গত সপ্তাহে দৈনিক কালের কন্ঠে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মাদ শাহাবুদ্দিনের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন পত্রিকাটি নির্বাহী সম্পাদক জনাব হায়দার আলী। সাক্ষাৎকারে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বঙ্গভবনের বেশকিছু অজানা তথ্য এবং ঘটনা খোদ রাষ্ট্রপতির বয়াণেই উঠে এসেছে। বিশেষ করে ডক্টর ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৮ মাস ক্ষমতায় থাকাকালীন ব্যক্তিগতভাবে জনাব শাহাবুদ্দিন যে ভালো অবস্থায় ছিলেন না এবং বঙ্গভবন ঘিরে নানা ধরনের তৎপরতাও যে ব্যাপক পরিসরে চলেছিল যেগুলোকে তিনি চক্রান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আর সবগুলো বিষয়ই তিনি এ সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করে দিয়েছেন।

জনাব শাহাবুদ্দিন এখনো মহামান্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বঙ্গভবনেই অবস্থান করছেন। পক্ষান্তরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস দুদিন আগে সরকারি বাসভবন যমুনা ছেড়ে নিজ বাসায় উঠেছেন। অন্যদিকে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব পালন শুরু করলেও এখনো পর্যন্ত সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানও সরকারি বাসভবনে ওঠার সুযোগ পাননি। এরকম একটি স্পর্শকাতর সময়ে প্রকাশিত এ সাক্ষাৎকারটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এমনও হতে পারে এ সাক্ষাৎকারের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে কিছু বিতর্কের সূত্রপাত হতে পারে। আবার প্রধান উপদেষ্টাসহ বিদায়ী একাধিক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট যেভাবে মুখ খুলেছেন, তাতে করে তাদের জীবনেও নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেমে আসতে পারে।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব শাহাবুদ্দিন প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে যে কথাটি বারবার বলতে চেয়েছেন তাহলো অন্তর্বর্তী সরকার তাকে সহযোগিতা করেনি। রাষ্ট্রপতি অন্তর্বতী সরকারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করতে গিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তার প্রেস উইং পুরোটাই প্রত্যাহার করেছে। ফলে, শেষদিকে এমন অবস্থা হয়েছিল যে, বিশেষ কোনো দিনে বা বিশেষ কোনো ঘটনায় তিনি যে একটি বিবৃতি দেবেন বা শুভেচ্ছা বার্তা জানাবেন সে সক্ষমতাও তার ছিল না। দূতাবাসগুলো থেকে তার ছবি নামিয়ে ফেলা হয়েছিল। তাকে নানাভাবে অপসারণের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিভিন্ন সংগঠনকে অন্তর্বর্তী সরকার বঙ্গভবনের সামনে সভা সমাবেশের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। ফলত; এ সংগঠনগুলো বঙ্গভবনের প্রবেশমুখ ঘেরাও করে তার পদত্যাগ দাবি করার সুযোগ পেয়েছিল। আমরা সাধারণ নাগরিকেরা অন্তর্বর্তী সরকারকে অনেক সমালোচনা করলেও এ সরকারটির মেয়াদের পুরো ১৮ মাস জুড়েই সরকারের সাথে রাষ্ট্রপতির এবং তার দফতরের টানাপোড়েন ছিল তা স্পষ্ট বোঝা যায়।

তিনি অভিযোগ তুলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তার বিদেশ যাওয়া বারবার থামিয়ে দেয়া হয়েছিল। অন্তত দুটো আয়োজনে তাকে নিমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি সেগুলোতে যোগ দিতে পারেননি। প্রধান উপদেষ্টা বা প্রধানমন্ত্রী কোনো বিদেশ সফরে গেলে সেখান থেকে ফিরে এসে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে সফরের সম্পর্কে ব্রিফ করার ঐতিহ্য রয়েছে, যদিও এমনটা করার কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা তার মেয়াদে ১৩-১৪ বার দেশের বাইরে গেলেও কোনোবারই ফিরে এসে তাকে ব্রিফ করেননি অথবা তার সাথে কোনো ধরনের সমন্বয় করার চেষ্টা করেননি। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে রাষ্ট্রপতিকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে চ্যান্সেলর হিসেবে তার যোগ দেয়ার সুযোগ থাকলেও তাকে এই ধরনের আয়োজনে যেতে দেয়া হয়নি। মহামান্য রাষ্ট্রপতি নাম উল্লেখ না করে একজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। জানান, ঐ উপদেষ্টা বিদেশ সফরে গিয়ে কনসুলেট অফিসে রাষ্ট্রপতির ছবি দেখে উত্তেজিত হয়ে যান এবং সেখানকার স্টাফদের বকাঝকা করেন। সেই ঘটনার জেরে সকল দূতাবাস ও কনসুলেট অফিস থেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ছবি নামিয়ে ফেলার জন্য সরকারের তরফ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়।

এরকম অসংখ্য নজির তিনি দিয়েছেন। একটি বিষয় পরিস্কার, অন্তর্বর্তী সরকারের কারো কারো ব্যাপারে পতিত আওয়ামী লীগের সাথে যোগাযোগ রক্ষার অভিযোগ থাকলেও মোটা দাগে এবং সার্বিক বিচারে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে ছিল। সম্ভবত এ কারণেই ফ্যাসিবাদী আমলে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনকে তারা বিশ্বাস করতে পারেননি। আর এ অবিশ্বাস বিদ্যমান থাকাটা অযৌক্তিকও নয়। কিন্তু এরপরও রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। এক্ষেত্রে দুটো কারণের কথা বলা যায়। প্রথমত, তারা যাদেরকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন তারা অনেকেই আওয়ামী লীগের ব্যাপারে নমনীয় ছিলেন। উদাহরণ হিসেবে রাষ্ট্রের প্রধান আইনি কর্মকর্তা ও বর্তমান বিএনপি সরকারের আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের কথা বলা যায়। অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপিপন্থী জানার পরও এডভোকেট আসাদুজ্জামানকে এটর্নী জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। তিনি পুরো ১৮ মাস এ পদে থেকে রাষ্ট্রের সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করার পর ত্রয়োদশ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পরবর্তী সময়ে পদত্যাগ করেন। কারণ তিনি বিএনপির ব্যানারে এমপি হতে চেয়েছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণার এক পর্যায়ে তিনি স্বীকারও করেছিলেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যখন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া চালানো হয় তিনি সর্বতোভাবে তার বিরোধিতা করেছিলেন। এ স্বীকারোক্তিটি তিনি করেছিলেন আওয়ামী ভোটব্যাংকের ভোট টানার জন্য। তবে এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতি তার সহানুভূতি প্রমানিত হয়।

আবার এমনও হতে পারে তিনি এমনটা করেছিলেন তার দল বিএনপির পরামর্শেই। কেননা বিএনপি শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ এবং রাষ্ট্রপতির অপসারণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। আর এ কথা স্বয়ং মহামান্য রাষ্ট্রপতিও তার সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণ করার জন্য যখন নানাভাবে চেষ্টা করেছিল তখন দুটো মহলকে তিনি তার পাশে পেয়েছেন। একটি হলো বিএনপি আর অপরটি তিন বাহিনীর প্রধানগণ। মহামান্য রাষ্ট্রপতি খোলামেলাই বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে টানাপোড়েনের এ কঠিন সময় তিনি যেভাবে পার করেছেন অন্য কোনো মানুষ তা সহ্য করতে পারতো কিনা সন্দেহ। এই পুরোটা সময় তার সাথে থাকার জন্য তিনি বিএনপির প্রশংসা করেন। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন। মহামান্যের মতে, তারেক রহমান নিয়ে তার কিছু কৌতুহল ছিল কিন্তু তারেক রহমান সাহেবের সাথে কথা বলার পর তার খুবই ভালো লেগেছে। ‘হি ওয়াজ সো কার্ডিয়াল’, অর্থাৎ তারেক সাহেবকে তার কাছে খুবই আন্তরিক মনে হয়েছে বলেও তিনি জানান। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের পুরো সময়টিতে বিএনপি তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে নিশ্চিত করে সাক্ষাৎকারে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জানান, বিএনপির সিনিয়র নেতারা একাধিকবার তার সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং জানিয়েছেন, “আমরা সাংবিধানিক কোনো শূন্যতা সৃষ্টি করতে চাই না। আর এ কারণেই অসংবিধানিক কোনো পন্থায় রাষ্ট্রপতির অবসারণও আমরা মেনে নিব না। তাই আপনি আপনার জায়গায় থাকবেন এবং আমরা সর্বতভাবে আপনার পাশে থাকব।”

সাক্ষাৎকারটি পুরোটা পড়লে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় আর তাহলো গণঅভ্যুত্থান নেতৃত্বদানকারী গোষ্ঠী এবং অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনের সাথে দুরত্ব বজায় রেখেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার মূলত অভ্যুত্থানের ধারক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিল। আর প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন ঐ ফ্যাসিবাদী সরকারের মাধ্যমেই নিয়োগ পেয়েছিলেন যাদের বিরুদ্ধে ছাত্রজনতা অভ্যুত্থান করেছিল। তাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারের সাথে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রপতির টানাপোড়েন থাকা অস্বাভাবিক নয়। আবার একইসঙ্গে জনগণও রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে শংকিত ছিল কেননা তাদের ভয় ছিল যে, এ প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ হয়তো প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারকে জনগণের সে পালসটিকেও বিবেচনায় রাখতে হয়েছে।

পুরো সাক্ষাৎকারে মহামান্য রাষ্ট্রপতি একটিবারের জন্যও জামায়াতে ইসলামীর নাম বলেননি। তাই গত ১৮ মাসে তিনি যে পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাওয়ার দাবি করছেন, সে সময়গুলোতে জামায়াতে ইসলামী তাকে অপসারণ করার পক্ষে ছিল নাকি তাকে তার মতো করে স্বপদে রাখতে চেয়েছিল, এ সাক্ষাৎকার থেকে তা পরিষ্কার হয়নি। তবে দৃশ্যত এটি স্পষ্ট যে, জামায়াতে ইসলামী সর্বতোভাবেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা লালন করেছে। অসংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতির অপসারণে হয়তো দলটি সমর্থন করতো না আবার রাষ্ট্রপতির সাথেও খুব একটা স্বস্তিকর সম্পর্ক বজায় রাখার অবস্থানেও তারা ছিল না। সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক দল বিএনপি’র পাশে নিজের পক্ষে দ্বিতীয় যাদের কথা মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেছেন তারা হলেন তিন বাহিনীর প্রধানগণ। তার ভাষায় দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী বরাবরই চেয়েছিল যাতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকা মহামান্য রাষ্ট্রপতি কোনভাবেই অপসারিত না হন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে, এমনটা খুব সহজেই বলা যায় যে, বাংলাদেশে গত ১৮ মাস আসলে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় ছিল। বিএনপি এবং তার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীসহ পুরো এস্টাবলিশমেন্ট চেয়েছিল যাতে বিদ্যমান সংবিধান অক্ষুন্ন থাকে, সংবিধানিক ধারাবাহিকতা লঙ্ঘন করা না হয় এবং অসংবিধানিক কোনো কিছু না হয়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে তারা সকলেই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি শাবুদ্দিনকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। তাদের মধ্যে দৃশ্যত কোনো জোট বা সমঝোতা হয়তো হয়নি তবে উপরোক্ত সবাই মোটামুটি একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করেছে। এর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল মূলত পাবলিক পালস অনুধাবন করে সেই আলোকে কাজ করেছে। তাদের বিবেচনায় সংবিধান রক্ষা করার চেয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ বেশি অগ্রাধিকার পেয়েছে বলেই প্রতীয়মাণ হয়। বিশেষ করে গণ অভ্যুত্থানের মধ্য থেকে জন্ম নেয়া দল এনসিপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ নানা সময়েই পুরনো সংবিধানকে অকার্যকর হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সেকেন্ড রিপাবলিকের পক্ষে সরব হয়েছে। রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনও করেছে।

দুপক্ষের এ ভিন্নধর্মী অবস্থান কেবল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই দৃশ্যমান ছিল তা কিন্তু নয়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও এ বিপরীত অবস্থান লক্ষনীয় ছিল। বিএনপি তার সমমানা দলগুলো নিয়ে একটি অবস্থান থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত, এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট গণভোট ও সংস্কারের পক্ষ নিয়ে নির্বাচন করেছে। ভোট প্রাপ্তির বিচারে দুই জোটের পার্থক্য অনেক না হলেও অবস্থানগত পার্থক্য খুবই স্পষ্ট ছিল। বিশেষ করে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ব্যাপারে এ দু’জোটের দৃষ্টিভঙ্গি বা অবস্থান একই রকম স্পষ্ট ছিল না। গণভোটের ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে এ পার্থক্যটি না থাকলেও তৃণমূলে বিএনপির অবস্থান না ভোটের পক্ষেই ছিল। আবার নির্বাচিত হওয়ার পরও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও বিএনপি এখনো নেয়নি। রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনকে বহাল রাখার যুক্তি হিসেবে বিএনপি যেমন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার যুক্তি দিয়েছিল ঠিক একইভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেয়ার ক্ষেত্রেও তারা সাংবিধানিক অজুহাতই প্রদান করেছে।

প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিনের সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ হওয়ার পর এখন একটি মোটামুটি পরিষ্কারভাবে বলা যায় যে, বিএনপি এবং এস্টাবলিশমেন্ট মূলত একই অবস্থানে ছিল। ফলে এস্টাবলিশমেন্ট তার টিকে থাকার স্বার্থেই বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে চেয়েছে। সে চাওয়া পূরণ করার স্বার্থে এস্টাবলিশমেন্ট এবারের নির্বাচনে কতটা সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করেছে তা হয়তো ভবিষ্যতে আরো বেশি স্পষ্ট হবে। তবে নির্বাচনের ফল গণনায় অযাচিত বিলম্ব এবং ঘোষিত ফলাফল পাল্টে দেওয়ার মতো যে অভিযোগগুলো এবার উত্থাপিত হয়েছে এবং এসব অনিয়মের দায়ে প্রশাসনের দিকে বর্তমান বিরোধী জোট যেভাবে আঙ্গুল তুলেছে তা যে একদম ভিত্তিহীন নয় তা এ সাক্ষাৎকারের পর আরো বেশি স্পষ্ট হয়েছে। এই যে ক্ষমতার রাজনীতি এবং কায়েমী স্বার্থকে টিকিয়ে রাখার যে প্রক্রিয়া তাই হয়তো ডিপস্টেটসহ নানা নামে আমাদের সামনে আসে। রাজনীতির এ অন্তরালের সমীকরণ হয়তো সবার পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভবও নয়; কিন্তু এটিই ঐতিহাসিকভাবে সত্য যে, রাজনৈতিক দল ও এস্টাবলিশমেন্টের এহেন যোগসাজশ অতীতের অনেক নির্বাচন এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছিল এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

এ সাক্ষাৎকার আগে প্রকাশিত হলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারেই হয়তো অনেক দল অপারগতা প্রকাশ করতো। আর সবচেয়ে বড়ো কথা, ৫ আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানের পর এর নায়কেরা কিংবা পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকেও সংবিধানের নানা সমালোচনা করা হলেও সংবিধানটি বাতিল করা হয়নি। বরং সবকিছুকে সংবিধানের আওতায় করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর খেসারতও সম্ভবত অনেকদিন দিয়ে যেতে হবে।