ইরান-আমেরিকা আলোচনা পক্ষকাল ধরে চলার পরও কোন ইতিবাচক অগ্রগতির খবর মিলছে না। বিশ্ব শান্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি খুবই প্রাসঙ্গিক। ফলে এ বিষয়ে আবারো ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন বিশ্লেষকরা। কারণ আলোচনা ব্যর্থ হলে হামলার হুমকি দিয়েই যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছেড়ে কথা বলছেন না ইরানী শীর্ষ নেতা খামেনি। বিষয়টি নিয়ে টান টান উত্তেজনা রয়েই যাচ্ছে। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার আতংকজনক ঘটনা সবার সামনে। ট্রাম্পের পক্ষে গ্রীনল্যান্ডে হামলা বা দখল আর ইরানে হামলা শুরুর মতো হঠকারি ঘটনা ঘটানোকে বিশ্লেষকরা মোটেই কম গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে এ মাসের শুরুতে ইরান-মার্কিন আলোচনা শুরু হয়।
এখন আলোচনা কোন পর্যায়ে? নিরাপত্তা হুমকি কতটুকু? এ দুটি প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ খবরে বলা হচ্ছে, মার্কিন হামলার হুমকির মধ্যেও জেনেভায় আলোচনা কোনও অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। গত মঙ্গলবারের বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির পটভূমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে, কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে যদি কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারে তবে ইরানে আক্রমণ করা হবে। এ তথ্য আপডেট করা হয়েছে ১৭ ফেব্রুয়ারি। বার্তা মাধ্যমের খবর হলো, মার্কিন ও ইরানি আলোচকদের বিবৃতি অনুসারে, মঙ্গলবার জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনা কোনও অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। উভয়পক্ষই বলেছেন যে কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে পক্ষগুলোকে প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির পটভূমিতে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে ইরানকে আক্রমণ করার হুমকি দিয়েছেন। ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন যে একটি চুক্তি সম্ভব, তবে কূটনীতিতে সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, যে সময় সীমিত কিন্তু কোনও স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেননি। কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা বাড়ছে, আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নতুন আলোচনার প্রেক্ষাপট : ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ এবং এরপর সে যুদ্ধে আমেরিকার জড়িয়ে পড়াসহ নানান ঘটনা পরম্পরার পর নতুন যুদ্ধবস্থা তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ বারো দিন ধরে চলে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানকে তার পারমাণবিক অ-প্রচার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে বলে ঘোষণা করার পরের দিন ১৩ জুন ২০২৫ ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়। আর ২২ জুন অনেক উত্তেজনার পরে ইসরাইলের সাথে যোগ দেয় আমেরিকা। ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি স্থাপনা ধ্বংস করেছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয় যে এ হামলায় আংশিক ক্ষতি হয়েছে, হামলার আগেই পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ইরান ইসরাইলে পাল্টা হামলা চালিয়ে ইহুদী রাষ্ট্রটির ব্যাপক ধ্বংস সাধানে সক্ষম হয়। ১২ দিন যুদ্ধ চলার পর শেষে ক্ষান্ত হয় এ সংঘাত।
আর সম্প্রতি ইরানে ব্যাপক সরকার বিরোধী বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে আর তাতে আমেরিকান ইন্ধন ছিল বলে ইরানের অভিযোগ। এর পর জল্পনা-কল্পনা চলছিল যে ইরানে আবার হামলা চালাতে পারে আমেরিকা।
এ পরিস্থিতিতে প্রথমে তুরস্কে আলাচনায় বসার কথা থাকলেও পরে ওমানে চলতি পর্যায়ের ইরান-আমেরিকা আলোচনা শুর হয় গত ৬ ফেব্রুয়ারি। সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ওমানের মাস্কাটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনা ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছে উভয় দেশ। আলোচনা শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বৈঠকে ওয়াশিংটন ‘খুব ভালো আলোচনা’ করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানও। দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও আলোচনা হবে বলে তারা আশা করছে। উপসাগরীয় দেশ ওমানে এক দিনের এ আলোচনায় ‘ইতিবাচক পরিবেশের’ প্রশংসা করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরিবেশকে ইতিবাচক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি জানান, দু’পক্ষই আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। আরাঘচি বলেন, ‘খুবই ইতিবাচক পরিবেশে আমাদের যুক্তি বিনিময় হয়েছে। নিজেদের মতামতগুলো আমরা একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিয়েছি।’ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পরবর্তী দফার আলোচনার সময়সূচি ও কাঠামো পরে নির্ধারণ করা হবে।’ একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘আলোচনা অব্যাহত রাখতে’ ওয়াশিংটন ‘হুমকি ও চাপ’ থেকে বিরত থাকবে। এখন দেখার বিষয় এটা যুক্তরাষ্ট্র কতখানি বিবেচনায় নেয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এ আলোচনায় অনেকগুলো দাবি তুলেছে, যা আলোচনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। বৈঠকে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় যোগ দিলেও তাদের উদ্দেশ্য এখনও পরিষ্কার নয়। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর দুদেশ এ প্রথম আলোচনায় বসল।
কি চায় আমেরিকা ? বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটিই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের সর্বশেষ অধ্যায় হতে চলেছে। ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে একটি নতুন চুক্তি চেয়ে আসছেন। যদিও ইরান-ইসরাইল ১২ দিনের যুদ্ধ সে আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানজুড়ে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে ট্রাম্প বারবার আরও মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এমনকি ইরানের উপকূলে মার্কিন সামরিক বহরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়নের পরিচালক সিনা আজোদি এ বিষয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই যতটা সম্ভব সর্বোচ্চ সুবিধা তোলার এটাই উপযুক্ত সময়। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি রোধ করার পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সীমাবদ্ধতাও চায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি থাকবে।
রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তাহলে ‘খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে। যার ফলে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাবে এবং এই অচলাবস্থার ফলে দুপক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকিতে পড়বে। আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্প পরিচালক আলি ভায়েজ আল জাজিরাকে বলেন, যে কোনো সামরিক উত্তেজনা কেবল একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের জন্ম দিতে পারে। তবে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলে তা ইরানের জন্যই উপকার হবে।
জেনেভা আলোচনায় মূল বিষয়ে একমত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র : সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা শেষ হয়েছে। আলোচনা শেষে এক ইতিবাচক বার্তা দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, জেনেভা বৈঠকে তেহরান ও ওয়াশিংটন চুক্তির ‘মূল নীতিগুলোর’ বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। আরাগচি সাংবাদিকদের বলেন, যদিও অনেক কারিগরি দিক এখনো বাকি, তবে আলোচনার মূল ভিত্তি বা প্রধান নীতিগুলোর বিষয়ে দু’দেশই একমত হতে পেরেছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর একে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আরাগচি বলেন, ‘তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের কোনো চেষ্টা করছে না। এ কথা আমরা বারবার বলে আসছি।’
প্রায় চার ঘণ্টা ধরে জেনেভায় ওমানের দূতাবাসে এই বৈঠক হয়। ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। বৈঠকে দু’পক্ষই ওমানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পারমাণবিক ইস্যুতে নিজেদের ‘নোট’ বা প্রস্তাব বিনিময় করেছে। আলোচনায় দু’দেশের পরমাণুবিজ্ঞানী, আইনবিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদেরা উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় দফার এ আলোচনায় মূলত পারমাণবিক চুক্তির কারিগরি বা টেকনিক্যাল দিকগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। এ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি বলেছেন ভালো অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে এবং এতে কারিগরি বিষয়গুলোর পাশাপাশি সাধারণ করণীয়গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
চুক্তির খসড়া তৈরি করবে দু’পক্ষ : তৃতীয় দফার বৈঠকের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। আরাগচি বলেন, একটি সম্ভাব্য চুক্তির প্রাথমিক খসড়া তৈরির পর উভয় পক্ষ পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করবে। উভয় পক্ষ এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে একটি সম্ভাব্য চুক্তির জন্য এখন খসড়া তৈরির কাজ চলবে। এরপর সে খসড়াগুলো একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করা হবে এবং তার ভিত্তিতেই পরবর্তী আলোচনার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না ইরান এ রকম আভাসও মিলছে। দেশটির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরান। এতে গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ করার পথটির কিছু অংশ বন্ধ হয়ে গেছে। পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেই এ মহড়া শুরু করে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও খামেনির জবাব : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘পরোক্ষভাবে’ যুক্ত থাকবেন। তবে গতকালের বৈঠকে তিনি যুক্ত ছিলেন কি না, তা জানা যায়নি। ট্রাম্পের মতে, তেহরান এখন চুক্তিতে পৌঁছাতে মরিয়া। তিনি বলেন, চুক্তি না করার ভয়াবহ পরিণতি তারা ভোগ করতে চাইবে না। চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরান হয়তো কঠোর দর-কষাকষির চেষ্টা করবে। আলোচনা শুরুর পরপরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক ভাষণে বলেন, ওয়াশিংটন জোর করে তাঁর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে না। ট্রাম্পের সরকার পরিবর্তনের আকাক্সক্ষাকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলছেন, তাঁদের সেনাবাহিনী বিশ্বের শক্তিশালী। কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীকেও মাঝেমধ্যে এমন জোরে চড় মারা যায় যে তারা আর উঠে দাঁড়াতে পারে না।
বিরোধের শিকড় অনেক গভীরে : ইরান-আমেরিকা বিরোধ নতুন কিছু নয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবই এ সঙ্ঘাতের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তার আগে শাহ রেজা পাহলভীর আমলে ইরান ছিল মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একটি। কিন্তু বিপ্লবের মাধ্যমে ইমাম খোমেনি ক্ষমতায় এসে সে সম্পর্ককে উল্টে দেন। তেহরানে মার্কিন দূতাবাস অবরোধ ও কূটনীতিকদের জিম্মি করার ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কে স্থায়ী তিক্ততা সৃষ্টি করে। এরপর ইরাক-ইরান যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, আর সাপ্রতিক মার্কিন হামলা ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া সবকিছু মিলিয়ে অবিশ্বাসের প্রাচীর ক্রমেই উঁচু হয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ সম্প্রতি বলেছেন, ট্রাম্পকে বুঝতে হবে তিনি এমন এক শিক্ষণীয় সংঘাতে পা রাখতে যাচ্ছেন, যার পরিণতি এমন হবে যে তিনি আর বিশ্বে দাপট বা বলদর্পিতা দেখাতে পারবেন না। বার্তা সংস্থা পার্সটুডে ১৮ ফেব্রয়ারি জানায়, রোববার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ আবদুর রহিম মুসাভি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া এ কথা জানান। পার্স-টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেছেন, নিজেকে মহাশক্তি দাবি করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ ধরনের কথা একজন রাষ্ট্রপতির মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং তা হালকা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ট্রাম্প যদি যুদ্ধই চান, তাহলে আলোচনার কথা কেন বলছেন?
যে কোনো মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ বৈশ্বিক পারমাণবিক বিস্তারের ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলে। প্রান্তিক স্তরে অবস্থানের বিষয়টি নিরাপত্তার কোনো নির্ভরযোগ্য গ্যারান্টি দেয় না। উভয় পক্ষ পববর্তী রাউন্ডে কি আলোচনা টেবিলে নিয়ে আসেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।