॥ মো. মাঈন উদ্দীন ॥
ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি, যা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং গ্রাহকদের আস্থা বাড়াতে অপরিহার্য। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতির মূলোৎপাটন নিশ্চিত হলে ব্যাংকিং খাত কার্যকরভাবে অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা আনয়ন করে। ব্যাংকগুলো সুশাসিত হলে আমানতকারীরা নিরাপদ বোধ করেন এবং দেশের অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে শক্তিশালী হয়।
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভিশন ও তদারকি জোরদার করার পাশাপাশি দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে আইনি ব্যবস্থা কঠোর করা প্রয়োজন। বিগত সময়ে ব্যাংক খাতে নানা দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থপাচারের মূলে রয়েছে সুশাসনের অভাব ও দুর্বৃত্তায়নের প্রভাব। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের মদদে খেলাপি ঋণ যেমন বেড়েছে তেমনি অর্থলোপাটের মত ভয়াবহ ঘটনা ও ঘটেছে। তৈরি হয়েছে শূন্যতা এবং গ্রাহকের মাঝে দেখা দিয়েছিল আস্থাহীনতা। যার পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। বর্তমানে নির্বাচিত সরকার যদি ব্যাংক খাতের সংস্কার গুলোকে চালিয়ে নিয়ে গতিশীল না করে এবং বিগত সময়ের মাফিয়াদের পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করে তাহলে এ দেশের অর্থনীতি নিশ্চিতভাবে আবার ভয়াবহ গর্তে পতিত হতে বেশি সময় লাগবে না। তাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সুশাসনের বিকল্প নেই।
সেন্ট্রাল ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০২৩ এই ১৫ বছরে ২৪টি বড় ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে প্রায় ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ১২ শতাংশ বা জিডিপির দুই শতাংশের সমান। সিপিডি মনে করে ব্যাংক খাতের স্বচ্ছতা আনতে একটি সুনির্দিষ্ট, সময় উপযোগী, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন খুবই জরুরি। বিগত ১৬ বছরে ব্যাংক খাতে যে লুটতরাজ ও অর্থপাচার ও অনিয়ম হয়েছে তার মূল কারন হলো সুশাসনের অভাব ও রাজনৈতিক দূরৃত্তায়ন। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি সহ কয়েকটি ইসলামী ব্যাংকে যে ভয়াবহ লুটতরাজ হয়েছে তা কারো অজানা নয়। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত নিউজ থেকে জানা যায় পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতর্কিত এস আলম নামে এক শিল্পগোষ্ঠী একে একে ৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখলে নেয়। এ গ্রুপটি রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে দেশের প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংকগুলো দখলে নেয়। ব্যাংকগুলো দখলে নিয়ে নামে বেনামে ভুয়া ডকুমেন্ট দেখিয়ে ব্যাংক থেকে অর্থ বের করে নেয়া হয় । বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুসারে ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৪৫ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ১২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে সাড়ে ২৩ হাজার কোটি টাকা এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ১৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা বের করে নেয়া হয়। এভাবে ১১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯ কোটি টাকা নামে বেনামে বের করে নেয়।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক। আমানত, বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স এবং শাখা নেটওয়ার্কের দিক থেকে অন্যতম শীর্ষ ও বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংক। ২০২৩-২৪ সালের পর থেকে সুশাসন পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা ও আমানতকারীদের আস্থা ফিরে পাওয়ায়, ব্যাংকটি ১.৮৩ লাখ কোটি টাকার বেশি আমানতের মাইলফলক অর্জন করে তার নেতৃত্ব ধরে রেখেছে। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি লুটতরাজ ও অর্থপাচার এ ব্যাংক থেকেই হওয়ার পরও অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগিতা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু সংস্কার কর্মসূচির কারনে এ ব্যাংক গ্রাহকের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে এখনো শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে এ বৃহৎ ব্যাংকটি নিয়ে আবার পূর্বের লুটেরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ফলে দেশের ব্যাংক খাত আবারো এক নতুন অনিশ্চয়তার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে আলোচনায় চট্টগ্রামভিত্তিক বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠীর সম্ভাব্য পুনঃপ্রবেশের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন যখনই ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়িয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে আবারো অবদান রাখতে শুরু করেছে তখন এ ধরনের অশনি সংকেত গ্রাহকদের মাঝে আস্থার সংকট দেখা দিলে গোটা অর্থনীতিতে মারাত্মক নেগেটিভ প্রভাব লেখা দিতে পারে। পুরো খাত আবারো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরপেক্ষতা ও আর্থিক খাতের সুশাসনের বিষয় দায়িত্বশীল আচরণের সাথে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি : বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ও গ্রাহকদের মাঝে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনের জন্য পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যদিও এই প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন এ পদক্ষেপের বাকি কাজটুকু এগিয়ে নিয়ে গ্রাহকদের কল্যাণ ও ব্যাংক খাতের প্রাণসঞ্চার করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। অবশ্য নতুন গভর্নর ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন বলে জানা গেছে। এজন্য নতুন গভর্নরকে ধন্যবাদ দেয়া উচিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামী ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকদের আস্থা ও ঋণ অনিয়ম রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়াসহ সুশাসন নিশ্চিত করার কোন বিকল্প নেই। বিতর্কিত গোষ্ঠীর পুনঃপ্রবেশ যদি বাস্তবতা হয়ে ওঠে, তা হলে ইসলামী ব্যাংকের জন্য তা হতে পারে আরেকটি বড় ধাক্কা, যা সামাল দিয়ে এখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা আর একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে যা এ জাতির জন্য আরেকটি কলঙ্কের উদাহরণ তৈরি হতে পারে।
সুশাসনের প্রয়োজনীয় দিক : বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের সার্বিক দুরবস্থার জন্য সুশাসনের ঘাটতি অন্যতম কারণ। এ ক্ষেত্রে আইনের দুর্বলতা ও আইনকে নিজেদের প্রয়োজনে মারপ্যাঁচ দিয়ে সহযোগীতা নেওয়া ইত্যাদিও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সরকারের সর্বোচ্চ মহলের যোগসাজশ ব্যাংক খাতের মহামারিতে অনুঘটকের ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া এ খাতের ভঙ্গুরতার পেছনে দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থা, বিধিবিধান অমান্য করা, অকার্যকর তদারকি এবং ব্যাংক মালিকদের অতিরিক্ত প্রভাবও কম দায়ী নয়। কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো গ্রহণযোগ্য করপোরেট সুশাসনের নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়নি, ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ক্ষুণœ হয়েছে মারাত্মক ভাবে। এখন সময় এসেছে আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা। এজন্য প্রয়োজন খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি হ্রাস ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ও কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।
খেলাপি ঋণ আদায়/নিয়ন্ত্রণ : ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে ঋণ খেলাপি হওয়ার পথ রুদ্ধ করতে হবে। ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা দের পূন: তফসিল ও নবায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকের নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাবকে উপেক্ষা করা উচিত। সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো খেলাপি ঋণের মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণ বৃদ্ধি। ব্যাংক খাতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও স্বচ্ছতার অভাব প্রকট। চলমান প্রথা প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শক্তিশালী কোম্পানিগুলোকে নজরদারি ও জবাবদিহিতা ছাড়া বড় ঋণ পাওয়ার বেশি বেশি সুযোগ করিয়ে দেওয়ায় খেলাপি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও ব্যাপক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সঙ্গে এই উচ্চ খেলাপি ঋণ ব্যাংক খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। গত অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে একটি কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছে এবং বিস্তারিত সংস্কার রোডম্যাপ প্রকাশের অঙ্গীকার করেছিল। তা কার্যকর ও বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে খেলাপি ঋণ রোধ করা যেতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইউনিটের ক্ষমতাকে যথাযথভাবে প্রয়োগ করাও অত্যন্ত বাঞ্ছনীয়। সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর মতে, বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বর্তমানে জাতীয় বাজেটের প্রায় সমান, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যের ভিত্তিতে সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এক আলোচনায় বলেন, খেলাপি ঋণ এখন বাজেটের সমান পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, যা আগের আড়াল-আচ্ছাদনের ফলে সঠিক হিসাবে বেড়ে দেখা যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান : বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার বেশি যা মোট ঋণের ৩৫.৭৩%। সিপিডি এই তথ্যকে তুলে ধরে ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের উপর জোর দিয়েছে । আন্তর্জাতিক মানদ-ে এই হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দুর্নীতি হ্রাস: দুর্নীতি থাকলে সুশাসন সম্ভব নয় আবার দূর্নীতি রোধ করতে সুশাসন থাকা চাই। আমাদের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে দুর্নীতির মহোৎসব দেশের অর্থনীতিকে খাদের কিনারে নিয়ে এসেছে। দুর্নীতি রোধে অর্থ পাচারে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মহাজনী ঋণ, জালিয়াতি বা সুপারিশভিত্তিক ঋণ বন্ধ করতে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন এবং ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা (যেমন: ক্রেডিট স্কোরিং) চালু করা।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তা, ঋণগ্রহীতা বা রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া, যার মধ্যে জরিমানা, চাকরিচ্যুতি ও আইনি পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত।
প্রযুক্তির ব্যবহার ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ব্যাপকতা বৃদ্ধি করতে হবে। ব্লকচেইন প্রযুক্তির মতো উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করে লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা উচিত। ব্যাংক কোম্পানি আইন আধুনিকীকরণ: দুর্নীতি ও অদক্ষতা রোধে বিদ্যমান আইনকে আরও কঠোর করা। ব্যাংকিং জালিয়াতির মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালত গঠন।
সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ : নৈতিকতা ও গভর্ন্যান্স প্রশিক্ষণ : ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গ্রাহকদের তাদের অধিকার ও সতর্কতা সম্পর্কে শিক্ষিত করা, যাতে তারা অস্বাভাবিক লেনদেন বা জালিয়াতি চিহ্নিত করতে পারেন।
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা : নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অনেকাংশে দায়ী। ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে ঋণ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা থাকতে হবে।
ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাষ্ট্র, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। শুধু কঠোর নিয়ম করলেই হবে না, সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করতে হবে। এতে আর্থিক খাতের ভিত্তি মজবুত হবে, যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
লেখক : ব্যাংকার, কবি ও প্রাবন্ধিক।