বহু প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে কোন বিচারেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ নির্বাচনের মাধ্যমে চব্বিশের জুলাই ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট গণআকাক্সক্ষার বাস্তবায়নের পথ সুগম হতে পারে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন। তবে নির্বাচন যদি গতানুগতিক ধারায় অনুষ্ঠিত হয় তাহলে দেশবাসির ভাগ্য আবারো স্বৈরাচারের কালো অন্ধকার নেমে আসতে পারে। কোন কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের মাঝে একটি বিশেষ দলের প্রতি অনুগত হয়ে কাজ করার প্রবণতা প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। আমাদের দেশে যারা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মরত আছেন তাদের মধ্যে সব সময়ই এক শ্রেণির সুবিধাভোগি খুঁজে পাওয়া যায় যারা ক্ষমতাসীন দলের পদলেহন করে অনৈতিক সুবিধা ভোগে ব্যস্ত থাকেন। নির্বাচনে যে রাজনৈতিক দলের জয়লাভ করার সম্ভাবনা থাকে এসব দলবাজ কর্মকর্তা সেই দলের পক্ষে কাজ থাকেন। পরবর্তীতে প্রত্যাশিত রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে নিজেদের সরকার সমর্থক হিসেবে জাহির করে বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তার ব্যত্যয় ঘটবে বলে মনে হচ্ছে না।

যে কোন নির্বাচনে যারা রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ইচ্ছে করলে যেকোনভাবে নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে পারেন। পছন্দনীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারেন। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত এবং অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সে নির্বাচনের তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাদের দলের প্রতি অনুগত নয় এমন কোন ব্যক্তিকে রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগদান করেন নি। আগামী নির্বাচনের মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি বিশেষ দলের প্রতি অনুগত হয়ে কাজ করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাইলেও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারবেন না যদি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ সঠিকভাবে নিরপেক্ষতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন না করেন। নির্বাচনে যারা দায়িত্ব পালন করবেন তাদের সততা এবং নিরপেক্ষতা যাচাই করা যেতে পারে।

অর্থনীতির ‘লাইফ লাইন’ হিসেবে খ্যাত ব্যাংকিং সেক্টর বর্তমানে চরম দুরবস্থার মধ্যে রয়েছে। খেলাপি ঋণের দৃশ্যমান পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। অবলোপনকৃত, মামলাধীন এবং পুনঃতফসিলিকৃত ঋণ যোগ করলে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করে যাবে বলে অনেকেই মনে করেন। এশিয়ান ডেলেভপমেন্ট ব্যাংকের দেয়া তথ্য মোতাবেক, বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। কোন ধরনের ছাড় না দিয়ে খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু আমরা তার কোন লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান প্রশাসন খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে নানা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বললেও বাস্তবে তার কোন প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। বরং কিছু কিছু পদক্ষেপ এই সেক্টরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি করেছে। বিগত সরকার আমলে আ হ ম মোস্তাফা কামাল অর্থমন্ত্রী থাকাকালে ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য এমন সব আইনি পরিবর্তন করা হয়েছিল যার মাধ্যমে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে দেখানো সম্ভব হলেও প্রকৃত অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। বরং ব্যাংকিং সেক্টর আরো গভীর সঙ্কটে পতিত হয়। এর মধ্যে একটি পদক্ষেপ ছিল খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের নীতিমালা সহজীকরণ।

আগে কোন ঋণ-হিসাব মোট তিনবার পুনঃতফসিলিকরণ করা যেতো। প্রতিবার পুনঃতফসিলিকরণের মেয়াদ ছিল তিন বছর করে। প্রথমবার পুনঃতফসিলিকরণের জন্য মোট খেলাপি ঋণের ১০ শতাংশ, দ্বিতীয়বার ২০ শতাংশ এবং তৃতীয়বার পুনঃতফসিলিকরণের জন্য ৩০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট আকারে ব্যাংকে জমা দিতে হতো। আওয়ামী লীগ আমলে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য ঋণ হিসাব পুনঃতফসিলিকরণের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। ঋণ খেলাপিদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের এ আনুকূল্য তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিল। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়ে খেলাপি ঋণ হিসাব ২ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিলিকরণের সুবিধা দেয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ খেলাপিদের প্রতি কেন এমন উদারতা প্রদর্শন করলেন? অনেকেই মনে করেন, রাজনৈতিক দলের এক শ্রেণির ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের নির্বাচন প্রতিযোগিতা করার সুযোগ সৃষ্টির জন্যই বাংলাদেশ ব্যাংক এমন একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া এ সুবিধা ব্যবহার করে অন্তত ৩৯জন বৃহৎ ঋণ খেলাপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আগামীতে এরা যদি নির্বাচিত হয়ে আসতে পারে তাহলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার সংস্কার কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য। অর্থাৎ নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংকিং সেক্টরের অবস্থা ভালো হবার কোন সম্ভাবনাই থাকবে না।

আগামী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তাৎক্ষণিকভাবে অর্র্থনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উদ্যোগ নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে, বিগত প্রায় ৪ বছর ধরে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বিরাজমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে এনে জনগণকে স্বস্তি দেয়া। ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্বব্যাপী উচ্চ মূল্যস্ফীতি প্রবণতা শুরু হয়। সেই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির হার ৪০ বছরের রেকর্ড অতিক্রম করে ৯ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব আমেরিকা (ফেড) অন্যান্য কৌশলের পাশাপাশি একাধিকবার পলিসি রেট বৃদ্ধির মাধ্যমে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, যদিও এতে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থবিরতা নেমে আসার শঙ্কা ছিল। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব আমেরিকার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত ৭৭টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পলিসি রেট বৃদ্ধি করে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক পলিসি রেট বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাজার ভিত্তিক না করার ফলে এই পদক্ষেপ উল্টো ফল দেয়। দীর্ঘদিন পর্যন্ত ব্যাংক ঋণের সুদের সর্বোচ্চ হার ৯ শতাংশে ফিক্সড করে রাখা হয়েছিল।

বিগত সরকার আমলে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সরকার সমর্থক উদ্যোক্তা গোষ্ঠীকে তুলনামূলক কম সুদের ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তির সুযোগ করে দেবার জন্যই মূলত এ কাজটি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকার সমর্থক উদ্যোক্তা গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে ঋণ বের করে নিয়ে তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে। এমনকি বিদেশে পাচার করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ গত ডিসেম্বর মাসে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আগের মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। নির্বাচনের আগে বাজারে অর্থ প্রবাহ বেড়ে যাবে। ফলে মূল্যস্ফীতি আর এক দফা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির অভিঘাতে দেশের সব শ্রেণি- পেশার মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষগুলো বড়ই অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মজুরি বাড়ছে না। শুধু সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি দিয়ে বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। বাজারে তৎপর ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট এবং পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি কঠোরভাবে বন্ধ করা না গেলে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশিত মাত্রায় কমবে না।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের নামে পলিসি রেট বাড়ানো হয়েছে অনেক দিন হলো। এভাবে পলিসি রেট দীর্ঘদিন উচ্চ মাত্রায় থাকলে তা ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ব্যক্তিখাতে নতুন বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। ব্যক্তি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, শিল্পে ব্যবহার্য কাঁচামাল এবং মধ্যবর্তী পণ্য আমদানে কমে গেছে। অর্থাৎ সার্বিক বিবেচনায় ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থবিরতা বিরাজ করছে। ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ কমে যাবার ফলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ইত্যাদি সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। উদ্যোক্তারা অভিযোগ করছে তারা জ¦ালানি সঙ্কটের কারণে উৎপাদন ক্ষমতা পরিপূর্ণ ব্যবহার করতে পারছেন না। বিদেশি বিনিয়োগকারিরাও বাংলাদেশে আগের মতো বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আসছেন না। তারা নতুন সরকারের জন্য অপেক্ষা করছেন। অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন বাড়ানো না গেলে দীর্ঘ মেয়াদে টেকসইভাবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। নতুন সরকারকে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। বিনিয়োগ কাক্সিক্ষত মাত্রায় বৃদ্ধি না পেলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি গতিশীল হবে না। ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপর নির্ভর করছে দেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে কিনা।

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তার অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে। অর্থের যোগান নিশ্চিত করার জন্য রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এজন্য রাজস্ব আহরণের বর্তমান ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে হবে। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে রাজস্ব আহরণ করা হচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে রাজস্ব কাক্সিক্ষত মাত্রায় বাড়ানো যাবে না। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে। রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত। এখানে যারা দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা আছেন তাদের বিরুদ্ধে নতুন সরকারকে কঠোর হতে হবে। রাজস্ব আহরণ কাক্সিক্ষত মাত্রায় বৃদ্ধি করা না গেলে উন্নয়ন কর্মসূচিতে অর্থায়নের জন্য বিদেশী ঋণের উপর সরকারকে নির্ভর করতে হবে। কিন্তু এখন চাইলেই আগের মতো সহজে বিদেশী ঋণ পাওয়া যাবে না। এবছর বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত তালিকায় উত্তীর্ণ হলে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যেসব সুবিধা ভোগ করছিল তা প্রত্যাহৃত হবে। সেই সময় বিদেশ ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক হারে সুদ প্রদান করতে হবে।

বিগত সরকার আমলে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ থেকে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার সমান ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে গঠিত শ্বেতপত্র কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। পাচারকৃত এ বিপুল পরিমাণ অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য তৎপরতা জোরদান করতে হবে। যদিও কাজটি সহজ হবে না। তারপরও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। ভবিষ্যতে আর কেউ যেন বিদেশে অর্থ পাচার করতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

নতুন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর সারা দেশব্যাপী যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটেছে তা কোন স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এর পেছনে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে এমনটাই মনে করছেন অনেকে। পতিত স্বৈরাচারি সরকারের অনুগত এক শ্রেণির রাজনৈতিক কর্মী এসব ঘটনার পেছনে ইন্দন যোগাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন সরকারকে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে। দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট বিপর্যস্ত সমাজ ব্যবস্থাকে আবারো নতুন করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। কাজটি খুব একটা সহজ হবে না। পুলিশ বাহিনীর এক শ্রেণির সদস্য আছেন যারা বিগত সরকারের প্রতি অতিমাত্রায় অনুগত তারা চাচ্ছে না যে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব দলবাজ পুলিশ কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে।

লেখক : সাবেক ব্যাংকার।