মুহাম্মদ আবুল হুসাইন

নির্বাচনের সময় মানুষকে বিভ্রান্ত করা সেকুলার ও বাম রাজনীতির একটি অন্যতম কৌশল। বিএনপি যেহেতু ভারতকে খুশি করার জন্য ডানপন্থী রাজনীতি থেকে বামপন্থী সেকুলার ধারা অবস্থান নিয়েছে সে কারণে এই দলটি এখন তাদের নির্বাচনের কৌশলের অংশ হিসেবে জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত উদ্ভট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করে জনমতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। প্রথমেই শুরু হয়েছিল জান্নাতের টিকিট বিক্রির কাল্পনিক অভিযোগ দিয়ে। অভিযোগে বলা হয় জামায়াত নেতারা নাকি বলছেন দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন সমাবেশে বলে বেড়িয়েছেন- ‘বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে একটি দল। কিন্তু এমন উদ্ভট কথা মানুষ কানে তোলেনি। কারণ তারেক রহমান এই উদ্ভট অভিযোগের স্বপক্ষে কোন প্রমাণ দিতে পারেননি। জামায়াতের কোন নেতা কবে কখন কোথায় এই কথা বলেছেন তা তিনি কখনো উল্লেখ করতে পারেননি। কোন ধরনের তথ্য প্রমাণ ছাড়াই তিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উত্থাপন করে যাচ্ছিলেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তিনি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করতে পারতেন কিন্তু সেটা তিনি করেননি। তাছাড়া জামায়াতের কোন নেতা যদি এ ধরনের কোন বক্তব্য দিয়ে থাকেন তাহলে তো এই মিডিয়ার যুগে অবশ্যই তারা সেই সব ভিডিও জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারতেন। তাও তারা করতে পারেননি। বরং আমরা বহু বিএনপি নেতাকে দেখেছি এই ধরনের উদ্ভট কথা বলতে বিএনপির কোন কোন নেতাকে ধানের শীষে বলতে দেখেছি যে, ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে। আসলে এটা ছিল বিএনপি’র একটা নির্বাচনী কৌশল। ফ্যামিলি কার্ডের মত এটাও তারেক রহমানের আরেকটা প্ল্যান। এসব প্ল্যান তিনি সাথে করে নিয়ে এসেছেন। এসব প্ল্যানের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতারণা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা। আসলে এর মাধ্যমে তারা জান্নাতকে খুব হালকা ভাবে উপস্থাপন করছে। এটা এক ধরনের তামাশার মত। মানুষ কীভাবে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে পারে? মানুষ কি জান্নাতের মালিক? জান্নাতের মালিক তো আল্লাহ। আল্লাহ কি কোন মানুষের কাছে জান্নাতের টিকিট দিয়েছেন? এটা কি কোন বিশ্বাসযোগ্য কথা? মানুষ কি এখন এতই বোকা? তারেক সাহেব বাংলাদেশের মানুষ সম্পর্কে কি ধারণা পোষণ করেন? আরেকটি জঘন্য মিথ্যাচার ছিল জামায়াতের মহিলারা নাকি বাড়ি বাড়ি যেয়ে ভোটারদের এন আইডি কার্ড আর বিকাশের নাম্বার সংগ্রহ করেছে। কিন্তু এসবের পক্ষেও কোনো প্রমাণ তারা কখনোই দেখাতে পারেনি। এনআইডি কার্ড আর বিকাশ নাম্বার দিয়ে জামায়াত কী করবে? জামায়াতের মহিলা বিভাগের সদস্যরা বাড়ি বাড়ি যেয়ে মানুষের কাছে ভোট চাচ্ছেন। এটা তাদের রাজনৈতিক অধিকার। কিন্তু এটা তারেক রহমানদের সহ্য হচ্ছে না। তারাও বাড়ি বাড়ি যাক। ভোট চাক। কিন্তু সেটা তারা করবে না। জনগণের মুখোমুখি হাওয়া তাদের পছন্দ না। তাদের পছন্দ হলো মানুষকে বিভ্রান্ত করা। মিথ্যাচার করা। এই মিথ্যাচার ও প্রতারণার উপর ভর করেই তারা নির্বাচনে জয়ী হতে চায়। জনগণের কাছে বলার মতো ইতিবাচক কোন কিছু তাদের কাছে নেই। বিশেষ করে গত দেড় বছরে তারা যা করেছে এবং এখনো করছে তার কারণে তাদের জনসমর্থনের পারদ ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে নামছে। চাঁদাবাজি, মামলাবাজি, দখলবাজির কারণে তাদের যে ভাবমর্যাদা তৈরি হয়েছে সেটা নিয়ে জনগণের সামনে তারা যেতে পারছে না। এ কারণে তারা নিজেদের কুৎসিত রূপকে আড়াল করার চেষ্টা করছে জামায়াতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার মাধ্যমে। কিন্তু এতসব করেও হালে পানি পাচ্ছে না। যার কারণে এখন দলটি একেবারে দিশেহারা হয়ে মারমুখি হয়ে পড়েছে। তারা জামায়াত ও এনসিপির উপরে হামলা শুরু করেছে। এমনকি জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপরও হামলা করতে দ্বিধা করছে না। সামাজিক মাধ্যমে মধ্যে বেশ কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা গেছে যে তারা কিভাবে নারীদের অসম্মান ও অপদস্ত করেছে নারীদের গায়ে হাত তুলেছে লাথি মেরেছে হিজাব নিক টেনে খুলে ফেলেছে। গাজীপুরে তো ছাত্রদলের এক নেতা পাওনা টাকা চাওয়ার কারণে এক নারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে হত্যা করার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটিয়ছে। নারীদের প্রতি তাদের এই মারমুখী হওয়ার কারণ কী। তাহলে কি তারা চায় নারীরা ভোটকেন্দ্রে না যাক? এটা অবশ্যই হতে পারে। কারণ নারীরা জামায়াত-শিবিরের দিকে ব্যাপকভাবে ঝুঁকে পড়েছে। গত পাঁচটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবিরের ব্যাপক বিজয়ের পেছনে রয়েছেন নারী শিক্ষার্থীদের সমর্থন। কারণ জামায়াত-শিবির নারীদের উচ্চ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পক্ষে। জামায়াত আমীর তো কর্মক্ষেত্রে তো নারীদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের কথা ঘোষণা করেছেন।

এসব কারণে জামায়াত নারীদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। সে কারণে নারীরা ভোট দিতে যাক এটা সম্ভবত বিএনপি চায় না যার কারণে তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নারীদের উপর সহিংসতা চালাচ্ছে তাদেরকে ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলার চেষ্টা করছে। কিন্তু এতসব করেও তারেক রহমান স্বস্তি পাচ্ছেন না তিনি এখন সবচেয়ে নোংরা খেলায় নেমেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো জামায়াত আমীরের এক্স একাউন্ট হ্যাক করা। ধারণা করা হয় এই হ্যাকারদের সাথে তারেক রহমানের এবং তার মিডিয়া সেল এর যোগসূত্র রয়েছে। কারণ জামায়াত আমীরের একাউন্ট হ্যাক পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রদল ও তারেক রহমান জামায়াত আমীরের বিরুদ্ধে ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে প্রচারণায় নেমেছেন। আমীরে জামায়াতের একাউন্ট হ্যাক করার পর হ্যাকাররা যে অশ্লীল ও জঘন্য নারী বিরোধী পোস্ট দিয়েছিল তারেক রহমান সেই পোস্টকে ব্যবহার করে, সেই পোস্টের ভাষা ব্যবহার করে জামায়াত আমীরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। অথচ জামায়াতের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ডকুমেন্টসহ হ্যাক হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরার পরও বিএনপি নোংরা রাজনীতি করে যাচ্ছে। কারণ একটি দল যখন আদর্শিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে যায় তখন তাদের এসব নোংরামির উপরে ভর করে চলতে হয়। বিগত ছাত্র সংসদ নির্বাচন গুলোকে আমরা দেখেছি শিবির যেভাবে ইতিবাচ ক ও সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রচারণা চালিয়ে শিক্ষার্থীদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিল ছাত্রদল সেটা করতে পারেনি। একইভাবে জামায়াত পলিসি সামিট, ব্যাপক গণসংযোগ, প্রচার পত্র বিলি, নির্বাচনী গান ও বিশাল বিশাল জনসভা করে গঠনমুখী ও ইতিবাচক পদ্ধতিতে যেভাবে তাদের আদর্শকে যুক্তিগ্রাহ্য ভাবে তুলে ধরতে পারছে সেটা বিএনপি পারছে না। যার কারণে জামায়াত গঞ্জ যোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে। আসলে আদর্শকে যৌক্তিক রাজ্য ভাবে আকর্ষণীয় করে তুলে ধরার এই কাজ জামায়াত সব সময় করে আসছে এমনকি ফেসি বা হাসিনার সময় জামায়াত তার আদর্শের প্রচারণা বন্ধ রাখেনি বিশেষ করে ৫ ই আগস্টের পর জামায়াতের ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী রাজনীতি নির্বাচনমুখী কর্মকান্ড আরো ব্যাপক মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। যার কারণে জামায়াতের জনপ্রিয়তার পারদ ছিল উর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে পাঁচ আগস্টের পর গর্তে লুকিয়ে থাকা বিএনপি ব্যস্ত ছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দখলদারিসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। যার কারণে তাদের জনপ্রিয়তা দিন দিনই কমেছে। সাম্প্রতিক টিআইবির এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয় গত ১৭ মাসের রাজনৈতিক সহিংসতায় শীর্ষে ছিল বিএনপি এই সময় যত রাজনৈতিক সহিংসতা ঘটেছে তার ৯১ শতাংশই সংঘটিত করেছে বিএনপি আওয়ামী লীগ। এরমধ্যে ২০ শতাংশ আওয়ামী লীগ এবং একাত্তর শতাংশ বিএনপি’র।