ড. মুর্শিদা খানম

দক্ষিণ এশিয়ার একটি সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ভবিষ্যতের পথে অগ্রমান হলেও বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট এখানকার রাজনৈতিক উন্নয়নের পথকে বারবার পিচ্ছিল করে। কারণ, এখানকার রাজনৈতিক সংস্কৃতি দীর্ঘদিন থেকে মুখ থুবড়ে পড়েছিল যা সকলের কাছেই চক্ষুস্মান। বিরাজমান অসুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ অনেকগুলো জটিল কারণ দ্বারা বেষ্টিত ছিল।রাজনৈতিক সংস্কৃতি মানুষের চিন্তা ও বিশ্বাসের সাথে রাজনৈতিক কোনো মতের প্রকাশ যা একটি সুস্থ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে চালিত করে, সেটাকে সাধারণত রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলা হয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনেক পূর্ব থেকে পশ্চিমা রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারণার সাথে সম্পৃক্ত অথবা প্রভাবিত ছিল। তবে, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের প্রতি নাগরিক স্থাপনের চেষ্টা ও প্রবণতা কখনো অনুকূল আবার কখনো প্রতিকূল ছিল, তবে, গণমানুষের রাষ্ট্রীয় কাজের প্রতি ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াসহ সার্বিক সংস্কৃতিকে বোঝায়। সরকারের অঙ্গ সংগঠন সরকারের জনগণের প্রতি আচরণ এবং জনগণের অনুভূতি সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের প্রতি জনগণের প্রতিক্রিয়া দেশের প্রতি জনগণের দায়িত্ব থেকে যে আচরণ সেগুলির সাথে যুক্ত থাকে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্থবিরতা, সাংবিধানিক অচলাবস্থা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা, বৈধতার সংকট, প্রাচীন পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার অংশগ্রহণের অভাব, আস্থাহীনতা, সহিংসতা মতাদর্শের সংঘাত, সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিকে নষ্ট করে।

১/১১ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট চরম হতে শুরু করে মূলত অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির যাত্রা শুরু হয়।মূলত ২০০৯ সাল থেকেই এরকম ফ্যাসিবাদী শাসনের শুরু হয়েছিল। ২০১৪ সাল থেকে শুরু হয়েছিল একতরফা নির্বাচনের যাত্রা, জনগণবিহীন ভোট কেন্দ্র এবং জনগণকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখার সংস্কৃতি চালু হয়েছিল। অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চার কারণে মানুষ রাজনীতি এবং নির্বাচন, ভোট প্রয়োগ এ সংস্কৃতিগুলোর প্রতি বিরক্তি এবং বিরক্তি সহকারে নিবৃত থাকার পথ বেছে নিয়েছিল। ২০১৮ সালে রাতের ভোট নামে ইতিহাস হয়ে থাকা নজিরবিহীন কারচুপির ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল অর্থাৎ জনগণ নির্বাচনের দিন রাত পোহালে ভোট দিতে যাওয়ার যে সুযোগ, যে উচ্ছ্বাস সেটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এক রকম চাপের মাধ্যমে এবং সূক্ষ্ম কলা-কৌশলের মাধ্যমে। যে কারণে জনগণ আস্থা হারিয়েছিল রাজনৈতিক নেতার প্রতি, আস্থা হারিয়েছিল নির্বাচন কমিশন নামক সংস্থার প্রতি।

রাজনৈতিক দলের নেতা এমনকি সরকারের প্রতি মানুষের অনাস্থার বাস্তব প্রতিচ্ছবি তৈরি হয়েছিল দেশের প্রতি প্রান্তে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে এটি অফিসিয়ালি সাজানো ভোট ব্যবস্থা আর মাধ্যমে নির্বাচন করার মাধ্যমে সরকার চরম-অগণতান্ত্রিক আচরণ জনগণের সাথে করে এবং সম্পূর্ণ জন বিচ্ছিন্ন। অবৈধ ভোটের মাধ্যমে একটি সরকার গঠন করে, যা ছিল চরম রাজনৈতিক বৈধতার সংকট সম্বলিত একটি অবৈধ সরকার। এটাকে এজন্য অবৈধ সরকার বলতে জনগণ পছন্দ করেছে এ কারণে যে এখানে সম্পূর্ণভাবে একটি জনবিচ্ছিন্ন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা মেনটেইন করা হয়। তৃতীয়বারের মতো ভোটার বিহীন নির্বাচন দিয়ে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত সরকার পূর্ণদ্বোমে গণ মানুষ থেকে শুরু করে সকল দল ও মতের উপর নিষেধাজ্ঞা,দমন-পীড়ণ, হত্যা, গুম, জেল জুলুম শুরু করে। এছাড়াও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

২০১৪ সালের বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট একদিকে যেমন চরমে ওঠে, অন্যদিকে ইতিহাসের অন্যতম সময়ের সাক্ষী হয়ে বিভিন্ন দিকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে মোড় নেয়। নজিরবিহীন গণহত্যা ও ছাত্রজনতার কঠোর আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে ফ্যাসিবাদী শক্তির অবসান হয়। বাংলাদেশ মুক্ত হয়। ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সময়টি একটি ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও অংশগ্রহণ বিবর্জিত নির্বাচন ব্যবস্থার একটি অগণতান্ত্রিক সরকার চলমান ছিল কিন্তু গণঅভ্যুত্থানত্তোর বাংলাদেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দরকার সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চা ও এর প্রয়োগ। ২৪’এর বিপ্লবত্তোর সংকট নিরসনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় রদবদল এবং নতুন নির্বাচনের রোড ম্যাপ নিয়ে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছিল এসব কিছুর টেকসই উন্নয়ন ও স্থিতির জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সর্বাত্মক প্রয়োগ। ২০২৬ সালের বাংলাদেশ,মানে ছাত্র জনতা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে তার স্বপ্নপূরণ। দেশটি এখন একটি জাতীয় নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। তাই একটি সফল নির্বাচন ও রাষ্ট্র মেরামতের জন্য সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাস্তব প্রয়োগ দরকার। রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্ব এখন সবচেয়ে বেশি। প্রশ্ন হল, এই সংস্কার কারা করবে? সংস্কার করতে হলে মূলত, আমাদের জাতিগতভাবে উন্নত হতে হবে অর্থাৎ আমরা জাতির অংশ হিসেবে একটি একটি ব্যক্তি গঠন হতে হবে। প্রত্যেকে যদি রাজনৈতিক শিষ্টাচার পালন করে, যদি নিজেদের আচরণ, রাজনৈতিক আচরণ সামাজিক আচরণগত দিক থেকে বদলাতে না পারে, তাহলে জাতিগত উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র সংস্কারের আগে অবশ্যই ব্যক্তির রাজনৈতিক আচরণ বদলাতে হবে।

আচরণের সংশোধনী আনতে হবে রাজনৈতিক কালচারে সংস্কার আনতে হবে। কারণ, ব্যক্তির রাজনৈতিক আচরণ, আদর্শিক রাজনৈতিক আচরণ, মানবিক রাজনৈতিক আচরণ এবং দেশাত্মবোধ না থাকার কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিগত সরকার গুলোর বারবার একই পরিণতি হয়েছে। জনসম্পৃক্ততা হারানো মানে জনগণের আস্থা হারানো। জনগণের উন্নয়নে সাথেই রাজনৈতিক উন্নয়ন সম্পৃক্ত। সাথে সাথে জনগণের সাথে সম্পৃক্ত থাকা এবং মানবিক কল্যাণে কাজ করা এই জায়গাগুলোর মধ্যে ব্যাপক ফারাক থাকার কারণে পারস্পরিক বিশ্বাস শ্রদ্ধা হারিয়েছে। দীর্ঘ ষোল বছরের অনিয়মের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে একটি জাতি নতুন রাষ্ট্র ব্যবস্থার কাছে আস্থা রাখতে চায়। বিশেষ করে, তরুণ প্রজন্ম একটি নতুন এবং আদর্শিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছে। তাই সংঘাতের পথ পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা সংলাপ আলোচনা পারস্পরিক সহনশীলতা চর্চার মাধ্যমে এবং দেশ এবং জনগণের স্বার্থের বিষয়ে ঐক্যমত্য ও পোষণ করে রাজনীতিক দলগুলোর কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

দ্বিতীয়ত, একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন হতে হবে। শুধু স্বাধীন নয় নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই নিরপেক্ষ ভূমিকাও পালন করার প্রতি নির্বাচন কমিশনের সমস্ত কর্মচারী কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল হতে হবে। এক্ষেত্রেও ওই একই কথা আসে যে আত্মন্নোয়ন, দায়িত্ব, দায়িত্ববোধ এবং নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দেশাত্মবোধ নিয়ে দায়িত্বপালন করার মনমানসিকতা থাকতে হবে। আইন প্রয়োগকারির সংস্থা গুলোতেও সম্পূর্ণরূপে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে। স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি নাগরিক হিসেবে প্রতিটি সচেতন ব্যক্তি নিজ নিজ দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করতে পারে।

তৃতীয়ত, তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, তরুণ রাজনীতিবিদ তৈরি ও দেশ গড়ার কাজের সমান সুযোগ দিতে হবে চতুর্থত, দেশ গড়ার কাজে রাষ্ট্র সংস্কার ও প্রস্তাবিত জুলাই সনদ এর স্বীকৃতি ও কার্যকারিতার জন্য গণভোটকে অর্থবহ করতে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে প্রত্যেক নাগরিক কেই নিতে হবে। সকল প্রকার পেশী শক্তি ও অনিয়মকে না বলার মাধ্যমে বর্জন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে বিরোধী দল ও মতের প্রতি দমন নির্যাতন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে শতভাগ নাগরিক অধিকার বহাল রাখতে হবে গণতন্ত্রকে অর্থবহ করে তোলার লক্ষ্যে সকলের বাক স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করতে হবে ।

রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে যুক্ত সরকার, সরকার ব্যবস্থা, নাগরিক, নাগরিক স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব সামাজিক ন্যায়বিচার, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সুসম্পর্ক, নতুন উদ্ভাবনী আইডিয়া এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক মূল্যবোধ রাজনৈতিক নৈতিকতার চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকেই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হবে। বাংলাদেশে সাধারণত রাজনীতি এক রকমের ঝোঁক প্রবণতা বা সম্মোহনের দ্বারা তাড়িত হয়ে জনগণ করে থাকে। আসলে প্রতিটা রাজনৈতিক দলের উচিত তার কর্মী এবং তার সমর্থিত ব্যক্তির জন্য ট্রেনিং এবং সমর্থকদের মধ্যে আদর্শিক রাজনৈতিক আচরণ, দেশপ্রেম, সহনশীলতা, সবকিছুর সমাবেশে কর্মী তৈরি করা ।দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে যেন তারা রাজনৈতিক চর্চা করে সেই মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সিলিং করা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতা রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করতে চায় বা ক্ষমতা পেতে চায় ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য।

প্রকৃতপক্ষে জনসেবা, দেশসেবা উদ্দেশ্য মুখ্য থাকে না। এখানকার রাজনৈতিক সংস্কৃতির পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, রাজনৈতিক নেতাগণ খুব কমই দেশকে ভালোবেসে বা দেশের মানুষের জন্য কাজ করার উদ্দেশ্যে ক্ষমতা পেতে চান। ক্ষমতা নিয়ে নেতা হয় ক্ষমতা ব্যবহারের জন্য, সম্মান লাভের আশায়। আত্মস্বার্থ, দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার আশায় এবং দলীয় চাটুকারদের স্বার্থ উদ্ধারের আশায়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে ব্যক্তির স্বার্থে ব্যবহারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং গণমুখী এবং উদার রাজনৈতিক ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করতে হবে।

যাহোক, রাষ্ট্র মেরামত কিংবা রাষ্ট্রগঠন যাই বলি না কেন, নতুন রাষ্ট্র, নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য অবশ্যই বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে এসে সুস্থ আদর্শে গণমুখী উদার এবং মানবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চা করতে হবে। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখে আর এই স্বপ্নের সাথে সংশ্লিষ্ট হচ্ছে সুস্থ ধারার রাজনৈতিক চর্চা অর্থাৎ সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা ছাড়া কখনোই ন্যায় ও ইনসাফের পথ পাওয়া সহজ নয়।

পরিশেষে, বাংলাদেশ জন্মলগ্ন থেকেই একরকম রাজনৈতিক জটিল বাস্তবতায় মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এখানকার আন্দোলনের ইতিহাস, শাসনব্যবস্থার ধরন, নাগরিক সম্পৃক্ততা, অংশগ্রহণের অভাব, সবকিছুর এটি সম্মিলিত জটিল রূপ রয়েছে বর্তমানে রাজনৈতিক অবস্থা আপাতত অংশগ্রহণমূলক মনে হলেও এটি এখনো সংঘাতপূর্ণ, বিভক্ত, আধিপত্যবাদযুক্ত এবং পৃষ্ঠপোষকতামূলক। এখনও নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণ রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ আছে।নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা, দুধুল্যমান অবস্থা এবং রাজনৈতিক পারস্পরিক সহাবস্থান ও সহনশীলতার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

এখনো দেশের প্রাচীন রাজনৈতিক বৃহত্তর দল ভারতীয় আধিপত্যের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনে আগ্রহী ও বিশ্বাসী। তারা জুলাই সনদ-এর স্বীকৃতিতে না অর্থাৎ নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে অসহনশীলতা নির্বাচন কমিশনের প্রতি অভিযোগ এবং নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় পারস্পরিক সহিংস আচরণ গণতান্ত্রিক চর্চাকে ব্যাহত করছে যেটা থেকে উত্তরণ এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে, তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক সক্রিয় অংশগ্রহণ, ডিজিটাল মিডিয়ার প্রসার এবং রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ভাবনা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সরকার ও একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ ও সম্ভাবনার আশা রয়েছে। তাই, প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন যাতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র হবে উন্নত ও টেকসই। সেজন্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক সুস্থ সংস্কৃতিরও পরিবর্তন জরুরি।

লেখক : প্রাবন্ধিক।