণে তারা প্রেসিডেন্টের বক্তব্য শুনতে চাননি এবং এর প্রতিবাদেই সংসদ থেকে বের হয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই ৩টি কারণ ব্যাখা করেন।
জামায়াত আমীর বলেন, ‘এ সংসদ শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তবে আমাদের অনুরোধ ছিলো, যারা অতীতের “ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর” ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন, তাদের যেন সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেয়া হয়।’ তিনি অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট তিনটি কারণে ‘অপরাধী’, তাই তার বক্তব্য শুনতে চাননি বিরোধী দলের সদস্যরা।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করেননি এবং কোনো ব্যবস্থা নেননি। এতে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে নাগরিকদের প্রতি গুরুতর দায়িত্বহীনতা দেখানো হয়েছে।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমীর বলেন, ‘তখন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু পরে দুটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তা অস্বীকার করে ভিন্ন বক্তব্য দেন। এতে তিনি জাতির সামনে “মিথ্যাবাদী” হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর জারি করা একটি অধ্যাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদ সদস্য ও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে একই দিনে শপথ নেয়ার কথা ছিল। আমরা দুটি শপথ নিলেও সরকারি দল তা নেয়নি এবং গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দায়িত্বও প্রেসিডেন্ট পালন করেননি।’
এ বিষয়ে গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে প্রেসিডেন্ট জনগণের রায়কে অপমান করেছেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা জানান প্রেসিডেন্ট বক্তব্যের আগে তারা সরকারি দল ও স্পিকারের কাছে অনুরোধ করেছিলেন যেন তাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ না দেয়া হয়। কিন্তু সে অনুরোধ গ্রহণ করা হয়নি।
‘এর প্রতিবাদেই আমরা সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছি,’ যোগ করেন তিনি।
উদ্বোধনী অধিবেশনে এনসিপির প্রেসিডেন্ট নাহিদ ইসলাম এক গভীর আবেগ আপ্লুত ভাষণ দেন। তিনি যখন এ লিখিত ভাষণটি পড়ছিলেন তখন বিরোধী দল তো বটেই, সরকারি দলেরও অসংখ্য সদস্যকে গভীর স্তব্ধতার সাথে তার বক্তব্য শুনতে দেখা যায়।
নাহিদ ইসলামের এই হৃদয় ছোঁয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি আমার সেই ভাই বোনদের যারা নিজের বুক বুলেটের সামনে উন্মুক্ত করে দিয়ে আমাদের আবারো স্বাধীন করে নিজেরা স্মৃতি হয়ে গিয়েছে। আমরা তাদের শাহাদাত কবুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। এ আন্দোলনে নিজেদেরকে কুরবানি দিয়েছেন ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংস্কৃতিক কর্মী, আলেম সমাজ, তরুণ সেনা অফিসার আরও সৈনিকগণ ও প্রবাসী বাংলাদেশী ভাই ও বোনেরা। অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে আমাদের নারী সমাজ। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে ও নির্যাতিত হয়েছে। আন্দোলনে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মাদরাসা ও স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। নাহিদ ইসলাম আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে বলেন, স্মরণ করছি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদ, শাপলা হত্যাকাণ্ডের শহীদ, মোদি বিরোধী হত্যাকাণ্ডের শহীদ, ফ্যাসিস্ট আমলে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করছি। স্মরণ করছি শহীদ ওসমান হাদিকে। স্মরণ করছি বুয়েটের মেধাবী ছাত্র শহীদ আবরারকে, স্মরণ করছি ভারতীয় প্রভুত্বের স্বীকার শহীদ ফেলানী খাতুনকে। তিনি বলেন, ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে মাঠের নেতৃত্বের একেবারে সামনে থাকার কারণে আজকের দিনটি আমার জন্য একই সাথে আবেগের, কষ্টের ও আনন্দের। আমাদের সংগ্রামের সাথী শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ ওয়াসিবসহ চার বছরের শিশু আহাদ, ছয় বছরের শিশু রিয়াগোপ সহ প্রায় ১৫০ শিশু শহীদ হয়েছে। মাননীয় স্পিকার, পুলিশের এপিসি থেকে ফেলে দেওয়া শহীদ ইয়ামিন, সাভারের আশুলিয়ায় ভ্যানের উপরে জীবন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়িয়ে মারা কিশোর শহীদ সজল সহ অগণিত মানুষের স্মৃতি আমাকে প্রচণ্ডভাবে নাড়া দিচ্ছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাকে নাড়া দিচ্ছে শহীদ আনাস। আনাস বলেছিলেন, ৭ বছরের ল্যাঙড়া বাচ্চা যদি ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে গুলি খেয়ে বীরের মৃত্যুবরণ করে তাহলে সে কেনো ঘরে থাকবে?
আমার আজকের কলামে আমীরে জামায়াত এবং নাহিদ ইসলামের দীর্ঘ বক্তব্যের উদ্ধৃতি এজন্যই দিলাম যে, জাতীয় সংসদ, যেটি সর্বোচ্চ ক্ষমতার পাদপীঠ, সেখানে প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারি দলের সদস্যরা উপস্থিত, সেখানে তাদের সামনে নির্ভীকভাবে কতগুলো অপ্রিয় সত্য উচ্চারণ করেছেন তিনি। এসব সত্য কথা তারা তখন বলেছেন যখন বিএনপির মধ্যে জুলাই বিপ্লব এবং জুলাই সনদকে পেছনের আসনে ঠেলে দেওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে স্মরণ করতে হয় জামায়াতের আমীরের একটি কঠোর উক্তি। তিনি বলেছেন, যদি জীবন দিতে হয় তাও দেবো, কিন্তু জুলাই বিপ্লবকে হারিয়ে যেতে দেবো না।
জাতীয় সংসদের অধিবেশন মুলতবি হয়ে গেছে। সোমবার ১৬ মার্চ আবার অধিবেশন শুরু হবে। আর শুরু হওয়ার পর আসবে সেই কঠিন প্রশ্ন। সেটি হলো: বর্তমানের মুজিববাদী সংবিধান? নাকি অনেক রক্তঝরা জুলাই বিপ্লব এবং সেই বিপ্লবের রক্তে লেখা জুলাই সনদ? ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকেই এর চূড়ান্ত ফয়সালা করতে হবে।