বিশ্বব্যাপী এক ভয়ংকর ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডা দখলের হুমকি, নানা দেশের উপর শুল্ক বৃদ্ধি ইত্যাদির ঘোষণার পর অবশেষে এ যুদ্ধ ঘোষণা করলেন তিনি। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে মিডিয়াগুলো সরগরম ছিল। কী যুদ্ধ শুরু করতে যাচ্ছেন মি. ট্রাম্প? বিশ্ব অর্থনীতিতে তার প্রভাব কতটা পড়বে? শেষে তা সামনে এলো। মি. ট্রাম্পের যুক্তি, নতুন ‘রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পাল্টা শুল্ক ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আবার সম্পদশালী’ করবে। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রায় ১০০টি দেশের ওপর আরোপ করা এ শুল্ক বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক দেশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, এমন বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হলে তাতে কেউ-ই জয়ী হবে না।

কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক আরোপের ঘোষণার এ দিনটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ হিসাবে অভিহিত করে বলেন, আমরা একটি স্বাধীন ও সুন্দর জাতি হতে যাচ্ছি। এ দিনটিকে আপনারা ভবিষ্যতে স্মরণ করবেন। আপনারাই তখন বলবেন, তিনি (মি. ট্রাম্প) সঠিক ছিলেন। কিন্তু বিশ্লেষকেরা তার সঙ্গে একমত হতে পারছেন না। তারা এতে সবার ক্ষতি দেখছেন।

কী সেই বাণিজ্য যুদ্ধ? ৩ এপ্রিল বিবিসির খবর, বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ তালিকায় বাংলাদেশও আছে, বাংলাদেশী পণ্যের ওপরে ৩৭ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশী পণ্যের ওপর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে শুল্ক ছিল ১৫ শতাংশ। বুধবার হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন তিনি। কোন দেশের ওপর কত হারে পারস্পরিক শুল্ক আরোপ হবে, সংবাদ সম্মেলনে তার একটি তালিকা তুলে ধরেন তিনি।

রয়টার্স জানাচ্ছে, এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিতে বাংলাদেশী পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। নতুন এ শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৮৪০ কোটি ডলারের মতো পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়ে থাকে যার বেশিরভাগ তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৭৩৪ কোটি ডলার।

কোন দেশের জন্য কত শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প: বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে তা উল্লেখ করে, এর প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র সেসব দেশে কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করল সেই তালিকা তুলে ধরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের পাল্টা এ শুল্ক আরোপে ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ এবং চীনের পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে শত্রুমিত্র সব রাষ্ট্রের প্রতিই কমবেশি আঘাত হেনেছেন তিনি। সে কথা তিনি প্রকাশও করেছেন।

সব ধরনের বিদেশী গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেছেন ‘আজ খুব ভালো খবর’ থাকবে বলে জানান। ট্রাম্প তার বক্তব্যে সেদিনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছে। আজকের দিনটি আমেরিকান শিল্পের ‘পুনর্জন্ম’। আমেরিকাকে ‘আবার সম্পদশালী’ করার দিন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বাজেভাবে’ ব্যবহার করেছে এবং আমেরিকান পণ্যের ওপর অসম শুল্ক আরোপ করেছে। এটিকে তিনি ‘প্রতারণার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। অন্যান্য দেশ অসম শুল্ক আরোপ করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের ওপর এমন পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে। তবে, ট্রাম্প বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক অন্যদের আরোপিত শুল্কের ‘প্রায় অর্ধেক’। সুতরাং, সে হিসাবে পুরোপুরি পাল্টা শুল্ক হচ্ছে না। তবে হ্যাঁ, আমি তা করতে পারতাম। কিন্তু এটি করলে অনেক দেশের জন্য কঠিন হয়ে যেত। আমি তা করতে চাইনি, বলেন ট্রাম্প।

বন্ধু দেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কখনও ‘বন্ধু শত্রুর চেয়ে খারাপ হয়’। দক্ষিণ কোরিয়ায় যেসব গাড়ি উৎপাদন করা হয়, তার ৮০ শতাংশের বেশি সে দেশে বিক্রি হয়। আর জাপানে যেসব গাড়ি বিক্রি হয়, সেগুলোর ৯০ শতাংশের বেশি সে দেশে তৈরি হয়। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি বিক্রি হয় খুব সামান্য। ফোর্ড অন্যান্য দেশে খুব কম গাড়ি বিক্রি করে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, অন্য যে দেশে তৈরি মোটরযানের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে এবং এটা আজ মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বাধার মুখে রয়েছে। অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা আরও খারাপ অবস্থা তৈরি করেছে।

বিশ্ব নেতারা কী বলছেন? ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সমালোচনা করেছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। তারা এটাতে ‘বড় ধাক্কা’ হিসেবে দেখছেন। ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন বলেছেন যে মার্কিন শুল্ক আরোপের ফল “ভয়ংকর পরিণতি” ডেকে আনবে। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী সমস্ত পণ্যের উপর নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত “বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় আঘাত” হিসেবে বিবেচিত হবে।

তার মন্তব্য চীনসহ আরও কয়েকটি দেশের মন্তব্যের প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়। যারা এ পদক্ষেপের বিরোধিতা এবং সতর্ক করেছে যে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে “দৃঢ় পাল্টা ব্যবস্থা” নেবে। ইইউর বাইরে, চীন -মার্কিন নীতির দ্বারা “সবচেয়ে খারাপ অবস্থার শিকার” হিসাবে বিবেচিত দেশগুলির মধ্যে একটি। চীনা পণ্যের উপর ৩৪% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বিদ্যমান ২০% শুল্কের উপরে, মোট শুল্ক কমপক্ষে ৫৪% এ নিয়ে এসেছে। ফলে চীন পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে “অবিলম্বে শুল্ক বাতিল” করার আহ্বান জানিয়েছে, আরও জানিয়েছে যে চীন “নিজস্ব অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য দৃঢ়ভাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।”

৯ এপ্রিল থেকে প্রায় ৬০টি দেশও উচ্চতর শুল্ক আরোপের শিকার হবে। বৃহস্পতিবার সকালে এক বিবৃতিতে ভন ডের লেইন বলেছেন যে নতুন শুল্ক নীতি “বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য” “ভয়াবহ” পরিণতি ঘটাবে। ইসি প্রধান ইউরোপে একটি ঐক্যবদ্ধ পদ্ধতি গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন -যা ২০% শুল্কের আওতায় থাকবে -আলোচনা ব্যর্থ হলে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ট্রাম্পের মিত্র দেশগুলোর উপর বাণিজ্য যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ায় বিশ্লেষকরা হতবাক হয়েছেন। এসব দেশও মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়টাকে মেনে নিতে পারছে না। যেমন মার্কিন মিত্র ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন যে সিদ্ধান্তটি “ভুল”। তবে তিনি “বাণিজ্য যুদ্ধ রোধ করার জন্য” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি চুক্তির দিকে অগ্রসর হতে কাজ করবেন।

স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন যে স্পেন “একটি উন্মুক্ত বিশ্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে”। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বৃহস্পতিবার এলিসি প্রাসাদে নতুন করের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িক খাতের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করে করণীয় নির্ধারণ করবেন। মার্কিন মিত্র তাইওয়ানও বিপদে পড়েছে। দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির জন্য ৩২% শুল্কের মুখোমুখি হতে চলেছে, এ পদক্ষেপকে “অত্যন্ত অযৌক্তিক” বলে অভিহিত করেছে দেশটি। প্রধানমন্ত্রী চো জং-তাই আরও বলেছেন যে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এর প্রতিকার চাইবে।

আরেক মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হান ডাক-সু বলেছেন যে, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধ “বাস্তবতা হয়ে উঠেছে” এবং পূর্ব এশীয় দেশটিতে ২৫% হারে আঘাত হানার পর তার সরকার “বাণিজ্য সংকট কাটিয়ে ওঠার” উপায় খুঁজবে।

জাপান বলেছে, তাদের ২৪% শুল্ক “অত্যন্ত দুঃখজনক” এবং এটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং মার্কিন-জাপান চুক্তি লঙ্ঘন করতে পারে। অন্যদিকে থাইল্যান্ড বলেছে, তারা তাদের ৩৬% শুল্ক নিয়ে আলোচনা করবে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র ইসরাইলী কর্মকর্তারা বলেছেন, আমরা ১৭% শুল্কের ঘোষণা “সম্পূর্ণ হতবাক”। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের শুল্ক আরোপ চীনের মতো দেশগুলির সাথে পারস্পরিকভাবে প্রযোজ্য, যারা মার্কিন পণ্যের উপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে, মার্কিন বাণিজ্যে “শুল্ক-বহির্ভূত” বাধা আরোপ করে অথবা অন্যথায় এমনভাবে কাজ করে যা সরকার মনে করে যে আমেরিকান অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলিকে দুর্বল করে।

শুল্ক বৃদ্ধিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কী অবস্থা ? ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পণ্য আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্র সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। বাংলাদেশের বিষয় আগেই বলেছি। এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর ওপর আরোপিত শুল্ক এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, চীন-৩৪ শতাংশ, ভিয়েতনাম -৪৬ শতাংশ, তাইওয়ান-৩২ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া-৩২ শতাংশ, জাপান-২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়া-২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ড-৩৬ শতাংশ, মালয়েশিয়া-২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়া-৪৯ শতাংশ. ভারত-২৬, পাকিস্তান -২৯ শতাংশ, সিঙ্গাপুর -১০ শতাংশ, নেপাল -১০ শতাংশ, ফিলিপাইন -১৭ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা -৪৪ শতাংশ, মিয়ানমার -৪৪ শতাংশ, লাওস -৪৮ শতাংশ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আমেরিকার স্বার্থ দেখতে গিয়ে বিশ্বের ধনী গরীব সবগুলো দেশের জন্যই নতুন এক ভয়াবহ বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধানের বক্তব্যেই যা ফুটে উঠেছে। বিশ্বের মোড়ল হিসেবে দাবিদার আমেরিকার এই চরম স্বার্থবাদী নীতিকে বিশ্লেষকরা বিশ্বের সমগ্র মানব জাতির জন্য এক কঠিন সিদ্ধান্ত ও কার্যত এক ঠাট্টা হিসেবে দেখছেন। বিভিন্ন দেশ পাল্টা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।