মনসুর আহমদ

দীন প্রতিষ্ঠার সঠিক পন্থা একমাত্র রসুল (স:)-এর প্রদর্শিত পথ। সাধারণ মুসলমানের পক্ষে রসুল (স:)-এর জীবন অধ্যয়ন ও তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ কঠিন বিধায় ইসলামী আন্দোলনের পথিকৃতগণ সহজ সরল ভাবে কিছু পথ ও কৌশল তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে সমাজের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন তা থেকে আমরা ছবক গ্রহণ করে সঠিক উপায় বেছে নিতে পারি। এ সব বইয়ের মধ্যে বিেিশষ উল্লেখযোগ্য হল মাওলানা মওদূদী (রহ:) রচিত ‘ইসলামী হুকুমত কেস তরহে কায়েম হোতি হায়’, ‘ইসলামী আন্দোলনের সঠিক কর্মপন্থা’, ‘ইসলামী আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তি’, ‘ইসলামী আন্দোলন সাফল্যের শর্তাবলী’, ‘ইসলামী দাওয়াত ও কর্মনীতি’। সাইয়েদ কুতুব শহীদ (রহ:)-এর ‘ইসলামী সমাজ বিপ্লবের ধারা’, শহীদ মওলানা মতিউর রহমান নিজামী (রহ:)-এর ‘ ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন’, অধ্যাপক এ. কে. এম নাজির আহমদ (রহ:)-এর ‘ইসলামী সংগঠন’ প্রভৃতি।

সমস্ত বইয়ের মূল ভাবধারা প্রায় একই। ইসলামী আন্দোলন তথা ইসলামী বিপ্লবের জন্য প্রয়োজন প্রথমে ইসলামের সঠিক দাওয়াত সঠিক ভাবে সমস্ত মানুষের কাছে পৌঁছান। এ ব্যাপারে মাওলানা মওদূদী (রহ:) বলেন, “একটি সঠিক বিপ্লব সব সময়ই গণআন্দোলনের মাধ্যমে সাধিত হয়। প্রকাশ্যে সাধারণ ভাবে দাওয়াতী কাজ করুন। ব্যাপক ভাবে মানুষের মন ও চিন্তা ধারায় পরিবর্তন আনুন। চারিত্রিক অস্ত্রের সাহায্যে মানুষের হৃদয় জয় করুন। এ সব কাজ করতে গিয়ে যতো রকম বিপদ-মুসীবত আসে তার সাথে মোকাবেলা করুন। ” (ইসলামী আন্দোলনের সঠিক কর্মপন্থা)

এ কাজটি করতে গেলে প্রয়োজন আল্লাহর প্রতি ঈমান ও নির্ভর শীলতা। মাওলানা মওদূদী (রহ:) বলেন, “ইসলাম যে সমাজ বিপ্লব ঘটাতে চায় তার জন্য প্রয়োজন ঈমান, ইসলামী চেতনা, ঐকান্তিক নিষ্ঠা, মজবুত ইচ্ছা শক্তি এবং ব্যক্তিগত আবেগ উচ্ছ্বাস ও স্বার্থের নিঃশর্ত কুরবানি। এ কাজের জন্য এমন একদল দুঃসাহসী যুবকের প্রয়োজন, যারা সত্যের প্রতি ঈমান এনে তার উপর পাহাড়ের মতো অটল হয়ে থাকবে। আর কোন দিকে তাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হবে না।” (ইসলামী হুকুমত কেস তরহে কায়েম হোতি হায়)

ইসলামী শক্তির বিজয়ের জন্য প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্বের। সেই নেতৃত্ব কেমন হবে তার পরিচয় দিতে গিয়ে মাওলানা বলেন, “আমাদের দাওয়াত এই যে, ঈমানদার ও সালেহ লোকদের এমন একটি দল ও সংগঠন করা হউক, যাহারা ঈমানের দিক দিয়াই মজবুত হইবে না, ইসলামের নিষ্ঠাবান অনুসারীই হইবে না, তাহাদের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত চরিত্রই কেবল পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হইবে না, বরং সেই সঙ্গে নিষ্ঠার সহিত বিশ্বের বাস্তব জীবনধারা, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ যোগ্যতার দিক দিয়া বর্তমান যুগের রাষ্ট্্রনেতা ও কর্মকর্তাদের তুলনায় তাহারা অনেকগুণে শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দিবে।” (‘ইসলামী দাওয়াত ও কর্মনীতি’)

কৃষকের পরিশ্রম ছাড়া ধানের একটি শীষও উৎপন্ন হয় না। তা হলে নিছক দোয়া ও আশার মাধ্যমে কেমন করে সমাজে সততা ও সৎ প্রবণতার সবুজ শ্যামল শস্য উৎপাদনের আশা করা যেতে পারে? যখন আমরা ময়দানে নেমে কাজ করি এবং আল্লাহর নিকট সাফল্যের দোয়া চাই তখনই সমালোচনা কার্যকরী হয়। নিঃসন্দেহে ফেরেশতাদের আগমন ঘটে। কিন্তু নিজেরা লড়বার জন্য আসে না। বরং যে সকল সত্যপন্থী খোদার পথে প্রাণ উৎসর্গ করার জন্য লড়াই করতে থাকে তাদেরকে সাহায্য কাজ করা জন্য আসে। কাজেই যাদের মনে কাজ করার আগ্রহ আছে তাদের মিথ্যা আশা-আকাক্সক্ষার পথ পরিহার করেন সুস্থ মস্তিষ্কে এ কাজের দাবি ও চাহিদা উপলদ্ধি করা উচিত। ” (‘ইসলামী আন্দোলন সাফল্যের শর্তাবলী’)

মাওলানার উপরোক্ত কথাগুলোর মধ্যে শেষ বাক্যটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়। “কাজেই যাদের মনে কাজ করার আগ্রহ আছে তাদের মিথ্যা আশা-আকাক্সক্ষার পথ পরিহার করেন সুস্থ মস্তিষ্কে এ কাজের দাবি ও চাহিদা উপলদ্ধি করা উচিত।”

এ মূল্যবান বাক্যটির যথার্থ ব্যাখ্যা এসেছে শহীদ সাইয়েদ কুতুব (র:)-এর কথায়। তিনি লিখেছেন, “যদি জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টি সহকারে কাজ করতে চাই, তা হলে মুসলিম উম্মতের উপর খোদা প্রদত্ত বিশ্বনেতৃত্ব পালনের জন্য কোন্ গুণাবলী অর্জন করা দরকার, তা আমাদের অবশ্যই জেনে নিতে হবে। সংস্কার ও পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে গিয়ে যেন হোচট খেতে না হয়, সে জন্যই আমাদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা দরকার।

আজকের মুসলিম উম্মত মানব জাতির সামনে বস্তুতান্ত্রিক আবিষ্কারের যোগ্যতা অথবা সম্ভাবনাময় প্রতিভা প্রদর্শনে অক্ষম। বর্তমান দুনিয়ার মানব সমাজ মুসলিম উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়ে তাকে নেতৃত্বের আসন দান করবে, এ অক্ষমতার জন্য তার এ রূপ আশা বাতুলতা মাত্র। এ ক্ষেত্রে ইউরোপের সৃজনশীল মস্তিষ্ক অনেক দূরে অগ্রসর এবং পরবর্তী কয়েক শতক পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় ইউরোপকে পরাজিত করে যান্ত্রিক উন্নতির ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করার কল্পনাও আমরা করতে পারি না। তাই আমাদেরকে এমন সব গুণাবলী অর্জন করতে হবে যা আধুনিক সভ্যতায় বিরল। ...

মানব জাতির নেতৃত্ব দানের জন্য আমাদেরকে বৈষয়িক উন্নতি ছাড়াও অতিরিক্ত কিছু পেশ করতে হবে। তা হচ্ছে মানব জীবন সম্পর্কে মৌলিক বিশ্বাস (ঈমান) এবং সে বিশ্বাসের ভিত্তিতে রচিত একটি জীবন বিধান। এ বিধান আধুনিক জ্ঞান- বিজ্ঞান ও কারিগরী বিদ্যার সকল অবদান সংরক্ষণ করবে। সাথে সাথে মানব জাতিকে মৌলক প্রয়োজন পূরণের জন্য আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান মানুষের আরাম আয়েশের যে চমৎকার উদ্যোগ আয়োজন করেছে, তার মান বজায় রাখতে সক্ষম হবে। আর এ বিশ্বাস(ঈমান)ও জীবন বিধান মানব সমাজে তথা মুসলিম সমাজে বাস্তব রূপ ধারন করে আত্মপ্রকাশ করবে।” (ইসলামী সমাজ বিপ্লবের ধারা)

আমাদের ঈমানের শক্তির উৎস হচ্ছে পাক কুরআনের মৌলিক শিক্ষা। উরোক্ত গুণাবলী অর্জিত হতে পারে আল্লার উপর দৃঢ় ঈমান ও আল্লাহর উপর নির্ভরশীলতার মাধ্যমে। যদি আল্লাহর উপর নির্ভরশীলতা হারিয়ে মুসলিম সমাজ তার বৈষয়িক উপায়-উপাদান ও জনশক্তির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তা হলে তার বিজয় আর্জন সম্ভব নয়।

আমরা দেখছি রসুলের জীবনে বদর যুদ্ধে ২৫৩ জন আনসার এবং ৬০ জন মোহাজেরিন নিয়ে গঠিত বাহিনী ১০০০ কোরইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয় লাভ করে। মুসলমানদের ঘোড়া ছিল মাত্র দুই কি তিনটি। ওহুদ যুদ্ধে ৩০০০ কুরাইশ সেন্যের মোকাবেলায় মুসলিম সৈন্য ছিল মাত্র ৭০০। খন্দকের যুদ্ধে আবু সুফিয়ান ১০,০০০ হাজার পদাতিক ও ৬০০ শত অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এর বিপরীতে হজরত মুহাম্মদ (স:) মাত্র ৩০০০ যোদ্ধা নিয়ে অগ্রসর হন এবং বিজয় লাভ করেন। খাইবারের যুদ্ধে কাফেরদের সৈন্য সংখ্যা ছিল ৪০০০, অপর দিকে রসুল (স:) ২০০ অশ্বারোহী এবং ১৬০০ মুসলিম সেন্য নিয়ে অবতীর্ণ হয়ে বিজয় অর্জন করেন। কিন্তু এর উল্টাটা ঘটে হুনায়েনের যুদ্ধে। রসুলুল্লাহ (স:) মক্কা বাসীদের মধ্য থেকে দুই হাজার এবং মক্কা বিজয়ের সময় তাঁর সাথে আগত দশ হাজার সাহাবী সহ মোট বার হাজার সৈন্য নিয়ে অভিযানে বের হলেন। এত বিপুল সংখ্যক সৈন্য ইতিপূর্বে কোন যুদ্ধেই মুসলমানদের পক্ষে একত্রিত হয়নি। অপর দিকে কাফেরদের সংখ্যা ছিল অনেক কম। মুসলমানদের মনে ধারণা জন্মে ছিল যে তারা পরাজয় বরণ করবে না। কিন্তু ফল হল উল্টা।

এ ব্যাপারে কুরআনে পাকে আল্লাহ ইরশাদ করেন, “লাক্বাদ নাসারা কুমুল্লাহু ফী মাওয়াতিনা কাসিরাতিওঁ ওয়া ইয়াওমা হুনাইনিন ইয্ আ’জাবাত্কুম কাস্রাতুকুম ফালাম তুগনি আনকুম শাইয়াওঁ ওয়াদাকাত আলাইকুমুল আরদু বিমা রাহুবাত ছুম্মা ওয়াল্লাইতুম মুদবিরীন। ছুম্মা আন্ঝালাল্লাহু সাকীনাতাহু আলা রাসুলিহী ওয়া আলাল মুমিনীনা ওয়া আনঝালা জুনুদাল্ লাম তারাওহা ওয়া আজ্জাবাল্লাজীনা কাফারু, জালিকা জাঝাউল কাফিরীন। ছুম্মা ইয়াতুবুুল্লাহু মিম্ বা’দি জালিকা আলা মাইঁ ইয়াশাউ; ওয়াল্লাহু গাফুরুর রাহিম।” (আত তওবা -২৫-২৭)

“আল্লাহ তোমাদেরকে অনেক গুলো রণাঙ্গনে সাহায্য করেছেন। হুনাইনের দিনেও করেছেন।-যখন তোমরা নিজ সংখ্যাধিক্যের কারণে গর্বিত হয়েছিলে। কিন্তু সে সংখ্যাধিক্যে তোমাদের কোন লাভ হয়নি। সেদিন বিশাল পৃথিবী তোমাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং তোমরা পালিয়েছিলে। তারপর আল্লাহ শান্তি ও স্বস্তি আনেন তাঁর রসুল ও মু’মিনদের প্রতি। আর তিনি এমন বাহিনী পাঠান যাদেরকে তোমরা দেখতে পাওনি। আল্লাহ কাফেরদেরকে এ ভাবে শাস্তি দেন। বস্তুত কাফেরদের সমুচিত শাস্তি এটাই। এ ভাবে শাস্তি দানের পর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন, তওবা কবুল করারও সুযোগ দান করেন। প্রকৃত কথা, আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল ও করুণাময়।”

হুনায়েনের যুদ্ধে এক পর্যায়ে যখন মুসলমান বাহিনী ভোরের আঁধারে তিহামার পার্বত্য উপত্যকার মধ্য দিয়ে চলতেছিল তখন সেখানে লুকিয়ে থাকা শত্রু সৈন্যরা পূর্ণপ্রস্ততি নিয়ে হঠাৎ করে মুসলমানদের উপর প্রচণ্ড আক্রমণ চালায়। হামলার আকস্মিকতায় হতবুদ্ধি হয়ে মুসলিম বাহিনীর লোকেরা যে যে দিকে পারলো পালাতে লাগল। এ সময় শুধু রসুল (স:) ও কিছু জানবাজ সাহাবী নিজদের স্থানে অচল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন। রসুলুল্লাহ (স:)-এর ডাকে একশত জনের মতো সাহাবী জমায়েত হয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে দাঁড়লেন এবং তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত হলেন। তাদের মধ্যে আবার পূর্বশৃঙ্খলা কায়েম হল এবং শেষ পর্যন্ত জয় মুসলমানদের হল। এ যুদ্ধে হাওয়াযিন গোত্রের সত্তর জন লোক প্রাণ হারাল।

এ যুদ্ধে আল্লাহর করুণা প্রাপ্ত হয়ে বিজয় অর্জন করায় মক্কা বিজয়ের ফলে যে শক্তি ও প্রভাব প্রতিপত্তি মুসলমানরা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল তা অক্ষুন্ন রাখা সম্ভব হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে অল্লাহ ইতিপূর্বের যুদ্ধগুলোতে তাঁর সাহয্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘লাক্বাদ নাসারা কুমুল্লাহু ফী মাওয়াতিনা কাসিরাতিন...’।

“মাওয়াতিনা কাসিরাতিন” বলে আল্লাহ এ যুদ্ধের পূর্বে অনুষ্ঠিত বদর খন্দক ও বনু কোরাইযার কাহিনীর দিকে ইঙ্গিত করেছেন। সুরা আহযাবে আল্লাহর সাহায্য প্রসঙ্গে ইরশাদ হচ্ছে-“হে মুনিগণ, বিশাল এক বাহিনী তোমাদের ওপর চড়াও হলে আল্লাহ তোমাদের ওপর যে অনুগ্রহ বর্ষণ করেন তা স্মরণ কর। তখন আমি তাদের ওপর প্রচণ্ড ঝটিকা এবং এমন এক সেনাবাহিনী (ফিরিশতা) পাঠিয়েছিলাম যাদেরকে তোমরা দেখতে পাওনি। আর তোমাদের কার্যকলাপও আল্লাহ প্রত্যক্ষ করছিলেন। তারা যখন সব দিক থেকে তোমাদের ওপর আক্রমণ চালালো, যখন অনেকের চোখ বিস্ফোরিত ও প্রাণ কন্ঠনালীতে উপনীত হলো এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা রকমের ধারণা করতে লাগলে তখন মুমিনদেরকে পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং তাদেরকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়া হলো।” ( আহযাব-৯-১১)

এ সামান্য ইতহাস থেকে দেখা যায় যে, জনশক্তি বিজয়ের জন্য আসল উপাদান নয় বরং আল্লাহর উপর নির্ভরশীলতাই বিজয় অর্জনের জন্য প্রথম ও প্রধান শর্ত। ইসলামী আন্দোলনের বিজয়ের জন্য নব নব উদ্ভুত পরিস্থিতিতে নব কর্ম-কৌশল গ্রহণের পাশাপাশি আল্লাহর উপর নির্ভরশীলতা ব্যতিত ইসলামী আন্দোলনের সফলতা অর্জন করা অসম্ভব। জাগতিক শক্তি ও কৌশল বিজয়ের জন্য সহায়ক শক্তি, মূল শক্তি আল্লাহর করুণা। এই করুণা আসে বান্দা যখন সব দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে একমাত্র আল্লাহর দিকে মুখ ফিরায়। কুরআনের বানী, “জমীন যখন তার বিস্তৃতি ও বিশালতা সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গেল এবং তাদের জান প্রাণও তাদের জন্য বোঝা হয়ে পড়ল, তারা জেনে নিল যে, আল্লাহর (আজাব) থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য স্বয়ং আল্লাহর রহমতের আশ্রয় ছাড়া পানাহ লওয়ার আর কোন যায়গা নেই, তখন আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহে তাদের দিকে ফিরলেন, যেন তারা তাঁর দিকে ফিরে আসে। নিঃসন্দেহে তিনি বড় ক্ষমাকারী ও দয়াবান।” (তওবা ১১৮)

লেখক : প্রকৌশলী ও প্রাবন্ধিক।