ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইনটিগ্রিটি (জিএফআই) সম্প্রতি অর্থপাচার সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশ থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে কিভাবে অর্থপাচার হচ্ছে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইনটিগ্রিটি (জিএফআই) কর্তৃক প্রকাশিত অর্থপাচার সংক্রান্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করার কোন কারণ নেই। এতে শুধু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে প্রতিবছর কী পরিমাণ অর্থ পাচার হচ্ছে তার একটি প্রাথমিক ধারণা দেবার চেষ্টা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। এর বাইরেও নানাভাবে অর্থপাচার হচ্ছে, যা এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত হয়নি। এখানে একটি বিষয় স্মরণ রাখা প্রয়োজন তা হলো, অর্থপাচারের মতো অপরাধ কর্মে যারা যুক্ত তারা কখনোই তাদের অবৈধ অর্থ উপার্জনের সূত্র এবং উপার্জিত অর্থের পরিমাণ কারো নিকট প্রকাশ করেন না। পাচারকৃত অর্থের হিসাব সংরক্ষণের জন্য কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে অর্থ পাচারের সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ হিসাব কারো পক্ষেই দেয়া সম্ভব নয়। তারপরও গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইনটিগ্রিটি (জিএফআই) অর্থপাচারের যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে তা থেকে সমস্যার গভীরতা কিছুটা হলেও অনুধাবন করা যেতে পারে।
উন্নত-অনুন্নত নির্বিশেষে সবদেশ থেকেই অর্থ পাচার হচ্ছে। কোনো দেশই এ সমস্যা থেকে মুক্ত নয়। তবে উন্নত দেশ থেকে অর্থ পাচার করা হলেও তাদের অর্থনীতির যতটা ক্ষতি হয় অনুন্নত দেশ থেকে অর্থ পাচার করা হলে সংশ্লিষ্ট দেশের ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয়। বর্তমান সময়ে সরাসরি অর্থ পাচার করা হয় খুবই কম। মূলত আন্তর্জা+-*তক বাণিজ্য এবং হুন্ডির মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার করার ক্ষেত্রে সুবিধা হচ্ছে এতে ধরা পড়ার আশঙ্কা কম থাকে। পণ্য রপ্তানিকালে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম মূল্য প্রদর্শন করা হয়। যেমন কোন রপ্তানিকারক হয়তো দেড় কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করলেন। কিন্তু কাগজ-পত্রে তিনি ১ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে বলে উল্লেখ করলেন। রপ্তানি আয়ের অবশিষ্ট ৫০ লাখ টাকা তিনি বিদেশেই রেখে দিলেন। পরবর্তীতে সময-সুযোগ বুঝে তা দেশে আনলেন অথবা বিদেশেই ব্যবহার করলেন। আবার পণ্য আমদানির সময় অতিমূল্যায়িত করে অর্থপাচার করা হয়। যেমন কোন আমদানিকারক হয়তো ১ কোটি টাকার পণ্য আমদানির জন্য বিদেশি উৎপাদক বা সরবরাহকারির সঙ্গে চুক্তি করলেন। কিন্তু দেড় কোটি টাকার পণ্য আমদানি করা হয়েছে বলে ডকুমেন্ট তৈরি করলেন। তিনি দেশ থেকে পণ্য আমদানির নামে দেড় কোটি টাকা বের করে নিলেন কিন্তু পণ্য আমদানি করলেন ১ কোটি টাকার। অবশিষ্ট ৫০ লাখ টাকা তিনি বিদেশে রেখে দিলেন। পরবর্তীতে নানা প্রক্রিয়ায় সেই অর্থ দেশে নিয়ে এলেন অথবা বিদেশেই ব্যবহার করলেন। স্থানীয়ভাবে যেসব সংস্থা আমদানি বা রপ্তানি পণ্যের মূল্য যাচাইয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন তাদের সঙ্গে সমঝোতা সৃষ্টি করে নিলেই তারা এ ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকেন। যদি আন্তর্জাতিক বাজারের পণ্যমূল্য সঠিকভাবে যাচাই করা হতো তাহলে আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচারের সুযোগ অনেকটাই কমে যেতো।
গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইনটিগ্রিটি (জিএফআই) তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অর্থপাচারের তালিকায় শীর্ষস্থানে থাকা ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। যদিও বৃহৎ অর্থনীতি সম্বলিত দেশগুলো থেকে যে অর্থ পাচার হয় তার পরিমাণ অনেক বেশি। সংস্থাটির হিসাব মতে, বাংলাদেশ থেকে ২০১৩ সাল থেকে ২০২২২ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে মোট ৬ হাজার ৮৩০ কোটি মার্কিন ডলার সমতুল্য অর্থ পাচার হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে। অর্থপাচারের এ ঘটনাগুলো একটি বড় অংশই ঘটেছে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের সময় সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখিত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে পণ্য রপ্তানি ও আমদানির সময় মোট ৩ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার বা ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো অর্থ পাচার করা হয়েছে।
এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে পাচার করা হলেও এ ক্ষেত্রে ভারত আমাদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। বর্ণিত সময়ে ভারত থেকে মোট ১ লাখ ৬ হাজার কোটি বা এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত দেশ শ্রীলঙ্কা থেকে বর্ণিত দশ বছরে মোট ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ পাচার হয়েছে। ২০২২ সালে মাত্র একবছরে পুরো এশীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে ১ দশমিক ৬৯ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৬৯ হাজার কোটি মার্কিন ডলার অর্থ পাচার হয়েছে। চীন, থাইল্যান্ড ও ভারতের মতো দেশ থেকে অর্থ পাচার বৃদ্ধি পাচ্ছে উদ্বেগজনকভাবে। পাচারকৃত অর্থ যেসব দেশে যায় তারা সেই অর্থ ফেরৎ দানের ক্ষেত্রে খুব একটা আগ্রহ প্রদর্শন করে না। এমনকি কোনো কোনো দেশ জাতীয়ভাবে নানা প্রোগ্রামের মাধ্যমে পাচারকৃত অর্থ তাদের দেশে নিয়ে থাকে। যেমন মালয়েশিয়া। তারা সেকেন্ড হোম নামক কর্মসূচির আওতায় পাচারকৃত অর্থ তাদের দেশে নিয়ে যাবার জন্য উৎসাহিত করে থাকে। একজন বিদেশি নাগরিক নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নিয়ে গেলে তাকে সে অর্থের উৎস সম্পর্কে কোন জবাবদিহি করতে হয়না। তাকে মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। তুরস্কও কয়েক বছর আগে সেকেন্ড হোম প্রকল্প চালু করেছে। তুরস্কের প্রস্তাবিত সেকেন্ড হোম প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগের জন্য ২০০ জন বাংলাদেশি আবেদন করেছিলেন বলে তখন খবর প্রকাশিত হয়েছিল। মালয়েশিয়ায় শত শত বাংলাদেশির বাড়ি এবং অন্যান্য সম্পদ রয়েছে।
অর্থপাচার বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জটিল সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমলে গঠিত শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদেন উল্লেখ করা হয়েছিল, বিগত সরকার আমলে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে মোট ২৩ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার সমতুল্য ২৮ লাখ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বেশিরভাগ অর্থই পাচার হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে। পাচারকৃত অর্থের এ পরিসংখ্যান পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়। আসলে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ আরো অনেক বেশি। বিগত সরকার আমলে নানাভাবে অর্থ পাচারকে উৎসাহিত করা হতো। একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা এক আলোচনা সভায় বলেছিলেন, বিগত সরকার আমলে বাংলাদেশে দু’টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছিল। এর মধ্যে একটি দৃশ্যমান, যা বাংলাদেশ ব্যাংক নামে পরিচিত। আর একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কিছু ব্যক্তি ছিলেন তারা দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। এরা ছিলেন অত্যন্ত ক্ষমতাবান এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের পক্ষে এদের পাশ কাটিয়ে কোনো কাজ করা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হতো না।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এমন একজন ব্যক্তিকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, যাকে বাংলাদেশের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ বলে মনে করা হতো। যিনি ছিলেন ১৯৯৬ এবং ২০১০ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অন্যতম কারিগর। ব্যাংকিং সেক্টরকে ধ্বংস করার জন্য এ ব্যক্তিটিই মূলত দায়ী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থাকা এ বিশেষ মহলের প্ররোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক এমন সব আইনি পরিবর্তন সাধন করে যাতে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করেও খেলাপি মুক্ত থাকা যেত। নিশ্চয়ই মনে থাকার কথা, ২০১৫ সালে দেশব্যাপী সৃষ্ট রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ব্যবসায়-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ অজুহাতে ৫০০ কোটি টাকা ও তদূর্ধ্ব অঙ্কের খেলাপি ঋণ ১০ বছরের জন্য পুনর্গঠন করা হয় সামান্য কিছু ডাউন পেমেন্ট জমাদানের মাধ্যমে। সে সময়ই অনেকে প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে কি শুধু সেই সব উদ্যোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন যাদের নিকট ব্যাংকের পাওনা খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা ও তার বেশি। যাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৯৯ কোটি টাকা তারা কি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। যদি এ ধরনের সুযোগদানের কোন সৎ উদ্দেশ্য থাকতো তা সবার জন্য অবারিত করা যেতো। পরবর্তীতে আ হ ম মোস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রী থাকাকালে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়ে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের সুযোগ দেয়া হয়।
বিগত সরকার আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থাকা যে মহলটি বাংলাদেশ ব্যাংকের উপর সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশের অর্থনীতিবিদ বা অন্য কোনো মহল থেকে তাদের ব্যাপারে কখনোই কিছু বলা হয়নি। অর্থ পাচারের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য এ বিশেষ মহলটি অনেকাংশে দায়ী। কারণ এরাই বাংলাদেশ ব্যাংককে এমন সব নীতি কার্যকর করতে বাধ্য করেছে যাতে অর্থ পাচার সহজতর হয়। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সবকিছুই বাজারভিত্তিক হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে বেশ কিছু বিষয় ফিক্সড করে রাখা হয়েছিল। যেমন, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার স্থানীয় মুদ্রায় ফিক্সড করে রাখা হয়েছিল অনেক দিন। প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ছিল স্থানীয় মুদ্রায় ১১০টাকা। অথচ খোলাবাজারে প্রতি মার্কিন ডলার ১২২ থেকে ১২৪ টাকায় বিক্রি হতো। সরকার সমর্থক গোষ্ঠী যাতে ব্যাংকিং চ্যানেল থেকে তুলনামূলক কম মূল্যে মার্কিন ডলার সংগ্রহ করতে পারে মূলত সে লক্ষ্যেই মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ফিক্সড করে রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে ব্যাংক ঋণের সুদের সর্বোচ্চ হার ৯শতাংশে ফিক্সড করে রাখা হয়েছিল। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের নামে পলিসি রেট বারবার বৃদ্ধি করেছিল। পলিসি রেট বৃদ্ধি এবং তার পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের সুদের হার ফিক্সড করে রাখার ফলে ব্যাংকগুলো সাধারণ ঋণ গ্রহীতাদের ঋণ দানের ক্ষেত্রে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। কিন্তু সরকার সমর্থক ব্যবসায়ী নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে নেয়। এ অর্থের একটি বড় অংশই তারা বিদেশে পাচার করেছে।
মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ফিক্সড করে রাখার ফলে শুধু যে অর্থ পাচারের রাস্তা উন্মুক্ত হয়েছে তা নয়। বিদেশ থেকে বৈধ পথে অর্থ দেশে আসাও কমে গিয়েছিল। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হচ্ছে রেমিট্যান্স। ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময়ে দেয়া হতো ১১০ টাকা। আর কার্ব মার্কেটে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময়ে পাওয়া যেত ১২২ থেকে ১২৪ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রেরিত রেমিট্যান্সের পরিমাণ বিপুলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ফিক্সড করে রাখার ফলে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবার পাশাপাশি সরকার সমর্থক ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর অর্থ পাচারের পথ উন্মুক্ত হয়। তারা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে ব্যাংক থেকে মার্কিন ডলার কিনে নিয়ে তা দেশের বাইরে পাচার করতে থাকে। সে সময় এক মুদ্রানীতিতে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। কিন্তু বাস্তবে অর্জিত হয় ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে শিল্পে ব্যবহার্য কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি কমেছিল ১৪ শতাংশ করে। আর ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানিও ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছিল। তার অর্থ হচ্ছে বিনিয়োগের নামে ব্যাংক থেকে যে অর্থ বের করে নেয়া হয়েছিল তা দেশের বাইরে পাচার করা হয়।
অর্থপাচারকারীরা দেশ ও জাতির শত্রু। একবার অর্থ পাচার হয়ে গেলে তা ফেরৎ আনা খুবই কঠিন কাজ। তাই পাচার হবার পর অর্থ ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে কেউ অর্থ পাচারের মতো ঘৃণ্য কাজে যুক্ত হতে না পারে।